লিভ-ইন করলেও রেজিস্ট্রি করতে হবে এবার? অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে যা করতে চাইছে বিজেপি

Uniform Civil Code : উত্তরাখণ্ডের জন্য প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে সকলকেই দত্তক গ্রহণের অধিকার দেওয়া হয়েছে, মুসলিম মহিলাদেরও।

inscript
৩ মিনিট
লিভ-ইন করলেও রেজিস্ট্রি করতে হবে এবার? অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে যা করতে চাইছে বিজেপি

সকলের জন্য একই সামাজিক বিধি, পোশাকি নাম অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড। উত্তরাখণ্ড বিধানসভা মঙ্গলবার রাজ্য বিধানসভায় ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) সংক্রান্ত আইন পেশ করেছে। বিজেপির আমলে আনা বিভিন্ন বিধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। উত্তরাখণ্ডে বিজেপির সরকার। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি বলেইছেন, এই ইউসিসি শুধুমাত্র সব মানুষের মঙ্গলের জন্যই নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির 'সব কা সাথ, সব কা বিকাশ'-এর লক্ষ্যেও নির্মিত। বিজেপি যে ন্যারেটিভগুলি সামনে এনেছে তারই অন্যতম হচ্ছে 'এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত।' এই বৈচিত্র্যের ভারতকে এক করা হবে কী দিয়ে? ইউনিফর্ম সিভিল কোড তারই এক মাধ্যম।

সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি সরকার-নিযুক্ত প্যানেল, বেশ কয়েকটি সুপারিশ সম্বলিত চার খণ্ডের, ৭৪৯-পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এই প্যানেল অনলাইনে ২.৩৩ লাখ লিখিত প্রতিক্রিয়া সংগ্রহ করেছে। ৭০টিরও বেশি পাবলিক ফোরাম সংগঠিত করেছে। এই বিধির খসড়া তৈরি করার আগে প্রায় ৬০,০০০ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এই প্যানেল। ইউনিফর্ম সিভিল কোডে কী বলা হচ্ছে?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সারা বিশ্বের সামনে স্পষ্ট হয়ে গেল নরেন্দ্র মোদির নির্বুদ্ধিতা

Narendra Modi on Manipur: নরেন্দ্র মোদি ভোট এলে তিনি ছোট রাজ্য, বড় রাজ্য সর্বত্র ঘন ঘন চলে যান ঠিকই, তবে এবারে তিনি আর মণিপুরের পথে যাননি।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিভিন্ন প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বহুবিবাহ এবং বাল্যবিবাহের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা, সমস্ত ধর্মের মেয়েদের জন্য একই বিবাহযোগ্য বয়স এবং বিবাহবিচ্ছেদের জন্য একই অভিন্ন প্রক্রিয়া। লিঙ্গসাম্য এবং সামাজিক সংহতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে শুরু হওয়া বিশেষ চার দিনের বিধানসভা অধিবেশনে আলোচনা করা হবে এই সুপারিশগুলি।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়াতে নাগরিক জীবনের বিভিন্ন দিককেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো উত্তরাধিকারের অধিকার, বাধ্যতামূলক বিবাহ নিবন্ধন, এবং মেয়েদের বিবাহযোগ্য বয়সের সীমা বৃদ্ধি, বিয়ের আগে তাদের শিক্ষা অর্জনের সুবিধা প্রদানের সুপারিশ রয়েছে এতে। যে দম্পতিদের বিয়ের আইনি রেজিস্ট্রি নেই তারা সরকারি সুবিধাপত্র পাবেন না বলেও উল্লেখ করা হচ্ছে। খসড়াটিতে সুনির্দিষ্ট করে কী কী রয়েছে তা এখনও জনসাধারণের কাছে অপ্রকাশিতই। তবে এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে ধর্মীয় অনুষঙ্গ নির্বিশেষে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, জমি, সম্পত্তি এবং উত্তরাধিকার আইনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি আইনি কাঠামো তৈরির কথা উঠে আসছে। যদি এই খসড়া বিল পাস হয়ে আইন হয়ে যায় তাহলে উত্তরাখণ্ডই স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতের প্রথম রাজ্য হয়ে উঠবে যেখানে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হবে। এখানে উল্লেখ্য, গোয়াতে এই বিধি আছে পর্তুগিজ শাসনের দিন থেকেই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কোনও ধর্মের জন্য আর আলাদা বিধি নয়! অভিন্ন দেওয়ানি বিধির নামে কী চাইছেন মোদি?

Uniform Civil Code: যে দেশে ১৪.২% মুসলমানের বাস, সেখানে ভারতের লোকসভায় নির্বাচিত মুসলমান সাংসদ ৫ শতাংশেরও কম।

উত্তরাখণ্ডের জন্য প্রস্তাবিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধিতে ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে সকলকেই দত্তক গ্রহণের অধিকার দেওয়া হয়েছে, মুসলিম মহিলাদেরও। এতে হালালা এবং ইদ্দতের (ইসলামিক রীতি যা একজন মহিলাকে বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুর পরে পালন করতে হয়) মতো আচারকে নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। লিভ-ইন সম্পর্ককে সহজ করা এবং দত্তক নেওয়ার পদ্ধতিগুলিকে সহজ করার কথাও বলা আছে এতে।

ইদ্দত প্রথাটি নিয়ে সম্প্রতি পাকিস্তানের রাজনীতি তোলপাড় হয়েছে। জেলবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা খান তাঁর আগের স্বামীকে তালাক দেওয়ার পরে এবং ২০১৮ সালে ইমরান খানকে বিয়ে করার পরে ইদ্দত শেষ না করার জন্য অভিযুক্ত। প্রস্তাবিত ইউনিফর্ম সিভিল কোড চালু হয়ে গেলে লিভ-ইন সম্পর্ককেও আইনের অধীনে নিবন্ধিত করতে হবে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন হলে তা মহিলা ও পুরুষ দুই পক্ষেরই উপকারে আসবে।

এই বিধির খসড়ায় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং তপশিলি উপজাতিদের অবশ্য বাদ দেওয়া হয়েছে, উত্তরাখণ্ডের জনসংখ্যার ৩ শতাংশ হচ্ছেন তারা। ইউসিসির অন্যান্য বিধির মধ্যে রয়েছে পুত্র ও কন্যাদের সমান সম্পত্তির অধিকার, বৈধ ও অবৈধ শিশুদের মধ্যে পার্থক্য শেষ করা এবং দত্তক নেওয়া ও নিজের সন্তানের জন্য সমান আচরণ। কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর ক্ষেত্রে, প্রস্তাবিত এই বিধিতে স্ত্রী, সন্তান এবং বাবা-মায়ের জন্য সমান সম্পত্তির অধিকারকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।