ইরান যুদ্ধের ২৪ দিন: ট্রাম্পের হুমকি, গ্যাস নিয়ে মোদির সাফাই
Iran US Israel conflict oil impact: দিল্লিতে ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে। শিল্পে সরবরাহ কমিয়ে গৃহস্থের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন সংসদে এই সংকট নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রেখেছেন।
মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ অভিযানের চতুর্থ সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী নিয়ে উত্তেজনা চরমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার রাতে হুমকি দিয়ে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ইরান যদি প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দেয়, তাহলে আমেরিকা ইরানের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে শুরু করে একের পর এক পরিকাঠামো ধ্বংস করবে। ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, এই প্রণালী পুরোপুরি, কোনো হুমকি ছাড়া খুলতে হবে। ইরান এই হুমকির পাল্টা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, পাল্টা প্রত্যাঘাত শানানো হবে। বিপ্লবী গার্ডস জানিয়েছে, ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় আঘাত হানলে উপসাগরীয় দেশের সব আমেরিকান বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ কেন্দ্র তাদের টার্গেট হবে। এমনকী সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পরমাণু কেন্দ্রও নিরাপদ নয় বলে ইঙ্গিত। তেহরান আরও জানিয়েছে, ইজরায়েলের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিও আক্রমণের আওতায় পড়বে।
এই আবহে আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) সতর্ক করে বলছে, এই সংকট ১৯৭০-এর তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ। ইতোমধ্যেই তেলের দাম আকাশছোঁয়া। ব্রেন্ট ক্রুড ১১৩ ডলার ছাড়িয়েছে, ওয়েস্ট টেক্সাস ১০০ ডলারের ওপরে। দুবাই ক্রুড সর্বকালের রেকর্ড ১৫৩ ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্ববাজারে শেয়ার পড়ছে, সোনার দামও নামছে। এদিকে হরমুজ বন্ধ থাকায় বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলপিজি সরবরাহ ব্যাহত। তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছে ভারত। ভারতের জন্য এই সংকট সরাসরি রান্নাঘরে আঘাত করেছে। অন্তত তিন সপ্তাহ ধরে এলপিজি সংকট চলছে। সরকার জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করে রিফাইনারিগুলিকে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বলেছে। কিন্তু সেই জোগান চাহিদার তুলনায় নিতান্তই গৌন বলা চলে।
দিল্লিতে ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে। শিল্পে সরবরাহ কমিয়ে গৃহস্থের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন সংসদে এই সংকট নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেছেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় কিছু সাফল্য এসেছে। তিনি বলেছেন, “হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে ভারতে প্রচুর পরিমাণে অপরিশোধিত তেল, গ্যাস, সার এবং অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় জিনিস আসে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।”
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Middle East conflict history: ১৯০৮ সালে পারস্যের মসজিদ সুলেইমানে তেল আবিষ্কার কী ভাবে বিশ্বরাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্রাজ্যবাদী দখলদারি ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সূচনা করেছিল?
মোদি আরও যোগ করেছেন, “তা সত্ত্বেও সরকার সবরকম চেষ্টা করছে যাতে পেট্রল, ডিজেল এবং গ্যাসের সরবরাহে খুব বেশি প্রভাব না পড়ে। আমাদের মূল লক্ষ্য সাধারণ পরিবারের অসুবিধা যতটা সম্ভব কমানো।” তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা জানি, দেশের ৬০ শতাংশ এলপিজি আমদানি করতে হয়। সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে সরকার গৃহস্থালির এলপিজি ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের মধ্যে এলপিজি উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে সরকার সতর্ক ও সংবেদনশীল, এবং প্রয়োজনে সব ধরনের সাহায্যের জন্য প্রস্তুত। তিনি উল্লেখ করেছেন, ভারত এখন ৪১টি দেশ থেকে জ্বালানি আমদানি করে, যা দশ বছর আগে ছিল ২৭টি।
আজ সোমবার দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার—জাগ বসন্ত ও পাইন গ্যাস—হরমুজ পার হচ্ছে। জাহাজ-ট্র্যাকিং তথ্য অনুসারে, জাহাজদুটি ইরানের উপকূল ঘেঁষে বিশেষ পথে এগোচ্ছে। ইরানি নৌবাহিনী আগেই একই পথে শিবালিক ও নন্দা দেবীকে নিরাপদে পার করিয়েছে। ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতায় ইরান কয়েকটি জাহাজকে ব্যতিক্রম হিসেবে অনুমতি দিয়েছে। তবে ইরান নয়াদিল্লির কাছে ফেব্রুয়ারিতে আটক তিনটি ট্যাঙ্কার ফেরত চেয়ে চাপ তৈরি করে চলেছে।
সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, আরও কয়েকটি ট্যাঙ্কার পথে আছে। রাশিয়া থেকে অতিরিক্ত ক্রুড কেনা হয়েছে। তেলমন্ত্রক বলছে, সংকট কিছুটা হলেও কমছে। যদিও গ্যাসের দাম ঊর্ধ্বমুখীই থাকবে। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত।
ইরান প্রশ্নে ইজরায়েল জানিয়েছে, আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়বে।
অর্থাৎ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভারতীয়র রান্নাঘরে। সরকার বলছে, কূটনীতি ও দেশীয় উৎপাদন দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে। কিন্তু হরমুজের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকায় সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।





