কেন গ্রেফতার করা হলো সোনাম ওয়াংচুকে?
Sonam Wangchuk: অভিযোগ, সোনমের সংগঠনটি হিংসাত্মক বিক্ষোভ উস্কে দেওয়ার মতো কার্যকলাপে জড়িত। এরপরই লাদাখ পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

লাদাখের বিখ্যাত পরিবেশবাদী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে গ্রেফতার করল লাদাখ পুলিশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (এমএইচএ) তাঁর সংগঠন 'স্টুডেন্টস এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল মুভমেন্ট অফ লাদাখ' (সেকমল)-এর বিদেশি অর্থ সংগ্রহের লাইসেন্স (এফসিআরএ) বাতিল করে। অভিযোগ, সোনমের সংগঠনটি হিংসাত্মক বিক্ষোভ উস্কে দেওয়ার মতো কার্যকলাপে জড়িত। এরপরই লাদাখ পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
সোনম ওয়াংচুক লাদাখের পরিবেশ ও শিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তাঁর নেতৃত্বে গত মাসে শুরু হয়েছিল 'দিল্লি চলো পদযাত্রা'। লাদাখকে ষষ্ঠ তফশিলের আওতায় আনা, রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া, পরিবেশ সুরক্ষা এবং স্থানীয় অধিকারের দাবিতে এই যাত্রা লেহ থেকে দিল্লি পর্যন্ত। হাজারো সমর্থক যোগ দিয়েছিলেন এতে। কিন্তু দিল্লির সীমানায় পৌঁছতেই পুলিশ তাঁদের আটক করে। সোনম-সহ প্রায় ১৫০ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তারা অনশন শুরু করেন।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দাবি, সোনমদের কার্যকলাপ 'হিংসাত্মক প্রতিবাদ' উসকে দেওয়ার মতো। এফসিআরএ আইনের ধারা লঙ্ঘন করে বিদেশি অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। মন্ত্রকের একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সোনমদের সংগঠনটি 'রাজনৈতিক কার্যকলাপে' জড়িত, যা এফসিআরএ-র নিয়মবিরুদ্ধ। লাইসেন্স বাতিলের একদিন পরেই লাদাখ পুলিশ সোনমকে গ্রেপ্তার করে। তবে আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, পদযাত্রা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল। তারা হিংসায় জড়াননি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Ladakh Unrest 2025: এ কথা পরিষ্কার, লে-লাদাখের বাসিন্দারা কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে বীতশ্রদ্ধ হয়েই আইন ভাঙছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক মিডিয়ায় সোনাম ওয়াংচুককে সন্ত্রাসবাদী বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সোনম ওয়াংচুক নিজে একটি ভিডিয়ো বার্তায় বলেছেন, "আমাদের আন্দোলন পরিবেশ এবং স্থানীয় অধিকারের জন্য। কেন্দ্র আমাদের দাবি শুনতে চায় না বলেই এমন অভিযোগ তুলছে।" তাঁর সমর্থকরা বলছেন, এফসিআরএ বাতিল একটি 'প্রতিহিংসামূলক' পদক্ষেপ। লাদাখের রাজনৈতিক নেতারা যেমন অপেক্স বডি লেহ এবং খেদা ডিসট্রিক্ট হিল কাউন্সিলের সদস্যরা এই গ্রেফতারের নিন্দা করেছেন। তারা বলছেন, এটি লাদাখের জনগণের কণ্ঠরোধের চেষ্টা।
২০১৯ সালে জম্মু-কাশ্মীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই দাবিদাওয়া জানাচ্ছে লাদাখ। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে লাদাখকে ষষ্ঠ তফশিলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা পূরণ হয়নি। ফলে বেকারত্ব, পরিবেশগত সমস্যা যেমন হিমবাহ গলন, জলসংকট ইত্যাদি বেড়েছে। সোনমের আন্দোলন এসব সমস্যাকে তুলে ধরেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এফসিআরএ বাতিলের মতো পদক্ষেপ সরকারের সমালোচকদের জন্যেই। গত কয়েক বছরে অনেক এনজিও-র লাইসেন্স বাতিল হয়েছে, যেমন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, অক্সফাম প্রভৃতি। এটি গণতন্ত্রের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে, মনে করছেন অনেকেই।
সোনমের গ্রেফতারের পর লাদাখে প্রতিবাদ বেড়েছে। দিল্লিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সমর্থন জানিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী টুইট করে বলেছেন, "সোনম ওয়াংচুকের মতো নিরীহ আন্দোলনকারীকে হয়রানি করা অন্যায়।"
নিশ্চিতভাবে এই ঘটনা লাদাখের ভবিষ্যতকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাবে।





