আর কোনও প্রাণীর দেহেই নেই! জানেন, কেন কেবল মানুষেরই চিবুক আছে?

Human Chin Evolution: কেন একমাত্র মানুষেরই চিবুক আছে তা ব্যাখ্যা করার জন্য আমাদের মুখগুলি কেন ছোট হয়ে গেল তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ

inscript
৩ মিনিট
আর কোনও প্রাণীর দেহেই নেই! জানেন, কেন কেবল মানুষেরই চিবুক আছে?

মানুষের দেহ জটিল এক তন্ত্র। শুধু ভেতরের নানা অঙ্গ, নাড়িভুঁড়ি, শিরা ধমনীর জটিল মারপ্যাঁচ নয়, বহিরাঙ্গেও মানুষের দেহ বেশ জটিল, বেশ বিবর্তিত। মানুষের দেহ গবেষণা করে দেখা গিয়েছে বেশ কিছু অঙ্গ মানুষের রয়েছে যা এই পৃথিবীতে আর কোনও প্রাণীরই নেই! যেমন, চিবুক! হ্যাঁ, সারা প্রাণিজগতে একমাত্র মানুষই এমন জীব যার চিবুক আছে। চিবুক অর্থাৎ নীচের চোয়ালের নিচ থেকে বেরিয়ে আসা হাড়ের অংশখানি। প্রাণিজগতে একমাত্র মানুষই এই চিবুকের অধিকারী! কেন? গবেষকরা বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন তত্ত্ব ব্যাখ্যা করেছেন এই বিষয়ে, তাও মানুষের চিবুক আজও রহস্য হয়েই রয়ে গেছে।

চিবুক শুধু মানুষের মুখের নীচের অংশ নয়, এটি চোয়াল থেকে প্রসারিত একটি বিশেষ ছোট্ট হাড়। মানুষ ছাড়া নাকি আর একটিও প্রাণী খুঁজে পাওয়া যায়নি যাদের চিবুক আছে। মানুষ যাদের থেকে এসেছে, সেই পূর্বপ্রাণীরা? নাহ, তাদেরও ভাঁড়ে মা ভবানী! শিম্পাঞ্জি এবং গরিলা আমাদের নিকটতম জেনেটিক আত্মীয় হলেও, চিবুক নেই তাদেরও। সামনে এগিয়ে আসার পরিবর্তে, তাদের নীচের চোয়ালগুলি সামনের দাঁত থেকে নীচে এবং পিছনে ঢালু হয়ে যায়। আরও মজার বিষয় হচ্ছে, নিয়ান্ডারথালদের মতো অন্যান্য প্রাচীন হোমিনিডদেরও চিবুক ছিল না! তাদের মুখগুলি ছিল সমতল।

ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পাম্পুশের মতে, যদি শিম্পাঞ্জিদের থেকে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার পর সেই বৃহৎ পরিবারের সব হোমিনিডের দিকে লক্ষ্য করা যায়, তাহলে আসলেই এত বেশি বৈশিষ্ট্য পাওয়াই যাবে না যেগুলোকে আমরা একচেটিয়াভাবে বলতে পারি মানুষ। এই সমস্ত প্রাণীই সব দুই পায়ে হাঁটত। কেবল একটি জিনিসে এসেই সব ধারণা ঘেঁটে যায়, তা হলো চিবুক।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মানুষের মূত্র ঢুকিয়ে দেওয়া হতো ব্যাঙের দেহে! কীভাবে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করত আগেকার মানুষ?

Pregnancy Test with Frog: চিকিৎসকরা সম্ভাব্য গর্ভবতী মহিলাদের প্রস্রাব একটি সিরিঞ্জে ভরে ব্যাঙের পিঠে থাকা একটি থলিতে ভরে দিতেন।

বিগত শতাব্দী জুড়ে মানুষের চিবুকের বিবর্তন নিয়ে নানা তত্ত্ব সামনে এসেছে। আমাদের খাবার চিবানো থেকে শুরু করে কথা বলতে সাহায্য করতে গিয়ে মানুষের চিবুক কীভাবে বিবর্তিত হয়েছে তা নানাভাবে ব্যাখ্যা করেছেন বিজ্ঞানীরা। তবে এই তত্ত্বগুলির অধিকাংশই আরও গভীরে গিয়ে খতিয়ে দেখার জায়গায় নেই। পাম্পুশের মতো বিজ্ঞানীদের একাংশের কাছে চিবুক বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানের এই বিরল ঘটনাগুলির মধ্যে একটি যা ঘিরে সত্যিই গবেষকদের মধ্যে গভীর দার্শনিক পার্থক্য গড়ে উঠেছে৷

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এ যুগের 'রেভ পার্টি'ও ফেল! জানেন ব্রোঞ্জ যুগে নেশায় কতটা আসক্তি ছিল মানুষের?

Ancient Hallucinogenic Drugs: রঙিন চুলের কয়েকটি গোছা কখনও কখনও কাঠ বা শিং দিয়ে তৈরি ছোট শিশিতে ভরে চুলের মৃত মালিকের মৃতদেহের পাশে রাখা হতো।

চিবুক বিষয়ক সবচেয়ে জনপ্রিয় ধারণাগুলির মধ্যে একটি হচ্ছে, আমাদের পূর্বপুরুষরা খাবার চিবানোর চাপ সহ্য করতে করতে আমাদের নীচের চোয়ালগুলিকে শক্তিশালী করে ফেলে এবং সুগঠিত চিবুক তৈরি হতে থাকে। কিন্তু পাম্পুশের মতে, চোয়ালকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে চিবুকের গঠন হয়নি। আমাদের কথা বলতে সাহায্য করার জন্য জিভ একাই যথেষ্ট শক্তিশালী অঙ্গ। তৃতীয় একটি ধারণা হচ্ছে, চিবুক মানুষকে সঙ্গী নির্বাচন করতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু এই ধরনের যৌনতাকেন্দ্রিক নির্বাচনী বৈশিষ্ট্যগুলি সাধারণত শুধুমাত্র একটি লিঙ্গের মধ্যেই বিকাশ করে।

বস্তুত মানুষের দেহে চিবুকের কোনও আসল উদ্দেশ্য নাও থাকতে পারে। পাম্পুশের মতে, এটিকে 'স্প্যান্ড্রেল' বলা যেতে পারে, অর্থাৎ অন্য একটি বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন থেকে বিবর্তন ঘটতে ঘটতে উপজাত অংশ হিসেবে চিবুক তৈরি হিয়ে গিয়েছে। চিবুকের ক্ষেত্রে, এটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মুখ সঙ্কুচিত হওয়ার ফলাফলও হতে পারে। এককালে মানুষের চোয়াল ছিল দীর্ঘ, সেই থেকে ধীরে ধীরে আমাদের ভঙ্গি পরিবর্তিত হয়েছে এবং আমাদের মুখ ছোট হয়েছে। চিবুক অবশিষ্টাংশ হিসেবে রয়ে গিয়েছে।

চিবুকের উপস্থিতি সম্ভবত প্লেস্টোসিন যুগের সময় মানুষের মুখের আকার হ্রাসের নিদর্শনগুলির সঙ্গে সম্পর্কিত। কেন একমাত্র মানুষেরই চিবুক আছে তা ব্যাখ্যা করার জন্য আমাদের মুখগুলি কেন ছোট হয়ে গেল তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ, বলছেন আইওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে মুখের বিবর্তন বিষয়ে অধ্যয়নরত গবেষক নাথান হোল্টন।

স্প্যান্ড্রেল হাইপোথিসিসটি বেশ গ্রহণযোগ্য হলেও এরও কিছু সমস্যা রয়েছে। মানুষের কোন অংশ বিবর্তনের ফলে সৃষ্ট উপজাত অঙ্গ তা পরীক্ষা করার মতো প্রমাণ খুঁজে পাওয়া কঠিন, বিশেষ করে যদি সেই অঙ্গের সুস্পষ্ট কার্যকারিতা না থাকে। কিন্তু গবেষকরা যদি একদিন খুঁজে বের করতে পারেন যে চিবুক আসলে কোথা থেকে এসেছে, তবে তা আমাদের আদি এবং নিয়ান্ডারথাল আত্মীয়দের থেকে আলাদা হয়ে ওঠার রহস্যভেদে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?