চাঁদ ছুঁয়ে সূর্যমুখী যাত্রা, ইসরোর আদিত্য এল ১-এর দিকে যে কারণে তাকিয়ে বিশ্ব

Aditya L1 Launch: এই প্রথম বার মহাকাশযান পাঠাল ভারত। সূর্যের নাম অনুসারেই মহাকাশযানটির নাম রাখা হয়েছে আদিত্য।

Sohini Das
৩ মিনিট
চাঁদ ছুঁয়ে সূর্যমুখী যাত্রা, ইসরোর আদিত্য এল ১-এর দিকে যে কারণে তাকিয়ে বিশ্ব

ফের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের মুখোমুখি আমরা। ২ সেপ্টেম্বর, শনিবার সূর্যের উদ্দেশে রওনা হল আদিত্য এল ওয়ান। অন্ধপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস রিসার্চ সেন্টারের লঞ্চিং প্যাড থেকে বেলা ১১টা ৫০ নাগাদ সূর্যের উদ্দেশে রওনা হয় আদিত্য এল ওয়ান। তাকে কাঁধে করে নিয়ে গেল ভারতীয় রকেট ‘পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল’ (পিএসএলভি)। গত জুলাই মাসেই এমনই এক মুহূর্তের মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। সাফল্য তখনও বহুদূর। তবে ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে অবশেষে চাঁদের পাহাড় ছুঁয়েই ফেলেছে দেশ। এবার সূর্যের মাটি ছোঁয়ার পালা।

হাতে গুনে এক সপ্তাহ কয়েকটা মাত্র দিন হয়েছে চাঁদে সফল ভাবে পা রেখেছে ভারত। চাঁদের মাটিতে পা দেওয়ার নিরিখে ভারত চতুর্থ দেশ। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবশ্য প্রথম আমরাই। তবে এই সাফল্য যে শুরুয়াত মাত্র সেই বার্তা এর মধ্যেই দিয়ে দিয়েছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। দীর্ঘ চার বছরের প্রচেষ্টায় শেষমেশ চাঁদে পাড়ি দিয়েছিল চন্দ্রযান ৩। এমন করোনাকালীন পরিস্থিতিতেও থমকায়নি সেই নিরন্তর প্রচেষ্টা। চন্দ্রযান ১ এবং ২-র ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে গোড়া থেকেই কোনও খুঁত রাখতে চায়নি ইসরো। এক হাজারেরও বেশি বিজ্ঞানী ও ইঞ্জিনিয়ারের নিরন্তর পরিশ্রমে চাঁদের মাটিতে নেমেছে চন্দ্রযান ৩-র ল্যান্ডার। তা-ও আবার চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে। ইতিমধ্যে একাধিক বার চাঁদের ছবি ক্যামেরাবন্দি করে পাঠিয়েছে রোভার প্রজ্ঞান।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পৃথিবীতে যা আছে চাঁদেও তাই?! চাঁদে কী কী আশ্চর্য জিনিস খুঁজে পাচ্ছে প্রজ্ঞান?

Sulphur on Moon: রোভার প্রজ্ঞানের প্রাথমিক উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে একটি হচ্ছে, চাঁদের ধুলো এবং নুড়ির রাসায়নিক গঠন বোঝা।

চন্দ্রযান ৩ যেদিন সত্যি সত্যি চাঁদের মাটি ছুঁয়ে ফেলল, প্রথম দেশ হিসেবে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পা রাখল ভারত, সেদিন রাতেই ভাইরাল হয়েছিল ইসরোর বিজ্ঞানীদের উদযাপনের ছবি। নাচতে দেখা গিয়েছিল ইসরোর ডিরেক্টর এস সোমনাথ-সহ চন্দ্রাভিযানের দায়িত্বে থাকা অন্যান্য শীর্ষব্যক্তিদেরও। সেই নাচের দৃশ্য দেখে কেউ আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন, কেউ কেউ আবার তেরছা চোখেও তাকিয়েছিলেন। তবে এই সব সাফল্য, উদযাপন সত্ত্বেও নিজের লক্ষ্য থেকে বিন্দুমাত্র সরে আসেনি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। তাই চন্দ্রাভিযানের সাফল্যে এক সপ্তাহ হতে না হতেই পরবর্তী মিশনের কথা ঘোষণা করে দিয়েছিল তারা। চাঁদের পর এবার আরও বড় নিশানাকে সামনে রাখল ইসরো। সেই সূর্য, সেই চিরন্তন জ্বলন্ত গোলাতেই এবার পা রাখতে চলেছে ইসরো।

এই প্রথম বার মহাকাশযান পাঠাল ভারত। সূর্যের নাম অনুসারেই মহাকাশযানটির নাম রাখা হয়েছে আদিত্য। রওনা তো হল আদিত্য এল ওয়ান। কিন্তু সে যাবে কোথায়? ইসরো জানিয়েছে, সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যিখানের একটি 'হ্যালো' কক্ষপথের একটি ল্যাগরেঞ্জ রয়েন্ট বা এল-ওয়ান পয়েন্টে স্থাপন করা হবে মহাকাশযানটিকে। এই জন্যই সম্ভবত মহাকাশযানের নামে আদিত্যের পরে জুড়ে দেওয়া হয়েছে এলওয়ান শব্দটি। পৃথিবীর থেকে সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। আপাতত ১০ লক্ষ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে মহাকাশযানটিকে। তবে ওই গন্তব্যে পৌঁছবে সেটি। যাতে সময় লাগার কথা প্রায় ১২০ দিনের মতো। এই যাত্রাপথে যে শুধু যাত্রা করবে আদিত্য এল ওয়ান, তা কিন্তু নয়। বরং পথে সূর্যের বায়ুমণ্ডল সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে করতে যাবে মহাকাশযানটি। যা আসবে ইসরোর কাছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চাঁদের পর সূর্য ধরার পালা! আদিত্য এল ১ ঠিক কী করতে চলেছে সূর্যকে নিয়ে?

Aditya L 1 Solar Mission : এই অভিযানের লক্ষ্য সৌর বায়ুমণ্ডলে আংশিকভাবে আয়নিত প্লাজমার পদার্থবিদ্যাকে বোঝা।

এই মিশনের সঙ্গে যুক্ত ইসরোর আধিকারিকরা জানিয়েছেন, উৎক্ষেপণের পর প্রায় ১৬দিন পর্যন্ত শুধু পৃথিবীর চারদিকেই পাক খেতে থাকবে আদিত্য এলওয়ান। কিন্তু কেন? জানা গিয়েছে, এই ১৬ দিনে নাকি সূর্যের দিকে ছুটে যাওয়ার জন্য পাঁচটি ধাপে গতিবেগ বাড়াবে মহাকাশযানটি। তার পর শুরু হবে আসল যাত্রা। পরবর্তী ১১০ দিন ধরে চলবে আসল যাত্রা। এর পর একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে দাঁড়িয়ে সূর্যকে ভালো করে পর্যবেক্ষণ করতে থাকবে মহাকাশযানটি। কিন্তু মহাকাশে সূর্যের অত কাছে পৌঁছে এক জায়গায় স্থির হয়ে থাকা তো মুখের কথা নয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওই ল্যাগারেঞ্জ পয়েন্টটিতে নাকি সূর্য ও পৃথিবীর আকর্ষণ ও বিকর্ষণ বল একই সঙ্গে কাজ করে। যা স্থির থাকতে সাহায্য করবে মহাকাশযানটি।

আপাতত ওই নির্দিষ্ট দূরত্বে দাঁড়িয়ে সূর্যের খবরাখবর দেওয়াই কাজ আদিত্য এলওয়ানের। মহাকাশের আবহাওয়া, পরিবেশের উপরে সূর্যের প্রভাব কীরকম তা বোঝার চেষ্টা করবে। এর জন্য মহাকাশযানের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে ইউভি সুরক্ষিত বিশেষ টেলিস্কোপ, এক্স রে-সহ আরও নানা আধুনিক যন্ত্রপাতি। এই মিশনের জন্য বিশেষ করে একটি ম্যাগনেটোমিটার তৈরি করেছে বেঙ্গালুরুর ল্যাবরটরি ফর ইলেক্ট্রো অপটিকস সিস্টেম। যা ওই ল্যাগারেঞ্জ পয়েন্টেের চৌম্বকীয় ক্ষেত্র পরিমাপে সাহায্য করবে। সেই ম্যাগনেটোমিটারকে জুড়ে দেওয়া হয়েছে আদিত্য এলওয়ানের সঙ্গে।ইতিমধ্যেই সূর্যের উদ্দেশে রওনা দিয়ে ফেলেছে আদিত্য এল ওয়ান। ইতিমধ্যেই সফল ভাবে সে পার করে ফেলেছে উৎক্ষেপনের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপও। চন্দ্রযান ৩-র মতোই সাফল্য ধাওয়া করুক এবার সূর্যের পিছু পিছু। গোটা ভারতবাসীর শুভেচ্ছাও আদিত্য এলওয়ানের সঙ্গেই ছুটেছে মহাশূন্যে। দেখা যাক, রাগী গ্রহেও নিজেদের সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে পারে কিনা দেশ।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।