শীতের শহরে কনজাংটিভাইটিসে হানা, কেন এই রোগ?কী ভাবে সতর্ক হবেন?
Kolkata Disease : হু হু করে ছড়াচ্ছে রোগ, শহরের বাচ্চাদের নিয়ে যে আতঙ্কের আঁচ দিলেন চিকিৎসকেরা

শহরে শীত একা আসে না, সঙ্গে করে নিয়ে আসে হাজার অনুষঙ্গ। উৎসব, খাবার এসবের সঙ্গে আসে রোগের উপদ্রব। শুরু থেকেই জ্বর, সর্দি, কাশি এসব লেগেই থাকে। এমনকী ওষুধের দোকানের ভিড়ও জানান দেয়, রোগ থাবা বসাতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই।
করোনা সারিয়ে আসতে আসতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পরিবেশ। অবশ্য এর মধ্যেই জিকা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এবার কলকাতা শহরের মধ্যেও ভ্রুকুটি দেখাচ্ছে একটি রোগ। নাম কনজেক্টিভাইটিস। চিন্তার বিষয় হল রোগটি আক্রমণ করছে শহরের শিশুদের।
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, শহরে খমকশই বাড়ছে এই রোগীর সংখ্যা। জ্বর, লাল চোখ, কাশি, সর্দি ইত্যাদি উপসর্গের কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট। তা হল কনজেক্টিভাইটিস। তবে বিশেষজ্ঞরা এও জানাচ্ছেন যে, এই সময় এই রোগ মোটেই খুব সাধারণ পরিচিত ঘটনা নয়। ১০ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে এর প্রভাব।
এর পেছনে অ্যাডেনোভাইরাসের প্রভাব রয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। ইনস্টিটিউট অফ চাইল্ড হেলথের পরিচালক তথা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অপূর্ব ঘোষ বলেছেন, “এই সময় এই রোগটি যদিও সাধারণ ঘটনা নয় তবুও এটি নিয়ে ছয় থেকে নয় মাসের শিশুদের জন্য, একজনকে একটু বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। অন্যদের ক্ষেত্রে, অসুস্থতাগুলি স্ব-সীমাবদ্ধ হবে এবং চিন্তার বিশেষ কোনও কারণ নেই।”
কনজেক্টিভাইটিস হল চোখের একটি বিশেষ রোগ। যা মূলত সংক্রমণ বা অ্যালার্জির কারণে হয়ে থাকে। সাধারণত চিকিৎসা ছাড়াই সেরে যায় এই রোগ টটিবে সংক্রমণের মাত্রা তীব্র হলে তার দ্রুত নিরাময় প্রয়োজন। প্রয়োজন চিকিৎসকের পরামর্শ।
রোগের লক্ষণ -
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Winter Diet : এই শীতে সুস্থ থাকতে হলে দেখে নিন সঠিক খাদ্য তালিকা
১. একটি বা দুটি চোখেই লাল আভা দেখা যায় এই রোগে।
২. চোখের মধ্যে অস্বস্তি অনুভূত হয়। এবং চুলকানি হতে দেখা যায়।
৩. এছাড়াও রাতে ঘুর মধ্যে চোখের মধ্যে টিরিল নিঃসৃত হয় যার ফলে সকালে চোখ খুলতে সমস্যা হয়।
৪. কিছু কিছু ক্ষেত্রে চোখ ফুলে অথবা ছোট হয়ে যেতে দেখা যায় এই রোগে।
সাধারণ কিছু সতর্কতা -
কনজেক্টিভাইটিস থেকে সাময়িক আরাম পেতে ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে।
১. হালকা উষ্ণ গরম জলে তুলো ডুবিয়ে তা দিয়ে চোখের নোংরা অথবা অতিরিক্ত তরল পরিষ্কার করে মুছে ফেলতে পারেন।
২. কয়েক মিনিটের জন্য চোখের উপর একটি হালকা ভিজে ঠান্ডা তোয়ালে রাখুন এতে আপনার চোখ আরাম পাবেন।
৩. এবং এই সময় অবশ্যই কন্টাক্ট লেন্স পরা এড়িয়ে চলুন।
৪. বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে অভিবাবকদের। তারা যাতে অস্বস্তি কাটাতে চোখ রগড়ে না ফেলে এই সময় সেই দিকে নজর রাখা জরুরি।
যদিও বিশ্বাস গুরুতর রোগ নয় এটি কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কলকাতার শহরের বাচ্চাদের মধ্যে বহুল পরিমাণে এই রোগের প্রভাব লক্ষ্য করায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে চিকিৎসক মহলে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন এই রোগে আক্রান্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্ক রোগী নজরে আসেনি ইতিমধ্যে সমস্ত ক্ষেত্রেই বাচ্চাদের মধ্যেই রোগের প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাই এর আসল কারণ খতিয়ে দেখতে উঠে পড়ে লেগেছে বিশেষজ্ঞরা। বাচ্চাদের সামান্য জ্বর, সর্দি-কাশিকে উপেক্ষা না করে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়ারও পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।







