মহিলাদের সম্মান নেই কংগ্রেসে! কোন বিতর্ক উস্কে দিল গেরুয়া শিবির
Uttarpradesh : উত্তরপ্রদেশের গান্ধী দূর্গে গেরুয়া ঝড় তুলেছিলেন বিজেপি সাংসদ স্মৃতি ইরানি

বিতর্কের শুরু হয়েছে অনেক আগেই, সময়ের সঙ্গে কেবল তাতে মাল মশলা যুগিয়ে গিয়েছেন দুপক্ষই। কথা হচ্ছে, উত্তরপ্রদেশের অমেঠি লোকসভা আসনটিকে নিয়ে। এখানে দীর্ঘকাল রাজত্ব করেছে গান্ধী পরিবার। একপ্রকার একচেটিয়া রাজত্ব বলা চলে। ১৯৮০ সাল থেকে ২০১৯, টানা ৩৯ বছরের দূর্গ। অবশেষে সেখানেই গেরুয়া ঝড় তুলেছিলেন বিজেপি সাংসদ স্মৃতি ইরানি। আর সেই থেকে বিজেপি বনাম কংগ্রেসের টানাপোড়েন চলছে।
১৯৮০ সালে এখানে প্রথম সাংসদ হন কংগ্রেসের সঞ্জয় গান্ধী। তারপর ১৯৯১ সাল পর্যন্ত এই আসনের সাংসদ ছিলেন রাজীব গান্ধী। রাজীব গান্ধীর পর আসনটি দখল করেন সোনিয়া গান্ধী। ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ , ব্যাস তারপরই ক্ষমতা যায় রাহুল গান্ধীর হাতে। সেই থেকে রাহুলই রাশ টেনে নিয়ে জানা টানা ১৫ বছর। ফলে গান্ধী পরিবারের কাছে আসনটি যেন পারিবারিক সম্পত্তি হয়ে ঠেকেছিল। সেখানে যখন স্মৃতি ইরানি ঢুকে পড়েন, তা কার্যত মেনে নিতে পারেনি রাহুল শিবির। চাপা বিতর্ক তাই পিছু ছাড়েনি প্রথম থেকেই।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gujarat BJP: গুজরাতের মতো একটি ‘উন্নত’ রাজ্যের বেশিরভাগ নির্বাচক যদি বিজেপিকেই বেছে নেন, তাহলে গণতান্ত্রিক আকাঙ্খার জন্য কেন আর অন্যদলকে ভোট দেওয়া?
সেই বিতর্ককেই এবার আরও উসকে দিলেন উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেতা অজয় রাই। স্মৃতি ইরানিকে নিয়ে ইতিমধ্যেই চাপা রাগ ছিল তাঁর। এবার সেই রাগ উগড়ে দিলেন বিতর্কিত মন্তব্যে। অবশ্য পাল্টা বিতর্কের সুর চড়াতে দেরি করেনি বিজেপিও। কংগ্রেস নেতার মন্তব্য আপত্তিকর এবং লিঙ্গবৈষম্য মূলক বলে দাগিয়েছে গেরুয়া শিবির।
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে অমেঠি কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীকে পরাজিত করেন করেন স্মৃতি। ভেঙে দেন কংগ্রেসে তথা গান্ধী পরিবারের একচেটিয়া শাসনযন্ত্র। কিন্তু জেতার পর থেকেই স্মৃতি ইরানিকে বারবার প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে কংগ্রেস। এদিন তাঁকে উদ্দেশ্য করে অজয় রাই বলেন, "লাটকে-ঝাটকে দেকার চালি জাতি হ্যায়"। অর্থাৎ স্মৃতি ইরানি যে কেবল তাঁর নির্বাচনী ক্ষেত্র পরিদর্শন করেই চলে যান এরূপ মন্তব্য করেন। যদিও তাঁর এই কথাকে অপমানজনক হিসেবেই দেখেছে বিজেপি। এমনকী কংগ্রেস নেতার এই মন্তব্যের নেপথ্যে আসলে যে গান্ধী পরিবারেরই মদত রয়েছে, সেই অভিযোগ তুলেছে পদ্মশিবির। শুধু তাই নয়,স্মৃতি ইরানিকে বলা কথা বিকৃতি বলে সূচিত করে কংগ্রেস দলে মহিলাদের অসম্মানের দিকটিও তুলে ধরেছে বিজেপি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Gujarat Election Results 2022: অনেকেই বলছেন, জিগনেশ মেভানির এই প্রভাব যদি কংগ্রেসে না থাকত তাহলে আরও খারাপ হত কংগ্রেসের নির্বাচনী ফলাফল।
এখানেই শেষ নয় বিগত পাঁচ বছরের অচলাবস্থার দিকটিও স্পষ্ট করেন কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অজয় রাই। সোমবার উত্তরপ্রদেশের শোনভদ্রে একটি তিনি বলেন, বিজেপি আসার পর থেকেই নাকি কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে এখানে। এতদিন গান্ধী পরিবার যে শিল্পাঞ্চল তৈরি করেছিল তা অচিরেই শেষ করে দিচ্ছে বিজেপি এমনটাই সুর চড়ান তিনি। তাঁর কথায় তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন তাঁর সঙ্গে গান্ধী পরিবারের সম্পর্কের দিকটিও। সরাসরি এদিন অজয় রাই এই আসনটিকে ওই পরিবারের বলে দাগিয়ে দেন। স্বাভাবিক ভাবেই বিভিন্ন মহলে এখন একটাই প্রশ্ন উঠেছে এতদিনকার পারিবারিক অধ্যায়কে ফিরে পেতে আসন্ন ২০২৪ এর ভোটে কী ফের স্মৃতির মুখোমুখি হবেন সোনিয়াপুত্র? যদিও এর উত্তরে অজয় রাই দাবি করেছেন, অবশ্যই লড়াই করা উচিত রাহুলের।
উত্তরপ্রদেশের শোনভদ্র থেকে বিতর্ক গড়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। একজন মহিলাকে উদ্দেশ্য করে যে বক্তব্য অজয় রায় রেখেছেন তার তীব্র নিন্দা করে বিজেপি শিবির। স্মৃতি ইরানির উদ্দেশ্যে বলা 'লাটকে ঝাটকে' কথাটি যে সার্বিকভাবে কংগ্রেসের দলের অভ্যন্তরীণ মানসিকতাকেই সূচিত করে এমনটাই বলেন পদ্মশিবিরের মুখাপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা। এই একই ইস্যুতে সুর চড়িয়েছেন বিজেপির আরেক মুখপাত্র অনিলা সিং-ও। এর নেপথ্যে যে গান্ধী পরিবারের মদত রয়েছে এমনটাই প্রকাশ্যে আনার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। মহিলাদের সম্মান নিয়ে যে প্রশ্ন বিজেপি তুলেছে তার বিপরীতে সবার উঠে আসে ইনি একটি দিকও।
এই দলের প্রধানই তো ছিলেন একজন মহিলা।ইন্দিরা গান্ধী। তার পরে সোনিয়াও থেকেছেন ক্ষমতার শীর্ষে। যোগ্য ছিলেন প্রিয়াঙ্কাও। যদিও কেন তাঁকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হল না সেই জল্পনা আজও রয়েছে। তবে কি সেই জল্পনার কোনো আঁচ ইতিমধ্যেই পেয়েছেন গেরুয়া শিবির? আর তার জেরেই বিতর্কের সুর চড়াতে এত সুবিধা হচ্ছে তাদের। অবশ্য এই সব বিতর্কের আসল উত্তর দিতে পারবে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটই। আর ততদিন বিতর্ক এবং পাল্টা বিতর্ক যে চলতেই থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।







