জরায়ু মুখের ক্যান্সার রুখতে শুরু HPV টিকাকরণ, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ভ্যাকসিন?

২০২৪ সালের একটি আনুমানিক হিসাব (ICMR - NCRP) অনুযায়ী, ভারতে মাত্র এক বছরে প্রায় ৭৮,৪৯৯ জন নারী নতুন করে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪২,৩৯২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সঠিক সময়ে টিকাদান এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং না করানোর ফলেই এই মৃত্যুর হার এত বেশি।

inscript
৩ মিনিট
জরায়ু মুখের ক্যান্সার রুখতে শুরু HPV টিকাকরণ, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই ভ্যাকসিন?

পাড়াপড়শি-আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে নিজের বাড়িতে, ইদানীং একটু বেশিই জরায়ু মুখের ক্যান্সার বা Cervical Cancer-এর নাম শুনছেন না? এই রোগের বাড়াবাড়ির কথা আজকাল একটু বেশিই বেড়ে গিয়েছে না? তাই এই রোগ নিয়ে পাড়ায় কাকিমা-জ্যাঠিমাদের আড্ডাখানা থেকে শুরু করে মায়ের ফোনে মাসিদের সঙ্গে কথাবার্তায় আলোচনার বিষয় হলো এই রোগ।

এই ক্যান্সারের পিছনে যে প্রধান কারণটি লুকিয়ে আছে, তার নাম এইচপিভি (HPV) বা হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস। কিন্তু ভালো খবর হলো, সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং একটি ভ্যাকসিন বা টিকার মাধ্যমে এখন এই মারণব্যাধিকে চিরতরে দূরে সরিয়ে রাখা সম্ভব। এবং পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়েছে এই টিকাকরণ কর্মসূচি।

এইচপিভি (HPV) আসলে কী এবং এটি কীভাবে ছড়ায়?

এইচপিভি হলো ভাইরাসের একটি বিশাল পরিবার। এটি প্রধানত প্রজননতন্ত্রের একটি অত্যন্ত সাধারণ সংক্রমণ। চিকিৎসকদের মতে, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে প্রায় ৮০% যৌনসক্রিয় মানুষ এই ভাইরাসের সংস্পর্শে আসেন।

সংক্রমণ ও ঝুঁকির কারণ:

  • এটি মূলত স্পর্শের মাধ্যমে (ত্বক থেকে ত্বকের সংস্পর্শে) এবং অরক্ষিত যৌনমিলনের কারণে ছড়ায়।

  • কম বয়সে যৌন সম্পর্ক শুরু করা, একাধিক যৌনসঙ্গী থাকা, কিংবা ধূমপানের অভ্যাস এই ভাইরাসের সংক্রমণকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে। এ ছাড়া যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি দুর্বল (যেমন: HIV আক্রান্ত ব্যক্তি), তাদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের ঝুঁকি অনেক বেশি।

  • এই ভাইরাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রে শরীরে এর কোনো বাহ্যিক লক্ষণ থাকে না। ফলে মানুষ নিজের অজান্তেই এটি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়।

ক্যান্সারের সঙ্গে এইচপিভির সম্পর্ক এবং ভারতের প্রেক্ষাপট

সব এইচপিভি ভাইরাসই কিন্তু ক্যান্সার তৈরি করে না। এর মধ্যে কিছু আছে কম ঝুঁকিপূর্ণ (Low-risk), যা সাধারণত সাধারণ আঁচিল বা ‘ওয়ার্ট’ তৈরি করে। তবে কিছু হাই-রিস্ক বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ টাইপ (যেমন: HPV-১৬ ও ১৮) দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে রয়ে গেলে জরায়ু মুখের ক্যান্সার সৃষ্টি করে।

ভারতে এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতীয় নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাধারণ ক্যান্সার হলো স্তন ক্যান্সার, তারপরই সবচেয়ে বেশি সাধারণ জরায়ু মুখের ক্যান্সার।

২০২৪ সালের একটি আনুমানিক হিসাব (ICMR - NCRP) অনুযায়ী, ভারতে মাত্র এক বছরে প্রায় ৭৮,৪৯৯ জন নারী নতুন করে এই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪২,৩৯২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সঠিক সময়ে টিকাদান এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং না করানোর ফলেই এই মৃত্যুর হার এত বেশি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দিল্লির বিষাক্ত বাতাসে জন্মের আগেই মৃত্যুর লড়াই, বাড়ছে প্রি-টার্ম শিশুর সংখ্যা

মাত্র পাঁচ বছরে দিল্লিতে সময়ের আগে শিশু জন্মের সংখ্যা ৫১ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। হারের দিক থেকে বিচার করলে এই বৃদ্ধি ২১ শতাংশেরও বেশি। সহজ ভাষায় বললে, দিল্লির বুকে জন্ম নেওয়া প্রতি ৮ জন শিশুর মধ্যে ১ জন শিশু এখন প্রি-টার্ম বা সময়ের আগেই জন্মাচ্ছে।

জরায়ু মুখের ক্যান্সার রোধে এইচপিভি ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা

বিজ্ঞানীদের মতে, জরায়ু মুখের ক্যান্সার প্রতিরোধের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রধান চাবিকাঠি হলো এইচপিভি ভ্যাকসিন।

  • আমেরিকার ২০১২-২০ সালের তথ্যানুযায়ী, ভ্যাকসিন নেওয়ার ফলে তরুণীদের মধ্যে জরায়ু মুখের ক্যান্সারের হার ৬৫% কমে গিয়েছে।

  • স্কটল্যান্ডের ১০ বছরের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, নারীদের মধ্যে ক্যান্সার পূর্ববর্তী ক্ষত বা ‘প্রি-ক্যান্সারাস লিশন’ ৮৮-৮৯% পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

কোন বয়সে এই টিকা সবচেয়ে বেশি কার্যকর?

এই ভ্যাকসিনটি শরীরে সবচেয়ে ভালো কাজ করে কোনো ধরনের সংক্রমণের সংস্পর্শে আসার আগে। সেই কারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিশেষজ্ঞদের মতে, ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সি কিশোরীদের এই টিকা দেওয়া সবচেয়ে বেশি কার্যকর। ভারতের দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচিতেও বর্তমানে ১৪ বছর বয়সি কিশোরীদের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ৯-১৪ বছর বয়সে এই টিকার ২টি ডোজই (০ এবং ৬ মাসের ব্যবধানে) শরীরকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দিতে সক্ষম।

ভ্যাকসিন নিয়ে কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা ও আসল সত্য

নতুন যেকোনো ভ্যাকসিন এলেই চারিদিকে কিছু রটনা ছড়ায়। এইচপিভি ভ্যাকসিনও তার ব্যতিক্রম নয়।

  • এই ভ্যাকসিন কি বন্ধ্যাত্ব, গর্ভপাত বা জন্মগত ত্রুটি ঘটায়?

  • একদমই না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ‘গ্লোবাল অ্যাডভাইজরি কমিটি অন ভ্যাকসিন সেফটি’ দীর্ঘমেয়াদি তথ্য পর্যালোচনা করে জানিয়েছে, বন্ধ্যাত্ব বা গর্ভপাতের সঙ্গে এই ভ্যাকসিনের কোনো বৈজ্ঞানিক সংযোগ বা মিল পাওয়া যায়নি।

  • ভ্যাকসিনের কি মারাত্মক কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে?

  • বিশ্বব্যাপী ইতিমধ্যে ৫০ কোটিরও (500 million) বেশি বার এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে এবং ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের তথ্য প্রমাণ করে যে এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ। অন্যান্য সাধারণ টিকার মতোই এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অত্যন্ত মৃদু ও সাময়িক (যেমন: ইনজেকশনের জায়গায় সামান্য ব্যথা, লাল হওয়া বা হালকা জ্বর), যা ১-২ দিনেই ঠিক হয়ে যায়।

টিকা নেওয়ার পর কী কী সতর্কতা মেনে চলা উচিৎ?

এইচপিভি ভ্যাকসিন নেওয়ার পর শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং টিকার সঠিক কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি:

যা যা করা উচিৎ

১. ইনজেকশন নেওয়ার পর অন্তত ১৫-৩০ মিনিট টিকাদান কেন্দ্রেই বসে থাকা উচিৎ, যাতে কোনো আকস্মিক অ্যালার্জিজনিত সমস্যা হলে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া যায়।

২. টিকা নেওয়ার পর দিন ৭-৮ ঘণ্টা ভালো করে ঘুমানো উচিৎ। এটি শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

৩. প্রচুর পরিমাণে জল ও তরল খাবার খান, যাতে ক্লান্তি বা হালকা জ্বর দ্রুত কেটে যায়।

৪. পূর্ণ সুরক্ষার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর (সাধারণত ৬ মাস পর) দ্বিতীয় ডোজটি অবশ্যই নিন।

যা যা করা উচিৎ নয়

১. টিকা নেওয়ার পর ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা জিমে যাওয়া বা কোনো ধরনের ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলুন।

২. ইনজেকশন দেওয়ার জায়গায় হাত দিয়ে ঘষাঘষি করবেন না। ব্যথা বা ফোলা কমাতে সেখানে হালকা ঠাণ্ডা সেঁক দিতে পারেন।

৩. অন্তত দুই দিন ধূমপান বা মদ্যপান থেকে দূরে থাকুন, কারণ এগুলো শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে দুর্বল করে দেয়।

এইচপিভি ভ্যাকসিন জরায়ু মুখের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে আমাদের সবচেয়ে বড় ঢাল হলেও এটি কিন্তু ১০০% সুরক্ষা দেয় না (কারণ এটি সব ধরনের এইচপিভি টাইপ কভার করে না)। তাই ২৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সি নারীদের টিকার পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অন্তর নিয়মিত জরায়ু মুখ পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং (যেমন: প্যাপ স্মিয়ার বা HPV টেস্ট) করানো উচিৎ।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।