বড়ি অথবা পাউডার ওষুধেই গায়েব সর্দি-জ্বর! কেন পালন করা হয় বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস?
World Homeopathy Day 2023 : নাক দিয়ে সর্দি, সঙ্গে ভয়ঙ্কর কাশি? হোমিওপ্যাথিক ওষুধে পান ‘ম্যাজিক’ সমাধান! কীভাবে বিকল্প চিকিৎসা মাধ্যম হয়ে উঠল এটি।

কাচের শিশিতে ছোট ছোট সাদা বলের মতো ওষুধ অথবা সাদা পাউডার ওষুধ, আমাদের ছোটবেলার স্মৃতিতে এ জিনিস বারবার ফিরে ফিরে আসে।পাড়ার মোড়েই বসেন ডাক্তারবাবু, সর্দি-জ্বর, অথবা হাঁচি-কাশি হলেই সেখানে নাম লিখিয়ে অপেক্ষা, তারপর ঐ কয়েকটা বড়ি ওষুধেই কাফি! রোগ উধাও! তাছাড়া তেঁতো বিচ্ছিরি স্বাদের ওষুধের সঙ্গে অনেক তফাৎ এর, শিশুদের তাই মোটেই না ছিল না হোমিওপ্যাথিতে। যদিও এই হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিয়ে পরবর্তীকালে অনেক তরজা চলেছে। অনেকেই মনে করেন এ চিকিৎসার ভিত নাকি নড়বড়ে। এমনকী বর্তমান আধুনিক সময়ে দাঁড়িয়ে এই চিকিৎসার প্রতি অনীহা জন্মাতেও দেখা যাচ্ছে বেশ কিছু ক্ষেত্রে। তবুও শহরতলীর দিকে উঁকি দিল আজও দেখা যায় জমজমাট পসার হোমিওপ্যাথি ডাক্তারদের।
এ হেন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ দিনও পালিত হয় গোটা বিশ্বে। প্রতিবছর আজকের দিনে অর্থাৎ ১০ এপ্রিল পালিত হয় বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস। আজ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার প্রতিষ্ঠাতা ডক্টর স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের জন্মবার্ষিকী, তাই এই দিনটিকে প্রতি বছর বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস হিসেবে মান্যতা দেওয়া হয়। এই দিবসটি পালনের মূল লক্ষ্য, বিভিন্ন স্বাস্থ্য হানির চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির কার্যকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং প্রচলিত ওষুধের নিরাপদ ও প্রাকৃতিক বিকল্প হিসেবে এর ব্যবহার প্রচার করা। পাশাপাশি হোমিওপ্যাথির নীতি ও সুবিধা সম্পর্কে জনসাধারণ এবং পেশাদারদের শিক্ষিত করাও এই দিবসটির লক্ষ্য।
এ বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালের বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবসের থিম :
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Madhushudan Gupta, Kolkata Medical College : ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মার্চ তিনি যোগ দেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে, এখানে থেকেই দেশের ইতিহাসে শব ব্যবচ্ছেদের নজির গড়েন মধুসূদন গুপ্ত।
প্রতিবছরই এই দিনটিকে একটি নির্দিষ্ট থিম এর ওপর ভিত্তি করে পালন করা হয়। গত বছর বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবসের থিম ছিল - “Homoeopathy: People’s Choice for Wellness, while this year it is One Health, One Family.” অর্থাৎ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা কীভাবে একটি মানুষ এবং একটি পরিবারের সুস্থতার জন্য বিকল্প পছন্দ হয়ে উঠতে পারে তা জনসাধারণের কাছে তুলে ধরা।এবছরও একই ভাবে রয়েছে পৃথক একটি থিম। সেটি হল, একটি পরিবারের স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ-ভিত্তিক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরে।
বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবসের ইতিহাস :
আঠারো শতকের শেষের দিকে ডক্টর স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ‘সিমিলিয়া সিমিলিবাস কিউরেন্টুর’ নামে একটি হোমিওপ্যাথি নীতি তৈরি করেছিলেন, যার অর্থ ‘লাইক লাইক কিউর লাইক’। ২০০৫ সালে প্রথম বিশ্ব হোমিওপ্যাথি দিবস পালিত হয় এবং তারপর থেকেই হোমিওপ্যাথির সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং মূলধারার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় এর সংযোজন প্রচারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে এই দিনটি। বর্তমানে এই হোমিওপ্যাথি দিবসটি তাৎপর্যপূর্ণ কারণ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির সুযোগ প্রদান করে আজকের দিনটি। এবং মূলধারার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় হোমিওপ্যাথিকে একীভূত করার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।
বেশ কিছু শতাব্দী ধরেই প্রচলিত চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে অন্যতম হল হোমিওপ্যাথি। মূলত অ্যালার্জি, হাঁপানি, বিষণ্নতা বা উদ্বেগ সহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে এটি। হোমিওপ্যাথির অন্যতম প্রধান সুবিধা হল এটি নিরাপদ এবং অ-বিষাক্ত, কারণ ওষুধগুলি প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি করা হয়। পাশাপাশি বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়েও এটিই হল সাশ্রয়ী বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি। হোমিওপ্যাথি শুধুমাত্র উপসর্গের পরিবর্তে রোগের মূল কারণের চিকিৎসা করে।







