মহিলাদের সম্মান নেই কংগ্রেসে! কোন বিতর্ক উস্কে দিল গেরুয়া শিবির

Uttarpradesh : উত্তরপ্রদেশের গান্ধী দূর্গে গেরুয়া ঝড় তুলেছিলেন বিজেপি সাংসদ স্মৃতি ইরানি

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
মহিলাদের সম্মান নেই কংগ্রেসে! কোন বিতর্ক উস্কে দিল গেরুয়া শিবির

বিতর্কের শুরু হয়েছে অনেক আগেই, সময়ের সঙ্গে কেবল তাতে মাল মশলা যুগিয়ে গিয়েছেন দুপক্ষই। কথা হচ্ছে, উত্তরপ্রদেশের অমেঠি লোকসভা আসনটিকে নিয়ে। এখানে দীর্ঘকাল রাজত্ব করেছে গান্ধী পরিবার। একপ্রকার একচেটিয়া রাজত্ব বলা চলে। ১৯৮০ সাল থেকে ২০১৯, টানা ৩৯ বছরের দূর্গ। অবশেষে সেখানেই গেরুয়া ঝড় তুলেছিলেন বিজেপি সাংসদ স্মৃতি ইরানি। আর সেই থেকে বিজেপি বনাম কংগ্রেসের টানাপোড়েন চলছে।

১৯৮০ সালে এখানে প্রথম সাংসদ হন কংগ্রেসের সঞ্জয় গান্ধী। তারপর ১৯৯১ সাল পর্যন্ত এই আসনের সাংসদ ছিলেন রাজীব গান্ধী। রাজীব গান্ধীর পর আসনটি দখল করেন সোনিয়া গান্ধী। ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ , ব্যাস তারপরই ক্ষমতা যায় রাহুল গান্ধীর হাতে। সেই থেকে রাহুলই রাশ টেনে নিয়ে জানা টানা ১৫ বছর। ফলে গান্ধী পরিবারের কাছে আসনটি যেন পারিবারিক সম্পত্তি হয়ে ঠেকেছিল। সেখানে যখন স্মৃতি ইরানি ঢুকে পড়েন, তা কার্যত মেনে নিতে পারেনি রাহুল শিবির। চাপা বিতর্ক তাই পিছু ছাড়েনি প্রথম থেকেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দেশের মুখ গুজরাত আর বিজেপিই! কেন ধামাচাপা পড়ে গেল আপ ও কংগ্রেসের জয়?

Gujarat BJP: গুজরাতের মতো একটি ‘উন্নত’ রাজ্যের বেশিরভাগ নির্বাচক যদি বিজেপিকেই বেছে নেন, তাহলে গণতান্ত্রিক আকাঙ্খার জন্য কেন আর অন্যদলকে ভোট দেওয়া?

সেই বিতর্ককেই এবার আরও উসকে দিলেন উত্তরপ্রদেশের কংগ্রেস নেতা অজয় রাই। স্মৃতি ইরানিকে নিয়ে ইতিমধ্যেই চাপা রাগ ছিল তাঁর। এবার সেই রাগ উগড়ে দিলেন বিতর্কিত মন্তব্যে। অবশ্য পাল্টা বিতর্কের সুর চড়াতে দেরি করেনি বিজেপিও। কংগ্রেস নেতার মন্তব্য আপত্তিকর এবং লিঙ্গবৈষম্য মূলক বলে দাগিয়েছে গেরুয়া শিবির।

২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে অমেঠি কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীকে পরাজিত করেন করেন স্মৃতি। ভেঙে দেন কংগ্রেসে তথা গান্ধী পরিবারের একচেটিয়া শাসনযন্ত্র। কিন্তু জেতার পর থেকেই স্মৃতি ইরানিকে বারবার প্রশ্ন চিহ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে কংগ্রেস। এদিন তাঁকে উদ্দেশ্য করে অজয় রাই বলেন, "লাটকে-ঝাটকে দেকার চালি জাতি হ্যায়"। অর্থাৎ স্মৃতি ইরানি যে কেবল তাঁর নির্বাচনী ক্ষেত্র পরিদর্শন করেই চলে যান এরূপ মন্তব্য করেন। যদিও তাঁর এই কথাকে অপমানজনক হিসেবেই দেখেছে বিজেপি। এমনকী কংগ্রেস নেতার এই মন্তব্যের নেপথ্যে আসলে যে গান্ধী পরিবারেরই মদত রয়েছে, সেই অভিযোগ তুলেছে পদ্মশিবির। শুধু তাই নয়,স্মৃতি ইরানিকে বলা কথা বিকৃতি বলে সূচিত করে কংগ্রেস দলে মহিলাদের অসম্মানের দিকটিও তুলে ধরেছে বিজেপি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভরসার নাম জিগনেশ! বিজেপির দূর্গে যেভাবে একা জিতে দেখিয়ে দিলেন দলিত-কংগ্রেস নেতা

Gujarat Election Results 2022: অনেকেই বলছেন, জিগনেশ মেভানির এই প্রভাব যদি কংগ্রেসে না থাকত তাহলে আরও খারাপ হত কংগ্রেসের নির্বাচনী ফলাফল।

এখানেই শেষ নয় বিগত পাঁচ বছরের অচলাবস্থার দিকটিও স্পষ্ট করেন কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি অজয় রাই। সোমবার উত্তরপ্রদেশের শোনভদ্রে একটি তিনি বলেন, বিজেপি আসার পর থেকেই নাকি কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে এখানে। এতদিন গান্ধী পরিবার যে শিল্পাঞ্চল তৈরি করেছিল তা অচিরেই শেষ করে দিচ্ছে বিজেপি এমনটাই সুর চড়ান তিনি। তাঁর কথায় তিনি আরও স্পষ্ট করে দেন তাঁর সঙ্গে গান্ধী পরিবারের সম্পর্কের দিকটিও। সরাসরি এদিন অজয় রাই এই আসনটিকে ওই পরিবারের বলে দাগিয়ে দেন। স্বাভাবিক ভাবেই বিভিন্ন মহলে এখন একটাই প্রশ্ন উঠেছে এতদিনকার পারিবারিক অধ্যায়কে ফিরে পেতে আসন্ন ২০২৪ এর ভোটে কী ফের স্মৃতির মুখোমুখি হবেন সোনিয়াপুত্র? যদিও এর উত্তরে অজয় রাই দাবি করেছেন, অবশ্যই লড়াই করা উচিত রাহুলের।

উত্তরপ্রদেশের শোনভদ্র থেকে বিতর্ক গড়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। একজন মহিলাকে উদ্দেশ্য করে যে বক্তব্য অজয় রায় রেখেছেন তার তীব্র নিন্দা করে বিজেপি শিবির। স্মৃতি ইরানির উদ্দেশ্যে বলা 'লাটকে ঝাটকে' কথাটি যে সার্বিকভাবে কংগ্রেসের দলের অভ্যন্তরীণ মানসিকতাকেই সূচিত করে এমনটাই বলেন পদ্মশিবিরের মুখাপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা। এই একই ইস্যুতে সুর চড়িয়েছেন বিজেপির আরেক মুখপাত্র অনিলা সিং-ও। এর নেপথ্যে যে গান্ধী পরিবারের মদত রয়েছে এমনটাই প্রকাশ্যে আনার চেষ্টা করেছেন তাঁরা। মহিলাদের সম্মান নিয়ে যে প্রশ্ন বিজেপি তুলেছে তার বিপরীতে সবার উঠে আসে ইনি একটি দিকও।

এই দলের প্রধানই তো ছিলেন একজন মহিলা।ইন্দিরা গান্ধী। তার পরে সোনিয়াও থেকেছেন ক্ষমতার শীর্ষে। যোগ্য ছিলেন প্রিয়াঙ্কাও। যদিও কেন তাঁকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া হল না সেই জল্পনা আজও রয়েছে। তবে কি সেই জল্পনার কোনো আঁচ ইতিমধ্যেই পেয়েছেন গেরুয়া শিবির? আর তার জেরেই বিতর্কের সুর চড়াতে এত সুবিধা হচ্ছে তাদের। অবশ্য এই সব বিতর্কের আসল উত্তর দিতে পারবে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটই। আর ততদিন বিতর্ক এবং পাল্টা বিতর্ক যে চলতেই থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।