হাড়ের ব্যথা থেকে ডায়াবেটিস, নিমেষে সারাবে, আজই খাদ্যতালিকায় যোগ করুন সস্তার এই শস্য

রাগির মতো প্রাচীন শস্য খাদ্য তালিকায় যোগ করে একাধিক রোগকে কাবু করুন। এই শস্যের গুণাগুণ হার মানাবে আটা, ময়দাকে। তাই সুস্থ থাকতে আজ থেকেই রাগি যোগ করতে পারেন খাবারে।

Piya Saha
৩ মিনিট
হাড়ের ব্যথা থেকে ডায়াবেটিস, নিমেষে সারাবে, আজই খাদ্যতালিকায় যোগ করুন সস্তার এই শস্য

বয়স বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়েই একাধিক রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে শুর করে। হাড়ের ব্যথা, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, ডায়াবেটিসের মতো রোগ আজ ঘরে ঘরে। একটু বয়স বাড়লেই ওষুধ খেতে খেতে জীবন জেরবার। এমন অবস্থায় শরীর সুস্থ রাখতে খাদ্যাভ্যাসে বদল এবং শরীরচর্চা ছাড়া কোনও বিকল্প উপায় নেই। সঠিক খাবার খেলেই ডায়াবেটিস বা হৃদযন্ত্রর সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব। তাই রাগির মতো প্রাচীন শস্য খাদ্য তালিকায় যোগ করে একাধিক রোগকে কাবু করুন। এই শস্যের গুণাগুণ হার মানাবে আটা, ময়দাকে। তাই সুস্থ থাকতে আজ থেকেই রাগি যোগ করতে পারেন খাবারে।

রাগির গুণাগুণ

লালচে বাদামি রঙের দেখতে রাগি ময়দা প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালশিয়াম এবং আয়রনে পরিপূর্ণ। এই শস্যের সবচেয়ে উপকারী দিক হলো এটি গ্লুটেন-মুক্ত। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গ্লুটেন ওজন বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। আবার রাগিতে উপস্থিত ফাইবারও ওজন কমাতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখতেও সাহায্য করে এই শস্য। পাশাপাশি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। রাগি কোলেস্টরল এবং সোডিয়ামমুক্ত হওয়ায় যেসব ব্যক্তি হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছেন তাঁদের জন্য বিশেষ উপকারী। দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধ করতে এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য রাগি অত্যন্ত জরুরি।

রাগি যে যে রোগ নিরাময়ে সাহায্য করে

হাড়ের সমস্যা: দুধ ব্যতীত ক্যালশিয়ামের সেরা উৎস হলো রাগি। জাতীয় পুষ্টি সংস্থার মতে, ১০০ গ্রাম রাগিতে প্রায় ৩৪৫ মিলিগ্রাম ক্যালশিয়াম উপস্থিত থাকে। ফলে অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করতে, হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমাতে, বাতের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে রাগি।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবেটিস রুখতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়া কোনও উপায় নেই। আর তাই খাদ্যগ্রহণের সময় অতিরিক্ত সচেতন থাকা জরুরি। রাগিতে উপস্থিত ফাইবারের কারণে রক্তে শর্করা শোষণের হার কমে যায়। ফলে টাইপ টু ডায়াবেটিস প্রতিরোধে রাগির বিকল্প নেই। পুষ্টিবিদরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে প্রায়শই ময়দা বা আটার পরিবর্তে রাগির রুটি খাওয়ার পরামর্শ দেন।

হৃদযন্ত্রের সমস্যা: সোডিয়াম-মুক্ত রাগি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাবারে রাগির তৈরি খাবার খেলে হাতেনাতে নিজেই প্রমাণ পাবেন আপনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
রান্না থেকে বিয়ে, সর্বত্র অপরিহার্য 'গোল্ডেন স্পাইস'! হলুদের ইতিহাস জানলে চমকে উঠতে হয়

বরাবরের মতো ভারতীয় রসনায় হলুদের জায়গা পাকাপোক্ত। তার সিংহাসন টলানো যাবে না। ব্রিটিশ এশিয়ান রান্নায় হলুদের উপস্থিতি থেকে আজকের দিনের রান্নাতেও তার একই স্থান রয়ে গেছে।

অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ: রক্তে আয়রনের মাত্রা কমে যাওয়াকেই চিকিৎসকেরা অ্যানিমিয়া বলে থাকেন।আমাদের দেশের বেশিরভাগ মহিলাই অ্যানিমিয়ার সমস্যায় ভোগেন। রাগিতে আয়রন উপস্থিত থাকার কারণে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখতে আজই এই দানাশস্য খাওয়া শুরু করুন।

কীভাবে প্রতিদিনের ডায়েটে রাগি অন্তর্ভুক্ত করা যায়?

বাঙালিরা খুব বেশি রাগি না খেলেও ভারতের অন্যান্য প্রান্তের মানুষরা কিন্তু রাগির তৈরি রুটি, চিপস, খিচুড়ি ইত্যাদি নানা উপায়ে এই দানা শস্য গ্রহণ করেন। রাগির তৈরি যে পদগুলি সহজেই বানিয়ে ফেলা সম্ভব,

১. রাগির রুটি

রাগির রুটি তৈরির জন্য রাগির আটার সঙ্গে পছন্দমতো সবজি, যেমন পেঁয়াজ, গাজর, বিট ইত্যাদি যোগ করতে পারেন। মিশ্রণটিতে পরিমাণমতো নুন যোগ করে ভালোভাবে মেখে নিন ও রুটির মতো করে বেলে নিন। ভালোভাবে চাটুতে ভেজে নিয়ে দই বা সহযোগে প্রাতঃরাশ সেরে ফেলতে পারেন এই দিয়ে।

২. রাগি বরফি

একটি প্যানে ২ টেবিল ঘি গরম করে তাতে রাগি ময়দা যোগ করে ভালোভাবে অল্প আঁচে ৩ থেকে ৫ মিনিট ভেজে নিন। এরপর একটি কাপের অর্ধেকের বেশি গুড় দিয়ে আবার ৫ মিনিট ভাজুন। এরপরও তাতে সামান্য পরিমাণে বাদাম-গুঁড়ো, ২ কাপ দুধ এবং সামান্য এলাচগুঁড়ো দিয়ে মিশ্রণটি ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। গ্যাস বন্ধ করে মিশ্রণকে ঠান্ডা হতে দিন। তারপর তা থেকে ছোট ছোট বরফি কেটে নিন।

৩. রাগি লাড্ডু

একটি প্যানে ২ টেবিল ঘি গরম করে তাতে দেড় কাপ রাগি ময়দা যোগ করে ভালোভাবে নাড়াচাড়া করুন। ময়দার কাঁচাভাব না যাওয়া পর্যন্ত এটিকে নাড়তে থাকুন। এরপর একে কিছুটা ঠান্ডা করে তার মধ্যে তিন কাপ গুড় ও এলাচ গুঁড়ো মিশিয়ে নিন ভালোভাবে রান্না করে নিন। অল্প গরম থাকতে থাকতেই গোল গোল লাড্ডুর মতো বানিয়ে এয়ারটাইট কন্টেনারে রেখে দিন।

৪. রাগি প্যানকেক

দু'কাপ রাগি ময়দা, ২ কাপ গমের আটা, পরিমাণমতো লবণ, ২ চা চামচ বেকিং সোডা এবং গুড় একটি পাত্রে মিশিয়ে নিন। এরপর একটি পাত্র ভালোভাবে গরম করে তাতে ঘি বা তেল মাখিয়ে নিন। পাত্রে তৈরি করা ব্যাটার যোগ করে ভালোভাবে দু'পাশেই রান্না করে নিলেই তৈরি রাগি প্যানকেক। ম্যাপল সিরাপ, কলা-র মতো ফল সহযোগে গরম গরম খেয়ে নিন এই প্যানকেক।

৫. রাগি কেক

একটি পাত্রে এককাপ রাগি ময়দা, এককাপ সাদা ময়দা, কোকো পাউডার, চিনি এবং দেড় চামচ বেকিং সোডা ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার তাতে দু'কাপ দুধ, এক চা চামচ ভ্যানিলা এসেন্স, গলানো মাখন যোগ করুন। আবার ভালোভাবে ঘেঁটে নিন মিশ্রণটি। এবার কেক তৈরির জন্য মিশ্রণটিকে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ৩৫ মিনিট মাইক্রোওভেনে রান্না করে নিন। সময়মতো বের করে ঠান্ডা হলেই খেয়ে ফেলুন সুস্বাদু রাগি কেক।

লিখেছেন
Piya Saha
Piya Saha
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।