সিপিএম-এর প্রাণভ্রমরা রাখা তাহেরপুরে?

Gautam Roy
৭ মিনিট
সিপিএম-এর প্রাণভ্রমরা রাখা তাহেরপুরে?

সদ্য পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামপন্থীদের প্রাপ্ত ভোটে ধ্বস নেমেছিল। সেখান থেকে একটা সম্মানজনক জায়গায় বামপন্থীদের উত্তরণ ঘটেছে এই পুর-নির্বাচনে। যদিও গোটা রাজ্যের মধ্যে একমাত্র তাহেরপুর পুরসভাটি বামপন্থীদের হাতে এসেছে। বিগত পৌরসভা নির্বাচনে তাহেরপুর এবং শিলিগুড়ি কর্পোরেশন বামেদের দখলে ছিল। কিন্তু এবারের ভোটে শিলিগুড়ি কর্পোরেশন বামেদের হাতছাড়া হয়েছে। তাহেরপুর যে বামেদের দখলেই থেকে গেছে, এটা পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক সময়ের রাজনীতি ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

বিগত বিধানসভার ভোটের ফল থেকে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিধানসভাতে শক্তির নিরিখে বিজেপির উঠে আসা যে ধরনের রাজনৈতিক পরিমণ্ডল তৈরি করছিল ,তার প্রেক্ষিতে বামেদের এই ভোট বৃদ্ধির হার ,ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির নিরিখে অত্যন্ত ইতিবাচক একটি ঘটনা হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে। গোটা রাজ্য জুড়ে পৌর নির্বাচনে বামপন্থীদের যে দুরবস্থা তার নিরিখে তাহেরপুর পুরসভাটি বামপন্থীদের ধরে রাখা,আমাদের কাছে এই প্রশ্নই তুলে ধরেছে যে, কোন জাদুকাঠির ফলে এই সাফল্যের ধারা তাহেরপুরে অক্ষুন্ন রাখা সম্ভব হল?

বিগত পুরসভা নির্বাচনের (২০১৫) পর নির্বাচিত পুরসভার মেয়াদ শেষে কোভিড পরিস্থিতির দরুন ভোট হয়নি পৌরসভাগুলিতে।যদিও সেই পরিস্থিতির ভেতরেই বিধানসভার ভোট হয়েছিল। রাজ্য সরকার, পুরভোট স্থগিত রেখে, সদ্য প্রাক্তন পুরবোর্ড গুলিকেই প্রশাসক হিসেবে গোটা বাংলার পৌরসভা গুলিতে নিযুক্ত করেছিল। বেঙ্গল মিউনিসিপাল আইন অনুযায়ী যদি কোনো কারণে পৌরসভা নির্বাচন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে না হয়, সে ক্ষেত্রে সরকারি আধিকারিককে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকার, সরকারি আধিকারিকদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ না করে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করেছিল।

সেই হিসেবে তাহেরপুর এবং শিলিগুড়িতে পুরনো বামপন্থী বোর্ডের কর্তাব্যক্তিরা প্রশাসক হিসেবে প্রথম দফায় কর্মরত ছিলেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করার ভেতর দিয়ে রাজ্য সরকার তথা রাজ্যের শাসক দল পৌরসভা গুলিতে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে এই যে বেঙ্গল মিউনিসিপাল অ্যাক্টকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, প্রায় দু'বছর ধরে শাসকদলের পৌরসভা গুলিতে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখা, এর বিরুদ্ধে কিন্তু বামপন্থীরা কোর্টে যায়নি। হয়তো তাদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনে বামপন্থী মেয়রকে প্রশাসক হিসেবে রাজ্য সরকার নিয়োগ করেছিল, এটাই কোর্টে না যাওয়ার কারণ।

বিগত বিধানসভা নির্বাচনকে অছিলা হিসাবে ব্যবহার করে, বেশকিছু পৌরসভায় এই প্রশাসক বা প্রশাসক মন্ডলীর সবটাই অদল বদল করা হলো। সেই সূত্রে শিলিগুড়ি ও তাহেরপুরে বিগত বামপন্থী ব্যক্তিত্বদের প্রশাসক মন্ডলী থেকে সরিয়ে দেওয়া হল।আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ,ঘুরপথে এই যে পৌরসভার ক্ষমতা দখল করা ,তার বিরুদ্ধে তখনই আদালতে না গিয়ে, লড়াইয়ের প্রশ্নে বামপন্থীরা যে মধ্যপন্থার পরিচয়টা দিয়েছিল, তার খেসারত কিন্তু প্রথম পর্যায়ে তাহেরপুর পুরসভার বামপন্থী প্রশাসকমন্ডলীকে দিতে হয়।

শিলিগুড়ি কর্পোরেশন বামপন্থীদের কাছে এত বেশি তখন গুরুত্বপূর্ণ ছিল যে, আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, এই রাজনৈতিক কর্তাব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি আদালতে নিয়ে গেলে বামপন্থী প্রশাসক মন্ডলী শিলিগুড়িতে ক্ষমতাচ্যুত হবে -- এমন একটা আশঙ্কাতেই অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকা সত্ত্বেও এই প্রশাসক মন্ডলীতে রাজনৈতিক লোকদের নিয়োগ করা ঘিরে বামপন্থীরা আদালতে যায়নি। মূলত উচ্চ মধ্যবিত্তের মানুষদের শিলিগুড়ি কর্পোরেশন, আর পূর্ববঙ্গের প্রায় ছিন্নমূল মানুষে ভরা তাহেরপুর পুরসভার সামাজিক চরিত্র কিন্তু সম্পূর্ণ আলাদা। শিলিগুড়ি জন্য আইনি লড়াইয়ের পথ দিয়ে, রাজনৈতিক লড়াই করার সুযোগটা তাহেরপুর পায়নি।

এইরকম একটা অবস্থার ভেতরেই কিন্তু সেখানকার বামপন্থীদের পুরসভার ভোটে যেতে হয়। নিম্নবর্গীয় তপশিলি জাতি, উপজাতি অধ্যুষিত ছিন্নমূল মানুষদের সংখ্যাধিক্য তাহেরপুর পৌরসভায়। ফলে এই এলাকার সাধারণ গরিব ও প্রথাগত শিক্ষার বিশেষ সুযোগ না পাওয়া মানুষদের ভেতরে হিন্দু সাম্প্রদায়িক সংগঠন , আরএসএস, তাদের হাজারো বর্ণের সঙ্গী-সাথীদের দিয়ে আগ্রাসন দীর্ঘদিন ধরে,অত্যন্ত সফল ভাবে করে আসছে। প্রত্যক্ষ রাজনৈতিকভাবে এই কাজটা করছে। তার বাইরেও সেখানকার মানুষদের যেকোনো সামাজিক কর্মকান্ডে ,ধর্মীয় বিভাজন কে কাজে লাগাবার চেষ্টা আরএসএস রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়েই সেখানে করে চলে।

বামপন্থীরা কিন্তু বিগত পুর নির্বাচনে তাহেরপুরের ক্ষমতা লাভ করবার পর থেকেই ,গোটা তাহেরপুর জুড়ে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তার পাশাপাশি সামাজিক ,সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড কে এত নিবিড় পর্যবেক্ষণের ভেতর দিয়ে মানুষের কাছে নিয়ে যেতে পেরেছে যে, হিন্দু সাম্প্রদায়িক শিবির সেখানে সামাজিক বিভাজনের যে নগ্ন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ,সেই প্রচেষ্টা র সঙ্গে সেখানকার গরিব মানুষ জন কখনোই নিজেদের ভাসিয়ে দেয়ার কথা চিন্তা করেন নি বামপন্থীরা রাজনৈতিক দর্শনের ক্ষেত্রে ভাববাদী নয়, বস্তুবাদী ।অথচ তাহেরপুরে ছিন্নমূল তপশিলি জাতি, উপজাতি বা অন্যান্য অনগ্রসর জাতির মানুষ ,যাঁরা সেভাবে প্রথাগত শিক্ষার খুব একটা সুযোগ পায়নি,তাদের কাছে সংস্কৃতিক ভাব বিনিময়ের ক্ষেত্রে ধর্মের আনুষাঙ্গিক বিষয়, অর্থাৎ ; কীর্তন, নানা ধরনের পালা-পার্বণ, লৌকিক দেব-দেবীর পুজো, এগুলির একটা বিশেষ গুরুত্ব আছে।

এই ধরনের ধর্মীয় অনুষঙ্গের কর্মকাণ্ড, যেটাকে সেখানকার মানুষ, তাদের সামাজিক কর্মকান্ডের একটা অঙ্গ হিসেবে মনে করে, সেগুলির মধ্যে আরএসএস তাদের বিভিন্ন বর্ণের সংগঠনগুলিকে ঢুকিয়ে দিয়ে ,সাধারণ মানুষের মধ্যে মুসলমান সম্প্রদায়কে ঘিরে একটা ভীতি সঞ্চারের কাজ দিন ধরে করে আসছে। সাধারণ মানুষকে তারা বোঝাতে চেষ্টা করেছে ,যদি একবার মুসলমানদের কোনভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়, রাজনৈতিক ভাবে তাদের সুযোগ দেওয়া হয় ,তাহলে আবার এই ছিন্নমূল মানুষদের নতুন করে উদ্বাস্তু হয়ে যেতে হবে।

ছিন্নমূল মানুষের ভেতরে দেশ ছেড়ে চলে আসার যে যন্ত্রনা, ব্যথা, কষ্ট রয়েছে, সেগুলিকে বিকৃত তথ্য উপস্থাপনের ভিতর দিয়ে, নিজেদের অনুকূলে একটা রাজনৈতিক আবেগ তৈরি করার কাজে আরএসএস গোটা তাহেরপুর জুড়ে শুধু নয়, নদীয়ার সহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে। সেই ভূমিকার একটি প্রকাশ তাহেরপুরে সমস্ত রকমের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ,শিক্ষা মূলক কর্মকান্ড তারা ছড়িয়ে দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছে। এইখানে কিন্তু বামপন্থীরা তাদের কনভেনশনাল ধ্যান ধারণার বাইরে গিয়ে, একদম বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে, হিন্দু সম্প্রদায়ের শিবিরের এই বিভাজন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে পাল্টা সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়া চালাতে সক্ষম হয়েছে।

গোটা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে লোকধর্ম অনুষঙ্গ থেকে বামপন্থীরা একটা নিরাপদ দূরত্ব পালন করে, লোকধর্মের অনুষঙ্গের সঙ্গে যেসব মানুষেরা যুক্ত থাকেন, তাদেরকে গণহারে সাম্প্রদায়িক বলে ধরে নেওয়ার একটা প্রবণতা, প্রগতিশীল বলে দাবি করা মানুষদের ভেতরে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখতে পাওয়া যায়। ধর্ম পালনে ধর্মান্ধতা আর ধর্মপালনের ভিতরে বড় রকমের ফারাক রয়েছে, সেটা বহু ক্ষেত্রেই বামপন্থীরা দেখতে পান না, তাঁদের বাস্তব অনুভূতির অভাবের দরুন। পুঁথিগত অনুষঙ্গের ভেতরেই কেবলমাত্র বামপন্থা কে পুরে রেখে, ভারতের সামাজিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে বাংলার বহুত্ববাদী দর্শন সম্পৃক্ত সামাজিক প্রেক্ষাপটে ,ধর্মের অনুষঙ্গ পালন আর ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার - এই দুটোর ভিতর যে সূক্ষ্ম ভেদরেখা ,সেটা একটা বড় অংশের বামপন্থীরা ঠিকমত বুঝে উঠতে পারেন না।

ফলে সাধারণ মানুষের সাথে তাদের একটা বড় রকমের বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয় ।কোনো ব্যক্তি ধর্মাচরণ করলেই, সেই ব্যক্তিটি কে সাম্প্রদায়িক বলে ধরে নেওয়া একটা প্রবণতা, প্রগতিশীল বলে দাবি করা মানুষদের মধ্যে জোরদারভাবে দেখতে পাওয়া যায় । প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই তাহেরপুরের বামপন্থী নেতৃত্ব ,নদিয়া জেলার নেতৃত্তের নিবিড় পর্যবেক্ষণের ভেতর দিয়ে একটা ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ গত পাঁচ, সাত বছর ধরে অত্যন্ত সফলভাবে রাখতে পেরেছেন। সেই সাফল্যই কিন্তু শাসকের নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তাহেরপুর পুরসভাতে আবার বামপন্থীদের জিতিয়েছে।

কীর্তনের আসর থেকে শুরু করে মনসা পুজোর মেলা বা আরো নানা রকম লৌকিক দেবতা, স্থানীয় দেব দেবতা কে ঘিরে গরীব মানুষজনদের বাড়িতে জনসমাগম ঘটলেই, প্রত্যেকটি জনসমাগমের সঙ্গে একটা নিবিড় সংযোগ স্থাপন করে আরএসএস, যেভাবে চেষ্টা করছে মানুষকে বিভাজিত করবার ,ঠিক তার বিপরীতমুখী প্রক্রিয়া মানুষের মধ্যে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে যে পরিপূর্ণ দক্ষতার সঙ্গে তাহেরপুরের বামপন্থী নেতা কর্মীরা, নিজেদের কর্মকাণ্ডকে ব্যাপৃত করেছিল বিগত পাঁচ , সাত বছর ধরে, এই নির্বাচনের ফল কিন্তু তার ফলশ্রুতি।

সাধারণ মানুষের মনের ভেতরে মুসলমান সমাজ সম্পর্কে বিদ্বেষের যে বীজ আরএসএস বিজেপি রোপন করছে, তাকে উপড়ে ফেলার ক্ষেত্রে,নানা ধরনের সামাজিক ,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তাহেরপুরে বামপন্থীরা ধারাবাহিকভাবে করে চলেছেন বিগত সময়কালে। এমনটা মনে করার কোন কারণ নেই যে ,কেবলমাত্র হরিনাম সংকীর্তনের আসরেই বামপন্থীরা, আরএসএসের মেরুকরণের রাজনীতি মোকাবিলা করার লক্ষ্যে নিজেদের নিবিড় সংযোগ তৈরি করেছে ।নিজেদের ভাববাদী বলে দাবি করে বামপন্থীরা পিছড়ে বর্গের, প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম থেকে বেরিয়ে এসে,ধর্মের যে আনুষঙ্গিকতার প্রকাশ ,যেখানে এক ধরনের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ভেতর দিয়ে, তাদের মধ্যে একটা বিনোদনের প্রক্রিয়া চলতে থাকে, সেই প্রক্রিয়া সঙ্গে সংযুক্ত থাকাটা কে বই নির্ভর বামপন্থীরা, বামপন্থা থেকে স্খলন বলেই মনে করে। সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে ,পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, হিন্দু সাম্প্রদায়িক -মৌলবাদী শিবিরকে মোকাবিলা করার জন্য ,ধর্মান্ধ তাকে বাদ দিয়ে, ধর্মের অনুষঙ্গের যে সমস্ত প্রকাশ ,তাকে ব্যবহার করে, অর্থাৎ; বিজেপি -আরএসএস-এর যে সামাজিক প্রযুক্তির, তার পাল্টা সামাজিক প্রযুক্তির বাস্তবানুগ প্রয়োগ ঘটিয়ে, জনসংযোগের ক্ষেত্রটির যে পরিমণ্ডল বামপন্থীরা তাহেরপুরে তৈরি করতে পেরেছে, সেটি কিন্তু সেখানে তাদের সাফল্যের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে।

তার পাশাপাশি একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবস পালন থেকে শুরু করে, নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিগত শতাব্দীর চার- পাঁচের , এমন কি ছয়ের দশকেও বামপন্থীরা যেরকম সাক্ষরতা আন্দোলন, আন্তরিকভাবে সমাজের বুকে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নাইট স্কুল ইত্যাদি পরিচালনা করেছে, ঠিক সেইভাবে কর্মকাণ্ড চালানো, এগুলি কিন্তু তাহেরপুরে বামপন্থীদের সাফল্যের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি।

এইসবের পাশাপাশি সেখানে প্রধান বামপন্থী দল, সিপিআই(এম)-এর সাংগঠনিক সাফল্যের একটি দিক অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা দরকার, গোষ্ঠী রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে, সামগ্রিকভাবে বামপন্থীদের মধ্যে বন্ধুতা প্রতিষ্ঠা করা। এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয় সিপিআই(এমে)-এর নদীয়া জেলা সম্পাদক সুমিত দে র ভূমিকার কথা। আজ বামপন্থী আন্দোলনের নেতৃত্বে যেভাবে নবীন প্রজন্মের মানুষদের নিয়ে আসা হচ্ছে, সেই প্রক্রিয়ায় প্রথম সফল ব্যক্তিত্ব হলেন সুমিতবাবু।একেবারে ভূমিস্তর থেকে তিনি তাঁর দলের রাজনৈতিক নেতৃত্বে শীর্ষে জেলাতে উঠে আসার ফলে দলের ব্যাধি ও যেমন তিনি জানেন, তেমনিই জানেন তার প্রতিকারের উপায়। সেই কারণে সমস্ত রকমের বিবাদমান বামপন্থী অংশকে এক অদ্ভুত জাদুদণ্ড দ্বারা একত্রিত করতে পেরেছেন তিনি।সেই একত্রিকরণেরই একটা সাফল্য হলো তাহেরপুর পৌরসভাল ফল। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে যদি বামপন্থীরা উঠতে পারেন ,সমস্ত রকমের অন্তর পার্টি সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে যদি তাঁরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন, তাহলে যে নির্বাচনী সংগ্রামের ক্ষেত্রেও সাফল্য ধরে রাখা তাঁদের পক্ষে কঠিন হবে না সুমিত দে র নেতৃত্বে তাহেরপুর সেটা দেখিয়ে দিল ।

পাশাপাশি আরেকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণভাবে উঠে আসছে। বামপন্থীদের মধ্যে বুর্জোয়া রাজনীতিকদের মতই নেতার ছেলে বা মেয়েকে নেতা বানিয়ে দেওয়ার প্রবণতা যখন অত্যন্ত প্রবল হয়ে উঠছে, তখন কিন্তু নদিয়া জেলায় বামপন্থীরা আচমকা তুলে এনে কাউকে নেতা হিসেবে বসিয়ে দিচ্ছেন না কখনোই। গণ-আন্দোলনের ভেতর থেকে উঠে আসা ব্যক্তিত্বদের হাতে নেতৃত্বের রাশ রাখার ফলে তাহেরপুরের সাফল্যটা বামপন্থীদের পক্ষে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে।

লিখেছেন
Gautam Roy
Gautam Roy
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নন্দীগ্রামে প্রতীকহীন তৃণমূল, রেজিনগরে গ্রেফতার হুমায়ুন: কেমন হচ্ছে উপনির্বাচন?

Nandigram Rejinagar by - election 2026: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রে ১৮,৮৯৫টি ভোটার আপিল হয়েছে, নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৯০টিতে। অযোগ্য ভোটার হিসাবে ঘোষিতদের, ৯৪-৯৫ শতাংশ মুসলিম। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের নিজের প্রতীক নেই, কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে রেজিনগরে, ভোট চলাকালীন, হুমায়ুন কবীর গ্রেফতার হয়েছেন। উপনির্বাচনের ফল জানা যাবে, ৯ অক্টোবর।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুলদের মিছিল, পুলিশের বাধায় ধর্না বিরোধীদের

Opposition March to EC Office: এসআইআর ও ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করলেন রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়াা জোটের বিরোধী সাংসদরা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ স্লোগান ওঠে। তবে কমিশনের দফতরে পৌঁছনোর আগেই মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।

ফর্ম ৬ বদলের অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট: তাহলে বদল করল কে?

Supreme Court on Form 6 Changes: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আদালত অনুমোদন করেনি। তাহলে ফর্ম ৬-এ অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিল? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে আদালত।

ব্রাজিলের ভোটে লুলার ধাক্কা, ফ্লাভিওর উত্থান: কেন বদলাচ্ছে সমীকরণ?

Brazil presidential election 2026: প্রথম দফায় ফ্লাভিওর প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা ছিল কার্যত অপ্রত্যাশিত। কারণ, অধিকাংশ প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষাতেই লুলাকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভোটের এই সংখ্যার আড়ালে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো—কেন বোলসোনারোবাদ এখনও এতটা শক্তিশালী?

‘দিল্লিতে রক্ত ঝরলে কলকাতাও আঘাত পায়’: যাদবপুরে নেহা বোরার কণ্ঠে প্রতিরোধের ঐক্যের বার্তা

Neha Bora Jadavpur University: নেহার কথায়, “আমার গলার অবস্থা, আমার শরীরের অবস্থা যা—ঠিক একই পরিস্থিতি আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI)। আর এই যন্ত্রণা যদি কেউ বুঝতে পারে, তবে দিল্লির রাজপথে যাদের রক্ত ঝরেছে, যাদবপুরে যাদের উপর হামলা হয়েছে, এসআরএফটিআই-তে যাদের উপর আক্রমণ হয়েছে—আমরাই একে অপরের ব্যথা সবচেয়ে ভালো বুঝি।”

‘যেই আসে লঙ্কায় সেই হয় রাবণ’: আসলে কেমন শাসক ছিলেন আসলে লঙ্কেশ?

Ravana character analysis: ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন মানুষ কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামিতে জেরবার, তখন ১৮৬১ সালে প্রকাশিত 'মেঘনাদ বধ কাব্য' সমাজকে একদম গোড়া থেকে নাড়িয়ে দিল। শিক্ষিত যুবক সমাজকে ভাবতে বাধ্য করল এই মহাকাব্য।

‘ভাই’ থেকে ‘বিরোধী’, কুড়ি বছর পর ফের একসঙ্গে: SIR যেভাবে কাছে আনল উদ্ধব ও রাজকে

Uddhav Thackeray Raj Thackeray: জনসভা থেকে রাজ ঠাকরে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বাদ পড়া এই দুই কোটি মানুষ আসলে কারা? দিল্লির দরবারে যখন এই বিষয়ে আলোচনা হবে, তখন সমস্ত রাজনৈতিক দলের উচিত এই এসআইআর প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানানো। একই সঙ্গে তিনি ইভিএমের বদলে পুরনো ব্যালট পেপারে ভোট করানোর জোরালো দাবি তোলেন।

গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে কংগ্রেসের ব্লুপ্রিন্ট কী?

Electoral demands of congress leaders: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ৩ সেপ্টেম্বর, সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’, অমিত শাহ ‘অবৈধ মন্ত্রী’, সকল মুখ্যমন্ত্রীরা ‘অবৈধ’। কংগ্রেসের দাবি, লোকসভা ও সকল বিধানসভা ভেঙে ব্যালট পেপারে পুনঃনির্বাচন করানো হোক। এসআইআরে ১৩ কোটি নাগরিকের নাম বিলোপ, ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, ২০২৩-এর সিইসি নিয়োগ আইন চ্যালেঞ্জ, এই সকল বিষয় উঠে এসেছে সাংবাদিক সম্মেলনটিতে। সামনে রয়েছে ইন্ডিয়া ব্লকের দলগুলির ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের অফিসের দিকে পদযাত্রা। ইতোমধ্যে, কালই রাহুল গান্ধী দেশজুড়ে বিভিন্ন গণআন্দোলনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ‘সত্যাগ্রহ’ নামক একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করেছেন।