চোখ ঢেকে থাক সানগ্লাসে

Arunima Mukherjee
৩ মিনিট
চোখ ঢেকে থাক সানগ্লাসে

সানগ্লাস বা রোদ চশমা, জিনিসটির নাম শুনলেই সবার প্রথমে মনে পড়ে গ্লামার ওয়াল্ডে থাকা মানুষগুলোর কথাই। দিন হোক কিংবা রাত, এয়ারপোর্টে যেসব ছোট কিংবা বড়ো পর্দার তারকাদের দেখা মেলে, তাঁদের সবার মধ‍্যে একটি জিনিস‌ এক‌ই থাকে, সেটি হল সানগ্লাস বা এই রোদচশমা। তারকা ছাড়াও ছোট, বড়ো কিংবা মাঝারি, সব বয়েসের মধ‍্যেই সমানভাবে জনপ্রিয় রোদচশমার ব‍্যবহার। কিন্তু আদৌ কি সানগ্লাসের দরকার রয়েছে? বা থাকলেও কেন? কেন‌ই বা এতো জনপ্রিয় এই রোদচশমা? চলুন আজকে জেনে নেওয়া যাক সানগ্লাস সম্পর্কে সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলি।

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক, সানগ্লাসের বাজারে আসার গোড়ার কথা। সানগ্লাসের গোড়ার কথা জানতে হলে আমাদের বেশ কয়েকশো বছর পিছিয়ে যেতে হবে। শোনা যায়, ১৩০০ সালে একটি বিশেষ কারণে চৈনিক নির্মাতারা ধোঁয়াচ্ছন্ন লেন্সের চশমা তৈরি করেন। সেখান থেকেই সানগ্লাসের সূত্রপাত হয়, বলা চলে। তবে ১৩০০ সালের নির্মিত সেই চশমার উদ্দেশ‍্য কিন্তু চোখের আরাম বা রোদ প্রতিরোধ করা ছিল না, এই চশমা তৈরি করা হয়েছিল আদালতের বিচারকের চোখের দৃষ্টিকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে নিয়ে। এরপর চলে আসা যাক, ১৭৫২ সালে। ব্রিটিশ একজন চিকিৎসক জেমস্ আইসকচ ( James Ayscough) বিভিন্ন রঙের কাঁচের ব‍্যবহার শুরু করে আধুনিকভাবে পুনরায় সানগ্লাসের সূচনা করলেন। এরপর অষ্টাদশ শতাব্দীর কুড়ির দশকে এই সানগ্লাস জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। এই সানগ্লাস তখন মূলত বিখ‍্যাত জনপ্রিয় উপকরণ হয়ে উঠেছিল চিত্রতারকাদের মধ‍্যে। কিন্তু এইসময় সানগ্লাসের দাম ছিল গগনচুম্বী, সমাজের উচ্চবিত্ত মানুষেরাই এই রোদচশমা ব‍্যবহার করতে সক্ষম ছিলেন। ১৯২৯ সালে এই দশার পরিবর্তন হয় এবং ক্রমে বাজারে আসে কম দামের হালকা প্লাস্টিকের সানগ্লাস, যা মজবুত‌ও ছিল। ১৯৩৬ সালে আবিষ্কার হয় পোলারয়েড লেন্সের সানগ্লাস। এড‌উইন এইচ ল‍্যান্স সানগ্লাসের প্রচলন ঘটান।

সানগ্লাস ব‍্যবহারে উপকার :

  1. অনেকেই মনে করে থাকেন হয়তো কেবলমাত্র ফ‍্যাশনের কারণেই সানগ্লাস ব‍্যবহৃত হয়ে থাকে। বিষয়টি একেবারেই ভুল। সানগ্লাস ব‍্যবহার করলে বিভিন্নভাবে আপনার চোখ সুরক্ষা পায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক উপকারিতার তালিকাটি।

  2. সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা : সূর্যের আল্ট্রা ভাওলেট রশ্মির থেকে চোখকে বাঁচানো সানগ্লাসের প্রধান কাজের মধ‍্যে একটা। এই ক্ষতিকর রশ্মির কারণে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের ছানি, ক‍্যানসার কিংবা বার্ধক্যজনিত ম‍্যাকুলার ক্ষয় অবধি হয়ে থাকে। ভালো সানগ্লাস সূর্যের এই রশ্মিকে পুরোদমেই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও সানগ্লাস ব‍্যবহার করলে চোখের তলার চামড়া কুঁচকে গিয়ে যে বয়সের ছাপ পড়ে, তা হয় না।

  3. চোখ এবং মাথাব‍্যাথা থেকে মুক্তি : Pupil সংকুচিত এবং প্রসারিত হ‌ওয়ার মাধ‍্যমেই চোখে আলো প্রবেশ করে থাকে। বেশি আলোতে pupil সংকুচিত হয়ে যায় এবং চোখের‌ও সংকোচন ঘটে। এর ফলেই শুরু হয় চোখে এবং মাথায় ব‍্যাথা। সানগ্লাসের রঙিণ কাঁচের জন‍্য চোখে বেশি আলো প্রবেশ করতে পারে না ফলে pupil এর সংকোচন ঘটে না। তাই চোখ এবং মাথা উভয়েই আরাম পায়।

  4. দূষণ থেকে সুরক্ষা : সানগ্লাস বাইরের ধূলো বালির থেকে চোখকে রক্ষা করে। চোখে মাত্রাতিরিক্ত হাওয়া লাগার ফলে কর্ণিয়া শুকিয়ে যায়, ফলে চোখে একধরনের অস্বস্তি শুরু হয়। বিশেষ করে যাঁরা কন্টাক্ট লেন্স ব‍্যবহার করেন, তাদের সানগ্লাস ব‍্যবহার করা বিশেষ প্রয়োজনীয়। এছাড়া‌ও বরফের থেকে প্রতিফলিত চকচকে আলো বা গ্লেয়ার থেকে চোখকে রক্ষা করে সানগ্লাস। এই গ্লেয়ারের আলোতে চোখ ঝাপসা হয়ে যায় এবং মাথা ব‍্যাথা শুরু হয়। এইক্ষেত্রে পোলারাইজড সানগ্লাস ব‍্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

তবে সানগ্লাস কেনার আগে কিছু বিষয় অবশ‍্য‌ই নজর রাখতে হবে, নাহলে উপকারের চেয়ে অপকারের মাত্রা বেশি হয়ে যেতে পারে। আমরা অনেকেই পথচলতি দোকানে নিজের পছন্দের সানগ্লাসটি দেখেই চট করে সেটি কিনে ফেলি, কমদামী রোদচশমার লেন্সে অনেকসময় পাওয়ার থাকে, যা চোখের পক্ষে পরবর্তী সময়ে ক্ষতিকর হতে পারে। তাই সানগ্লাস সবসময় কোন ভালো চশমার দোকান থেকেই ক্রয় করা উচিত। আবার কাঁচের লেন্সের অপেক্ষা প্লাস্টিকের লেন্স হালকা, মজবুত হয় । তাই অনেকেই প্লাস্টিকের লেন্সটিকেই অধিক আরামের কারণে বেঁছে নেন, কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে আদৌ লেন্সটি ১০০% আলট্রা ভায়োলেট রশ্মি প্রতিহত করে সক্ষম কিনা। যদি তা না হয়, তবে সেই সানগ্লাসের কোন মূল‍্য‌ই নেই।

আবার সানগ্লাসের লেন্সের রঙ‌ও অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণ করে। এই বিষয়টি হয়তো অনেকেরই অজানা।

  • হলুদ : এই রঙের লেন্সে যেকোন দৃশ‍্যবস্তুর আসল র‌ঙ অতি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। তবে বস্তুর উজ্জ্বলতা কিছু বৃদ্ধি পায়।

  • ধূসর এবং সবুজ : এই রঙের লেন্সে দৃশ‍্যবস্তুর স্বাভাবিক র‌ঙটিই ফুটে উঠতে দেখা যায়।

  • বাদামি এবং ফিরোজা : দৃশ‍্যবস্তুর রঙের কনট্রাস্ট কিছুটা বাড়িয়ে দেয়।

  • অ্যাম্বার : এই রঙের লেন্স অনেক দূরের দৃশ‍্যবস্তুকে আর‌ও স্পষ্টভাবে দেখতে সহায়তা করে।

তথ্য সুত্র:

  • https://bit.ly/3ymwPNn

  • https://bit.ly/3GFv0hq

  • https://bit.ly/3pYg9bs

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

প্রতিদিন ওষুধ নয়, ছ’মাস অন্তর একটি ইঞ্জেকশন! HIV প্রতিরোধে নতুন দিশা Dr Reddy’s-এর

HIV Prevention: প্রতিদিন HIV প্রতিরোধের ওষুধ খাওয়ার বদলে ছ’মাস অন্তর একটি ইঞ্জেকশন! Dr Reddy’s-এর তৈরি জেনেরিক লেনাকাপাভির USFDA-র টেন্টেটিভ অনুমোদন পেয়েছে। বছরে মাত্র দু’টি ডোজেই যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে HIV-1 সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। কারা নিতে পারবেন এই ইঞ্জেকশন? দাম কত? কবে মিলবে ভারতের বাজারে?

করোনা সেরে গেলেও পিছু ছাড়ছে না ক্লান্তি! লং কোভিড নিয়ে নতুন গবেষণায় কী জানা গেল?

Long COVID: করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পরেও অনেকের শরীরে থেকে যাচ্ছে ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ও স্মৃতিশক্তির সমস্যা। লং কোভিড নিয়ে নতুন মার্কিন গবেষণায় দেখা গেল, তিন বছরে প্রায় অর্ধেক রোগীর উপসর্গ কমেছে এবং এক-চতুর্থাংশ সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু কোন ধরনের উপসর্গ থাকলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি? কী বলছে গবেষণা?

কলকাতা বন্দরে উদ্ধার সাড়ে ১৩ কোটি টাকার ই-সিগারেট, শরীরের কী কী ক্ষতি করে এই ইলেকট্রনিক সিগারেট?

E-Cigarette Side Effects: কলকাতা বন্দরে প্রায় ৫৫ হাজার ই-সিগারেট উদ্ধার করেছে রাজস্ব গোয়েন্দা দফতর (DRI)। উদ্ধার হওয়া পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৩.৫ কোটি টাকা। ভারতে নিষিদ্ধ এই ইলেকট্রনিক সিগারেট শরীরের কী কী ক্ষতি করতে পারে?

ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর হতে পারে?

Fatty liver: ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় DT-109 কতটা কার্যকর? অন্ত্রের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে এই পরীক্ষাধীন ওষুধ লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে? প্রাণীর শরীরে আশাব্যঞ্জক ফল মিললেও মানুষের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা কি প্রমাণিত হয়েছে? ভবিষ্যতে কি গুরুতর ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় নতুন দিশা দেখাতে পারবে DT-109?

ইউক্রেনকে বিসর্জন দিয়ে পুতিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প?

Trump Putin relationship: ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠতা বর্তমান বিশ্বরাজনীতির জটিল সমীকরণকে নতুন করে নির্ধারণ করতে পারে?

বাংলার স্বাস্থ‍্যরক্ষায় সরকারি স্বাস্থ্যব‍্যবস্থা সংহত হওয়া জরুরি: অভিজিৎ চৌধুরী

Abhijit Chowdhury Interview: তিনি বাঙালির ‘লিভারের ডাক্তারবাবু’ বলেই সমধিক পরিচিত। দীর্ঘদিন সরকারি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন। অবসরের পরেও জড়িয়ে রয়েছেন চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে। সোনারপুরে গড়ে তুলেছেন ‘লিভার ফাউন্ডেশন’। সহযোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে তাঁর পরবর্তী স্টেশন ‘স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয়’।

হঠাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হলে কী করবেন? নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর জেনে নিন CPR-এর জরুরি নিয়ম

How to perform CPR: ধরুন, হঠাৎ কেউ জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। ডাকলেও সাড়া দিচ্ছেন না, স্বাভাবিকভাবে শ্বাসও নিচ্ছেন না। এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় নেই। তাহলে, কী করবেন তখন?

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।