গান্ধী পরিবারতন্ত্রের অবসান! থারুর না খাড়্গে, হাওয়া কার পালে
Congress Election: নির্বাচনের দামামা বেজেছে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের অন্দরে। প্রার্থী নবীন শশী থারুর আর প্রবীণ মল্লিকার্জুন খাড়্গে।

শুরু হয়েছে নির্বাচনের দামামা। সকাল থেকেই সাজো সাজো রব দিল্লিতে! পিছিয়ে নেই এই রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস ভবনও। রাজ্যসভা তো ছেড়েই দিন, দেশের লোকসভা নির্বাচন বা কোনও রাজ্যের বিধানসভা অথবা কোনও আঞ্চলিক নির্বাচনও নয়। এই নির্বাচন ভিন্ন। এই নির্বাচনের দামামা বেজেছে ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের অন্দরে। প্রার্থী একই দলের দু'জন। নবীন শশী থারুর আর প্রবীণ মল্লিকার্জুন খাড়্গে। নবীন আধমরাদের ঘা মেরে বাঁচাবেন কি বাঁচাবেন না, না কি পুরনো চালে ভাতে বাড়বে! এই নিয়ে রাজনৈতিক মা-কাকিমা, দাদা-কাকা মহলে গুঞ্জন চললেও এই নির্বাচন কিন্তু বেশ তাৎপর্যের। যেখানে সরাসরি না হলেও পরোক্ষ অংশগ্রহণে পিছিয়ে নেই বিরোধীরাও। কটাক্ষের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরাও। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া ভোটাভুটি নিয়ে কেউ কেউ তো বলেই ফেলছেন, আহা রে! হাতের আবার কী দুর্ভোগ, আগে থেকেই লাড্ডুর কথা জানা, তবুও!
কিন্তু যে যা-ই বলুন না কেন, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন, সামগ্রিকভাবে এদেশের বেড়ে চলার পিছনে কংগ্রেস নেই, একথা বলবেন কেউ-ই। তাই, দীর্ঘকাল বাদে কংগ্রেসের অন্দরের এই প্রধান বাছার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হবে, এটাই দস্তুর।
কীসের নির্বাচন
ভারতের জাতীয় কংগ্রেসে অন্যান্য সব দলের মতোই একজন সর্বভারতীয় সভাপতি থাকেন। যিনি দলের মুখ। সংগঠনে থাকে বিরাট ভূমিকা। যে পদে নয়ের দশকের শেষ দিকে বসেন সোনিয়া গান্ধী। তারপর আসে রাহুল গান্ধীর পালা। তিনি পদত্যাগ করলে ফের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন সোনিয়া গান্ধী। এবার দলের স্থায়ী সভাপতি পদের জন্য নির্বাচনের পথই বাছে কংগ্রেস। যে নির্বাচন হচ্ছে সোমবার। গণনা একদিন পরেই, আগামী বুধবার।
কীভাবে হয় এই নির্বাচন
নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হওয়ার পরে তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়। এরপর প্রার্থী বা প্রার্থীদের জন্য মনোনয়নের দিন প্রকাশ করা হয়। ন্যূনতম ১০ জন নির্দিষ্ট সদস্যের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রার্থীরা মনোনয়ন পেশ করেন। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন নির্বাচনী কমিটির চেয়ারম্যান। থাকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের সুযোগও। এরপর নির্দিষ্ট দিনের আগেই ব্যালট ছাপানো হয়। কংগ্রেসের সংবিধান অনুযায়ী, এই নির্বাচনের জন্য বাছা হয় সমস্ত রাজ্যের কংগ্রেস কার্যালয় এবং দিল্লির সদর দফতর। সেখানে নির্দিষ্ট ব্যালট পেপারে দলের ইলেক্টোরাল কলেজের সদস্য বা প্রতিনিধিরা, যাঁদের যে দফতর কাছে হবে সেখানে গিয়ে ভোট দিতে পারেন। এআইসিসি সদস্যরা ভোট দেন। এরপর ভোটের গণনা হয়। গণনায় জয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয় নির্বাচনী কমিটির চেয়ারম্যানের তরফে। নির্বাচিত সভাপতি শপথের মাধ্যমে কাজ শুরু করেন। এরপর সভাপতির কার্যকালে কোনও জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হলে, তাঁর পরিবর্তে অভিজ্ঞ কোনও সাধারণ সম্পাদক সেই দায়িত্ব পালন করেন, যতদিন নির্বাচন বা মনোনীত কোনও নতুন সভাপতি হচ্ছেন।
সভাপতির মেয়াদকাল
১৮৮৫ সাল থেকে ১৯৩৩ সাল। এই সময়কালে কংগ্রেসের সভাপতি পদের মেয়াদ ছিল এক বছর। এর পর থেকে নির্দিষ্ট কোনও মেয়াদকাল আর ছিল না। ইন্দিরা গান্ধী, রাজীব গান্ধী, পিভি নরসিমা রাওয়ের মতো প্রধানমন্ত্রীরা একসঙ্গেই কংগ্রেসের সভাপতির পদে আসীন ছিলেন।
কংগ্রেসে সভাপতি ইতিহাস
এই পর্যন্ত মোট ৬১ জন সভাপতি হয়েছেন কংগ্রেসে। ১৮৮৫ সালে এই দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন এক বঙ্গ সন্তান। উমেশ চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। বহুদিন দল সামলেছেন মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, জহরলাল নেহরুরা।
১৯৯৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত সোনিয়া গান্ধী কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। ২০১৭ থেকে ২০১৯ রাহুল গান্ধী সভাপতি মনোনীত হন। ফের ২০১৯ নাগাদ রাহুলের পদত্যাগের পরে, সোনিয়া গান্ধী দায়িত্ব নেন। সেই থেকে ২০২২ এর এই নির্বাচনের আগে পর্যন্ত তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি হিসেবে। মূলত, ১৯৯৮ সালের পরে আর নির্বাচনের পথে হাঁটেনি কংগ্রেস। যে মিথ ভাঙল ২০২২-এ এসে।
কারা ভোট দেন এই নির্বাচনে
প্রদেশ কমিটির সদস্য। জাতীয় কংগ্রেস কমিটির সদস্যরা। আর একাধিক পদ্ধতিতে নিযুক্ত ইলেক্টোরাল কলেজের প্রতিনিধিরা। যাঁরা নির্বাচিত অথবা মনোনীত হন দীর্ঘ পদ্ধতির মধ্য দিয়ে। একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের সংগঠনের প্রতিনিধিরাও এর মধ্যে থাকেন। কংগ্রেসের যে কলেজের আনুমানিক প্রতিনিধির সংখ্যা এখন প্রায় ৯ হাজার।
সভাপতি-নির্বাচন ইতিহাসে কংগ্রেস
১৩৭ বছরের কংগ্রেস ইতিহাসে এই নির্বাচন ধরে ৫ বারের বেশি সভাপতি নির্বাচনের মুখোমুখি হলো কংগ্রেস। যা নিয়ে বহু বিতর্ক সামনে এলেও আদতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দলের সভাপতি বাছতে কংগ্রেস থেকেছে নির্বাচনবিমুখ। যেখানে বারবার পদ দখল করেছেন গন্ধিরাই। প্রসঙ্গত, প্রায় ২৪ বছর পর ২০২২ সালে এসে অ-গান্ধী পরিবারের কেউ কংগ্রেস সভাপতি হতে চলেছেন।
১৯৩৯ এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু
১৯৩৮ সালের পর আর মনোনীত নন, এবার নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হয় সুভাষচন্দ্র বসুকে। ১৯৩৯ সালে এসে প্রথম জব্বলপুরে বসে কংগ্রেসকে মুখোমুখি হতে হয় সভাপতি নির্বাচনের। এখানেই অন্যতম ভূমিকা পালন করেন মহাত্মা গান্ধী। নেতাজির প্রিয় 'বাপু'-র পছন্দের প্রার্থী হিসেবে উঠে আসে অন্য নাম। অবাক হন নেতাজি। বিপক্ষে তখন পট্টভি সীতারামাইয়া। কিন্তু লড়াইয়ে তো নেতাজি! স্বাভাবিকভাবে প্রথম সভাপতি নির্বাচনে দাঁড়িয়ে জিতলেন সুভাষ। ফের কংগ্রেসের সভাপতি হলেন তিনি। এর পর থেকে মতবিরোধ চরমে উঠল। একটা সময় কংগ্রেস ছাড়লেন নেতাজি। এই বছরের মার্চেই ফের পরিবর্তন হলেন সভাপতি। রাজেন্দ্র প্রসাদের হাতে গেল কংগ্রেসের ভার। তখনও গান্ধী-নেহেরু ছাড়িয়ে ফের গান্ধীরই হাতে আসেনি সভাপতির পদ।
১৯৫০
ফের নির্বাচন। স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতে প্রথম সভাপতি পদে নির্বাচনের মুখোমুখি হল নেহেরুর কংগ্রেস। প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষোত্তম দাস ট্যান্ডন এবং আচার্য কৃপালিনি। আশর্যজনক ভাবে সেবার নেহেরুর পছন্দের প্রার্থী আচার্য কৃপালিনি হেরে যান। জয় পান সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের পছন্দের পুরুষোত্তম দাস ট্যান্ডন।
১৯৭৭
বহুবছর পর ফের সভাপতি পদে আসীন হওয়ার জন্য নির্বাচনের পথে এগোয় কংগ্রেস। ১৯৭৭ নাগাদ লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরিপ্রেক্ষিতে দলের সভাপতি পদ থেকে দেবকান্ত বড়ুয়া পদত্যাগ করেন। এরপর নির্বাচন হয়। কে ব্রহ্মানন্দ রেড্ডি ওই নির্বাচনে, সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় এবং করণ সিংকে হারিয়ে দেন। এআইসিসি প্রধান হন রেড্ডি।
১৯৯৭
কংগ্রেসের সভাপতি পদের জন্য পরবর্তী নির্বাচন হয় ২০ বছর পরে। ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন। যেখানে সীতারাম কেশরী, শরদ পওয়ার, রাজেশ পাইলট; ত্রিমুখী লড়াই হয় সেবার। ওই বছর মহারাষ্ট্র এবং উত্তরপ্রদেশের কিছু অংশের সমর্থন বাদে, সমস্ত রাজ্যের কংগ্রেস প্রতিনিধিরা কেশরীকে সমর্থন করেন। তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী পওয়ারের প্রাপ্য ৮৮২ ভোট, পাইলটের প্রাপ্য ৩৫৪ ভোটের বিপরীতে ৬,২২৪ জন প্রতিনিধির ভোট পেয়ে জেতেন।
২০০০
এই প্রথম গান্ধী পরিবারের কোনও সদস্যকে দলের অন্দরেই নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হয়। সভাপতি পদে প্রার্থী সোনিয়া গান্ধীর বিপক্ষে মনোনয়ন পত্র জমা দেন কংগ্রেস নেতা জিতেন্দ্র প্রসাদ। নির্বাচন হয়। ৭৪০০ প্রতিনিধির ভোট ইন্দিরা গান্ধীর পুত্রবধূ পেলেও জিতেন্দ্র পান মাত্র ৯৪টি ভোট।
২০২২
২২ বছর পর ফের দলীয় নির্বাচনে নামল কংগ্রেস। যা অন্যান্য ক্ষেত্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক। কারণ, এই নির্বাচনে প্রায় ২৪ বছর পর গান্ধী পরিবারের সদস্য ব্যতীত কেউ সভাপতি নির্বাচিত হবেন। অর্থাৎ সোনিয়া গান্ধীর বদলে যিনি কংগ্রেসের প্রধান নির্বাচিত হবেন, তিনি গান্ধী পরিবারে কেউ নন।
২০২২-এর নির্বাচন-বিতর্ক
এই নির্বাচন আদৌ হবে কি হবে না, এই নিয়ে সংশয় তৈরি হয় অনেক আগে থেকেই। জল্পনা শুরু হয় ২০১৯ সালের পর ফের রাহুল গান্ধীর ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হবে দায়িত্ব, এ নিয়েও। বিদেশ সফররত রাহুলকে নিয়ে এই খবর চাউর হয়। আবার জল্পনা শুরু হয় সোনিয়া গান্ধীর বহাল থাকা নিয়েও। কিন্তু অসুস্থ সোনিয়া এবং রাহুলের সভাপতি হতে না, এই দুইয়ের দোলাচলে প্রিয়ঙ্কার মুখ থেকেও আসে অসম্মতি। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ফের নির্বাচনের পথে এগোয় কংগ্রেস। এবারের নির্বাচনে দুই প্রার্থীই দক্ষিণ ভারতের।
বিতর্ক ১: আগামী লোকসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে গণতান্ত্রিক কংগ্রেসের একটা ভাবমূর্তি তৈরি করার কৌশল নেওয়া হয়েছে। যাতে প্রমাণিত হয়, দলে গনতন্ত্র রয়েছে। তাই ফের নির্বাচনের মুখোমুখি হয়েছে, উঠেছে এই দাবি।
বিতর্ক ২: কংগ্রেসের জি ২৩ নেতাদের অসন্তোষ। দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দলের রাজনৈতিক ধ্বংসের পথে অস্বস্তি বাড়িয়েছে একাধিক প্রবীণ নেতার দল ছাড়া। যার সাম্প্রতিক উদাহরণ, জম্মু ও কাশ্মীরের গুলাম নবি আজাদ। যাঁদের অভিযোগের মূল উপজীব্য হল দলে গণতন্ত্র নেইএবং গোষ্ঠী কোন্দল। যা ঠেকাতে, এই নির্বাচন এই মুহূর্তে জরুরি, তাই এই পদক্ষেপ বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
বিতর্ক ৩: গান্ধী পরিবারের আধিপত্য। একতরফা ভাবে দিনের পর দিন শুধুই গান্ধী পরিবারের সদস্যরা সভাপতি হবেন, দল চালাবেন। এই বিষয়টি দলের একটা গোষ্ঠীর মধ্যে সাড়া ফেলছিল। সেই কালিমা লেপনের চেষ্টা এই নির্বাচন, বলছেন কেউ কেউ।
বিতর্ক ৪: ব্যর্থ রাহুলের ভাবমূর্তি। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের শোচনীয় অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে দলের অন্দরে। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে, রাহুলের 'ইমেজ মেকআপে'র জন্য এই পদক্ষেপ বলেও মত কারওর কারওর।
বিতর্ক ৫: নতুন মুখ। বহুদিন কংগ্রেসে মুখের অভাব গাঢ় হয়েছে। দলের অবনমন হয়েছে ক্রমশ। এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে নতুন মুখের জন্য দলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতির কথা কৌশলেই ভেবেছে কংগ্রেস। বলছেন অনেকেই।
'শশী থারুর এফেক্ট'
'আমি শেষ পর্যন্ত লড়ব, পিছিয়ে আসার কারণ নেই।' কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচনে অংশ নিয়েও সরে এসেছেন, এই খবরের প্রতিক্রিয়ায় এমনই বলেন শশী থারুর। তিনি এ-ও বলেন যে, 'আমার আর আমার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী মল্লিকার্জুন খাড়্গের কোনও নীতিগত পার্থক্য নেই। আমরা কংগ্রেসের লোক। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়ছি শুধু।'
প্রসঙ্গত, ২০০৯ থেকে কংগ্রেসের টিকিটে কেরলের তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ শশী। উচ্চ শিক্ষিত, প্রাক্তন আমলা, দেশের অন্যতম লেখকও তিনি। ঠিক এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে শুধু কেরল বা দক্ষিণ ভারত নয়, দেশে তাঁর জনপ্রিয়তা রয়েছে। এমনকি ভালো বক্তা হিসেবে শশীর নামও রয়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ আছে তাঁর। এই অবস্থায় নির্বাচনে জিতে শশী থারুরের কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
শশীর জয়ে 'কাঁটা'
জল্পনা শুরু হয়েছে অন্য একটি বিষয় নিয়ে। যা শশী থারুরের ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে জড়িত। শশী থারুর প্রথম বিয়ে করেন বাঙালি তিলোত্তমা মুখোপাধ্যায়কে। তাঁদের দুই সন্তানও রয়েছে। ২০০৭ সাল। যখন তিনি সাংসদ হননি। এই বছরেই দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ হয় তিলোত্তমা এবং শশীর। ২০১০ সাল নাগাদ দুবাইয়ের প্রবাসী ভারতীয় ব্যবসায়ী সুনন্দা পুষ্করের তৃতীয় স্বামী হন শশী থারুর। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি, অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় সুনন্দার। এ নিয়ে জলঘোলা হয় বিস্তর। বিতর্কে জড়ান শশী।
এখানেই রয়েছে প্রশ্ন। কংগ্রেসের সভাপতিকে নিয়ে বিতর্ক এবং পুরনো প্রসঙ্গ মাথাচাড়া দিলে কংগ্রেসের অস্বস্তি বাড়তে পারে। আবার তিনি একাধিক বই লিখেছেন। সেখানে ধর্ম-সংক্রান্ত নানা মন্তব্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে। যেখানে দাঁড়িয়ে শশী সাংসদ থেকে পুরো দেশের কংগ্রেসের প্রধান পদে বসলে এসব বাড়তে পারে আরও। যদিও কংগ্রেসের কর্মীদের একটা বড় অংশের মধ্যে তিনিই বেশি জনপ্রিয় বলে দাবি করা হয়।
মল্লিকার্জুন খাড়্গের অবস্থান
এই নির্বাচনে শশী থারুরের বিপক্ষে রয়েছেন কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা মল্লিকার্জুন খাড়্গে। একাধিক প্রবীণ নেতার অভিযোগ আর দল ছাড়ার খবরেও তিনি অবিচল। সোনিয়া-রাহুলের পছন্দের কোনও প্রার্থী এই নির্বাচনে না থাকলেও দাবি করা হয়, মল্লিকার্জুন খাড়্গেই আসলে গান্ধী পরিবারের কাছের। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে খানিকটা এগিয়ে তিনি।
খাড়্গে-কাঁটা
দিল্লির অলিন্দে কান পাতলেই শোনা যায়, গান্ধীদের ঘনিষ্ঠ এবং কংগ্রেসের একটা প্রবীণ গোষ্ঠীর কাছের হলেও কংগ্রেস সমর্থকদের মধ্যে খুব একটা জনপ্রিয় নন তিনি। তাই, কলেজের অর্থাৎ নির্দিষ্ট প্রতিনিধিদের ভোট ঠিক কতটা তাঁর ভাগ্যে জোটে, এটাও প্রশ্নের। রাজ্যসভার সাংসদ মল্লিকার্জুন, কংগ্রেসের ওই কক্ষের নেতাও। তিনিই ইউপিএ সরকারের রেলমন্ত্রী-সহ একাধিক মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন। কর্ণাটকের স্বল্পভাষী পরিচিত মুখ বারবার কংগ্রেসের 'ক্রাইসিস ম্যানেজার' হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছেন। সুখে-দুঃখে সঙ্গে থেকেছেন বারবার। কিন্তু শশী থারুরের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের সামনে যদি দলের অন্দরেই হেরে যান তিনি, তাহলে তাঁর ব্যক্তিত্বে ব্যাঘাত ঘটবে, যা গান্ধী পরিবারের জন্য খুব একটা ভালো হবে না, এ-ও বলছেন কেউ কেউ।
সামগ্রিকভাবে নির্বাচনী দামামার মধ্যেই অনুরণিত হচ্ছে ইতিহাস, বিতর্ক আর জল্পনার কথকথা। যা দেশীয় রাজনীতির দেওয়ালে ফের ফিসফিস করে বলে যাচ্ছে সম্ভাবনার কথা, প্রতি মুহূর্তে একাধিক কথকতার কথা। যা মনে করাচ্ছে আধিপত্য আর বিস্তারের একছত্র চেষ্টার মধ্যেও স্বাধীনতা আর মুক্তির বাহক নেতাজি বা পুরুষোত্তম দাস ট্যান্ডনের কথা!







