পুজোর আগে ঝরিয়ে ফেলুন মেদ, ছিপছিপে থাকতে এই ডায়েটের বিকল্প নেই

সহজে মেদ ঝরানোর জন্য ডিটক্স ডায়েট খুবই কার্যকর। পুজোর আগে খুব চটজলদি ভুঁড়ি কমিয়ে ছিপছিপে চেহারা পেতে এর বিকল্প নেই।

Piya Saha
৩ মিনিট
পুজোর আগে ঝরিয়ে ফেলুন মেদ, ছিপছিপে থাকতে এই ডায়েটের বিকল্প নেই

আর মাত্র দু'মাস বাকি দুর্গাপুজোর। তার আগে কেনাকাটা, মেকওভার সবকিছু ঠিকমতো করতে প্রয়োজন প্ল্যানিংয়ের। কিন্তু শরীরের ওজন কমাবেন কী করে, তা ভেবে কূলকিনারা করতে পারছেন না! আপনার প্রয়োজন ডিটক্স ডায়েটের। সহজে মেদ ঝরানোর জন্য ডিটক্স ডায়েট খুবই কার্যকর। পুজোর আগে খুব চটজলদি ভুঁড়ি কমিয়ে ছিপছিপে চেহারা পেতে এর বিকল্প নেই। নতুন জামায় নিজেকে ফিট ও আকর্ষণীয় করে তুলুন উৎসবের মরশুমে।

ডিটক্স ডায়েট কী?

দৈনন্দিন জীবনে যেমন একই কাজ করতে করতে আমাদের যেমন একঘেয়েমি আসে, তেমনই শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলিও প্রতিনিয়ত কাজ করে হাঁপিয়ে ওঠে। ডিটক্স ডায়েট হলো শরীরের টক্সিন দূর করার অন্যতম সেরা উপায়। এই ধরনের ডায়েটে পুষ্টিবিদরা মূলত উপবাস এবং পানীয় গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। শরীরের যেসব টক্সিন মল, মূত্র এবং ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে না, সেগুলি শরীর থেকে দূর করার সহজ উপায় হলো ডিটক্স ডায়েট। সুস্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে এই ডায়েট মেনে খাওয়ার খেলে।

ডিটক্স ডায়েটের গুণাগুণ

অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি নিয়ে আমরা সকলেই চিন্তায় ভুগি। এক্ষেত্রে শরীরের ডিটক্সিকেশনের প্রয়োজন। তাই ওজন কমাতে এই ডায়েটের জুড়ি মেলা ভার। তবে শুধু ওজন কমাতে নয়, এই ডায়েটের একাধিক গুণাগুণ রয়েছে। যেমন পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও আমাদের অনেকেরই ক্লান্তি কাটতে চায় না, শরীর ঝিমিয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে এই ডায়েট মেনে খাওয়া শুরু করলে উপকার মিলবে। আবার আমাদের শরীরে বর্জ্যপদার্থর পরিমাণ বেশি হয়ে গেলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে কোনও কাজ করার সময় ঠিকভাবে মনোনিবেশ করা যায় না। এক্ষেত্রও ডিটক্স ডায়েট মেনে খাবার খেলে হাতেনাতে ফল পাবেন। শরীরে টক্সিনের পরিমাণ বাড়তে থাকলে ঘন ঘন শরীর খারাপ, মাথা ব্যথা, পেটের গন্ডগোল, ত্বকের সমস্যাও দেখা দেয়। এই ধরনের সমস্যা থেকে বাঁচতে ডিটক্স ডায়েট অত্যন্ত কার্যকরী। ডিটক্স ডায়েট পদ্ধতি মেনে খাবার খেলে মেটাবলিজমের হার বৃদ্ধি পায়, ফলে তা রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টরলের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। শরীর থেকে টক্সিন দূর করার বিভিন্ন ওষুধ রয়েছে, কিন্তু খুব সহজেই বাড়িতেই থেরাপির মতো কাজে দেবে এই ডায়েট পদ্ধতি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হাড়ের ব্যথা থেকে ডায়াবেটিস, নিমেষে সারাবে, আজই খাদ্যতালিকায় যোগ করুন সস্তার এই শস্য

রাগির মতো প্রাচীন শস্য খাদ্য তালিকায় যোগ করে একাধিক রোগকে কাবু করুন। এই শস্যের গুণাগুণ হার মানাবে আটা, ময়দাকে। তাই সুস্থ থাকতে আজ থেকেই রাগি যোগ করতে পারেন খাবারে।

এক সপ্তাহে কীভাবে ডিটক্স ডায়েট মেনে খাবার খাবেন?

একজন ব্যক্তির শরীর এক সপ্তাহে কতখানি টক্সিনমুক্ত হবে, তা মূলত দু'টি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। প্রথমত, শরীরে কী পরিমাণে টক্সিন জমা হয়েছে এবং দ্বিতীয়ত, কত ভালোভাবে পরিকল্পনা করে তা অনুসরণ করছে ওই ব্যক্তি। চিকিৎসকদের মতে, ডিটক্স ডায়েট মেনে ওজন কমাতে চাইলে মদ্যপান থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। সঙ্গে বাইরের ভাজাভুজি, পিৎজা, বার্গার, স্যান্ডউইচের মতো ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলুন। বদলে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফলমূল এবং শাকসবজি বেছে নিন। সপ্তাহে একদিন উপবাস করেও থাকতে পারেন এক্ষেত্রে। এই এক সপ্তাহ মাংস, কোল্ড ড্রিংকস না খাওয়াই ভালো, কারণ এই ধরনের খাবার হজম হতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি সময় লাগে। প্যাকেটজাত যে কোনও খাবার যেমন চিপস, নুডলস, জ্যাম, মাখন, চিজ, সস খাবেন না এই সময়ে। চিনিসমেত দুধ চা, কফির বদলে এই এক সপ্তাহ গ্রিন টি খান।

করণীয়

১. ডিটক্সিটেশনের প্রাথমিক শর্তই হল প্রচুর পরিমাণে জল খাওয়া। সারাদিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস জল খাওয়া খুবই জরুরি। খাবার খাওয়ার আগে এবং পরে অবশ্যই জল পান করুন। এতে ক্ষতিকর টক্সিন শরীর থেকে দূর হয়ে যায়। আবার এক বোতল জলে শসা বা লেবুর টুকরো যোগ করে সেই জল সারাদিন খান। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই জল ওজন কমাতে সাহায্য করে।

২. পুষ্টিবিদদের মতে, ওজন কমাতে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ঈষদুষ্ণ গরম জলে পাতিলেবুর রস যোগ করে খেতে পারেন। এতে সামান্য মধু দিলে আরও কার্যকরী ফল পাওয়া যায়।

৩. যথাসম্ভব মরশুমের ফল ও সবজি রাখুন খাদ্যতালিকায়।

৪. সারাদিনে অন্তত ৪৫ মিনিট হাঁটুন। সূর্যনমস্কার এবং প্রাণায়াম করতেও ভুলবেন না যেন। লিভারের সমস্যায় সেরা ব্যায়াম হাঁটা।

৫. কমপক্ষে দু'বেলা খাবারের সঙ্গে বাড়িতে তৈরি টক দই খান। এতে অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

৬. ঘুমোতে যাওয়ার আগে গরম জলে ত্রিফলা মিশিয়ে খান।

৭. ওজন কমানোর পথে কোনওভাবেই প্রোটিন গ্রহণ যেন কম না হয়। এতে কিন্তু শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে।তাই ডিম, চিকেন, বিন, ডালের মতো খাবার রাখুন ডায়েটে।

৮. প্রোটিনের পাশাপাশি শরীরের যথেষ্ট পরিমাণে ফাইবারেরও প্রয়োজন। সবুজ শাকসবজি, স্যালাড বেশি পরিমাণে খান এই সময়। তবেই দেখবেন, ভুঁড়ি কমে গেছে। সঙ্গে বাদাম, কাঁচা ছোলা খেতে পারেন টিফিনে।

ফলাফল

উপরিউক্ত পদ্ধতি মেনে খাবার খেলে সাত থেকে পনেরো দিনের মধ্যেই ফারাক বুঝতে পারবেন নিজেই। তবে এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, যাঁরা কোনও অসুস্থতায় ভুগছেন বা চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খাবার খাচ্ছেন তাঁরা বিশেষজ্ঞের কথামতোই চলুন।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।