সন্তান প্রসবের সময় প্রতি দু'মিনিটে মারা যাচ্ছেন একজন মা! ভয়াবহ যে তথ্য উঠে এল সমীক্ষায়

Woman Dies During Pregnancy : প্রসূতি মৃত্যুর এমন ভয়ংকর পরিসংখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-ও (WHO)। শিরদাঁড়ায় রীতিমতো ঠাণ্ডা স্রোত খেলে যাচ্ছে!

inscript
২ মিনিট
সন্তান প্রসবের সময় প্রতি দু'মিনিটে মারা যাচ্ছেন একজন মা! ভয়াবহ যে তথ্য উঠে এল সমীক্ষায়

মা – এই শব্দটির অর্থ কাউকে বুঝিয়ে দিতে হয় না। বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের, যে কোনও সংস্কৃতি, ভাষার মানুষ হন না কেন, ‘মা’ ডাকের আবেদন সমস্ত জায়গাতেই সমান। সেই মায়েদের জীবনই এখন সংকটে। সম্প্রতি নারীদের স্বাস্থ্য নিয়ে একটি বিশেষ রিপোর্ট পেশ করেছে সম্মিলিত রাষ্ট্রপুঞ্জ বা ইউনাইটেড নেশনস (UN)। সেখানেই উঠে এসেছে ভয়াবহ সব তথ্য। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী, সন্তান প্রসব করতে গিয়ে গোটা বিশ্বে প্রতি দুই মিনিটে একজন করে মা মারা যাচ্ছেন! প্রসূতি মৃত্যুর এমন ভয়ংকর পরিসংখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-ও (WHO)। যা শুনে শিরদাঁড়ায় রীতিমতো ঠাণ্ডা স্রোত খেলে যাচ্ছে!

রাষ্ট্রপুঞ্জের এই বিশেষ রিপোর্টে ২০০০ থেকে ২০২০ – মোট ২০ বছরের পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। ভারত তো বটেই, গোটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জুড়ে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। সেখানেই দেখা গিয়েছে এমন ভয়াবহ ছবি। রিপোর্ট অনুযায়ী, কেবল ২০২০ সালেই প্রতিদিন প্রসবের সময় প্রায় ৮০০ জন মহিলার মৃত্যু হয়েছে। হিসেব বলে, প্রতি দুই মিনিটে একজন! ওই বছরে প্রায় ২ লক্ষ ৮৫ হাজার জন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। হয় গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন জটিলতায়, নয়তো প্রসবকালীন অবস্থায় বেশিরভাগ মৃত্যু ঘটেছে। মায়েদের স্বাস্থ্য নিয়ে যা ভয়ংকর ছবি তুলে ধরেছে।

কিন্তু সামগ্রিক দিক থেকে বিচার করলে কেমন ছবি উঠে আসছে? গবেষকরা বলছেন, এই ২০ বছরে গোটা বিশ্বে প্রসূতি মৃত্যুর সংখ্যাটা কমেছে বেশ খানিকটা। ২০০০ সালে প্রতি এক লক্ষের মধ্যে ৩৩৯ জন মহিলার মৃত্যু হয়েছে। ২০২০-তে সেই সংখ্যাটি ২২৩। অন্যদিকে, একেকটি অঞ্চলে প্রসূতি মৃত্যুর হার একেক রকম। সবচেয়ে বেশি প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে আফ্রিকা মহাদেশে। উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জেও প্রসূতি মৃত্যুর হার বেশির দিকেই। বরং তুলনায় অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের মতো জায়গায় এই হার নিম্নমুখী।

আর ভারত? ২০০০ থেকে ২০২০-র মধ্যে ভারতের প্রসূতি মৃত্যুর হার প্রায় ৭০ শতাংশ কমলেও সংকট এখনও রয়েছে। ২০২০ সালে নাইজেরিয়ায় অন্তত ৮২,০০০ মহিলা সন্তান প্রসব করতে গিয়ে মারা গিয়েছেন। তারপরই রয়েছে ভারত। এই দেশে সেই সংখ্যাটি অন্তত ২৪,০০০! আগের থেকে কমলেও, সামগ্রিক বিচারে এখনও ভারতে প্রসূতি মৃত্যুর হার বেশ বেশিই। পশ্চিমবঙ্গের অবস্থাও প্রায় একইরকম।

কেন এরকম অবস্থা? গবেষকদের বক্তব্য, এর পেছনে অনেকগুলি কারণ রয়েছে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিলতা তো রয়েছেই। গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত রক্ত বেরিয়ে যাওয়া, রক্তাল্পতা এইডস, উচ্চ রক্তচাপ সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। অনেকেই সেই জটিলতা সহ্য করতে পারেন না। সেইসঙ্গে আছে সামাজিক, আর্থিক পরিস্থিতি। বাল্যবিবাহের মতো সমস্যা আজও ঘোর বাস্তব। সেইসঙ্গে গর্ভবতী মায়েদের ওজন কম হওয়া, অনিয়ন্ত্রিত গর্ভধারণ, হাসপাতালের দুরবস্থা, উপযুক্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব সহ আরও নানাবিধ সমস্যা আছে। সেই সমস্ত সমস্যারই ফলাফল এই পরিসংখ্যান। একবিংশ শতকের এই আধুনিক দুনিয়ায় যা অত্যন্ত ভয়াবহ।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

প্রতিদিন ওষুধ নয়, ছ’মাস অন্তর একটি ইঞ্জেকশন! HIV প্রতিরোধে নতুন দিশা Dr Reddy’s-এর

HIV Prevention: প্রতিদিন HIV প্রতিরোধের ওষুধ খাওয়ার বদলে ছ’মাস অন্তর একটি ইঞ্জেকশন! Dr Reddy’s-এর তৈরি জেনেরিক লেনাকাপাভির USFDA-র টেন্টেটিভ অনুমোদন পেয়েছে। বছরে মাত্র দু’টি ডোজেই যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে HIV-1 সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। কারা নিতে পারবেন এই ইঞ্জেকশন? দাম কত? কবে মিলবে ভারতের বাজারে?

করোনা সেরে গেলেও পিছু ছাড়ছে না ক্লান্তি! লং কোভিড নিয়ে নতুন গবেষণায় কী জানা গেল?

Long COVID: করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পরেও অনেকের শরীরে থেকে যাচ্ছে ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও স্মৃতিশক্তির সমস্যা। লং কোভিড নিয়ে নতুন মার্কিন গবেষণায় দেখা গেল, তিন বছরে প্রায় অর্ধেক রোগীর উপসর্গ কমেছে এবং এক-চতুর্থাংশ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু কোন ধরনের উপসর্গ থাকলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? কী বলছে গবেষণা?

কলকাতা বন্দরে উদ্ধার সাড়ে ১৩ কোটি টাকার ই-সিগারেট, শরীরের কী কী ক্ষতি করে এই ইলেকট্রনিক সিগারেট?

E-Cigarette Side Effects: কলকাতা বন্দরে প্রায় ৫৫ হাজার ই-সিগারেট উদ্ধার করেছে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর (DRI)। উদ্ধার হওয়া পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫ কোটি টাকা। ভারতে নিষিদ্ধ এই ইলেকট্রনিক সিগারেট শরীরের কী কী ক্ষতি করতে পারে?

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর হতে পারে?

Fatty liver: ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর? অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে এই পরীক্ষাধীন ওষুধ লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে? প্রাণীর শরীরে আশাব্যঞ্জক ফল মিললেও মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কি প্রমাণিত হয়েছে? ভবিষ্যতে কি গুরুতর ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারবে DT-109?

ইউক্রেনকে বিসর্জন দিয়ে পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

Trump Putin relationship: ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠতা বর্তমান বিশ্বরাজনীতির জটিল সমীকরণকে নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে?

বাংলার স্বাস্থ‍্যরক্ষায় সরকারি স্বাস্থ্যব‍্যবস্থা সংহত হওয়া জরুরি: অভিজিৎ চৌধুরী

Abhijit Chowdhury Interview: তিনি বাঙালির ‘লিভারের ডাক্তারবাবু’ বলেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন সরকারি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। অবসরের পরেও জড়িয়ে রয়েছেন চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে। সোনারপুরে গড়ে তুলেছেন ‘লিভার ফাউন্ডেশন’। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে তাঁর পরবর্তী স্টেশন ‘স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়’।

হঠাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হলে কী করবেন? নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর জেনে নিন CPR-এর জরুরি নিয়ম

How to perform CPR: ধরুন, হঠাৎ কেউ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। ডাকলেও সাড়া দিচ্ছেন না, স্বাভাবিকভাবে শ্বাসও নিচ্ছেন না। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই। তাহলে, কী করবেন তখন?

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।