পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে সূর্যের কক্ষপথে, সাফল্য থেকে আর কতদূরে দাঁড়িয়ে আদিত্য?

Aditya-L1: আপাতত পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে আদিত্য এলওয়ান। সূর্যের কক্ষপথে ঢুকেই নিজের কাজ শুরু করে দিয়েছে সৌরযানটি। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন তথ্য ইসরোকে পাঠাতে শুরু করেছে সেটি।

Sohini Das
৩ মিনিট
পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে সূর্যের কক্ষপথে, সাফল্য থেকে আর কতদূরে দাঁড়িয়ে আদিত্য?

পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে আরও একটু জয়ের দিকে পাড়ি। চাঁদজয়ের পরে কি এবার তবে ভারতের ভাগ্যে ছিঁড়বে সূর্যজয়ের শিকে। না সরাসরি সূর্যজয় অবশ্য নয়। কারণ সূর্যের ধারেকাছে পৌঁছনো মোটেও চাড্ডিখানি কথা নয়। ওই ভয়ানক রকম তাপ, তার উপর প্রচণ্ড সূর্যের আকর্ষণ শক্তি। ফলে মহাকাশযান পাঠালেও তা ঠিকমতো কাজ করার সম্ভাবনা বেশ কমই। এবার সেই রাগী সূর্যকেই কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরো।

চাঁদজয়ের সাফল্য তখনও ফিকে হয়নি। তার মধ্যেই সূর্যে পাড়ি দেওয়ার সমস্ত আয়োজন সেরে ফেলেছিল ইসরো। পরিকল্পনা মাফিক গত ২ সেপ্টেম্বর পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যাল বা PSLV-C57 রকেটে চেপে সূর্যের কক্ষপথের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল ইসরোর সূর্যযান। সফল হয় উৎক্ষেপণ। উৎক্ষেপণের প্রায় এক ঘণ্টা পাঁচ মিনিট পর পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করা হয় সেটিকে। চাঁদের পর কি তবে এবার সূর্যজয়। অপেক্ষায় বুক বেঁধেছিল বিশ্ব। কথা ছিল, গন্তব্যে পৌঁছতে অন্তত ১২০ দিন সময় লাগবে সূর্যযান আদিত্য এলওয়ানের।

ইসরোর কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, উৎক্ষেপণের পর অন্তত ১৬দিন শুধু পৃথিবীর চারদিকেই ঘুরপাক খাবে আদিত্য এলওয়ান। আর সেই সময়েই নাকি বাড়তে থাকবে গতিবেগ। প্রায় পাঁচটি ধাপে বাড়বে সেই গতিবেগ। আর ঘুরতে ঘুরতেই কাটিয়ে ফেলবে পৃথিবীর মায়া থুড়ি কক্ষপথ। তারপর ১১০ দিন ধরে চলবে আসল যাত্রা। অর্থাৎ সূর্যের কক্ষপথকে গন্তব্য করে ছুটবে আদিত্য এলওয়ান।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইসরোর ঘামঝরা লড়াইয়ের একাল সেকাল

ISRO: ধর্ম জায়গা ছেড়েছিল। গোরুর গাড়িতে চেপে শুরু হয়েছিল মহাকাশ পাড়ির সফর। সেখান থেকে মঙ্গল হয়ে চাঁদজয়। বাদ যায়নি সূর্যও। পরের নিশানা ভিনগ্রহ শুক্র। যেভাবে শূন্য থেকে একশো ছুঁয়েছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো, সেই গৌরবময় ইতিহাসকে।

তবে সেসব তো পরের কথা। প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল পৃথিবীর কক্ষপথ পেরনো। আর সেই ধাপটুকু স্টারমার্ক নিয়েই পাশ করে গিয়েছে আদিত্য এলওয়ান। সূর্যের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গিয়েছে সেটি। ইসরো সূত্রের খবর, ১৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবারই পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে সূর্যের কক্ষপথে ঢুকে পড়েছে সেটি। সূর্যের দিকে পাড়ি দেওয়ার পর এই পঞ্চমবার কক্ষপথ পরিবর্তন করল আদিত্য এল ওয়ান। রাত দুটো নাগাদ টুক করে সূর্যের কক্ষপথে ঢুকে পড়েছে এই সৌরযান।

আপাতত পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে আদিত্য এলওয়ান। সূর্যের কক্ষপথে ঢুকেই নিজের কাজ শুরু করে দিয়েছে সৌরযানটি। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন তথ্য ইসরোকে পাঠাতে শুরু করেছে সেটি। তবে এর পরেও বাকি বিস্তর পথ। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) জানাচ্ছে, মঙ্গলবার মধ্য রাতে ট্রান্স-ল্যাগ্রাঞ্জিয়ান পয়েন্টের মধ্যে দিয়ে যাবে সেটি। আপাতত সেদিকেই কড়া নজর রেখেছে ইসরো।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চাঁদ ছুঁয়ে সূর্যমুখী যাত্রা, ইসরোর আদিত্য এল ১-এর দিকে যে কারণে তাকিয়ে বিশ্ব

Aditya L1 Launch: এই প্রথম বার মহাকাশযান পাঠাল ভারত। সূর্যের নাম অনুসারেই মহাকাশযানটির নাম রাখা হয়েছে আদিত্য।

মরিশাস, ব্যাঙ্গালোর, সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও পোর্ট ব্লেয়ারের ইসরো গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে সৌরযানের উপর নজর রাখা হয়েছে নিয়মিত। এবার ঘুরতে ঘুরতে তাকে পৌঁছতে হবে একটি নির্দিষ্ট ল্যাগারেঞ্জ পয়েন্টে। সেই নির্দিষ্ট পয়েন্টে দাঁড়িয়েই বাদবাকি কাজকর্ম সারবে আদিত্য এলওয়ান।

কেন ওই ল্যাগারেঞ্জ পয়েন্ট, কেন সূর্যের আরও কাছাকাছি পৌঁছবে না আদিত্য এলওয়ান? সে রহস্য অবশ্য আগেই পরিষ্কার করেছেন ইসরোর কর্মকর্তারা। জানা গিয়েছে, ওই বিশেষ ল্যাগারেঞ্জ পয়েন্টটি হল এমন জায়গা, যেখানে সূর্য ও পৃথিবীর আকর্ষণ ও বিকর্ষণ বল একই সঙ্গে কাজ করবে। ফলে ওই স্থানটিতে স্থির ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে মহাকাশযান। আর ওই নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়েই সূর্যের দিকে কড়া নজর রাখবে আদিত্য এলওয়ান।

মহাকাশের আবহাওয়া কেমন? পরিবেশের উপর, পৃথিবীর উপর সূর্যের প্রভাব কেমন তা সম্পর্কে বুঝে বিভিন্ন খবর পাঠাতে থাকবে সেটি পৃথিবীকে। এই গ্রহের আশপাশে আর কী কী উপাদান রয়েছে, তা নিয়েও খবর পাঠাতে থাকবে এটি। আর এই সব কাজের জন্য নানা আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে বাহুবলী করে পাঠানো হয়েছে সৌরযান আদিত্য এলওয়ানকেষ রয়েছে ইউভি সুরক্ষিত বিশেষ টেলিস্কোপ ও এক্স রে। সূর্যের অত কাছে বলে তাকে বিশেষ করে তাপরোধী ও ইউভি লাইট-রোধী করে পাঠানো হয়েছে অভিযানে। এই মিশনের জন্য বিশেষ ধরনের ম্যাগনেটোমিটার তৈরি করেছে বেঙ্গালুরুর ল্যাবরটরি ফর ইলেক্ট্রো অপটিকস সিস্টেম। যা ওই ল্যাগারেঞ্জ পয়েন্টের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র পরিমাপে সাহায্য করে। তাছাড়া সৌরযানের গায়ে রয়েছে মোট ৬টি সেন্সর। যার মাধ্যমে সূর্যের কাছে থাকা আয়ন ও ইলেকট্রন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা যাবে। যা পৌঁছবে সোজা ইসরোর কাছে। ইতিমধ্যেই স্টেপ প্রযুক্তির মাধ্যমে তথ্য পাঠানো শুরুও করে দিয়েছে সৌরযান। ওই স্টেপ প্রযুক্তির মাধ্যমেই চলবে বিভিন্ন উপাদান পরীক্ষা। আপাতত সৌরযানের ভিতরের সমস্ত প্রযুক্তি, সমস্ত মেশিনপত্তর ঠিকঠাক ভাবেই কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসরোর বিজ্ঞানীরা।

এখনও ১১০ দিনের যাত্রা বাকি। সেটুকু রাস্তাও সাফল্যের সঙ্গেই পার করে ফেলবে আদিত্য এলওয়ান। সফল হবে ভারতের এই মহাকাশ অভিযানও। এবার আগুনের গোলাকেও আরও ভালো করে জেনে, চিনে নিতে পারবে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা, তেমনই আশায় বুকে বেঁধেছে গোটা দেশ।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।