নতুন জীবন দেবে এই অভ্যাস, সুস্থ থাকতে আজও যোগাসনের বিকল্প নেই

যোগ শুরুর প্রথম দিকে সামান্য কঠিন মনে হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগের এমন কিছু শারীরিক ভঙ্গি রয়েছে, যা একজন ব্যক্তিকে সুস্থ জীবনযাপন করতে সাহায্য করবে।

Piya Saha
৩ মিনিট
নতুন জীবন দেবে এই অভ্যাস, সুস্থ থাকতে আজও যোগাসনের বিকল্প নেই

রোগের মুক্তি যোগে। শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে যোগব্যায়ামের বিকল্প খোঁজা বৃথা। প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রেও এই মহৌষধির উল্লেখ রয়েছে। ২১ জুন বিশ্ব যোগ দিবস উদযাপন যোগব্যায়ামের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়িয়ে তোলার স্বার্থেই। এই বছরের থিম 'যোগা ফর হিউম্যানিটি'। দেশ-বিদেশ সর্বত্রই পালন করা হয় এই দিনটি।

সব রোগ ওষুধে সারে না। তবে নিয়মিত যোগাভ্যাস আপনাকে নানা কঠিন রোগব্যাধি থেকে দূরে রাখতে পারে। এমনকী, দীর্ঘদিনের যোগাভ্যাসের ফলে আপনার আয়ুও বাড়তে পারে, এমনই মত যোগ-বিশেষজ্ঞদের একাংশের। বিশ্বজুড়ে যোগের কদর তার গুণেই। ভারত তো বটেই, বিশ্বের নানা প্রান্তে যোগের গ্রহণযোগ্যতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। একবিংশ শতাব্দীর ব্যস্ত জীবনে শারীরিক নানা সমস্যায় ছোট থেকে বড় সকলেই কম-বেশি ভোগেন। কোনও ওষুধ ছাড়াই এক তুড়িতে সমস্যার সমাধান করবে যোগব্যায়াম। দিনভর অফিসের চাপ বা জীবনের নানামুখী চাপ থেকেও মুক্তি এনে দিতে পারে নিয়মিত যোগাভ্যাস। মানসিক সমস্যা মেটাতে যোগাসনের জুড়ি নেই। প্রতিদিন নিয়ম করে যোগাভ্যাস করলে আর কিছুই লাগবে না।

যোগ শুরুর প্রথম দিকে সামান্য কঠিন মনে হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগের এমন কিছু শারীরিক ভঙ্গি রয়েছে, যা একজন ব্যক্তিকে সুস্থ জীবনযাপন করতে সাহায্য করবে। তিরুবনন্তপুরমের যোগব্যায়াম-প্রশিক্ষক ড. শ্রীরাম টিআর-এর মতে, 'কোভিড সময়কালে দুর্বল প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রধান কারণ হল চাপ এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাব।প্রাণায়াম হল ক্লান্তি থেকে মুক্তির সর্বোত্তম প্রতিকার। আট বছর বা তার বেশি বয়সের যে কেউ এটি যে কোনও জায়গায় চেষ্টা করতে পারেন সহজেই।'

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কঠিন অসুখ নিয়ন্ত্রণে রাখবে যোগব্যায়াম, কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই বদলাবে জীবন

যোগের মূল মন্ত্র হলো, ভারসাম্য বজায় রাখা। যোগাভ্যাসে শরীরে ভারসাম্য তো আসেই, শরীর এবং মনের সম্পর্কও সুস্থ ও সাবলীল হয়, জগতের সঙ্গে ব্যক্তিমানুষের সম্পর্কেও সুস্থিরতা আসে।

এমনকী, বিভিন্নভাবে অক্ষম ব্যক্তির ক্ষেত্রেও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারে যোগব্যায়াম। উমা কল্যাণী, পেশায় একজন পুষ্টিবিদ এবং যোগব্যায়াম শিক্ষক সম্প্রতি কেরলের অল কেরল হুইলচেয়ার রাইটস ফেডারেশনের থেকে একটি যোগব্যায়াম ক্লাসের ব্যবস্থা করেন প্রতিবন্ধী মানুষের নিয়ে। সেই সম্পর্কে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'মোট ২০ জন বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এই প্রশিক্ষণের প্রধান লক্ষ্যই ছিল তাঁদের বোঝানো যে যোগব্যায়াম সকলের জন্য। প্রতিনিয়ত সামান্য অভ্যাসের মাধ্যমে তাঁদের ক্ষেত্রেও যোগ ওষুধের মতোই কাজ করবে।'

তিনি আরও বলেছেন, 'প্রবীণ নাগরিকদের প্রত্যেকেরই উচিত প্রতিদিন যোগাভ্যাস করা। পাশাপাশি সামান্য স্ট্রেচিংয়ের বিষয়টিও মাথায় রাখা প্রয়োজন। বিভিন্ন প্রাণীর দেহভঙ্গি এবং নড়াচড়ার অনুকরণের যে যোগব্যায়ামগুলি রয়েছে, সেগুলি অভ্যাসের ফলে শরীরের হার মজবুত হবে এবং বাচ্চাদের মধ্যে হাইপারঅ্যাকটিভিটি হ্রাস পাবে।' অন্য আরেকজন যোগা-প্রশিক্ষক সুদক্ষিনা থাম্পির মতে, 'যোগ এবং আধ্যাত্মিকতার মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। শুধুমাত্র কিছু প্রাণায়াম বা আসন অভ্যাস করা বা ধ্যান করাই যোগ নয় বরং এর মাধ্যমে অন্তরের শান্তি খুঁজে পাওয়া সম্ভব।' তবে অন্তরের শান্তি শুধু যোগাভ্যাসের মাধ্যমে নয় অহিংসা, সত্য এবং অপরিগ্রহের মতো কিছু জিনিসও নিয়ম করে অভ্যাস করা প্রয়োজন বলেই মনে করেন সুদক্ষিণা।

রাজীব আম্বাতের মতে, 'যোগব্যায়াম স্নায়ুকে শান্ত করতে সাহায্য করে। পাঁচটি প্যারামিটার একজন ব্যক্তির ফিটনেস মূল্যায়ন করতে সাহায্য করে। যেমন কার্ডিওভাসকুলার ক্ষমতা, শরীরের আকার, সহনশীলতা এবং নমনীয়তা। কটিদেশীয় ডিস্কের সমস্যা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য যোগব্যায়াম অভ্যাস করা খুবই লাভজনক।'

রাগি নবীন, ৪২ বছর বয়সি একজন যোগাভ্যাসকারীর মতে, 'আমি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছিলাম। ল্যাপটপে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করার জন্য আমার কটিদেশীয় মেরুদণ্ডে সমস্যা দেখা দেয়। এমনকী, একটি দ্রুত হাঁটাচলা করলেও আমার শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতাম। অস্ত্রোপচারই একমাত্র বিকল্প বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। কিন্তু আমি যোগব্যায়াম অভ্যাস করায় অস্ত্রোপচারের টেবিলে অবধি আর যেতেই হয়নি।' নবীন আরও জানিয়েছেন,' যোগব্যায়ামের সেশনগুলি আমাকে বেদনামুক্ত জীবন, উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করছে। তাই আমি মনে করি, যোগব্যায়াম সকলেরই জন্য।'

নবীনের মতো হাজার উদাহরণ ছড়িয়ে রয়েছে ভারত-সহ বিশ্বের নানা প্রান্তে। যোগ বহু মানুষকে পুনর্জন্ম দিয়েছে। হৃদয় এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে সম্পূর্ণ অন্যভাবে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে যোগ।তাই একথা বলাই যায়, যোগ সকলেরই জন্যই। নিজেকে ভালবাসার এক অনন্য মাধ্যম যোগব্যায়াম।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।