মানুষের কাজ খাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স? উত্তরে যা উঠে আসছে...

Madhurima Pattanayak
৩ মিনিট
মানুষের কাজ খাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স? উত্তরে যা উঠে আসছে...

সারা পৃথিবীতে সাফল্যের শীর্ষে উঠে আসা প্রযুক্তি সংস্থাগুলির মধ্যে নব্বই শতাংশই বিনিয়োগ শুরু করেছে এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের জন্যে। তাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশী সংস্থার দাবি, এতে না-কি তাদের সংস্থার মোট কার্যক্ষমতা বেড়েছে। তাই যদি হয়, তবে তো প্রশ্নটা সরাসরি মানুষের সারভাইভ্যালের বা টিকে থাকার! স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ধীরে ধীরে কর্মক্ষেত্রে মানুষের জায়গা দখল করবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স? মানুষ কি চাকরি হারাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ফলে? গবেষণা কিন্তু অন্য কথা বলছে।

আর্টিফিয়াল ইন্টেলিজেন্স মানেই কিন্তু এই নয় যে রোবোট এসে সমস্ত কাজ করে মানুষের জায়গা দখল করে নেবে। কর্মক্ষেত্রে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কারণে কী পরিবর্তন হতে পারে কয়েক বছরের মধ্যে, তা বোঝার জন্যে সবার আগে প্রয়োজন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সম্পর্কে জানা।

কায়া ইসমাইলের মতে, অ্যালগোরিদম হল কতগুলি নির্দেশের সমষ্টি, যা ডেটা প্রসেসিং-এ সাহায্য করে। আর্টিফিয়াল ইন্টেলিজেন্স আদতে অ্যালগোরিদমের থেকে কয়েক ধাপ উন্নত একটি পদ্ধতি, যেখানে এআই একাধিক অ্যালগোরিদম ব্যবহার করে এবং অ্যালগোরিদমগুলি নিজেদের মধ্যে বদল আনতে পারে প্রয়োজন মতো। আর যেহেতু বদল আনতে পারে প্রয়োজন অনুযায়ী, সেখানেই ইন্টেলিজেন্স বা বুদ্ধিমত্তার প্রশ্ন আসে।

ম্যাসাচ্যুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির গবেষকরা খুব সম্প্রতি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং কর্মক্ষেত্রে তার প্রভাব নিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন, মানুষকে খুব সহজে কর্মচ্যুত করতে পারবে না এআই। মানুষ এবং তার কাজকে তার জায়গা থেকে না সরিয়েই এআই উল্টে নতুন জিনিস আবিষ্কারে সাহায্য করবে, একঘেয়ে এবং সময়সাপেক্ষ কাজ মানুষকে দিয়ে না করিয়ে নিজেই করে দেবে সেই কাজ অত্যন্ত অল্প সময়ে। পাশাপাশি ব্যবসাবানিজ্যে আমূল পরিবর্তন এনে, নতুন বানিজ্যের স্থান করে দেবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। ফলে নতুন কর্মসংস্থান বাড়বে, কমবে না।

ফলে বিশেষজ্ঞদের মত সমস্ত রকমের কর্মক্ষেত্রে সব স্তরে, যদি এআই-এর জন্যে সঠিকভাবে বিনিয়োগ করা যায়, তাহলে দেখা যাবে মানুষ না-কি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, সেই প্রশ্ন আর থাকবে না; উল্টে দেখা যাবে একটি উন্নততর ভবিষ্যতের উদ্দ্যেশ্যে মানুষ এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স একসঙ্গে কাজ করছে তখন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাঙালির ইয়েতি অভিযান, সিনেমা নয়, এই গল্পটা সত্যিই...

ইয়েতির সন্ধান নিয়ে গোটা একটা সিনেমা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ষাট বছর আগেকার সেই রোমহর্ষক ঘটনায় কোনও আলো পড়েনি আজও!

অন্য দিকে মানুষকে কাজে লাগানো হবে অনেক বেশি সৃজনশীল কাজে, পাশাপাশি গবেষণা এবং বিশ্লেষণমূলক কাজে মানুষের দায়িত্ব বাড়বে অনেক বেশী। কারণ এই সমস্ত কাজ কোনো ভাবেই এআই পারবে না। এর পাশাপাশি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স গড়ে তোলার জন্যেও প্রচুর মানুষের দরকার। জটিল সমস্যার সমাধান করা, বা নতুন কোনো সমস্যার সমাধান খুঁজে বার করার জন্যে ঘুরেফিরে প্রয়োজন পড়বে মানুষেরই। রোবোট কিংবা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের পক্ষে সম্ভবই না নতুন কিছু অবিষ্কার। কারণ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিজে থেকে ভাবতে পারে না। তার বোধশক্তি, চেতনা, বিবেক কোনো কিছুই নেই। তাকে যেভাবে শেখানো হয়, সে সেই ভাবেই কাজ করে। বাঁধাধরা ছকের বাইরে ভাবা বা কাজ করা, তার জন্যে নয়। এ কাজ একান্তই মানুষের। আর যে মানুষ তৈরি করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে, সেই মানুষটির চিন্তা-ভাবনার ছাপ, এমনকী পক্ষপাতিত্বের ছাপও গিয়ে পড়ে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের কাজে।

দেখা যাচ্ছে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের পক্ষপাতদুষ্টতা কখনও নিশানা করছে কোনো বিশেষ লিঙ্গের মানুষকে, কখনও কোনো বিশেষ ধর্মের মানুষকে, বাদ যাচ্ছে না বর্ণভেদও।

তবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিপুল পরিবর্তন এনেছে চিকিৎসা, অটোমোবাইল শিল্পক্ষেত্র এবং ই-কমার্সে। সাইবার সিকিউরিটি, এমনকী চাকরিক্ষেত্রে নিয়োগের সময়েও একে ব্যবহার করার চল দেখা যাচ্ছে।

যেখানে কয়েক হাজার চাকরির দরখাস্ত থেকে কয়েকজন যোগ্য প্রার্থীকে বাচতে বেশ কয়েকদিন সময় লেগে যায়, সেখানে এআই-এর সাহায্যে কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সেই কাজ করা সম্ভব। অথবা দেখা গেল কোনো ব্যক্তি একটি নির্দিষ্ট চাকরির জন্যে দরখাস্ত করতে গেলে, তাকে এআই-ই ওই ব্যক্তির সিভি বা রেজ্যু়মে পরীক্ষা করে জানিয়ে দেয় সে এই চাকরির জন্যে যথোপোযুক্ত কিনা। অথবা দেখা গেল, আপনি নিজের চাকরিক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতা বাড়াতে চান বা আপনার পছন্দের কোনও চাকরির জন্যে নিজেকে উপযুক্ত করে তুলতে চান, সে ক্ষেত্রে আপনার বর্তমান সিভি বা রেজ্যু়মে পরীক্ষা করে এআই আপনাকে জানিয়ে দিলো কোন কোন ক্ষেত্রে আপনার উন্নতির দরকার আপনার সেই পছন্দের চাকরি পাওয়ার জন্যে।

কিন্তু দেখা যাচ্ছে, চাকরির ক্ষেত্রে প্রার্থী নির্বাচনের সময়, বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে, যদি সেই কাজে এআই হস্তক্ষেপ করে। কারণ সেখানেও এআই তার পক্ষপাতিত্ব দেখাচ্ছে। এখানে হায়ারভিউ নামের একটি নিয়োগ সংস্থার উদাহরণ দেওয়া যাক, যে সংস্থার কাজ চাকরিক্ষেত্রে কর্মী নিয়োগে সাহায্য করা।

এই সংস্থার ব্যবহৃত একটি এআই চাকরিপ্রার্থীদের সিভি এবং মুখ চিনে তাঁদের মনস্তত্ব বিশ্লেষণ করে এবং পাশাপাশি তার মাধ্যমে যাচাই করে সেই প্রার্থী ভবিষ্যতে কত ভালো কাজ করতে পারবে। পরবর্তীতে ফেডেরাল ট্রেড কমিশন অভিযোগ জানায়, এই পদ্ধতিতে এআই নিজের পক্ষপাতিত্বের পরিচয় দিচ্ছে বহু ক্ষেত্রেই, এবং বহু যোগ্য প্রার্থী এআই-এর পক্ষপাতদুষ্টতার জন্যে চাকরি পাচ্ছেন না। অবশেষে হায়ারভিউ এখানে এআই-কে সরিয়ে পুরোনো পদ্ধতিতেই আবার নির্বাচন শুরু করে চাকরীপ্রার্থীদের।

তাহলে অবশেষে কী দাঁড়াল এআই কি মানুষকে কর্মচ্যুত করবে? উত্তর: না, এত সোজা না। পিকচার আভি বাকি হ্যায়।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?