মহামারীরই আকার নিচ্ছে কোভিড পরবর্তী মানসিক অসুস্থতা, কেন!

Madhurima Pattanayak
৪ মিনিট
মহামারীরই আকার নিচ্ছে কোভিড পরবর্তী মানসিক অসুস্থতা, কেন!

কোভিডের পরে অনেকেরই মানসিক অবসাদ (Depression), দুঃশ্চিন্তা বা অ্যাংজা়ইটির (Anxiety) সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এই জাতীয় সমস্যা প্রকট না হলেও, কোভিডের পরে বেশিরভাগ রোগীই ব্রেন ফগের (Brain Fog) মত সমস্যায় ভুগছেন। ব্রেন ফগ হলে সাধারণ জিনিস বুঝতে না পারা বা পরিষ্কার করে ভাবনাচিন্তা না করতে পারা এবং সাধারণ অঙ্কের হিসেব করতে না পারার মত সমস্যা দেখা যায়।

বেশিরভাগ রোগীরই বক্তব্য কোভিডের শারীরিক সমস্যাগুলির থেকে ধীরে ধীরে তারা সেরে উঠলেও, ডিপ্রেশন, অ্যাংজা়ইটি, বা ব্রেন ফগের মত সমস্যায় ভুগছেন কোভিড থেকে সেরা ওঠার দীর্ঘদিন পরেও। এই জাতীয় সমস্যা কারোর ক্ষেত্রে তিন মাসে সেরে যাচ্ছে, কারও কারও বা আট মাস অবধি থাকছে। এই ঘটনা ঘটছে যাদের মাইল্ড কোভিড হয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও। যাদের মানসিক অবসাদ, অ্যাংজাইটির মত সমস্যা আগে ছিল, তাদের ক্ষেত্রে এই অবস্থার অবনতি ঘটছে; কারও বা বক্তব্য কোভিড হওয়ার আগে তাদের এই জাতীয় সমস্যাই ছিল না।

মাইল্ড কোভিডে নোভেল করোনাভাইরাস মস্তিষ্কের ভেতরে ঢুকে আক্রমণ করে না, যা আবার দেখা যায় সিভিয়ার কোভিডের ক্ষেত্রে, যেখানে মস্তিষ্ক অবধি ধীরে ধীরে পৌঁছে যায় ভাইরাস।

কিন্তু এই ঘটনাগুলি কেন ঘটছে, বেশিরভাগ সাধারণ মানুষের কাছেই তা অজানা। এই বিষয়গুলির পেছনে মূলত দায়ী আমাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, এবং নিউরোকেমিস্ট্রি (Neurochemistry) অর্থাৎ নিউরোন (Neuron) ও মস্তিষ্ক থেকে ক্ষরিত একাধিক জৈবরাসায়নিক পদার্থ (Biochemical Substance)।

অনেকের ধারণা দৈনন্দিন ভাবে মহামারীর সঙ্গে লড়তে লড়তে, সামাজিক ভাবে আলাদা জীবনযাপনের কারণে, পাশাপাশি মৃত্যুমিছিল সামনে থেকে দেখতে দেখতে মানসিক প্রভাব পড়ার কারণে কোভিড-পরবর্তী নানান মানসিক অসুখ দেখা যাচ্ছে। এই বিষয়গুলি তো মানসিক অবসাদ, দুঃশ্চিন্তার অন্যতম কারণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু কোভিড রোগীদের ক্ষেত্রে এখানে আরও বেশ কিছু কারণ এসে জুড়েছে, যা কিন্তু হচ্ছে ভাইরাসের আক্রমণের কারণেই।

কোভিড রোগীদের ক্ষেত্রে এই মানসিক সমস্যাগুলির সূত্রপাত ঘটছে কিন্তু আমাদের শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করার সাথে সাথেই। কারণ আমাদের ইমিউন সিস্টেম তখন থেকেই কাজ শুরু করে। ইমিউন সেল সাইটোকাইন (Cytokine) নামের ছোট প্রোটিন অণু (Protein Molecule) ক্ষরণ করতে শুরু করে। শরীরে ভাইরাস প্রবেশ করলেই, এদের বিরুদ্ধে লড়া শুরু করে বেশ কিছু প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইন (Pro-inflammatory Cytokine), যাদের মধ্যে অন্যতম ইন্টারলিউকিন-আলফা (Interleukin-α/ IL-α) ইন্টারলিউকিন-ওয়ান বিটা (IL-1β), ইনট্রারলিউকিন–গামা (IL-γ), টিউমার নেক্রোসিস ফ্যাক্টর (Tumour Necrosis Factor) বা টিএনফ (TNF), ইন্টারলিউকিন-সিক্স (IL-6), ইন্টারলিউকিন-ফোর (IL-4) ইত্যাদি। এরা দ্রুত কাজ শুরু করে শরীরে ঢোকা ভাইরাসের বিরুদ্ধে।

কিন্তু সাইটোকাইন ক্ষরণ হল শাঁখের করাতের মত - এরা ক্ষরিত না হলে ভাইরাসের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়া সম্ভব না, কিন্তু ক্ষরিত হলে ইনফ্ল্যামেশনের (Inflammation) মতো সমস্যার সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে রক্তের শিরা ও ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধা বা ব্লাড কোয়াগুলেশনের (Blood Coagulation) মত সমস্যা দেখা যায়।

প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইন আরও একটি ক্ষতি করে - এরা ডিপ্রেশন, মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার, অ্যাংজা়ইটি, বা ব্রেন ফগ ইত্যাদি দেখা যায়। এমনকী ডিমেনশিয়া ও অ্যালজা়ইমারের মত সমস্যাও দেখা যায়। এসবের জন্যে কিন্তু বিশেষভাবে দায়ী সেই ইন্টারলিউকিন-আলফা ইন্টারলিউকিন-ওয়ান বিটা , ইনট্রারলিউকিন–গামা , টিউমার নেক্রোসিস ফ্যাক্টর, ইন্টারলিউকিন-সিক্স, ইন্টারলিউকিন-ফোর।

দেখা যাচ্ছে কোভিড থেকে সেরা ওঠার মাসখানেক পরেও সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্ল্যুইডে এরা উপস্থিত থাকছে। সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্ল্যুইড আমাদের মস্তিষ্ক এবং স্পাইনাল কর্ড বা শিরদাঁড়ার আশেপাশে থাকে।

এই প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইনগুলি নার্ভকোশ এবং মস্তিষ্কে ইনফ্ল্যামেশন ঘটায়। একে নিউরোইনফ্ল্যামেশনও বলে। এছাড়াও আমাদের মস্তিষ্কের প্রতিরক্ষার জন্যে মসিষ্কের আশেপাশে যে প্রাচীর থাকে - যা ব্লাড-ব্রেন বেরিয়ার নামেও পরিচিত - তা-ও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইন। মস্তিষ্ক সংলগ্ন এই প্রাচীর ভেদ করে ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইন ঢুকে পড়তে পারে একদম মস্তিষ্কে।

আমাদের আনন্দ, দুঃখ, অবসাদ, দুঃশ্চিন্তা, রাগ এবং অন্যান্য সমস্ত রকম অনুভূতির জন্যে দায়ী কিছু রাসায়নিক, যাদের বলা হয় নিউরোট্রান্সমিটার, তাদের ক্ষরণ এবং কাজও ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইনের জন্যে। এর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাইপোথ্যালামিক - পিট্যুইটারি - অ্যাড্রেনাল অ্যাক্সিস বা এইচপিএ অ্যাক্সিসের কাজ। এইচপিএ অ্যাক্সিস মূল ভূমিকা পালন করে আমাদের আনন্দ, অবসাদ, দুঃশ্চিন্তার বা ভয়ের মত অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে। কারণ আমাদের নিউরোট্রান্সমিটারের ক্ষরণ ও কাজও প্রাথমিক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে এইচপিএ অ্যাক্সিস।

প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইন ক্ষতিগ্রস্ত করে সেরোটোনিনের ক্ষরণকে। এই নিউরোট্রান্সমিটার মূলত আমাদের আনন্দ, অবসাদ, অ্যাংজাইটি, রাগের মত অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। সেরোটোনিনের অভাব হয় কোভিড-পরবর্তী কালে, এই প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইনের প্রভাবেই। ফলে কোভিড-পরবর্তী মানসিক অবসাদ, অ্যাংজাইটি, রাগ ইত্যাদি অস্বাভাবিক নয়।

সাইটোকাইনের কারণে এইচপিএ অ্যাক্সিস অত্যন্ত বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই পাল্লা দিয়ে বেশ কিছু হরমোনের ক্ষরণ বাড়তে থাকে, যার মধ্যে অন্যতম কর্টিকোট্রপিন রিলিজি়ং হরমোন, অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোন, এবং কর্টিসল। কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়লে অ্যাংজাইটি, অকারণ ভয়, ইত্যাদি বাড়তে থাকে। প্রথম দুটি হরমোন এদিকে কর্টিসলের ক্ষরণ বাড়াতে সাহায্য করে।

মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশের কাজে প্রভাব ফেলে প্রো-ইনফ্ল্যামেটরি সাইটোকাইন। শুরু করা যাক বেসাল গ্যাংলিয়া দিয়ে - সহজ ভাবে বললে এটি থাকে মস্তিষ্কের মধ্যবর্তী অংশে। বেসাল গ্যাংলিয়া আমাদের মোটিভেশনের জন্যে দায়ী। এদিকে সাইট্রোকাইনের জন্যে অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে অ্যাঙ্গ্যুলার সিঙ্গুলেট কর্টেক্স। মস্তিষ্কের এই অংশ অ্যাংজাইটির প্রধান কারণ; খুব স্বাভাবিক ভাবেই এটি বেশি সক্রিয় হলে অ্যাংজাইটিও পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে। শুধু তাই নয়, অ্যাঙ্গ্যুলার সিঙ্গুলেট কর্টেক্স মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রেশনের সাথেও জড়িত।

গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, কোভিড পরবর্তী সময়ে শরীরের মত মনেরও যথেষ্ঠ যত্ন দরকার। ঠিকমত খাওয়া-দাওয়া, ঘুম, শারিরীক ও মানসিক বিশ্রাম প্রাথমিক ভাবে দরকারি। তবে খুব বাড়াবাড়ি হলে দেরি না করে মনোবিদের সাহায্য নেওয়া অবশ্য কর্তব্য

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।