এ এক অন্য মণিপুর! বিরল স্যালাম্যান্ডারের রহস্য'ভেদ করলেন বিজ্ঞানীরা...
Manipur Salamander Puzzle: সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,২১৫ মিটার উপরে অবস্থিত এক পাহাড়ি হ্রদ এই জাইমেং।

রক্তপাত এবং হতাশার মধ্যেই মণিপুরকে এক পেয়ালা উচ্ছ্বাস উপহার দিয়েছে বিজ্ঞান! গত মে মাস থেকেই জাতিদাঙ্গায় বিধ্বস্ত ভারতের এই ছোট্ট রাজ্য হয়ে উঠেছে বিশ্ব রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে যাবতীয় নেতিবাচকতার ভিড়েই বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন এক রহস্যময় উভচরের সন্ধান। দীর্ঘদিন ধরে এই উভচর প্রাণীটির অনুসন্ধান চললেও বিভ্রান্ত হচ্ছিলেন হারপেটোলজিস্টরা। শেষে বিজ্ঞানীদের একটি দল ২০২২ সালে খংথেং পর্বতমালায় ট্রেক করে টাইলোটোট্রিটন ভেরুকোসাসের রহস্য উদঘাটন করলেন।
বিজ্ঞানীরা কাংপোকপি জেলার কউব্রু ফরেস্ট ডিভিশনের জাইমেং হ্রদে টাইলোটোট্রিটন জাইমেং নামে এক নতুন প্রজাতির স্যালাম্যান্ডার খুঁজে পেয়েছেন তারা। উল্লেখ্য, গত ৩ মে থেকে চলা জাতিহিংসায় মণিপুরের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া স্থানগুলির একটি হচ্ছে কাংপোকপি জেলা।
লিয়াংমাই নাগা উপভাষায় এই টাইলোটোট্রিটন জাইমেং-এর জাইমেং শব্দটির মানে হচ্ছে 'ধাঁধা' বা 'রহস্য'। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২,২১৫ মিটার উপরে অবস্থিত এক পাহাড়ি হ্রদ এই জাইমেং। হ্রদের নামেই নতুন প্রজাতিটির নামকরণ হয়েছে। জাইমেংকে তাই 'রহস্যময় হ্রদ' নামেই ডাকা হয়। অস্ট্রিয়ান হারপেটোলজিকাল সোসাইটি প্রকাশিত ওজিএইচ হারপেটোজোয়ার সর্বশেষ সংস্করণে এই নতুন স্যালাম্যান্ডার বিষয়ক গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Manipur Hindi Movie Uri: শেষ ১৯৯৮ সালে "কুছ কুছ হোতা হ্যায়" দেখানো হয়েছিল মণিপুরে।
গবেষকরা হলেন, এইচটি ডেসেমসন, মার লামতে লালরেমসাঙ্গা, প্রেমজিৎ সিং এলংবাম, মাথিপি ভাবেইরিউরিলাই, পরাগ শিন্ডে, জয়াদিত্য পুরকায়স্থ, দিমিত্রি ভি. আরখিপভ, আন্দ্রে এম. ব্রাগিন এবং নিকোলে এ. পোয়ারকভ।

মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্টাল বায়োলজি অ্যান্ড হারপেটোলজি ল্যাবরেটরির অধ্যাপক লালরেমসাঙ্গা দ্য হিন্দুকে জানিয়েছিলেন, এই প্রাজাতির স্যালাম্যান্ডার খুঁজে পাওয়া গবেষকদের কাছে একটি বড় প্রাপ্তি। লালরেমসাঙ্গা আর পোয়ারকভ সঙ্গে এই গবেষণার মূল চিন্তক। নিকোলে এ. পোয়ারকভলোমোনোসভ মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং হ্যানয়ের যৌথ রাশিয়ান-ভিয়েতনামি ট্রপিক্যাল রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Human Chin Evolution: কেন একমাত্র মানুষেরই চিবুক আছে তা ব্যাখ্যা করার জন্য আমাদের মুখগুলি কেন ছোট হয়ে গেল তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ
টাইলোটোট্রিটন জাইমেংকে এর আগে একটি প্রজাতির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়েছিল। জাইমেংয়ের নিকটাত্মীয় টি. হিমালয়ানাস এবং টি. ভেরুকোসাসের সঙ্গে মিল থাকায় সমগোত্রীয়ই ভাবা হয়েছিল এদের। ফাইলোজেনেটিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নতুন স্যালাম্যান্ডারটি উত্তর মায়ানমার এবং দক্ষিণ চিনে পাওয়া। টি. প্যানওয়েনসিস এবং টি. হোয়ুইয়ের সমগোত্রীয় প্রজাতি এটি।
টি. জাইমেং মাঝারি আকারের স্যালাম্যান্ডার। এটির মাথাটি বিশাল এবং চওড়া, নাকের কাছটি গোলাকার। প্রাণীটির অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ছোট। প্রশস্ত এবং অবিভক্ত কশেরুকা পিঠ বরাবর টানটান। ১৩-১৪ জোড়া পাঁজর রয়েছে। এইখানেই অন্যান্য স্যালাম্যান্ডারের থেকে এটি স্পষ্টতই পৃথক। টি. জাইমেংয়ের রং বাদামী। মাথা, কশেরুকার অংশ, পাঁজরের বাহ্যিক অংশ, তালু, তলভাগ এবং লেজের অংশে হালকা কমলা থেকে হলুদ-বাদামী চিহ্ন রয়েছে। বাঁকা ঘণ্টা-আকৃতির দাঁতের সারি এই রহস্যময় প্রাণীটিকে আরও আলাদা করে তুলেছে।
গবেষকরা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচারের (IUCN) লাল তালিকায় নতুন স্যালাম্যান্ডার প্রজাতির অন্তর্ভুক্তি চাইছেন। চাইছেন এই স্যালাম্যান্ডারের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ হোক।






