দোরগোড়ায় ডে জিরো: ভারতে জলভাণ্ডার শেষের মুখে?

Day Zero Drought: গবেষকদের মতে, Day Zero Drought (DZD) এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে বহু বছরের খরা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, নদী-জলাধারের জল কমে যাওয়া এবং মানুষের ক্রমবর্ধমান জলের চাহিদা একসঙ্গে ধাক্কা দেয়। ফলে জলাধার কার্যত শূন্য হয়ে যায়।

Sangita Ghorai
৪ মিনিট
দোরগোড়ায় ডে জিরো: ভারতে জলভাণ্ডার শেষের মুখে?

জলের অপর নাম জীবন। দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জল ছাড়া আমাদের চলে না। কিন্তু কোনোদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে কলের ট্যাপ খুলে যদি দেখেন জল পড়ছে না এক ফোঁটাও! শুধু আপনার বাড়ি নয়, শহরজুড়ে একই অবস্থা। জলাধার শুকিয়ে গেছে। কী করবেন? এমন পরিস্থিতি ভাবাই যায় না, তাই তো? কিন্তু এটাই ভবিতব্য; বলছেন বিজ্ঞানীরা। ডে জিরো (Day Zero Drought) একসময় ছিল ভবিষ্যতের ভয়াবহ কল্পনা। এখন যা বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস এবং সতর্কবার্তা।

ডে জিরো আসলে কী?

গবেষকদের মতে, Day Zero Drought (DZD) এমন একটি পরিস্থিতি, যেখানে বহু বছরের খরা, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, নদী-জলাধারের জল কমে যাওয়া এবং মানুষের ক্রমবর্ধমান জলের চাহিদা একসঙ্গে ধাক্কা দেয়। ফলে জলাধার কার্যত শূন্য হয়ে যায়। Nature Communications-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ কার্বন নিঃসরণ অব্যাহত থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে খরা-কবলিত এলাকার প্রায় ৭৫ শতাংশেই ভয়াবহ জল সংকট দেখা দিতে পারে।

এর আগে ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন কার্যত ডে জিরোর দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল। জলাধার প্রায় শুকিয়ে যাওয়ায় সরকার ঘোষণা করেছিল, কলের জল বন্ধ করে দেওয়া হবে। শেষ মুহূর্তে কড়া বিধিনিষেধ, জল রেশনিং ও নাগরিক সচেতনতায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়।

এছাড়াও ভারতের চেন্নাইয়ে ২০১৯ সালে জলাধার শুকিয়ে যায়, ট্যাংকার নির্ভরতা বাড়ে। আমেরিকার লস অ্যাঞ্জেলেসে দীর্ঘ খরায় বাধ্যতামূলক জল কাটছাঁট করা হয়। তাছাড়া মেক্সিকো, সাও পাওলো, তেহরান সব জায়গাতেই জল সংকট এখন স্থায়ী সমস্যা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দূষণে দিল্লিকে টেক্কা কলকাতার

Kolkata Pollution: ২০২৫-এর শেষ দিক এবং ২০২৬-এর শুরুর দিকের পরিসংখ্যান দেখলে শিউরে উঠতে হয়। কলকাতার বায়ুদূষণ নিয়ে যে তথ্যগুলো সামনে আসছে, তা রীতিমতো উদ্বেগের। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল সংলগ্ন মনিটরিং স্টেশনে, AQI প্রায়শই ৪০০ ছুঁইছুঁই, ক্যাটাগরিক্যালি দেখলে যা 'বিপজ্জনক' বা 'খুবই খারাপ' (Very Poor)।

এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পিছনে গবেষণায় চারটি বড় কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলি হলো - বৃষ্টির ঘাটতি, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মাটির আর্দ্রতা হারানো, নদীর প্রবাহ কমে যাওয়া এবং মানুষের চাহিদা, জল সরবরাহের ক্ষমতাকে ছাপিয়ে যাওয়া।

বিশ্বের কোন কোন অঞ্চল সবচেয়ে ঝুঁকিতে?

বিজ্ঞানীরা যেসব অঞ্চলকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তার মধ্যে রয়েছে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, দক্ষিণ আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকার বড় অংশ, ভারত, উত্তর চিন, দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া।

Ecoticias-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০-৩০-এর দশকেই বহু অঞ্চলে ডে জিরো পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। বিশ্বের প্রায় ১৪ শতাংশ বড় জলাধার এই সময়ের মধ্যে পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভারতে ডে জিরোর ঝুঁকি কতটা?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এবছর কেন এত ঠাণ্ডা? আবহাওয়া পরিবর্তনের নেপথ্যে কী?

La Nina Effect: উত্তর ভারতে নভেম্বর থেকেই শীতল প্রবাহ শুরু হয়েছে। এর পিছনের কারণ হলো ‘পোলার ভর্টেক্স’। মেরু অঞ্চলে ঘূর্ণায়মান অত্যন্ত শীতল বাতাসের যে বলয় থাকে, তাকেই পোলার ভর্টেক্স বলা হয়।

ভারতের ক্ষেত্রেও ডে জিরো ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, বরং আসন্ন সময়ের বাস্তব। অনেক জায়গায় তার ছায়া ইতোমধ্যেই স্পষ্ট। চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, দিল্লি, জয়পুর; এই শহরগুলিতে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর দ্রুত নামছে। অতিরিক্ত বোরওয়েল, কংক্রিটের বিস্তার, বৃষ্টির জল সংরক্ষণের অভাব পরিস্থিতি আরও জটিল করছে।

কিন্তু সমস্যা শুধু জল কমে যাওয়ার নয়, জলের মানও ভয়াবহ ভাবে বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে পানীয় জলের পাইপে ছিদ্র হয়ে তাতে শৌচাগারের জল মিশে যায়। এবং তার ফলে, সেই দূষিত জল পান করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৫ জনের মৃত্যু হয়। যখন সরকারি জল সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যেই নর্দমার জল ঢুকে পড়ে, তখন এটি স্পষ্ট যে, জল সংকট মানে শুধু ‘জল অভাব’ নয়। অপরিকল্পিত ও ভগ্ন পরিকাঠামোও ডে জিরোর আরেকটি রূপ।

যখন পর্যাপ্ত জল নেই, তখন মানুষ বাধ্য হয় দূষিত উৎসের উপর নির্ভর করতে। আর সেখান থেকেই ছড়ায় ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিসের মতো রোগ। ডে জিরো তাই শুধুই পরিবেশগত সংকট নয়— এটি জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ও।

শহর বনাম গ্রাম: কারা বেশি বিপদে?

গবেষণা বলছে, প্রায় ৭৫ কোটির বেশি মানুষ প্রথম পর্যায়ের ডে জিরোর মুখোমুখি হতে পারেন। এর মধ্যে শহরের মানুষ বেশি ঝুঁকিতে, কারণ শহর সম্পূর্ণভাবে পাইপলাইন ও জলাধারের উপর নির্ভরশীল। গ্রামে প্রথম প্রভাব পড়বে কৃষিতে, যা খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একবার জল সংকট শুরু হলে, অনেক জায়গাই আর আগের অবস্থায় ফিরতে পারে না। একের পর এক খরা অঞ্চলকে ‘নো-ব্রিদার সাইকেল’-এ ফেলে দেয়।

তাহলে পথ কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব উষ্ণায়ন যদি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে আটকে রাখা যায়; তাহলে ডে জিরো কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব। তার জন্য কার্বন নিঃসরণ কমানো, বৃষ্টির জল সংরক্ষণ, পুনর্ব্যবহারযোগ্য জল ব্যবস্থাপনা জলাধার ও পাইপলাইনের সংস্কার এবং পানীয় জল ও নর্দমার সম্পূর্ণ পৃথক ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এসব না হলে ডে জিরো অনিবার্য।

গবেষকদের স্পষ্ট সতর্কবার্তা, ডে জিরো আর দূরের ভবিষ্যৎ নয়। অনেক জায়গায় তা ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। প্রশ্ন একটাই, জল পুরোপুরি ফুরিয়ে গেলে তারপর কি আমরা তার দাম বুঝব?

লিখেছেন
Sangita Ghorai
Sangita Ghorai
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।