মালদা অশান্তির ঘটনায় বিজেপির ষড়যন্ত্র, শান্তি বজায় রাখুন: মমতা
Mamata Banerjee statement: মালদায় অশান্তির পিছনে কি সত্যিই বিজেপির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে? কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন বাতিল ও রাষ্ট্রপতি শাসনের আশঙ্কা করছেন? কেন্দ্রীয় এজেন্সির ভূমিকা কী? ভোটার তালিকা বিতর্কে উত্তেজনা কেন বাড়ছে? এই পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখা কতটা জরুরি?
মালদায় যে ঘটনা ঘটেছে তা পুরো বাংলাকে বদনাম করার জন্য বিজেপির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র, এমনটাই বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, “আমাকে কেউ এই ঘটনার কথা জানায়নি। কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি।” রায়গঞ্জ সভায় তিনি বলেন, "ওরা ভাবে কি আমরা খবর রাখি না। কোথায় কোথায় টাকা ব্রিফকেসে করে কোন কেন্দ্রীয় এজেন্সি নিয়ে যাচ্ছে, কার ঘরে ঢুকছে, সব রেখে দিয়েছি যত্ন করে। সময় এলেই দিয়ে দেব। এত তাড়াতাড়ি দিতে নেই, পয়লা বৈশাখ যাক। কিছু তো সঞ্চয় করে রাখতে হয়।"
মমতা ব্যানার্জি বলেন, “মালদার ঘটনা নিয়ে আমি খুব খারাপ অনুভব করছি। কিন্তু এটা বিজেপির গেম প্ল্যান। তারা চায় নির্বাচন বাতিল করতে, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে।” তিনি অভিযোগ করেন যে নির্বাচন কমিশন এখন ‘সুপার রাষ্ট্রপতি শাসন’ চালাচ্ছে। সব আধিকারিক বদলে দেওয়া হয়েছে, তাঁর হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মমতা বন্দ্যোরাধ্যায় ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে জনতা বিচারক-আধিকারিকদের ঘেরাও করে রাখা, জাতীয় সড়ক অবরোধ করে এবং পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনাকে সরাসরি তাঁর সরকারের ব্যর্থতা বলে মানতে নারাজ। তিনি এটাকে বিজেপি-কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশে সৃষ্ট বলে দাবি করেন। তিনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে আবেদন জানান — “শান্ত থাকুন, ধৈর্য ধরুন। বিজেপির কথায় কান দেবেন না। তারা আপনাদের বোকা বানাচ্ছে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বিচারকদের কখনও স্পর্শ করবেন না।”
মমতা আরও বলেন, "বাইরের লোক দিয়ে টাকা, গুন্ডা আমদানি করছো। বাংলার বদনাম করছো। তোমরা বদলা নিতে গিয়ে, পিছন থেকে খেলা করছ। লজ্জা করে না বিজেপি, আমি হলে তো গলায় দড়ি মরতাম।"
মমতা ব্যানার্জি অশান্তি বা প্রতিবাদকে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, বাংলায় আইনশৃঙ্খলা ভালো আছে, কিন্তু বিজেপি ও কেন্দ্রীয় এজেন্সি টাকা দিয়ে, উস্কানি দিয়ে অশান্তি তৈরি করছে। মালদার ঘটনাকে তিনি “পুরো রাজ্যকে বদনাম করার চেষ্টা” বলে অভিহিত করেন। তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা শান্তি চাই। কিন্তু যদি ষড়যন্ত্র করা হয়, তাহলে জনতা তার জবাব দেবে।”
রায়গঞ্জ সভায় তিনি আরও আক্রমণাত্মক সুরে বলেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো কার ঘরে ঢুকছে, কার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছে — সব তথ্য তাঁর কাছে আছে। মমতার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে তিনি মালদা-সহ যেকোনো অশান্তিকে বিজেপির নির্বাচনী কৌশল হিসেবে চিহ্নিত করছেন। জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে নিজের “মা-মাটি-মানুষ” ইমেজ বজায় রাখার চেষ্টা করছেন, একই সঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটকে সংহত করার বার্তা দিচ্ছেন।





