মমতা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছেন না, রাজ্যে বিজেপি আসার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন: রাহুল গান্ধী

রাহুলের দাবি, মমতা আসলে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছেন না, বরং তিনি বিজেপির জন্য পথ পরিষ্কার করে দিচ্ছেন। মমতা এত দুর্নীতি না করলে মোদি আসতে পারত না বাংলায়। এই রাজ্যে চাকরি পেতে গেলে তৃণমূলের নেতাদের আত্মীয় হতে হয়।

inscript
৪ মিনিট
মমতা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছেন না, রাজ্যে বিজেপি আসার ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন: রাহুল গান্ধী

লোকসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। হুগলির জনসভা থেকে তিনি যে কেবল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করলেন তাই নয়, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তীব্র আক্রমণ শানালেন।

রাহুল গান্ধী জোর করে বাংলা বলার কোনো নাটকীয় চেষ্টা করেননি। হিন্দিতেই সরাসরি এবং চাঁচাছোলা ভাষায় নিজের বক্তব্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

রাহুল গান্ধী তাঁর ভাষণের শুরুতেই পরিষ্কার করে দেন, এখন লড়াইটি কেবল গদি দখলের নয়, এটি দুটি ভিন্ন বিচারধারার লড়াই। একদিকে রয়েছে কংগ্রেস, যারা দেশের সংবিধান রক্ষা, ভ্রাতৃত্ব এবং মিলেমিশে থাকার কথা বলে। অন্যদিকে রয়েছে বিজেপি ও আরএসএস, যাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো সমাজে ঘৃণা ও হিংসা ছড়িয়ে দেওয়া। রাহুলের মতে, বিজেপি যেখানেই পা রাখে, সেখানেই ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে সাধারণ মানুষদের একে অপরের সঙ্গে লড়াই করার বীজ বপন করে দেয়। এই ঘৃণার রাজনীতির বিপরীতেই কংগ্রেস ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র মাধ্যমে দেশজুড়ে ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, যাতে শামিল হয়েছিলেন দেশের লাখো মানুষ। তাঁর আক্রমণের কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি আক্রমণ করে রাহুল গান্ধী এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মুখে বড় বড় দেশপ্রেমের কথা বললেও আসলে তিনি মার্কিন চাপে এবং কর্পোরেট স্বার্থে কাজ করছেন। রাহুল অভিযোগ করেন, ভারত-আমেরিকা চুক্তির নামে দেশের কৃষি খাত, ছোট ও মাঝারি শিল্প এবং এনার্জি সিকিউরিটি সব বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এমনকী দেশের সমস্ত তথ্য বা ‘ডেটা’ পর্যন্ত আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

এখানেই থামেননি তিনি। রাহুল আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ‘এপস্টাইন ফাইল’ আছে, যেখানে মোদির ইমেজ নষ্ট হতে পারে এমন অনেক তথ্য রয়েছে। সেই ভয়েই ট্রাম্পের ইশারায় মোদি নাচেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শাসকের বিরুদ্ধে গলা তুলে আজ শাসকের ঘরেই কেন রাঘব চাড্ডা?

রাঘব চাড্ডার মতে, যে স্বপ্ন নিয়ে ১২ বছর আগে আম আদমি পার্টি গঠিত হয়েছিল, তা আজ ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা রাজনীতিতে কেরিয়ার গড়তে আসেননি, বরং কেরিয়ার ছেড়ে দেশসেবা করতে এসেছিলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন লাফাতে বলেন মোদি লাফান, যখন ইজরায়েল যেতে বলেন তখন তিনি সেখানে যান।

দেশের সম্পদ— বন্দর, বিমানবন্দর, সিমেন্ট থেকে শুরু করে সৌরবিদ্যুৎ— সবকিছু গৌতম আদানির হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এই কারণেই রাহুল গান্ধী বলেন এই ইন্ডাস্ট্রির নাম আদানি না হয়ে ‘মোদানি’ হওয়া উচিত।

রাহুল গান্ধী হুগলির জনসভায় সেখানকার হারানো শিল্প গৌরবের কথা মনে করিয়ে দিলেন। তিনি বলেন, হুগলি একসময় এশিয়ার অন্যতম বড় শিল্পাঞ্চল ছিল, এখানে হিন্দুস্তান মোটর্স ও বহু জুট মিল চলত যা কংগ্রেসের আমলে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আজ সব শেষ হয়ে গিয়েছে। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে ধ্বংসলীলা চলছে।

রাহুল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে এক ‘গোপন আঁতাত’ বা সেটিং-এর অভিযোগ তোলেন তাঁর জনসভাগুলিতে। তিনি প্রশ্ন করেন,

আমার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা রয়েছে, আমার ঘর কেড়ে নেওয়া হয়েছে, লোকসভার সদস্যপদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং ইডি আমাকে ৫৫ ঘণ্টা জেরা করেছে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক'বার জেরা করেছে?

রাহুলের দাবি, মমতা আসলে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছেন না, বরং তিনি বিজেপির জন্য পথ পরিষ্কার করে দিচ্ছেন। মমতা এত দুর্নীতি না করলে মোদি আসতে পারত না বাংলায়। এই রাজ্যে চাকরি পেতে গেলে তৃণমূলের নেতাদের আত্মীয় হতে হয়।

বাংলার শাসকদলের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে রাহুল বলেন, সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি করা হয়েছে। কয়লা পাচার ও সোনা পাচারের মতো বেআইনি কারবারে তৃণমূলের নেতারা জড়িত। তিনি আর জি কর হাসপাতালের নৃশংস ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, যখন বাংলার নারীদের উপর অত্যাচার হয়, সরকার তখন অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি বাংলায় ঠিকমতো কাজ করতেন এবং আর জি করের মতো ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিতেন, তবে এই রাজ্যে বিজেপির কোনো জায়গাই থাকত না।

বক্তব্যের শেষে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করেন, নরেন্দ্র মোদি জানেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে কোনোদিন কেন্দ্রে হারাতে পারবেন না। মোদির আসল ভয় কেবল কংগ্রেসের বিচারধারাকে। মোদি সারা বছর কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন, কিন্তু বাংলায় ভোটের সময় শুধু লোকদেখানো মমতার সমালোচনা করেন। ভোট মিটে গেলেই মোদি-মমতা আবার এক হয়ে যান। রাহুলের চূড়ান্ত বার্তা ছিল— দেশ ও বাংলাকে বাঁচাতে হলে এই ‘মোদি-মমতা’ থেকে মানুষকে বেরিয়ে আসতে হবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।

রামলীলার সভার জন্য ক্ষতি হয়েছে ছোট দোকানদারদের, কতটা প্রচার, কতটা সত্যি?

loss claim for Ramlila rally: রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ঘিরে ছোট দোকানদারদের ‘২.৫ লক্ষ দোকান বন্ধ’ ও ‘১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি’র দাবি আসলে, দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠন সিটিআই-এর অনুমান আসলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হিসাবের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বিজেপি-কংগ্রেস পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এই সংখ্যাগুলি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার।