মমতা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছেন না, রাজ্যে বিজেপি আসার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন: রাহুল গান্ধী
রাহুলের দাবি, মমতা আসলে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছেন না, বরং তিনি বিজেপির জন্য পথ পরিষ্কার করে দিচ্ছেন। মমতা এত দুর্নীতি না করলে মোদি আসতে পারত না বাংলায়। এই রাজ্যে চাকরি পেতে গেলে তৃণমূলের নেতাদের আত্মীয় হতে হয়।
লোকসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। হুগলির জনসভা থেকে তিনি যে কেবল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করলেন তাই নয়, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র আক্রমণ শানালেন।
রাহুল গান্ধী জোর করে বাংলা বলার কোনো নাটকীয় চেষ্টা করেননি। হিন্দিতেই সরাসরি এবং চাঁচাছোলা ভাষায় নিজের বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
রাহুল গান্ধী তাঁর ভাষণের শুরুতেই পরিষ্কার করে দেন, এখন লড়াইটি কেবল গদি দখলের নয়, এটি দুটি ভিন্ন বিচারধারার লড়াই। একদিকে রয়েছে কংগ্রেস, যারা দেশের সংবিধান রক্ষা, ভ্রাতৃত্ব এবং মিলেমিশে থাকার কথা বলে। অন্যদিকে রয়েছে বিজেপি ও আরএসএস, যাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো সমাজে ঘৃণা ও হিংসা ছড়িয়ে দেওয়া। রাহুলের মতে, বিজেপি যেখানেই পা রাখে, সেখানেই ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে সাধারণ মানুষদের একে অপরের সঙ্গে লড়াই করার বীজ বপন করে দেয়। এই ঘৃণার রাজনীতির বিপরীতেই কংগ্রেস ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র মাধ্যমে দেশজুড়ে ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যাতে শামিল হয়েছিলেন দেশের লাখো মানুষ। তাঁর আক্রমণের কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি আক্রমণ করে রাহুল গান্ধী এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মুখে বড় বড় দেশপ্রেমের কথা বললেও আসলে তিনি মার্কিন চাপে এবং কর্পোরেট স্বার্থে কাজ করছেন। রাহুল অভিযোগ করেন, ভারত-আমেরিকা চুক্তির নামে দেশের কৃষি খাত, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং এনার্জি সিকিউরিটি সব বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এমনকী দেশের সমস্ত তথ্য বা ‘ডেটা’ পর্যন্ত আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
এখানেই থামেননি তিনি। রাহুল আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ‘এপস্টাইন ফাইল’ আছে, যেখানে মোদির ইমেজ নষ্ট হতে পারে এমন অনেক তথ্য রয়েছে। সেই ভয়েই ট্রাম্পের ইশারায় মোদি নাচেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রাঘব চাড্ডার মতে, যে স্বপ্ন নিয়ে ১২ বছর আগে আম আদমি পার্টি গঠিত হয়েছিল, তা আজ ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা রাজনীতিতে কেরিয়ার গড়তে আসেননি, বরং কেরিয়ার ছেড়ে দেশসেবা করতে এসেছিলেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন লাফাতে বলেন মোদি লাফান, যখন ইজরায়েল যেতে বলেন তখন তিনি সেখানে যান।
দেশের সম্পদ— বন্দর, বিমানবন্দর, সিমেন্ট থেকে শুরু করে সৌরবিদ্যুৎ— সবকিছু গৌতম আদানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এই কারণেই রাহুল গান্ধী বলেন এই ইন্ডাস্ট্রির নাম আদানি না হয়ে ‘মোদানি’ হওয়া উচিত।
রাহুল গান্ধী হুগলির জনসভায় সেখানকার হারানো শিল্প গৌরবের কথা মনে করিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, হুগলি একসময় এশিয়ার অন্যতম বড় শিল্পাঞ্চল ছিল, এখানে হিন্দুস্তান মোটর্স ও বহু জুট মিল চলত যা কংগ্রেসের আমলে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আজ সব শেষ হয়ে গিয়েছে। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে ধ্বংসলীলা চলছে।
রাহুল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে এক ‘গোপন আঁতাত’ বা সেটিং-এর অভিযোগ তোলেন তাঁর জনসভাগুলিতে। তিনি প্রশ্ন করেন,
আমার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে, আমার ঘর কেড়ে নেওয়া হয়েছে, লোকসভার সদস্যপদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং ইডি আমাকে ৫৫ ঘণ্টা জেরা করেছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক'বার জেরা করেছে?
রাহুলের দাবি, মমতা আসলে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছেন না, বরং তিনি বিজেপির জন্য পথ পরিষ্কার করে দিচ্ছেন। মমতা এত দুর্নীতি না করলে মোদি আসতে পারত না বাংলায়। এই রাজ্যে চাকরি পেতে গেলে তৃণমূলের নেতাদের আত্মীয় হতে হয়।
বাংলার শাসকদলের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে রাহুল বলেন, সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করা হয়েছে। কয়লা পাচার ও সোনা পাচারের মতো বেআইনি কারবারে তৃণমূলের নেতারা জড়িত। তিনি আর জি কর হাসপাতালের নৃশংস ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, যখন বাংলার নারীদের উপর অত্যাচার হয়, সরকার তখন অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি বাংলায় ঠিকমতো কাজ করতেন এবং আর জি করের মতো ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিতেন, তবে এই রাজ্যে বিজেপির কোনো জায়গাই থাকত না।
বক্তব্যের শেষে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করেন, নরেন্দ্র মোদি জানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে কোনোদিন কেন্দ্রে হারাতে পারবেন না। মোদির আসল ভয় কেবল কংগ্রেসের বিচারধারাকে। মোদি সারা বছর কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন, কিন্তু বাংলায় ভোটের সময় শুধু লোকদেখানো মমতার সমালোচনা করেন। ভোট মিটে গেলেই মোদি-মমতা আবার এক হয়ে যান। রাহুলের চূড়ান্ত বার্তা ছিল— দেশ ও বাংলাকে বাঁচাতে হলে এই ‘মোদি-মমতা’ থেকে মানুষকে বেরিয়ে আসতে হবে।





