এবার হানা দিচ্ছে টম্যাটো ফ্লু! শিকার শিশুরা? কীভাবে সতর্ক হবেন?

করোনা অতিমারী-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক রোগের দেখা মিলেছে। এদের কোনওটি করোনার সঙ্গে জড়িত, আবার দেহের প্রতিরোধক্ষমতা একেবারে তলানিতে ঠেকায় কিছু রোগ আক্রমণ করেছে মানব-শরীরকে। এবার কেরলে এক অজানা জ্বরে আক্রান্ত বহু শিশু। গত সপ্তাহে ওই রাজ্যে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে ৫৮ জনেরও বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। অনেকের মৃত্যুও হয়েছে বিষক্রিয়ার ফলে। সেই ঘটনার এক সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই এই অজানা জ্বর ভয় ধরিয়েছে মানুষের মধ্যে। নতুন এই জ্বরের নাম 'টম্যাটো ফ্লু'। স্থানীয় সূত্রে খোঁজ মিলেছে, ১১ মে পর্যন্ত প্রায় ৮০টি শিশু এই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই কেরলের কোলাম জেলায় বসবাসকারী। এছাড়াও রাজ্যের দক্ষিণে আরিয়ানকাভু, আঁচল এবং নেদুভাথুর অঞ্চলেও অনেক শিশু এই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে।

 

 

অজানা এই জ্বরের কারণে পার্শ্ববর্তী তামিলনাড়ু ও কর্নাটক রাজ্যের সীমান্তে সতর্কতা জারি হয়েছে। কর্নাটকের ম্যাঙ্গালুরু, উদুপি, কোদাগু প্রভৃতি জেলাগুলোতে কেরল থেকে আসা শিশুদের পরীক্ষা করা শুরু করেছে সরকার। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণ রুখতে কেরল থেকে আসা শিশুদের জ্বর রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। দু'জন চিকিৎসক, পুলিশ নিয়ে তৈরি এই পরীক্ষক দল সীমান্তে আসা শিশু-সহ অন্যান্যদের দেহে রোগের কোনওরকম লক্ষণ উপস্থিত থাকলে তাঁদের তালিকা তৈরি করছে এবং আক্রান্তদের জন্য আলাদা করে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করেছে সরকার। মনে করা হচ্ছে, এই জ্বরও করোনার মতোই সংক্রামক প্রকৃতির। পাশাপাশি ২৪ জন অঙ্গনওয়ারি কর্মীকে নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে । এই দল পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে জ্বরের লক্ষণ উপস্থিত রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখবে। তবে কর্নাটকের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর কে. সুধাকর গতকাল জানিয়েছেন, এই জ্বরের সঙ্গে করোনার কিছু লক্ষণের মিল থাকলেও দু'টি রোগের মধ্যে কোনও মিল নেই । এই লক্ষণগুলো বিভিন্ন ভাইরাল ফিভারের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ সচেতন রয়েছে, তাই ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই এই মুহূর্তে।

 

 

টম্যাটো ফ্লু কী?

সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, টম্যাটো ফ্লুয়ে আক্রান্ত শিশুদের ত্বকে ফুসকুড়ি বা ফোসকা দেখে গেছে। এগুলো দেখতে বড় লাল রঙের হওয়ায় অজানা এই জ্বরের নাম দেওয়া হয়েছে টম্যাটো ফ্লু। এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি, এই জ্বরের প্রকৃত কারণ কী। চিকিৎসকদের একাংশ বলছেন, এটি এক ধরনের সংক্রামক জ্বর। আবার অনেকের মতে এটি চিকনগুনিয়া বা ডেঙ্গুর প্রভাবেও হতে পারে। কেরল রাজ্যের কিছু অংশে এই অজানা জ্বরে মূলত আক্রান্ত হয়েছে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুরা। কেরল, কর্নাটক উভয় রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফেই জানানো হয়েছে, ভয় না পেয়ে প্রয়োজনীয় নিয়মবিধি পালনের কথা।

 

 

আরও পড়ুন: ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের হাত থেকে কীভাবে বাঁচাবেন বাড়ি? জেনে নিন সেই প্রযুক্তি

 

 

লক্ষণ

এখনও পর্যন্ত যে যে লক্ষণগুলি প্রকাশ পেয়েছে সেগুলি হল:

১. মাত্রাতিরিক্ত জ্বর

২. ডিহাইড্রেশন

৩. গা, হাত-পা ব্যাথা

৪. ত্বকে ফুসকুড়ি

৫. বড় আকারের ফোসকা

৬. দেহে ক্র্যাম্প

৭. বমি বমি ভাব

৮. হাঁচি, কাশি এবং ঠান্ডা লাগা

৯. ক্লান্তি

১০. মুখের ভেতর অস্বস্তি বোধ

১১. হাত,পা এবং দেহের বিভিন্ন অঙ্গ বিবর্ণ দেখায়

 

 

করণীয়

কোনও শিশু বা ব্যক্তির ত্বকে ফুসকুড়ি বা ফোসকা দেখা গেলে তা ফেলে না রেখে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। সঙ্গে লক্ষ রাখতে হবে, কোনওভাবেই যেন ফোসকাগুলোতে নখ না লাগে। যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং বিশ্রামের প্রয়োজন এক্ষেত্রে।

 

 

 

কীভাবে প্রতিরোধ করবেন এই রোগ ?

অযথা ভয় না পেয়ে কিছু কথা মাথায় রাখলেই এই অজানা জ্বরের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এখনও পর্যন্ত অবস্থা হাতের বাইরে চলে যায়নি। সংক্রমণ এড়াতে যে জিনিসগুলো মেনে চলবেন:

১. শরীর সবসময় হাইড্রেটেড রাখার চেষ্টা করুন। পারলে জল ফুটিয়ে খাওয়াই ভালো।

২. এই জ্বরে আক্রান্ত রোগীর থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলুন। যদিও এখনও পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্কদের আক্রান্ত হওয়ার খবর না জানা গেলেও, চিকিৎসকরা আক্রান্তদের কাছে না যাওয়ারই পরামর্শ দিয়েছেন।

৩. সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে চেষ্টা করুন।এতে যে কোনও রোগ সংক্রমণের হাত থেকেই মুক্তি পেতে পারেন।

 

 

More Articles

;