গোপন দল গড়ে পরিকল্পনা শুরু নেতানিয়াহুর! গাজায় কি তবে শেষের শুরু?
Benjamin Netanyahu on Gaza War : নেতানিয়াহুর দাবি, গত বেশ কিছুদিনে, বহু হামাস সন্ত্রাসবাদী ইজরায়েলের সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।

যুদ্ধ না জেতা অবধি যুদ্ধ চলবে। আগেভাগেই বলেছিলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। যুদ্ধের ২ মাস অতিক্রান্ত! রবিবার নেতানিয়াহু বলছেন, ফিলিস্তিনি জঙ্গিগোষ্ঠীর সমাপ্তি ঘনিয়ে এসেছে। হামাসের জঙ্গিদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, "যুদ্ধ এখনও চলছে কিন্তু এটিই হামাসের শেষের শুরু। আমি হামাসের সন্ত্রাসবাদীদের বলছি: সব শেষ। ইয়াহিয়া সিনওয়ার জন্য মরবেন না। এখনই আত্মসমর্পণ করুন।" গাজা উপত্যকায় হামাসের প্রধান নেতৃত্ব হচ্ছেন ইয়াহিয়া সিনওয়ার।
নেতানিয়াহুর দাবি, গত বেশ কিছুদিনে, বহু হামাস সন্ত্রাসবাদী ইজরায়েলের সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। তবে ইজরায়েলের সামরিক বাহিনী হামাস জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের কোনও প্রমাণ বা তথ্য প্রকাশও করেনি এবং হামাসও প্রধানমন্ত্রীর এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রায় মাস খানেক আগে, ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট বলেছিলেন, হামাস গাজার উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে।

হামাস গত ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে মারাত্মক এক হামলা চালায়। এই ছিল ইজরায়েল ও হামাসের সংঘর্ষের সূত্রপাত। ইজরায়েলি পরিসংখ্যান অনুসারে, হামাসের সেই আক্রমণে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৪০ জন মানুষকে অপহরণ করে বন্দি করে নিয়ে যায় হামাস।
এর পরেই হামলার প্রতিশোধ নিতে ইজরায়েল গাজা উপত্যকায় হামলা চালায়। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রকের মতে, ইজরায়েল ওই নিরলস সামরিক আক্রমণে গাজা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এখনও অবধি সেখানে কমপক্ষে ১৭,৯৯৭ জন মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই মহিলা এবং শিশু।

শোনা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য শীর্ষ মিত্রশক্তিদের এবং প্রতিরক্ষা সংস্থার প্রতিনিধিদের একটি ছোট, গোপন দল গঠন করেছেন। এই দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জাচি হ্যানেগবি এবং কৌশলগত নীতি বিষয়ক মন্ত্রী রন ডারমার এবং এতে ইজরায়েলয়ের প্রতিরক্ষা বাহিনী, মোসাদ এবং শিন বেটের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইজরায়েলি রাষ্ট্রদূত মাইক হারজোগও এই বৈঠকে ছিলেন।
ইজরায়েল আমেরিকাকে এই বিশেষ দলের অস্তিত্ব সম্পর্কে জানিয়েছে। বাইডেন প্রশাসনও আসলে যুদ্ধোত্তর পরিকল্পনার জন্য ইজরায়েলকে চাপ দিচ্ছে। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইজরায়েল গাজায় উন্মুক্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি বজায় রাখবে। ইজরায়েলি কর্মকর্তারা গাজাবাসীকে ইজরায়েল সীমান্ত থেকে দূরে রাখতে একটি বাফার জোন তৈরির কথাও বলেছে, অবশ্য এই পরিকল্পনা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের না-পসন্দ।
অন্যদিকে, শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন ইজরায়েলকে গাজা সম্পূর্ণ দখল করতে দেবেন না তারা। আমেরিকা বারবার ইজরায়েলের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শান্তি আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।






