জনগণ চাইছে না! এবার তবে টুইটার থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এলন মাস্কের?

Elon Musk Twitter Poll: সাম্প্রতিক গুজরাত নির্বাচনে অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাঁদের দলের তরফে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, সেই সিদ্ধান্তও এই পদ্ধতিতে নিচ্ছেন।

suman sengupta
৩ মিনিট
জনগণ চাইছে না! এবার তবে টুইটার থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এলন মাস্কের?

পৃথিবীতে এক ধরনের মানুষ আছেন, যাঁরা তাঁদের জীবনের যে কোনও সিদ্ধান্ত নেন সামাজিক মাধ্যম দিয়ে। তা সে জীবনসঙ্গী বাছা থেকে শুরু করে, কী চাকরি করবেন, কোন সংস্থায় চাকরি করবেন, কোনটি ছাড়বেন, সমস্ত কিছু সিদ্ধান্তই নেন, সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বন্ধু বান্ধবীরা কী বলছেন, তার উপর দাঁড়িয়ে। কোথাও বেড়াতে গেলে, সেই জায়গাটা সম্পর্কে কে কীরকম বলেছেন, কোনও জিনিস কিনতে গেলে, সেই সংস্থার অন্যান্য জিনিস নিয়ে পরিচিত মানুষজন কী রিভিউ লিখেছেন, তা দেখে তাঁরা সব সিদ্ধান্ত নেন। এই ধরনের প্রবণতা আগে ছিল কিনা তা বিতর্কিত প্রশ্ন। থাকলেও হয়তো অন্যভাবে ছিল, তখনও মানুষজন হয়তো এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতেন, অন্য পরিচিত বন্ধুবান্ধবদের থেকে জেনে। কিন্তু সেটা এইরকম ‘অবশেসনে’র পর্যায়ে পৌঁছত কিনা, জানা নেই।

ইদানিং দেখা যাচ্ছে, এই প্রবণতা বাড়ছে, কিন্তু এই প্রবণতা বাড়ার কারণ কী? আসলে মানুষজন ক্রমশই সামাজিক জীবনে একলা হয়ে পড়ছে, আর অন্যদিকে এই একলা হয়েই তাঁরা ক্রমশ ঢুকে পড়ছে সামাজিক মাধ্যমে। সেখানে ঢুকে দেখছে, সবাই এই ধরনের কাজই করছে। এমনকী যাঁরা এই সামাজিক মাধ্যমগুলোর মালিক, তাঁরাই এই ধরনের সিদ্ধান্তই নিচ্ছেন। যেমন ধরা যাক, টুইটারের এখনকার সর্বময় কর্তা এলন মাস্ক। তিনি বিপুল পরিমাণ টাকা দিয়ে টুইটার কিনে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই রকম ভোট করেই যে, ব্যবহারকারীরা কী ভাবছেন? ২০২২ সালের মার্চ মাসের ২৫ তারিখ এলন মাস্ক প্রথম যে ‘টুইটার পোল’ করেন, তার বক্তব্য ছিল, "আপনি কি মনে করেন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা টিকিয়ে রাখার জন্য, টুইটারের মতো সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ ব্যবহারকারীদের বাকস্বাধীনতা থাকা জরুরি?" স্বভাবতই উত্তর হয়, হ্যাঁ। কিন্তু তারপরে তিনি যা করতে শুরু করেন, তাকে তাঁর খামখেয়ালিপনা বললে কি সবটা বলা হয়? এরপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এখন থেকে আর কোনও ব্যবহারকারীকে কোনও ঘৃণামূলক পোস্ট বা লেখা

বা বক্তব্যের জন্য আজীবন নির্বাসিত করে রাখা উচিৎ কিনা? সেই নিয়ে একটি ‘টুইটার পোল’ করেন, সেখানে কী ফলাফল আসে তা দেখার জন্য তিনি একদিন সময়ও দেন। তাঁর পরবর্তী কাজ হয় আরও একটি ‘টুইটার পোল’ করা, যা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আবারও ফিরিয়ে আনা উচিৎ কিনা!

Should I step down as head of Twitter? I will abide by the results of this poll.

— Elon Musk (@elonmusk)

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
টুইটারে 'ভোট' চেয়ে নিজেকে বড় বিপদের মুখে ফেললেন এলন মাস্ক?

Elon Musk Twitter: মাত্র দু'মাসেই মোহভঙ্গ হয়েছে এলন মাস্কের। বিপুল পরিমাণ টাকায় কেনা টুইটার কি ফের বিক্রি করতে চলেছেন তিনি?

যেহেতু এই সময়ে এই ধরনের সামাজিক মাধ্যমগুলো ঘৃণা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর উৎসস্থল, তাই এই দু'টি ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বেশিরভাগ ব্যবহারকারী

ফিরিয়ে আনার পক্ষে রায় দিয়েছেন। এলন মাস্ক নিজে টুইট করে বলেছিলেন, এই ‘টুইটার পোলে’র যা সিদ্ধান্ত তা টুইটার মেনে চলবে। কথা মতোই আমেরিকার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফিরিয়েও দেওয়া হয় তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্ট।

এর মধ্যে এলন মাস্ক আরও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেন। তবে এবার আর জনতা জনার্দনের ভোটে চেয়ে নয়, এবার আর ‘টুইটার পোল’ করে নয়। প্রচুর কর্মী ছাঁটাই করেছেন এলন মাস্ক কোনও রকম পূর্বাভাস ছাড়াই। অর্থাৎ যে সিদ্ধান্ত নিলে তাঁর সংস্থার আর্থিক ক্ষতি হবে না, সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এককভাবে। আর যে সিদ্ধান্ত নিলে তাঁর আর্থিক ক্ষতি হবে না, উল্টে ব্যবসা বাড়তে পারে, সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি ভোটের মাধ্যমে। তবে অতি উৎসাহে, মানুষ বেশ কিছু ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। সেই রকমই আরও একটি ‘টুইটার পোলে’ তিনি ব্যবহারকারীদের অংশ নিতে বলেন, তাতে

লেখেন, "কী মনে হয়, টুইটারের সর্বোচ্চ পদ থেকে আমার সরে যাওয়া উচিৎ?" তিনি এও লেখেন, তিনি এই সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন। ঘটনাচক্রে দিনের শেষে দেখা যায়, ৫৭ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁর সরে যাওয়াই উচিৎ। আসলে ঘৃণা এমন এক রিপু, যা কার বিরুদ্ধে কখন প্রয়োগ হবে, কেউ জানেন না। যাঁরা হয়তো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বা কঙ্গনা রানাওয়াতকে ফিরিয়ে আনার পক্ষে রায় দিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই হয়তো এলন মাস্কের সরে যাওয়ার পক্ষেই রায় দিয়েছেন।

ইদানিং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও এই ধরনের ‘টুইটার পোল’ করে মুখ্যমন্ত্রী বাছাই করছেন! সাম্প্রতিক গুজরাত নির্বাচনে অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাঁদের দলের তরফে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, সেই সিদ্ধান্তও এই পদ্ধতিতে নিচ্ছেন। কিন্তু এই সামাজিক মাধ্যমের বাইরেও তো বড় একটা সমাজ পড়ে থাকে, সেইখান থেকেও তো মতামত আসা উচিৎ। বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যখন, তা অনেক বিচার বিবেচনা করেই নেওয়া উচিৎ, কিন্তু সবটাই সামাজিক মাধ্যম দিয়ে করতে গেলে, সমস্যা বাড়ে ছাড়া কমে কি? অন্তত টুইটার মালিক এলন মাস্কের ‘টুইটার পোলে’র ফলাফল দেখে তাই মনে হচ্ছে। এবার দেখা যাক, তিনি কি এই সিদ্ধান্ত মেনে চলবেন, নাকি...

লিখেছেন
suman sengupta
suman sengupta
2 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?