আবর্জনার পাহাড় থেকে কোটি টাকার ব্যবসা! প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়েই সফল ফ্যাশনেবল ব্যাগের স্টার্টআপ

Plastic Recycling: বর্জ্য প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হচ্ছে আধুনিক ব্যাগ, ফ্যাশনেবল ওয়ালেট কিংবা ঘরের সুন্দর প্ল্যান্টার! প্রথম শুনলে হয়তো একটু খটকা লাগতে পারে—‘ফেলে দেওয়া জঞ্জাল দিয়ে আবার ফ্যাশন?’ কিন্তু এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন কণিকা আহুজা। দিল্লির বর্জ্যের পাহাড়কে তিনি রূপ দিয়েছেন এক অনন্য সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে, যার নাম ‘লিফাফা’ (Lifaffa)।

inscript
৩ মিনিট
আবর্জনার পাহাড় থেকে কোটি টাকার ব্যবসা! প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়েই সফল ফ্যাশনেবল ব্যাগের স্টার্টআপ

কণিকার শৈশবের একটি স্মৃতি আজও তাঁর মনে ভীষণ স্পষ্ট। তখন তিনি ছোট। একদিন একটি ল্যান্ডফিলে (যেখানে শহরের সমস্ত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়) গিয়ে তিনি এক বিশাল স্তূপ দেখতে পান। শিশু মনে ভেবেছিলেন, ওটা বুঝি ছোট্ট কোনো পাহাড়! সেখানে আশেপাশের আরও অনেক শিশুদের খেলাধুলো করতে দেখে তিনিও চড়তে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের লোকেরা তাঁকে বারণ করেন। বলা হয়, ওখানে গেলে বড় কোনো অসুখ করবে। সেই থেকে বর্জ্যের ভয়াবহতা তাঁর মনে দাগ কেটে যায়।

কণিকা এমন এক পরিবারে বড় হয়েছেন, যেখানে কেনাকাটা বা ব্যবহারের ক্ষেত্রে অপচয় রোধে ভীষণ কড়াকড়ি ছিল। পরিবারের এই পরিবেশই তাঁর মনে ‘পুনর্ব্যবহারযোগ্য অর্থনীতি’ বা ‘সার্কুলার ইকোনমি’-র বীজ বুনে দেয়।

১৯৯৮ সালে কণিকার বাবা-মা, অনিতা ও শলভ আহুজা 'কনজারভ ইন্ডিয়া' (Conserve India) নামে একটি এনজিও গড়ে তোলেন। উদ্দেশ্য ছিল শক্তির সঠিক ব্যবহার এবং দিল্লির প্লাস্টিক সমস্যার সমাধান করা। তাঁরা বহু চেষ্টার পর ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক থেকে এক বিশেষ প্রযুক্তিতে মজবুত কাপড় তৈরির পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।

তবে কণিকার বাবা একেবারেই চাননি যে মেয়ে এই কঠিন কাজ করুক। তাই বাবার কথামতো কণিকা মণিপাল থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েন এবং দিল্লির বিখ্যাত এসআরসিসি (SRCC) থেকে এমবিএ শেষ করেন। এরপর ২০১৫ সালে কাজ শুরু করেন একটি মার্কেট রিসার্চ ফার্মে। কিন্তু বাঁধাধরা করপোরেট জীবন তাঁকে খুব বেশি দিন আটকে রাখতে পারেনি। সমাজের জন্য কিছু করার তাগিদ থেকে ২০১৬ সালে তিনি নিজের চাকরি ছেড়ে বাবা-মায়ের এনজিওতেই যোগ দেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
আবর্জনা থেকেই লাখ টাকার ফার্নিচার বানান অনুরাগ ভাণ্ডারী!

Anurag Bhandari: আমাদের চারপাশে আজ পরিবেশ সচেতনতা বা ‘সাসটেইনেবিলিটি’ নিয়ে কত বড় বড় কথা হয়। কিন্তু অনুরাগ সেটাকে স্রেফ মুখের কথায় আটকে না রেখে বাস্তবে করে দেখিয়েছেন। ভারতের ফার্নিচার ইন্ডাস্ট্রি থেকে প্রতি বছর লাখ লাখ টন বর্জ্য তৈরি হয়, যার বেশিরভাগটাই জমা হয় আবর্জনার স্তূপে। অনুরাগ এই অপচয় কমানোর লড়াইয়ে নেমেছেন।

‘লিফাফা’-র জন্ম

এনজিও-তে যোগ দেওয়ার পর কণিকা অনুধাবন করলেন, তাঁদের কাজটি কেমন যেন শুধুই একটি ‘এক্সপোর্ট হাউস’-এর রূপ নিচ্ছে। আসল সামাজিক পরিবর্তন আনাই ছিল মূল উদ্দেশ্য, যা কোথাও একটা হারিয়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই কাজ কিছুদিন বন্ধ রেখে সবটা নতুন করে ভাবার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ভাবনা থেকেই ২০১৭ সালে জন্ম নেয় একটি নতুন ব্র্যান্ড—‘লিফাফা’।

উদ্দেশ্য ছিল খুব স্পষ্ট—একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক (যেমন চিপসের প্যাকেট, পলিমার ব্যাগ), যা কেউ কুড়াতেও চায় না, সেগুলিকে আবার ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা। সেই প্লাস্টিক প্রসেস করে তৈরি হতে শুরু করল নানারকম ব্যাগ, ওয়ালেট, ল্যাপটপ কভার, টেবিল ম্যাট ইত্যাদি। এই উদ্যোগ এতটাই নজর কাড়ে যে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘অশোকা’ (Ashoka) থেকে শুরুর দিকেই বড় অর্থসাহায্য পায় লিফাফা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাড়িতে নেই কোনো ডাস্টবিন: যেভাবে পাঁচ বছর ধরে বর্জ্যহীন জীবন কাটাচ্ছেন সোনিকা

গত পাঁচ বছর ধরে তাঁর বাড়িতে কোনো ডাস্টবিন বা আবর্জনার বালতি নেই! শুনলে অবাক লাগাই স্বাভাবিক, কিন্তু এই ব্যস্ত শহরের বুকেই এক ফোঁটা আবর্জনা না জমিয়ে সম্পূর্ণ ‘জিরো-ওয়েস্ট’ বা বর্জ্যহীন জীবন কাটানো যে সম্ভব, তা হাতেনাতে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন এই মিডিয়া কর্মী।

একই বছর (২০১৭ সালে) ল্যাকমে ফ্যাশন উইক-এ নিজেদের তৈরি পণ্য তুলে ধরার সুযোগ পায় লিফাফা। এই প্ল্যাটফর্মটি ব্র্যান্ডটির সাফল্যকে এক লাফে অনেক দূর এগিয়ে দেয়।

প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে রোজগার

লিফাফা শুধু পরিবেশ বাঁচাচ্ছেন না, বাঁচাচ্ছেন শত শত মানুষের সংসারও। বর্তমানে এই ব্র্যান্ডটি প্রতিদিনের জঞ্জাল কুড়ান কর্মী, আফগান শরণার্থী নারী এবং স্থানীয় কারিগরদের প্রশিক্ষণ দিয়ে কাজ দিচ্ছে। এখন প্রায় ২০০ জন বর্জ্য সংগ্রাহক ও ৩০০ জন কারিগর এই উদ্যোগে যুক্ত। এর মধ্যে বড় অংশই নারী। তাঁরা প্রতি মাসে প্রায় ৮,০০০ টাকা উপার্জন করছেন, যা তাঁদের সংসারে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করছে। এখন আর শুধু প্লাস্টিক নয়, ফেলে দেওয়া পুরনো টায়ার দিয়ে চমৎকার সব প্ল্যান্টার বা গয়না এবং প্রথাগত হস্তশিল্পের ছোঁয়া দিয়ে নতুন নতুন ফ্যাশন সামগ্রী তৈরি হচ্ছে।

প্রতি বছর লিফাফা প্রায় ১২ টন (১২,০০০ কেজি) ফেলে দেওয়া প্লাস্টিককে নতুন জীবন দিচ্ছে। যে প্লাস্টিক ল্যান্ডফিলে জমা হয়ে মাটি ও বাতাস বিষাক্ত করত, তা এখন রূপ নিচ্ছে গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় সামগ্রীতে। গত অর্থবর্ষে ব্র্যান্ডটি ১ কোটি টাকার বেশি ব্যবসা করেছে এবং দিন দিন এর চাহিদা বেড়েই চলেছে।

যে কোনো বড় কাজের পথই সহজ হয় না। কণিকার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মানুষের চিন্তা ভাবনা বদলানো। অনেকেই প্রশ্ন তুলতেন—‘আবর্জনা দিয়ে তৈরি জিনিসের এত দাম দেব কেন?’ কোভিডের সময় ব্যবসা ও উৎপাদনে বড় ধাক্কা আসে। ছোট স্কেলে কাজ করার জন্য বড় বড় আন্তর্জাতিক পরিবেশবান্ধব সার্টিফিকেট নেওয়া বেশ ব্যয়বহুল ছিল। কিন্তু কণিকা দমে যাননি। সোশ্যাল মিডিয়াকে কাজে লাগিয়ে গ্রাহকদের সরাসরি বোঝানোর পথ বেছে নেন। চামড়ার বদলে পরিবেশবান্ধব ও ভিগান (Vegan) বিকল্প হিসেবে লিফাফা খুব দ্রুত ক্রেতাদের মন জয় করে নেয়।

আজ কণিকা আহুজা শুধু লিফাফাতেই থেমে নেই। তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘প্লাস্টিস্কুল’ (Plastiskul)-এর সভাপতির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এবং বিশ্বমঞ্চে (যেমন TEDx)-এ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলছেন। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, ফ্যাশন মানেই শুধু সেটা তৈরি করতে নতুন করে বর্জ্য উৎপাদন করা নয়। আমাদের চারিপাধে উপস্থিত বর্জ্য থেকেও ফ্যাশন সম্ভব; সঠিক চিন্তাভাবনা থাকলে ফ্যাশন হতে পারে পরিবেশ রক্ষার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জলবায়ু বদলেছে, নদীর প্রবাহ বদলেছে: ৩০ বছরের পুরনো ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তিতে কোন কোন পরিবর্তন দরকার?

A Flawed Pact of Farakka: ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জলবণ্টন চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ। বাংলাদেশের নদী বিশেষজ্ঞ মনজুর এ চৌধুরীর মতে, চুক্তিটি 'ত্রুটিপূর্ণ', এতে নেই গ্যারান্টি ক্লজ, নেই পরিবেশগত প্রবাহের হিসাব, নেই জলবায়ু পরিবর্তনের বিধান। তাঁর প্রস্তাব, তিন বছরের নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি হোক, তারপর নেপালকে যুক্ত করে তৈরি করা হোক ত্রিপাক্ষিক কাঠামো।

থালায় খাবার, নাকি বিষ? খাদ্যব্যবস্থার ভিতরে যেভাবে ঢুকছে কীটনাশক ও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণ

Poison on the Plate: বায়ার-মনসান্টো ও সিনজেনটার মতো 'বিগ সিক্স' কর্পোরেটের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে বিশ্বের বীজ বাজার। ২০২৩ সালে ভারতে ১০,৭৮৬ জন খাদ্য উৎপাদক কৃষক ও কৃষিশ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। ২৮ শতাংশ খাদ্য নমুনায় কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পাওয়া যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত গ্লাইফোসেটকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ক্ষতিকারক ‘সম্ভাব্য কার্সিনোজেন’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও এর ব্যবহার থামেনি। অন্যদিকে, প্রচারের অন্তরালে সিকিম আমাদের দেশের প্রথম শতভাগ জৈব কৃষির রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বজুড়ে কৃষিবিদ বন্দনা শিবার ‘পয়জন-ফ্রি ফুড অ্যান্ড ফার্মিং ২০৩০’ অভিযানের ডাক আমাদের খাবারের থালাকে বিষমুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তেলের বদলে বিদ্যুৎ! আরব সাগরের তলায় ভারত-সৌদির ৯ বিলিয়ন ডলারের মহাপ্রকল্প

India Saudi Arabia submarine power link: আরব সাগরের তলদেশ দিয়ে ভারত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রস্তাবিত ২১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সাবমেরিন বিদ্যুৎ সংযোগের একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হচ্ছে, যার ক্ষমতা থাকবে ৩ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের। প্রযুক্তি হিসাবে ব্যবহৃত হবে HVDC, এর ফলে প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ বিলিয়ন ডলার। আজ, ৫ অক্টোবর, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আলোচনা হবে প্রকল্পটির ব্যয় কমানো, অর্থায়ন মডেল ও ঝুঁকি ভাগাভাগি নিয়ে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতের ওয়ান সান ওয়ান ওয়ার্ল্ড ওয়ান গ্রিড প্রকল্প ও জি-২০ তে প্রস্তাবিত ইন্ডিয়া-মিডল ইস্ট-ইউরোপ ইকোনমিক করিডোরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এই প্রকল্পটিকে চিনের বেল্ট এন্ড রোড ইনিশিয়েটিভের বিকল্প হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কয়লার দেশ হয়েও কেন বিদ্যুৎ সংকটে ভারত?

India's energy crisis 2026: হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হওয়ায়, ভারতের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আমদানি ধাক্কা খেয়েছে। বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর এক সময় জ্বালানিক্ষেত্রে ‘ঘাটতি নেই’ বললেও সেপ্টেম্বরে স্বীকার করলেন, জ্বালানির পরিস্থিতি বর্তমানে ‘টানটান’। ৭৬টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র সংকটজনক ভাবে মজুত করা কয়লায় চলছে। চলছে এলপিজির কালোবাজারি। ডিসকমগুলির বকেয়া জমে রয়েছে প্রায়, ৩,৩৩০ কোটি টাকা।

প্রকৃতির কোলে পিকনিক, শেষে প্লাস্টিকের পাহাড়: মানুষ কি সত্যিই প্রকৃতিকে ভালোবাসে?

Environmental Pollution: প্রশাসনের তরফে অতিরিক্ত দূষণ ছড়ানো কলকারখানা সিল করে দেওয়ার মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ হয়তো নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতেই কি সমস্যার সমাধান মিলবে? কারণ জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যক্তিগত যানবাহনের দাপট এবং বৈদ্যুতিন বর্জ্য। শ্রমবিমুখ হয়ে সবকিছু প্রস্তুত পাওয়ার মানসিকতা এবং দেশে সংস্কারের লড়াই না করে সহজে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার প্রবণতাও স্পষ্ট। এই দায় এড়িয়ে কি সার্বিক সমাধান সম্ভব?

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

সিভিল সার্ভিস ছেড়ে বাঘের টানে রণথম্ভোরে, ৩৫ একর জমিতে তৈরি করলেন বন

Ranthambore tiger conservation: তাঁরা কেবল চেয়েছিলেন সংরক্ষিত বনের বাইরে বাঘেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলতে। তারপর কুড়ি বছর পর্যটন লজ থেকে যেটুকু আয় হতো, তার প্রায় সবটাই তাঁরা সঞ্চয় করতেন ভাদলাভে কৃষকদের কাছ থেকে এক এক করে জমি কেনার জন্য। প্রায় দুই দশক ধরে একটু একটু করে ৩৫ একরেরও বেশি জমি তাঁরা কিনে নেন, যার মোট খরচ ছিল সে সময়ের হিসাবে এক কোটি টাকারও বেশি।

জলবায়ু বদল শুধু প্রকৃতির বিপদ নয়, ভারতের অর্থনীতির ভিতও নড়বড়ে করে দিচ্ছে

climate change and economy: ১৯৯০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ২১টি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতি খতিয়ে দেখে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক চমকে দেওয়ার মতো তথ্য। দেখা যাচ্ছে, বার্ষিক গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসও বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে সামগ্রিক উৎপাদন দক্ষতা কমে যায় প্রায় ৩.২২ শতাংশ।