রামমন্দির উদ্বোধনে আদবানী যোশীই ব্রাত্য?
Ram Mandir inauguration: প্রাক্তন বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানী এবং মুরলী মনোহর যোশীকে রামমন্দি উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে আসতে বারণ করেছে মন্দির ট্রাস্ট। খবর, শারীরিক অসুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানুয়ারির ২২ তারিখ রামমন্দিরের উদ্বোধন অযোধ্যায়। অনুষ্ঠানের নেতৃত্বে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। থাকবেন সঙ্ঘের তরফে মোহন ভাগবত, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, রাজ্যপাল এবং মন্দিরের ট্রাস্টিরা। কিন্তু সূত্রের খবর, ওইদিন প্রাক্তন বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানী এবং মুরলী মনোহর যোশীকে অনুষ্ঠানে আসতে বারণ করেছে মন্দির ট্রাস্ট। শারীরিক অসুবিধার কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি একটি সাংবাদিক সম্মেলনে রামমন্দির ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রাই জানান, দুজনেরই বয়স হয়েছে। তাই স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দিকটি মাথায় রেখেই তাদের আসতে বারণ করা হয়েছে। লালকৃষ্ণ আদবানীর থাকাটা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তাঁর ৯৬ বছর বয়সের কথা ভেবেই তাঁরা অনুরোধ করছেন আদবানী যেন না আসেন। মুরলী মনোহর যোশীর সঙ্গে সরাসরি কথা হয়েছে বলে জানান চম্পত। যোশী আসার জন্য পীড়াপীড়ি করছিলেন। কিন্তু বৃদ্ধ হয়েছেন। সামনের বছর ৯০ হবে তাঁরও। স্বাস্থ্য আগের মতো নেই। হাঁটু প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এই কারণ গুলি মাথায় এই সিদ্ধান্ত বলে জানাচ্ছেন চম্পত। তাঁর বক্তব্য এভাবেই অগ্রজদের বোঝানো দরকার। কল্যাণ সিং-এর অনুরূপ একটি ঘটনারও উল্লেখ করেন তিনি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Ram Mandir: কট্টর হিন্দুত্বের পালটা দাওয়াই সফট হিন্দুত্ব—কী বলছেন বামেরা? এর নামই আচ্ছে দিন? উন্নয়ন মানে কি স্রেফ মন্দির? উৎকর্ষ মানে কি শুধু ভক্তি আর সমর্পণ? এই নিয়েই বাংলা যা ভাবছে অনুষ্ঠানে কথা বলেছিলেন বিশিষ্টজনেরা।
তিনি আরও বলেন, ১৫ তারিখের মধ্যে উদ্বোধনের প্রস্তুতি সেরে ফেলা হবে। ১৬ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি চলবে মন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠার পুজো। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়াকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য তিনজনের একটি দল প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই আমন্ত্রন জানানো হয়েছে ছয়টি দর্শন শাখার শঙ্করাচার্য, ১৫০ সাধুসন্ত এবং প্রায় ৬০০০-এর উপর অতিথিকে। আমন্ত্রন জানানো হয়েছে দালাই লামা, কেরলের মাতা আনন্দময়ী, বাবা রামদেব, সিনে তারকা রজনীকান্ত, অমিতাভ বচ্চন, পরিচালক মধুর ভাণ্ডারকরও। থাকছেন অনিল আম্বানি, মুকেশ আম্বানির মতো শিল্পপতিরা। অথচ এই তালিকা থেকে আগেভাগেই বাদ দেওয়া হল এমন দুইজনকে যাদের হাতে রামমন্দিরের ভিত্তিভূমি নির্মিত হয়েছিল।
আটের দশকের দ্বিতীয়ার্ধে, যখন 'রামায়ণ' চলছে ঘরে ঘরে, যখন রাজীব গান্ধীর সম্মতি নিয়েই রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হচ্ছে, তখন মোদী বা শাহ কোথায়! তখন বিজেপির চেনা মুখ লালকৃষ্ণ আদবানী ও মুরলী মোহন যোশী। ১৯৮৯ সালের ৯ নভেম্বর, রাজীব গান্ধীর অনুমতি নিয়ে মন্দিরের শিলান্যাস হল। পরের বছর লালকৃষ্ণ আদবানী রথযাত্রা করলেন। উদ্দেশ্য হিন্দুত্ববাদী আবেগে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা। গুজরাটের সোমনাথ মন্দির থেকে রামরথ নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে অযোধ্যার পথে যাবেন বলে স্থির করেছিলেন আদবানী। কিন্তু তার আগেই বিহারের সমস্তিপুরে তাঁকে গ্রেফতার করা হল। নেপথ্যে ছিলেন লালুপ্রসাদ যাদব। তবে এই কর্মকাণ্ড তাঁকে হিন্দুত্ববাদীদের কাছে জনপ্রিয়তম নেতা করে তোলে। বাবরি মসজিদ ভাঙা থেকে শুরু করে জোরদার রামমন্দিরের হাওয়া তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন আদবানী। তখন মোদীকে মাঝেমধ্যে দেখা যেত তাঁর আশেপাশে। সে সময় বিজেপির সর্বভারতীয় সচিব ছিলেন মুরলী মনোহর যোশী। ১৯৯২ সালে রামমন্দিরের দাবিতে কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী 'একতা যাত্রা' করেন তিনি। রামমন্দিরের দাবিতে অযোধ্যা আন্দোলন গড়ে তোলায় তাঁর অন্যতম ভূমিকা ছিল। অথচ আজ বয়েসের অজুহাত দেখিয়ে দূরে রাখা হচ্ছে তাঁদের দুজনকেই? এই বয়ান কি সত্যি? নাকি নেপথ্যে কোনও ভয় কাজ করছে? এখনও আদবানী বা যোশী অনুষ্ঠানে এলে মোদী বা অমিত শাহ ম্লান হয়ে যেতে পারে বলেই কি ধারণা বিজেপির? রামমন্দিরের ধারণা হিন্দুত্ববাদীদের মনে পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছে যাদের সৌজন্যে তাঁরাই ব্রাত্য রয়ে গেলেন? আসা না আসার সিদ্ধান্তটা তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের উপর ছেড়ে দিলেই ভালো হত না? আগেভাগে না বলে দেওয়াটা বড় বেশি অশ্লীল হয়ে গেল না?







