২,৩০০ বছর ধরে বেঁচে আছে পৃথিবীর সবচেয়ে বয়স্ক এই প্রাণী!
Longest Living Animal On Earth: স্পঞ্জ অত্যন্ত ধীর গতিতে বৃদ্ধি পায়, যার অর্থ এই বিশাল আকারে পৌঁছতে এই স্পঞ্জটির ঢের সময় লেগেছে।

পৃথিবীতে যদি কেউ চরম দীর্ঘায়ু হয়ে থাকে, সে গ্রিনল্যান্ড হাঙর! পৃথিবীতে সবচেয়ে দীর্ঘজীবী মেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে হিমশীতল আর্কটিকে অবিশ্বাস্য ধীরগতিতে বাড়তে থাকে এই হাঙর। তবে পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী প্রাণীদের কথা বলতে গেলে, গ্রিনল্যান্ড হাঙর কিন্তু নেহাতই শিশু! এই ধরুন, সামুদ্রিক কোয়াহগ। আকারে প্রায় ৫ সেন্টিমিটার বা ২ ইঞ্চি মতো। এই পূর্ণাঙ্গ ২ ইঞ্চির শরীর পেতে তাদের সময় লাগে ২০০ বছরেরও বেশি। এই তালিকায় সবচেয়ে বয়স্ক সামুদ্রিক কোয়াহগটি ছিল ৫০৭ বছর বয়সি! গ্রিনল্যান্ড হাঙরকে হেলায় হারিয়ে এটিই এখনও সবচেয়ে প্রাচীনতম অ-ঔপনিবেশিক প্রাণী। তবে হাঙর বা কোয়াহগই শেষ না, পৃথিবীর প্রাচীনতম প্রাণীদের গল্প সবে শুরু।
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্পঞ্জের আকার মিনিভ্যানের মতো
বিজ্ঞানীরা হাওয়াইয়ের কাছে Papahānaumokuākea মেরিন ন্যাশনাল মনুমেন্টের কাছে ২০১৫ সালে সমুদ্রের পৃষ্ঠের নীচে ৭,০০০ ফুট গভীরতায় সবচেয়ে বড় স্পঞ্জ আবিষ্কার করেছিলেন। স্পঞ্জ অত্যন্ত ধীর গতিতে বৃদ্ধি পায়, যার অর্থ এই বিশাল আকারে পৌঁছতে এই স্পঞ্জটির ঢের সময় লেগেছে। সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেওয়া এই স্পঞ্জটি ১২ ফুট লম্বা, ৭ ফুট চওড়া! যদিও এর সঠিক বয়স নিশ্চিত করা হয়নি, তবে ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বলছে, এই স্পঞ্জ কম করে ২,৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বেঁচে আছে।

অমর জেলিফিশ
ছোট কিন্তু ক্ষুদ্র নয়! অমর জেলিফিশ Turritopsis dohrnii একটি গোলাপি নখের চেয়েও কিছুটা ছোট। কিন্তু এদের বয়সের কোনও গাছপাথর নেই! যেন কোনওদিন মারা যায়ই না এই প্রাণীরা। অমর জেলিফিশ আহত বা ক্ষুধার্ত হলে তারা সমুদ্রতটে এসে পড়ে এবং ক্ষয় হতে শুরু করে। তবে অন্য প্রাণীদের মতো মারা যাওয়ার পরিবর্তে, তাদের কোশগুলি ফের একত্রিত হয়ে পলিপ তৈরি করে। এই পলিপ হচ্ছে জেলিফিশের জীবনের প্রথম স্তর। ফলে এটি 'জৈবিকভাবে অমর'। তবে হ্যাঁ, আপনি যদি এই জেলিফিশ রান্না করে খেয়ে ফেলেন, তাহলে তো বাঁচার আর কোনও সুযোগই নেই!
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bobi World's Oldest Dog Ever : গিনেস বিশ্ব রেকর্ডের সার্টিফিকেট। সেখানে লেখা, এই কুকুরটিই বিশ্বের সর্বকালের সবচেয়ে বয়স্ক কুকুর!

অসুখী ঝিনুক
মিং দ্য কোয়াহগ ক্ল্যাম কী দেখেনি? রেনেসাঁ, শিল্প বিপ্লব এবং ইন্টারনেটের যুগ সে পেরিয়ে যেতে যেখেছে। অগণিত যুদ্ধ এবং রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের সাক্ষী সে, অজস্র সাম্রাজ্যের উত্থান এবং পতন দেখেছে সে। ৫০৭ বছরের এই যে জীবন, তা শেষ হলো বিজ্ঞানীদের হাতেই। মিং দ্য কোয়াহগ ক্ল্যামকে আর্কটিকা দ্বীপপুঞ্জ থেকে গবেষকরা সংগ্রহ করার পর হিমায়িত অবস্থায় রাখতে গিয়েই বেচারা মারা যায়।

পারমাণবিক হাঙর
গ্রিনল্যান্ড হাঙর, সোমনিওসাস মাইক্রোসেফালাস এমন একটি প্রাণী যা ৪০০ বছর বাঁচে। রেডিওকার্বন পদ্ধতিতে চোখের লেন্সের ডেটিং করে বয়স নির্ধারিত হয়েছে এই প্রাণীদের।
দীর্ঘ জীবন এবং ক্ষুদ্র অণ্ডকোষ
এই পৃথিবীতে একটি জীব যত বেশি সময় বেঁচে থাকে, তার রোগের কারণ হতে পারে এমন জেনেটিক মিউটেশন হওয়ার ঝুঁকি তত বেশি। বোহেড তিমির মতো কিছু চঞ্চল প্রাণী অবশ্য এই ভয়কে কাটিয়েই অভিযোজিত হয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী প্রজাতির মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে এই তিমি। তবে বিবর্তনের পথে এদের দেহে পরিবর্তিত হয়েছে অণ্ডকোষ! এই তিমিদের অণ্ডকোষ অত্যন্ত ছোট। বোহেড তিমি বা বালেনা মিস্টিসেটাস ২১১ বছর বয়সে বেঁচে থাকতে পারে এবং এদের কোশের বিভাজন অত্যন্ত ধীর। যার অর্থ এরা ক্যান্সারের ঝুঁকি ছাড়াই বুড়ো হতে পারে।
জোনাথন দ্য সেশেলসের বিশালাকার কাছিম
লক্ষ্য করে দেখা গেছে, পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী প্রাণীদের বেশিরভাগই সামুদ্রিক। প্রাচীনতম স্থলজ প্রাণীটি হচ্ছে জোনাথন নামের এক দৈত্যাকৃতি কচ্ছপ, আলডাব্র্যাচেলিস জাইগান্টিয়া হলোলিসা। ২০২২ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক কচ্ছপের শিরোপা পেয়েছে জোনাথন। এর আগে তুই মালিলা ছিল দীর্ঘজীবী কচ্ছপ, ১৯৬৫ সালে ১৮৮ বছর বয়সে মারা গিয়েছিল সে। ১৯০ বছরের জোনাথন শুধুমাত্র সবচেয়ে বয়স্ক কচ্ছপই নয়, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের সবচেয়ে প্রাচীন স্থলজ প্রাণীও!







