ভারতের সাহায্য নেবে বন্যাবিধ্বস্ত পাকিস্তান? চাপানউতোর থামছে না দুর্যোগেও
ভারত পাকিস্তানের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও পাকিস্তান আদৌ তা গ্রহণ করে কি না, ও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর প্রভাব কী হয়, তা দেখার।

প্রবল বন্যায় বিপর্যস্ত প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান। বেশ কিছু সময় ধরেই পাকিস্তানে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের এক তৃতীয়াংশ জলের তলায়।বন্যায় বহু মানুষ ঘরছাড়া। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম। তৈরি হয়েছে খাদ্য ও পানীয় জলের সংকট। ইতিমধ্যেই বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১১০০ মানুষ।
বন্যার ক্ষয়ক্ষতি
গত এক সপ্তাহ ধরে লাগাতার ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চল। পাক বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘরছাড়া হয়েছেন ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে নেমেছে সেনা। উদ্ধারে হাত লাগিয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরও। সেসব সত্ত্বেও কোনওভাবেই আটকানো যাচ্ছে না মৃত্যুমিছিল।
বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে ইসলামাবাদের কপালে ভাঁজ ফেলেছে আর্থিক মন্দা। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের দেশের মূলধন দিয়ে এই বন্যাপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো একপ্রকার অসম্ভব বলে স্বীকার করে নিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Malnutrition In India: ভারতের জনসংখ্যা ১৪০ কোটি ছুঁইছুঁই। দেশের স্বাধীনতার ৭৫ বছরও ঘটা করে পালিত হচ্ছে। অথচ পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব ঘোচেনি মোট জনসংখ্যার ৭১ শতাংশ নাগরিকের ক্ষেত্রে।
যদিও ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। পাক টেলিভিশনের একটি ভাইরাল ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বিস্তীর্ণ জায়গায় কোমর-উচুঁ জল। আর সেই জল পেরিয়েই নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছেন মানুষ। কোথাও কোথাও আবার দুর্গতদের নৌকা করে ত্রাণ শিবিরে নিয়ে যাচ্ছে পাক সেনা।
জুনের মাঝামাঝি থেকে পাকিস্তানে বৃষ্টি শুরু হয়। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, এখনই বৃষ্টি থেকে রেহাই মিলছে না পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও পাঞ্জাব প্রদেশের মানুষদের। আগামী দু'সপ্তাহে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পাকিস্তানে বন্যার এই পরিস্থতি নতুন নয়। এর আগেও ২০১০ সালে সিন্ধুপ্রদেশে ভয়াবহ বন্যায় ১৭০০-র বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। আবহাওয়াবিদদের মতে, ক্রমাগত আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে পাকিস্তানে এমন ভারী বর্ষণ হয়েছে।
ভারতের সাহায্য
পাকিস্তানের এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে ট্যুইট করে সমবেদনা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ট্যুইটে তিনি লিখেছেন, "পাকিস্তানে বন্যায় যে ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, তা দেখে দুঃখিত। আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবার, আহত এবং এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সকলের প্রতি আমাদের সমবেদনা জানাই এবং দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থা পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা করছি।" নরেন্দ্র মোদি-র ট্যুইটের পরেই পাকিস্তানকে মানবিক সাহায্য পাঠাতে পারে নয়াদিল্লি। এই বিষয়ে সাউথ ব্লকে আলোচনা চলছে কূটনৈতিকদের মধ্যে।
শেষ পর্যন্ত যদি নরেন্দ্র মোদি সরকার বন্যা-কবলিত পাকিস্তানের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, তবে ২০১৪ সালে পাঠানকোট হামলার পর এই প্রথম এমন উদ্যোগ নিতে চলেছে ভারত। তবে এর আগে ২০১০ সালে বন্যার সময় এবং তারও আগে ২০০৫ সালে ভূমিকম্প-বিধ্বস্ত পাকিস্তানের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল তখন ক্ষমতায় থাকা ইউপিএ সরকার।
পাকিস্তানের এই পরিস্থিতির মধ্যেই পাকিস্তানের বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ালেন বলিউড অভিনেতা অনিল কাপুর। পাকিস্তানের বন্যা তহবিলে অনিল কাপুর ৫ কোটি টাকা দিয়েছেন। শুধু অনিল কাপুরই নয়, পাকিস্তানের এই বন্যা বিপর্যয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন বলিউডের আরও দুই সেলিব্রিটি রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাট। পাকিস্তানের এই বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই ফেসবুকে পাকিস্তানের অভিনেত্রী মেহহুইশ হায়াত লিখেছিলেন, পাকিস্তানের মানুষ বলিউড বলতে পাগল। পাকিস্তানের যখন এমন দুরবস্থা, তখন বলিউডের তারকারা চুপ কেন! এরপরেই অনিল কাপুর এবং রণবীর কাপুর ও আলিয়া ভাট পাকিস্তানকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।
ভারতের এই সাহায্যকে কতটা গ্রহণ করবে পাকিস্তান, তা নিয়েও সংশয় দেখা গিয়েছে। কিছুদিন আগেও হাভার্ড থেকে আসা মার্কিন শিক্ষার্থীদের সামনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছিলেন, যুদ্ধ নয়, ভারতের সঙ্গে স্থায়ী সমাধান চায় পাকিস্তান। এমনকী, শাহবাজ শরিফ এও জানিয়েছিলেন কাশ্মীর সমস্যারও একমাত্র সমাধান, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা। এর উত্তরে ভারত নীরব থাকলেও বন্যা-কবলিত প্রতিবেশীকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপরেই ফের আরও একবার ভারতের সাহায্য আশ্বাস পাওয়ার পর কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী। পাক প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, "ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা যেতেই পারে। কিন্তু এটা আমাদের কিছুতেই এটা ভুললে চলবে না যে, কাশ্মীরে এখনও নির্বিচারে গণহত্যা চালাচ্ছে ভারত। ভারতে যেভাবে সংখ্যালঘুদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, তা ভুলে গেলেও চলবে না।"
এই পরিস্থিতিতে এটাই দেখার, ভারত পাকিস্তানের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেও পাকিস্তান আদৌ তা গ্রহণ করে কি না, ও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর প্রভাব কী হয়।






