‘ডায়েট’-এর জ্বালায় রোজই পাতে পড়ছে ‘ওটস’? একঘেয়ে খাবারকে সুস্বাদু করে তুলুন এসব উপায়ে

Weight loss diet : স্বাস্থ্যকর ওটস দিয়েই চটজলদি তৈরি করা যায় এমন কিছু মজাদার রেসিপি, যা একদিকে আপনার শরীরকে সুস্থ রাখবে অন্যদিকে জিভের স্বাদকেও খানিক বশ মানাতে পারবে। জেনে নিন কীভাবে...

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
‘ডায়েট’-এর জ্বালায় রোজই পাতে পড়ছে ‘ওটস’? একঘেয়ে খাবারকে সুস্বাদু করে তুলুন এসব উপায়ে

‘ডায়েট’ শব্দটা খুবই পরিচিত বর্তমান সময়ে। মেদ নিয়েই যত ঝঞ্ঝাট, তাই শরীরে বাড়তি মেদ ঝরানোর জন্য নানা রকম উপায়ের কথা বলেন চিকিৎসকেরা। নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, সবই জরুরী শরীর সুস্থ রাখার জন্য। আর ঠিক সেই কারণেই নজর দেওয়া প্রয়োজন রোজকার খাবারের তালিকায়। আজকাল ডায়েট খাবার হিসেবে সবথেকে বেশি আলোচনা হয় যে খাবারটি নিয়ে তা হল ওটস। সকালের জলখাবার থেকে শুরু করে রাতের ডিনার, স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে ওটসের বিকল্প নেই।

ম্যাক্রোবায়োটিক নিউট্রিশনিস্ট শিল্পা অরোরার মতে, "ওটসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা শরীরকে সম্পূর্ণ করে। এবং খিদে রোধ করে। তাই সকালের জলখাবারে ওটস খাওয়া ওজন কমানোর জন্য অন্যতম সেরা উপায়। ওটসের ফাইবার হজম হতে সময় নেয়, তাই এটি আপনাকে একটি পূর্ণ অনুভূতি দেয় এবং শরীরকে অতিরিক্ত খাওয়া থেকে বিরত রাখে। হিন্দিতে 'জাই' নামে পরিচিত এই ওটস। মূলত প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ এই শষ্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যের জন্য একটি দুর্দান্ত সংযোজন করে তোলে। এছাড়া খুবই সহজে এবং কম সময়ের মধ্যেই তৈরি করে নেওয়া যায় ওটস।

ওটসে থাকা প্রোটিন আমাদের পেশী তৈরি করতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া এটি ইনসুলিন স্পাইক প্রতিরোধ করে যা চর্বি সঞ্চয় করতে পারে। কিন্তু রোজ সকালেই এই একই খাবার খেতে খেতে মুখে চড়া পড়ে যেতে পারে। তার ওপর আবার ব্যস্ত জীবন, অফিসের তাড়া ফলে বেশি সময় হাতে থাকে না। আসুন জেনে নেওয়া যাক স্বাস্থ্যকর ওটস দিয়েই চটজলদি তৈরি করা যায় এমন কিছু মজাদার রেসিপি, যা একদিকে আপনার শরীরকে সুস্থ রাখবে অন্যদিকে জিভের স্বাদকেও খানিক বশ মানাতে পারবে।

১. বাদাম এবং কলা দিয়ে ওটস পোরিজ

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঝিঁঝিঁ পোকা দিয়ে তৈরি আইসক্রিম! হু হু করে কেন বিকোচ্ছে এই বিচিত্র খাবার?

Cricket Ice Cream: আইসক্রিম গার্নিশ করতে ব্যবহার হয়েছে শুকনো ঝিঁঝিঁ পোকা, বলা ভালো ঝিঁঝিঁর শুঁটকি।

ওটস পোরিজ হল সবচেয়ে পরিচিত রেসিপি যা ব্যস্ত জীবনের সঙ্গে সহজেই সাযুজ্য রাখতে পারে। গরম দুধে অল্প ওটস মিশিয়ে তার সঙ্গে কয়েকটি কলার টুকরো এবং কিছু ভেজানো বাদাম, চিয়া বীজ ও সামান্য মধু যোগ করে নিলেই তৈরি হয়ে যায় সকালের ওটস পোরিজ। খেয়াল রাখবেন বেশি স্বাদের আশায় এতে চিনি মিশিয়ে ফেলবেন না, তাহলে কিন্তু ডায়েটের বারোটা বেজে যাবে। পরিবর্তে মধু এবং কিছু টুকরো করা খেঁজুর মেশাতে পারেন।

২. ওটস ইডলি

দক্ষিণ ভারতের একটি জনপ্রিয় রেসিপি হল ইডলি। মূলত কলাইয়ের ডাল ভিজিয়ে, তারপর বেটে, ভাপিয়ে তৈরি করা হয় এই পদ। কিন্তু জানেন কি একঘেঁয়ে ওটসকে সুস্বাদু করে তুলতে ওটস দিয়েও তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে ইডলি? প্রোটিন-সমৃদ্ধ ডালের সাথে খানিকটা ওটস গুঁড়ো করে মিশিয়ে, তাতে পরিমাণ মতো নুন দিয়ে ব্যাটার তৈরি করে নিতে হবে, তারপর একই ভাবে ইডলি মেকারে দিয়ে, ভাপিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে সুস্বাদু ওটস ইডলি। এতে স্বদেরও খানিক বদল হবে আবার স্বাস্থ্যও থাকবে নিয়ন্ত্রণে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কাঁচা খাবার রান্না করা শুরু হয়েছিল ঠিক কবে থেকে? যে রহস্য লুকিয়ে ভারতের রান্নার ইতিহাসে

Ancient India's food culture : সবজি, মশলা অথবা রান্নার আধার সব কিছুই নির্ভর করে কোনও রান্নার স্বাদের নেপথ্যে, জানেন ভারতে আজ যে রান্নার চল রয়েছে তার আসল ইতিহাস?

৩. ওটস মটর ছোলা

আগের রাত থেকে ভিজিয়ে রাখা কাঁচা ছোলা এবং মটরের সঙ্গে ওটস মিশিয়ে, তাতে হালকা গোলমরিচ, নুন এবং লেবুর রস সহযোগে তৈরি করে নিন মুখরোচক ওটস। এতে জলখাবারের সময় পেট এবং মন দুইই শান্ত হবে নিশ্চিত। ওজন কমাতে ওটস যেমন খুবই উপকারী ঠিক তেমনই দনান উপকারী হল ছোলা।

৪. ওটস প্যানকেক

সকালের জলখাবারে প্যান কেক অর্থাৎ বাংলায় যাকে বলে গোলা রুটি, তা একটি জনপ্রিয় পদ। সাধারণত দুধ ডিম ময়দা এসব দিয়েই তৈরি করা হয় প্যানকেক। এবার যদি এই প্যানকেকই তৈরি হয় ওটস দিয়ে তাহলে কেমন হবে? একঘেঁয়ে ওটস হবে সুস্বাদু। আবার ডায়েটের দিকটাও রক্ষা করা যাবে। গুঁড়ো করে রাখা ওটস, ডিমের সাদা অংশ, পরিমাণ মতো নুন , গোলমরিচ গুঁড়ো এবং সামান্য দুধ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে ব্যাটার তৈরি করে নিতে হবে। তারপর তাতে চিনির বদলে সামান্য মধু মিশিয়ে নিতে পারেন। এবার গ্যাসে একটু তাওয়া গরম করে, সামান্য অলিভ অয়েল ব্রাশ করে একে একে ওই মিশ্রণটি দিয়ে ঢাকা দিয়ে ভাপিয়ে নিলেই তৈরি সুস্বাদু ওটস প্যানকেক।

৫. মশলা ওটস

ওটস দিয়ে তৈরি সবচেয়ে পরিচিত পদ হল এটিই। আজকাল বাজারে প্যাকেটজাত মশলা ওটস পাওয়া যায়। সেটাই এনে গরম জলে কয়েক মিনিট ফুটিয়ে নিলে তৈরি হয়ে যায় মশলা ওটস। এছাড়া ঘিরে তৈরি করতে চাইলে জল গরম করে তাতে ওটস, এবং মরশুমি সবজি কুঁচি কুঁচি করে দিতে সেদ্ধ করে তাতে সামান্য নুন এবং ঘরে তৈরি ভাজা মশলা দিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন এই পদ। এটি একই সাথে স্বাদের খেয়ার রাখার পাশাপাশি এবং পেটের খেয়ালও রাখবে। নামানোর অল্প তেল দিয়ে খবরটিকে পরিবেশন করতে পারেন।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।