এবছর কেন এত ঠাণ্ডা? আবহাওয়া পরিবর্তনের নেপথ্যে কী?

La Nina Effect: উত্তর ভারতে নভেম্বর থেকেই শীতল প্রবাহ শুরু হয়েছে। এর পিছনের কারণ হলো ‘পোলার ভর্টেক্স’। মেরু অঞ্চলে ঘূর্ণায়মান অত্যন্ত শীতল বাতাসের যে বলয় থাকে, তাকেই পোলার ভর্টেক্স বলা হয়।

inscript
৩ মিনিট
এবছর কেন এত ঠাণ্ডা? আবহাওয়া পরিবর্তনের নেপথ্যে কী?

আবহাওয়ারও বোধহয় মুড সুইংস হচ্ছে বুঝলি তো।

হ্যাঁ, এবছর সবকিছুই যেন বেশি বেশি। যেমন মাথা খারাপ করা গরম, তেমন বৃষ্টি হলো। এবার শীতটাও দেখ, বেশ জাঁকিয়ে পড়েছে।

শীতের সকালে কথা হচ্ছিল দুই বান্ধবী অঙ্কিতা ও রিয়ার। ভুল কিছু বলেনি ওরা, তবে মুড সুইংস নয়। আবহাওয়ার এই গোলমালের পিছনে রয়েছে নির্দিষ্ট কিছু কারণ। ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) ১ ডিসেম্বর জানিয়েছে, এই শীতকালে স্বাভাবিকের তুলনায় ‘শীতল প্রবাহ’ (Cold Wave) দিনের সংখ্যা বেশি হবে। আবহাওয়ার এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে দিল্লি, হরিয়ানা, পঞ্জাব, পূর্ব উত্তরপ্রদেশ, উত্তর মধ্যপ্রদেশ, পশ্চিম মহারাষ্ট্র এবং অরুণাচল প্রদেশে।

IMD-র দেওয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী, সমতল অঞ্চলে কোনও স্থানের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০° সেন্টিগ্রেড বা তার কম হলে এবং পার্বত্য অঞ্চলে ০° সেন্টিগ্রেড বা তার কম তাপমাত্রার থাকলে ওই দিনটিকে ‘শীতল প্রবাহ’ (Cold Wave) দিন বলা হবে। আবার কোনও অঞ্চলের স্বাভাবিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রার তুলনায় ৪.৫° থেকে ৬.৪° সেন্টিগ্রেড কমে গেলে, ভৌগোলিক অবস্থান যাই হোক না কেন, সেটিকেও ‘শীতল প্রবাহ’ হিসেবে ধরা হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সিসমোগ্রাফ থেকে রিখটার স্কেলের ইতিহাস | ভূকম্পন কীভাবে মাপা হয়?

Seismographs and Richter Scale: ১৮৭৫ সালে ফিলিপো সোচ্চি সর্বপ্রথম ভূকম্পন ধরার জন্য পেন্ডুলামের ব্যবহার করেন। কম্পনের প্রকৃতি অনুযায়ী, পেন্ডুলামের দোলনের ফলে কাগজের উপর লিপিবদ্ধ হত সে রেখাচিত্র।

এই শীতের মাসগুলোতে অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মধ্যভারত, উপদ্বীপীয় অঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতে স্বাভাবিকের থেকে কম বা স্বাভাবিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের বাকি অংশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের উপরে থাকার সম্ভাবনা। IMD আরও জানিয়েছে যে, এ’বছর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ‘শীতল প্রবাহ’ দেখা যাবে কেন্দ্রীয়, উত্তর-পশ্চিম এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু অঞ্চলে।

আবহাওয়ার কেন এই পরিবর্তন? আইএমডি-র ডিরেক্টর জেনারেল এম. মহাপাত্র জানিয়েছেন, “এ’বছর লা নিনার প্রভাব রয়েছে। সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও অতীতে দেখা গেছে লা নিনার বছরে শীতল প্রবাহের প্রবণতা বেশি থাকে।” তিনি আরও জানান, উত্তর ভারতে নভেম্বর থেকেই শীতল প্রবাহ শুরু হয়েছে। এর পিছনের কারণ হলো ‘পোলার ভর্টেক্স’। মেরু অঞ্চলে ঘূর্ণায়মান অত্যন্ত শীতল বাতাসের যে বলয় থাকে, তাকেই পোলার ভর্টেক্স বলা হয়। এটি সাধারণত আর্কটিক অঞ্চলের উপরে অবস্থান করে, কিন্তু কখনও কখনও দক্ষিণদিকে সরে গিয়ে ইউরোপ, উত্তর এশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ সৃষ্টি করতে পারে। হিমালয় ভারতে পোলার ভর্টেক্সের সরাসরি প্রভাব আটকায়, তবে তার আংশিক প্রভাব আমরা অনুভব করতে পারি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জলপানেই কমবে মানসিক চাপ! নতুন গবেষণায় উঠে এল চমকে দেওয়া তথ্য

Mental Health: অনেক সময় আমরা খিদে অনুভব করি। কিন্তু সেইসময় আসলে আমাদের শরীরে জলের প্রয়োজন হয়। আর সেই খিদের অনুভূতি মেটাতে আমরা খাবার খাই। ফলে, শরীরে অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি প্রবেশ করে এবং যা ওজন বাড়ার কারণ।

আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনায় আরও একটি প্রশ্ন প্রকট হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও কি এর উপর পড়ছে? জলবায়ু ও আবহাওয়া বিষয়ক সুন্দরবনের স্বাধীন গবেষক দীপাঞ্জন মিশ্র ইনস্ক্রিপটকে জানিয়েছেন, ভারতের বিগত কয়েক বছরের আবহাওয়ার চিত্র দেখলে বোঝা যায় যে ২০২০ থেকে ২০২৩-এ ভারত লা নিনা-র প্রকোপে পড়েছিল। এই বিরল ঘটনা এর আগে প্রায় ১৯৭৩-এর পর আর দেখা যায়নি। তার ফল স্বরূপ ভারত প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টি ও শৈত প্রবাহের সম্মুখীন হয়। ঠিক সেরকমই একটা ঘটনা ঘটতে চলেছে ডিসেম্বর আগামী দিনগুলোতে।

তিনি আরও জানান, এই অদ্ভুত পরিবর্তন অনেকটাই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঘটছে। স্বাভাবিক লা নিনা সাধারণত ১-১.৫ বছরের হয়ে থাকে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে ভারতে এই লা নিনার প্রভাব শুরু হয়েছে। যার প্রভাব অনেকটা ক্ষীন হয়েছে মনে করলেও দেখা যায় যে লা নিনার প্রভাব এখনও কমেনি। আসলে লা নিনার প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় এক বিরাট পরিবর্তন ঘটে— যার প্রভাবে ভারতে প্রচুর বৃষ্টি হয়, প্রি মনসুন বৃষ্টির পরিমাণ বেড়ে যায়। এই বছর তার প্রমাণ আমরা দেখেছি।

তাছাড়া, “আমাদের দেশে শীতের প্রকোপ নির্ভর করে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার ওপরে, পশ্চিম দিকে ভূমধ্যসাগরীয় এলাকা থেকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ বাতাস উচ্চ ট্রাপোস্পিয়ারে অবস্থিত জেট স্ট্রিমের সহায়তায় ভারতে এসে পৌঁছায় এবং ভারতের উত্তর-পশ্চিম এলাকায় বৃষ্টিপাত, তুষারপাত ঘটায়। এ’বছর অক্টোবর মাসে তার প্রমাণ আমরা দেখেছি উত্তর ভারতে ব্যাপক তুষারপাত এবং তার সাথে শীতের আগমন” বলেন দীপাঞ্জন মিশ্র।

ভারতের শীত আর একটা ঘটনার ওপরেও নির্ভর করে, তা হলো উত্তর মেরুর ঘূর্ণাবর্ত। সাধারণত এই ঘূর্ণাবর্ত নীচে নেমে আসে তবে কখনও কখনও এটা নিজের গতিপথ থেকে নিচের দিকে স্লিপ করে আসে যা এ’বছর ঘটছে। এছাড়াও যে ঘটনাটি উল্লেখযোগ্য তা হলো মধ্য এশিয়ার ঠাণ্ডা শীতল হাওয়া যা ভারতের উত্তর পশ্চিম এলাকায় উপত্যকা বা খাত গুলো দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভারতে পৌঁছে উত্তর ভারতকে ঠাণ্ডা করে তার প্রভাব এ বছর বেশি থাকবে কারণ আগামী ৫ ডিসেম্বরের পরে ভারতের ওপরে পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কোনো প্রভাবের পূর্বাভাস নেই। আর পশ্চিমী ঝঞ্ঝা না থাকলে বাতাস হয়ে উঠে প্রচণ্ড শুষ্ক আর তার ফলে বৃষ্টি বা তুষারপাত ঘটেনা কেবল ঠাণ্ডা বাতাস প্রভাবিত হয়। জলকণা বা জলীয়বাষ্প থাকলে বাতাসের তাপমাত্রা একটু হলেও স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়, কিন্তু তা না থাকলে ঠাণ্ডার পরিমাণ মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। তবে, এই সব পূর্বাভাস, পরিবর্তিত জলবায়ুর সাথে লড়তে গেলে তাকে বুঝতে হবে, তার সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে, সচেতন থাকতে হবে, এছাড়া বিশেষ উপায় কিছুই নেই বলে জানান দীপাঞ্জন মিশ্র।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।

নেপাল বিপর্যয়ের ক্ষতিপূরণ দেবে কে?

Climate Justice for nepal: ২৬ অগাস্ট লাংটাং লিরুং-এর হিমবাহ ধসে নেপালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়—নিহত ১,৩৪৪, নিখোঁজ ৪,৮৮৭। পুনর্গঠনে প্রয়োজন ৪-৫ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ডে আছে মাত্র ৮২২ মিলিয়ন ডলার।নেপালের দাবি, চিন-ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায় আছে। জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্ন এখন আন্তর্জাতিক কাঠগড়ায়।

নেপালের হড়পা বান থেকে বেঁচে ফিরলেন যাঁরা, তাঁদের চোখে ২৬ অগাস্ট

Nepal flash floods 2026: ২৬ অগাস্ট, ২০২৬-এ নেপালের হড়পা বানে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও কিছু মানুষ বেঁচে ফিরেছেন। কেউ এক কাপ চায়ের বিরতির জন্য, কেউ গাড়ির একটা রিভার্স গিয়ারের কারণে, কেউ ডালপালা ছড়ানো একটা আমগাছ আঁকড়ে ধরে, আবার কেউ কেবল ১৫ সেকেন্ডের দৌড়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের শ্বাস। মৃত্যু খুব কাছ থেকে অনুভব করে ফেরা সেই মানুষগুলির অভিজ্ঞতায় রইল রাসুয়া আর নুয়াকোটের সেই সকালের কথা।

হিমালয়ের বরফ গলছে দ্বিগুণ হারে, নেপালের বিপর্যয়ের বিজ্ঞান কী বলছে?

Nepal Flood 2026: বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন, ৪৫০০ থেকে ৬০০০ মিটার উচ্চতার মধ্যে থাকা হিমবাহ অঞ্চলের অন্তত ৭৮ শতাংশ উচ্চতা-নির্ভর উষ্ণায়নের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পাঁচ মাস পর সেই সতর্কবাণীই যেন সত্যি হয়ে উঠল নেপালের উপত্যকায়।

ছয় দশকে কতটা সফল ভারত-নেপাল গান্ডাকচুক্তি?

Gandak dam history: নেপালের হিমবাহ থেকে পাথর ধসের পর জল নেমেছে ত্রিশূলী-কালীগণ্ডক হয়ে বিহারে। বাল্মীকিনগর বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে প্রাণ বাঁচল বহু মানুষের। কিন্তু, ১৯৫৯ সালের গান্ডাক চুক্তি কি সত্যিই নেপাল ভারত দুই দেশের ‘সমন্বিত স্বার্থ’ রক্ষা করল? নেপালের তরাইয়ে জল মেলে না, ক্ষতিপূরণ মেলে না কৃষকদের। ৬০ বছরের পুরনো বাঁধ প্রকল্পকে নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

নেপালের বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপন্ন মহিলারাই, ঝুঁকিতে ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন

Nepal Flash Floods: নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে প্রায় ১.৬ লক্ষ নারীর জীবন ঝুঁকিতে। বন্যার পর তাঁদের সামনে কী কী স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, খাদ্য ও জীবিকার সংকট তৈরি হয়েছে? রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নারীদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ জরুরি?