বছরের শুরুতেই ফের হিংসা! পুলিশ সেজে ৪ জনকে খুন মণিপুরে! নেপথ্যে কারা?
Manipur Violence 2024 : নতুন করে এই হিংসার ঘটনার পরে, থাউবাল, ইম্ফল পূর্ব এবং ইম্ফল পশ্চিম, কাকচিং এবং বিষ্ণুপুর জেলায় কারফিউ ফের জারি করা হয়।

নতুন বছরের শুরুতেই হিংসা! মণিপুরের কাঁটা যে উপড়ানো যায়নি গলা থেকে তা প্রমাণ করল নববর্ষের দিনে মণিপুরে নতুন করে শুরু হওয়া হত্যাকাণ্ড-হিংসা। চারজন গুলিবিদ্ধ এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন মণিপুরে। রাজ্যের পাঁচটি উপত্যকা জেলায় এই কারণে ফের কারফিউ জারি করা হয়েছে। থাউবাল জেলার স্থানীয়দের দাবি, একদল পুরুষ তোলাবাজির জন্য অস্ত্র নিয়ে হাজির হয়েছিল। এরা কারা? পরিচয় জানা যায়নি এখনও। এই হামলার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বন্দুকধারীদের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, দলটি বন্দুক নিয়ে হাজির হয়েছিল। সেখানকারই একজন ব্যক্তির সঙ্গে তারা কথ বলতে শুরু করেন। দেখে মনে হয়েছিল চেনা মানুষের সঙ্গেই কথোপকথন চলছে। কিন্তু কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই মারামারি শুরু হয়। মারামারির মধ্যেই সবাইকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে ওই দলটি।
মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং একটি ভিডিও বার্তা জারি করে এই হিংসার নিন্দা করেছেন। জনগণকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। নিরীহ মানুষদের হত্যার নেপথ্যে থাকা অপরাধীদের ধরতে পুলিশের দলগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। লিলং অর্থাৎ যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, সেখানকার বাসিন্দাদেরও অপরাধীদের খুঁজে বের করতে সরকারকে সাহায্য করার জন্য আবেদন করেছেন তিনি। কিন্তু এই হিংসার শিকড় কোথায়? যতই খবরের কাগজ বা চ্যানেল থেকে সরে যাক মণিপুর, উত্তর-পূর্বের রাজ্যে কি শান্তি ফিরেছে আদৌ?
নতুন করে এই হিংসার ঘটনার পরে, থাউবাল, ইম্ফল পূর্ব এবং ইম্ফল পশ্চিম, কাকচিং এবং বিষ্ণুপুর জেলায় কারফিউ ফের জারি করা হয়। এই ঘটনার দুই দিন আগেই, মণিপুরের সীমান্তের শহর মোরেহ-তে সন্দেহভাজন কিছু মানুষ এবং পুলিশ কমান্ডোদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে চার নিরাপত্তা বাহিনী আহত হন। ওই সন্দেহভাজন বিক্ষুব্ধরা বেশ কয়েকটি গুলি চালায়। মোরেহ তুরেলওয়াংমা লেইকাইয়ের সিডিও ফাঁড়ির মধ্যে থাকা কমান্ডোরা আহত হন সেখানেই।
২০২৩ জুড়ে মণিপুর ছিল শিরোনামে। ৩ মে থেকে জাতিগত হিংসার জঘন্য নজির দেখেছিল ভারতবর্ষ। এই হিংসার ফলে ১৮০ জনেরও বেশি মানুষ মারা যান এবং প্রায় ৬০,০০০ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন৷
মণিপুরের জনসংখ্যার প্রায় ৫৩ শতাংশ মেইতি এবং তারা বেশিরভাগই ইম্ফল উপত্যকায় বাস করেন। উপজাতিরা, অর্থাৎ নাগা এবং কুকিরা মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ। তারা পার্বত্য জেলাগুলিতে বসবাস করেন। তাঁদের আবাস, অর্থাৎ সংরক্ষিত বনভূমি থেকে কুকি গ্রামবাসীদের উচ্ছেদ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। মেইতেই সম্প্রদায়ের তপশিলি উপজাতি দাবির প্রতিবাদে রাজ্যের পার্বত্য জেলাগুলিতে 'উপজাতি সংহতি মার্চ' সংগঠিত হওয়ার পরে তুমুল হইচই পড়ে যায়। ছোট ছোট ধারাবাহিক আন্দোলনের ছায়া ছায়ায় হিংসা বাড়ে। মণিপুরি মহিলাদের নগ্ন করে ঘোরানোর ভিডিওতে আসলে নগ্ন হয়ে গিয়েছিল এই দেশই, সারা বিশ্বের সামনে। উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে প্রায় ১০,০০০ সেনা ও আধা-সামরিক কর্মী মোতায়েন করতে হয়েছিল কেন্দ্রকে। কিন্তু হিংসা চরিত্র বদলে হাজির ফের।
এই হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগের দিনই ইম্ফল পূর্বের তাবুংখোকে দুই দলের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে আহত একজন গ্রাম প্রতিরক্ষা স্বেচ্ছাসেবক গভীর রাতে হাসপাতালে মারা যান। গত সপ্তাহান্তে উপত্যকায় নিহত হওয়া দ্বিতীয় গ্রাম প্রহরী তিনি। লিলং চিংজাও এলাকাতে ব্যবসায়ীদের উপর হওয়া এই হামলার সঙ্গে তোলাবাজির কথাও উঠছে। জানা গিয়েছে, আততায়ীরা খাকি পোশাক পরেছিল। চারটি গাড়িতে করে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাজারে আসে তারা। খুনিরা পালিয়েও যায়।






