জ্ঞানেশ কুমারকে ভোটাধিকার হারানো এক বাঙালির খোলা চিঠি
West Bengal Voter Deletion Crisis: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ঘিরে বাদ পড়েছে ৯১ লাখ ভোটারের নাম। কেন EPIC, আধার বা রেশন কার্ড গ্রহণ করা হলো না? ভোটার তালিকা ‘শুদ্ধ’ করার নামে কি গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে? মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লেখা এই খোলা চিঠি তুলছে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্ন।
শ্রী জ্ঞানেশ কুমার, অবসরপ্রাপ্ত আই এ এস, বর্তমানে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার মহোদয় সমীপেষু
এই চিঠি আপনাকে লিখছে আপনার ফরমানে ভোটাধিকার খোয়ানো ৯১ লাখ পশ্চিমবঙ্গবাসীর একজন। আমাকে আপনি চেনেন না—আপনার হুকুমদারি করেন যাঁরা তাঁরাও কেউই চেনেন না। আমরা এ রাজ্যের বহুদিনের বাসিন্দা। অথচ নানা অজুহাতে আমাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছেন আপনি আর আপনার স্যাঙাৎরা। আমাদের এই অধিকার কী ভাবে কেড়ে নেওয়া হলো, তা আপনি ভালোই জানেন। বস্তুত মূল পরিকল্পনাটা আপনারই, অবশ্য আড়ালে থেকে অনুপ্রেরণা দিয়েছেন আপনি যাঁর বা যাঁদের হুকুমদার তাঁদের। আমার নিজের অবশ্য খুব যে দুঃখ হচ্ছে তা নয়। বরং, আপাতত নাম কাটা পড়ায় আমি স্বাধীন, দায়মুক্ত। মানে একটা পাখির ডানা কিছুক্ষণের জন্য অকেজো করে দেওয়া হলে সে যতটা স্বাধীন থাকে ঠিক ততটাই। এই গরমে আর ভোট দেওয়ার লাইনে কষ্ট করে দাঁড়াতে হবে না। দুরুদুরু বুকে খুঁজতে হবে না আমার ভোটটা আগেই কেউ দিয়ে দিয়েছে কিনা। কিছুটা হলেও স্বস্তি কিনা বলুন! সেই জন্যেই খোলা মনে এই চিঠিটা লেখার সময় পেলাম।
যাক্গে ছাড়ুন বাজে কথা। প্রথমেই আপনাকে অভিনন্দন। বাহবা আপনার। তবে শুধু এটুকু বলে থেমে গেলে আপনাকে অসম্মান করা হবে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই। তাঁর ভাষা ধার করে, এবং একটু বদলে নিয়ে, বলতে ইচ্ছে করছে,
তুমি মহারাজ বীর হলে আজ, আমি আজ চোর বটে।
আর-একজনের কথাও মনে পড়ছে। কমেডির রাজা হয়েও সারা পৃথিবীর মানুষকে যিনি কাঁদিয়েছেন, ভাবিয়েছেন সেই চার্লি চ্যাপলিন। যে বছর আমাদের দেশ ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পেল, সেই বছরেই মস্যিয়ঁ ভের্দ্যু নামে একটা ছবি তৈরি করেছিলেন তিনি, আর নিজে অভিনয়ও করেছিলেন। তবে সাধারণভাবে যে ভূমিকায় উনি বিখ্যাত হয়েছেন সেই ভবঘুরের ভূমিকায় নয়, একজন খুনির ভূমিকায়—ক্ষুরধার বুদ্ধিসম্পন্ন হলেও যাকে ঠিক নৃশংস মনে হয় না। এহেন খুনির মুখে ছিল সেই বিখ্যাত সংলাপ,
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
BJP constitutional politics: ভারতের সংবিধান, হিন্দুত্ব, আরএসএস-বিজেপির রাজনৈতিক ইতিহাস এবং সিএএ-এনআরসি নীতির পেছনে আদর্শগত ধারাবাহিকতা কি সত্যিই সাংবিধানিক রাষ্ট্র গঠনের অংশ, নাকি এটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক প্রকল্পের ফল—যেখানে ইতিহাস, আইন ও ধর্মীয় পরিচয়কে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে?
One murder makes a villain, millions a hero. Numbers sanctify.
মানে খুচরো খুন ভিলেন বানায়, লাখ-লাখ খুনে পাওয়া যায় বীরের মর্যাদা—সংখ্যার নিরিখেই সম্মান বাড়ে। তাহলে হিরো আপনি হয়েই গিয়েছেন। ৯১ লাখ মানুষকে যা করেছেন, তাকে তো হত্যাই বলে। এতদিন ধরে অন্য নানারকম হত্যার কথা শুনছি/ শুনেছি। গুলি করে হত্যা, কুপিয়ে হত্যা, পিটিয়ে হত্যা, গুম করে হত্যা, এমনকী রাজনৈতিক হত্যাও। কিন্তু এই সবকিছুকেই আপনি ছাপিয়ে গেলেন ভোটারদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হত্যা করার কৌশলটি আবিষ্কার করে। অসাধারণ। হানাদারি, মারামারি, রক্তপাত কিছুই হলো না। কেবল কলমের খোঁচায় এক ধাক্কায় বাতিল হয়ে গেল ৯১ লাখ মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। মনে পড়ছে পুরনো একটা উর্দু শের, অবশ্য একটু পালটে নিয়ে বলছি: আপনি যা করলেন, খোদার কসম, জবাব নেই বাহবা, বাহবা, বাহবা, বাহবা।
দেখা গেল এতে নাকি আইনও ভাঙল না। মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট থেকে জোরালো কোনো প্রশ্ন উঠল না। তারাও আপনার কথায় সায় দিয়ে বলল, ভোট বড়ো বালাই। সময় মেনে ভোট করাতেই হবে, তাতে যদি কিছু লোকের সাংবিধানিক অধিকার এখনকার মতো রদও হয়ে যায়, তবুও। অবশ্য ইতি গজ-র মতো আশ্বাসবাণী একটা শোনা গিয়েছে। আমাদের ভোটাধিকার চিরতরে খারিজ হয়ে গিয়েছে, এমন নয়। পরে মহামান্য আদালত এব্যাপারে বিচার-বিবেচনা করবেন। তা আশায় বাঁচে চাষা।
সুপ্রিম কোর্টের দাক্ষিণ্য তো আপনি কম পাননি। পশ্চিমবঙ্গে আপনার যাচাই প্রক্রিয়ায় বিস্তর গলদ, এরকম কথা বলার পরেও সুপ্রিম কোর্ট আপনাকে ভর্ৎসনাটুকুও করেননি। সুপ্রিম কোর্ট আপনাকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রথম দফায় বিহারে যেভাবে এসআইআর করা হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গে তার চেয়ে অন্যভাবে কাজটা করা হয়েছে। এর উত্তরে কোর্টে দাঁড়িয়ে আপনি বলেছেন, এখানে ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকলেও তাঁদের প্রমাণ করতে হবে যে পুরনো তালিকায় নাম থাকা মানুষটিই তিনি। পশ্চিমবঙ্গে কেবল পশ্চিমবঙ্গের জন্যই আপনি কেন ‘যৌক্তিক অসংগতি’ নামে একটা মাপকাঠিটা চালু করলেন, সুপ্রিম কোর্ট এই প্রশ্নও তুলেছেন। কিন্তু আপনি অনড়। এখন নাম কাটা যাওয়া ভোটার হিসেবে আমার কাছে একটাই বিকল্প ছিল। মরে গিয়ে প্রমাণ করা যে আমিই আমি। সাহসে কুলোয়নি। নাম বরং যাক, প্রাণ তো থাক।
এসআইআর যখন শুরু হয়েছিল, তখন আপনার প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছিল ২১ বছরের ব্যবধানে এই অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে। উদ্দেশ্য একটি ‘শুদ্ধ’ ভোটার তালিকা তৈরি করা—হ্যাঁ, ওয়েবসাইটে ইংরেজি হরফে পিওর (pure) শব্দটি লেখা আছে। সাধারণত সরকারি কোনো নথিতে এই ‘শুদ্ধ’ কথাটা চোখে পড়ে না। ‘ত্রুটিমুক্ত’ শব্দটাই সেখানে চলে। কিন্তু বোঝা গেল ভোটার তালিকাটিকে শুধু ‘ত্রুটিমুক্ত’ করলেই আপনাকে যাঁরা নির্দেশ দেন তাঁদের উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে না, সেটিকে ‘শুদ্ধ’ করার দায়িত্বও আপনাকে দেওয়া হয়েছে। ‘শুদ্ধ’ আর ‘ত্রুটিমুক্ত’ এ-দুটি ঠিক সমার্থক ভিন্ন শব্দ নয়—এদের ব্যঞ্জনা সম্পূর্ণ আলাদা। প্রথমটি ধর্মীয় আচারের ইঙ্গিত দেয়, দ্বিতীয়টি লোকায়ত। একটি সরকারি ঘোষণাপত্রে লোকায়ত শব্দের বদলে ধর্মীয় ব্যঞ্জনায় ভরা শব্দটি বেছে নেওয়ায় বোঝা গেল এসআইআর আসলে বিশেষভাবে পরিকল্পিত একটি শুদ্ধিকরণ অভিযান।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Constitutional Crisis India: সার্বজনীন ভোটাধিকার, সাংবিধানিক নৈতিকতা এবং হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্রনীতির সংঘাতে কি বদলে যাচ্ছে ভারতের গণতন্ত্রের চরিত্র? কেন্দ্রীভূত ক্ষমতা কি সংবিধানের মূল চেতনাকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে?
এমনিতে এসআইআর হোক অথবা অ- এসআইআর, ভোটার তালিকা তৈরি অথবা নতুন করে যাচাই করার উদ্দেশ্য খুবই সরল—একজনও বৈধ ভোটার যেন তালিকার বাইরে না থাকেন। নিয়মমাফিক ‘বৈধ’ ভোটার চিহ্নিত করার মাপকাঠিও খুব সহজ—ভারতীয় নাগরিক, অন্তত ১৮ বছর বয়স, একটি নির্বাচনকেন্দ্রের স্থায়ী বা নিয়মিত বাসিন্দা, আর আইনের চোখে ‘অপরাধী’ বা ‘অযোগ্য’ নন। অর্থাৎ, একজন মানুষ তাঁর নাগরিকত্বের, বয়সের, বাসস্থানের বৈধ নথির পাশাপাশি তিনি কোনো ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হননি এটা প্রমাণ করতে পারলেই তাঁর নাম তোলার কথা ভোটার তালিকায়। কিন্তু এবারের এসআইআর-এ নির্বাচন আপনি যোগ করেছেন দ্বিতীয় একটি উদ্দেশ্য। এবং সেটাই বিশেষ করে লক্ষ করার—একজনও বিদেশি যেন এই তালিকায় ঢুকে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা। এই কাজটি কার নির্দেশে করা হয়েছে সেটা বুঝতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয়।
এর আগে শেষ যেবার এসআইআর হয়েছিল (২০০২-২০০৩ সালে), সেবারে প্রকাশিত নির্দেশনামায় পরিষ্কার বলা ছিল, নাগরিকত্ব যাচাই করা কমিশন বা তাদের প্রতিনিধিদের কাজের মধ্যে পড়ে না। তঁদের কাজ শুধু তাঁদের সামনে পেশ করা গ্রহণযোগ্য নথির বৈধতা নিশ্চিত করা। কিন্তু আপনি যাঁদের হুকুমদার, তাঁদের পুরনো সবকিছুতেই সন্দেহ—যদি না তাতে থাকে প্রাচীনতার তকমা। নইলে সবকিছুই তাঁরা ঢেলে সাজাতে চান। ২০০৩ সালের এসআইআর-ও এল তাঁদের আতসকাঁচের তলায়। ফলে নথির ভিত্তিতে ভোটারের বৈধতা যাচাই নয়, আপনার উপর চাপানো হলো ‘বিদেশি’ চিহ্নিত করার কাজটিও। অর্থাৎ এবারে আপনি মানুষের নাগরিকত্বও যাচাই করলেন, ‘বিদেশি’-ও ধরলেন। কঠিন কাজ কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই কাজগুলি আপনার এক্তিয়ারে পড়ে কিনা অথবা আপনার স্থির করা মহান দুটি উদ্দেশ্য আইনসিদ্ধ কিনা, সেই প্রশ্নের আইনি বিচার হলো না।
আরও মজার কথা, ১৯৯৩ সাল থেকেই চালু হয়েছে ভোটারদের সচিত্র পরিচয়পত্র দেওয়ার কাজ। সেই পরিচয়পত্রটিও পাওয়া যায় আপনারই প্রতিষ্ঠান থেকে। নিশ্চয় কোনোকিছু যাচাই না করেই পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি বা হয় না। কিন্তু, এবারের এসআইআর-এর জন্য আপনি ঠিক করলেন ভোটারের বৈধতা প্রমাণের জন্য পরিচয়পত্র বা এপিক নেবেন না। এমনকী অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস এই প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরে কোর্টের সামনে হলফনামা দিয়ে এই নথিটি মানতে অস্বীকার করলেন আপনি। আর আপনার এই অন্যায় আবদারে সায় দিয়ে দিল মহামান্য আদালত।
এমনকী আপনার নির্দেশে গ্রাহ্য হয়নি আধার কার্ড-ও। এ ক্ষেত্রে আপনার লোকজন যুক্তি সাজিয়েছেন এই বলে যে, আধার কারও নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এটা হলো মানুষের হাতে যাতে সরাসরি সরকারি আর্থিক সহায়তা পৌঁছে যায় তা নিশ্চিত করার নথি। অথচ এই নথিটি তৈরি করে কেন্দ্রীয় সরকারেরই একটি প্রতিষ্ঠান। এদেশে যে সরকারি নথিটি সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে আছে (৯০%-এরও) বেশি, সেটা এই আধার কার্ড। অন্যভাবে বললে, দেশের প্রায় সবার কাছেই আর কোনো সরকারি নথি না থাকলেও এই একটি নথি আছে। আর এটা যে একটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় বসবাসের প্রমাণ, তা-ও বিভিন্ন সময় মেনে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটাকে আপনি মানলেন না! অর্থাৎ এভাবে দেশের ৯০%-এরও বেশি মানুষকে ‘সন্দেহভাজন’ হিসেবে চিহ্নিত করে দিলেন আপনি। আর তাতে যদি মেনেও নেওয়া হয় যে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানটির কাজ সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়, কুছ পরোয়া নেই।
আর রেশন কার্ড? সেটাকে আপনি আর কী করে মেনে নেবেন? রেশন কার্ড তো তৈরি হয় রাজ্যে। আর কে না জানে অন্তত পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে রাজ্য-পর্যায়ের যে-কোনো কাজই আপনার যাঁরা হুকুমদার তাঁদের চোখে সন্দেহজনক। লা-জবাব আপনার এইসব চাল। ভয়ে ভয়ে একটা প্রশ্ন করছি। ঠিক কতজন ‘বিদেশি’ ধরে তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিলেন আপনি? এটা তো আপনার ঘোষিত দুটি উদ্দেশ্যের মধ্যেই ছিল। তাদের সংখ্যাটা বলে দিতে বাধা কোথায়? তাহলে অন্তত আমরা আশ্বস্ত হতাম এই যে এ রাজ্যে ‘অনুপ্রবেশ’ ‘অনুপ্রবেশ’ বলে এত চিৎকার, তার পেছনে যুক্তি আছে। কিন্তু আপনি ‘যৌক্তিক অসংগতি’-র জন্য প্রায় ৬৪ লাখ মানুষের নাম কাটলেন, কাটলেন ‘আইনি বিবেচনাধীন’ ২৭ লাখ মানুষের নাম। এরাই কি আসলে আপনার চোখে ‘অনুপ্রবেশকারী’, শুধু কথাটা খুলে বলতে পারছেন না? নাকি আসলে ধরা পড়া ‘বিদেশি’-র সংখ্যাটা এতই কম যে লজ্জায় তা আর প্রকাশ করেননি? যদি সত্যিই আমরা এই ৯১ লাখ মানুষ ‘অনুপ্রবেশকারী’ হই, তাহলে এত ঘটা করে, সঙীন উঁচিয়ে যারা সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে, তাদের, এবং তাদের যাঁরা আমাদের করের টাকায় পুষছেন, সবার গায়ে কালির ছিটে পড়বেই। আর সংখ্যাটা যদি প্রকাশ করার মতো যথেষ্ট না হয়, তাহলে তো চিৎকারটাই মিথ্যে, তাই না?
তাছাড়া এবারে কাজটা হয়েছে তাড়াহুড়ো করে। আগেরবার এই কাজে দেওয়া হয়েছিল ছ'মাসেরও বেশি সময়। এবারে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল মাত্র তিন মাস সময়। অজুহাত ছিল, এবারে অনেক কাজ করা হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে। কিন্তু সেখানেও বিস্তর গোলমাল হয়েছে।
আপনার এইসব কাজের নিরিখে প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে যে আপনি এই মুহূর্তে এদেশের অন্যতম ক্ষমতাশালী, এবং প্রভাবশালী, মানুষ। আপনার জয় হোক। আমার কিন্তু আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের কথা মনে পড়ে গেল। ইরানের রক্ষণশীল মোল্লাতন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে সেদেশের নাগরিকদের উপর অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছে। প্রতিবাদও হয়েছে সেখানে। অথচ বিনা প্ররোচনায় যেই ইরানের উপর হামলা চালানো হলো, সেখানকার অধিকাংশ মানুষ এককাট্টা হয়ে গেলেন। তারা যেমন মোল্লাতন্ত্রের বিরোধী, তেমনি বিদেশি হামলারও বিরোধী।
এবারের এসআইআর-ও কি যুদ্ধের থেকে খুব আলাদা?
ধন্যবাদান্তে,
পশ্চিমবঙ্গের একজন নামকাটা ভোটার






