কাজ করছে না ওষুধ, সুতোয় ঝুলছে পেলের জীবন, শোকে বিহ্বল বিশ্ব

Pele Health Condition: গোটা ফুটবল বিশ্বকাপ কেবল পেলের সুস্থতার প্রার্থনায়। তার মধ্যেই এমন খবরে প্রমাদ গুনছেন অনেকে...

Aritra Som
৩ মিনিট
কাজ করছে না ওষুধ, সুতোয় ঝুলছে পেলের জীবন, শোকে বিহ্বল বিশ্ব

ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ের ম্যাচ। কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ব্রাজিল বনাম ক্যামেরুনের ম্যাচ তখন সবে শুরু হয়েছে। খেলা শুরুর বাঁশিও বেজে গিয়েছে। এমন সময় স্টেডিয়ামের একটি বিশেষ অংশের দিকে নজর গেল সকলের। বিশাল বড়ো পতাকায় পেলের ছবি, সঙ্গে লেখা ‘পেলে, গেট ওয়েল সুন’। পেলে, আপনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। মারাদোনার অকালমৃত্যুর পর গোটা ফুটবল বিশ্বকাপ কেবল পেলের সুস্থতার প্রার্থনায়। তবে আপামর ফুটবলপ্রেমীদের যে খুব আশার খবর শোনাতে পারছেন চিকিৎসকরা, এমনটা নয়।

কেমন আছেন পেলে? এই প্রশ্নের উত্তরে চিকিৎসকদের একটাই জবাব, ভালো নেই। সম্প্রতি ব্রাজিলের একটি সংবাদপত্র জানিয়েছে, কেমোথেরাপির কোনও প্রভাব দেখা যাচ্ছে না ফুটবল সম্রাটের শরীরে। চিকিৎসায় সেভাবে সাড়াও দিচ্ছেন না তিনি। এমনকী খাওয়া দাওয়াও ঠিকমতো করতে পারছেন না। সেভাবে কাউকে চিনতেও পারছেন না। ব্রাজিলের ওই সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে পেলেকে হাসপাতালের প্যালিয়েটিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে। আপাতত তিনি যাতে শারীরিক সমস্যা থেকে একটু হলেও রেহাই পান, যন্ত্রণা উপশম হয়, সেজন্যই এমন ব্যবস্থা। সঙ্গে সবসময় রয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সেইসঙ্গে রয়েছে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের ফুটবল পাগল মানুষেরা। বিশ্বকাপের মরসুমে পেলেকে এভাবে দেখতে যে ভালো লাগছে না সেলেকাওদের। ব্রাজিলের ফুটবল দলের খেলোয়াড়রাও সেই প্রার্থনা নিয়েই খেলতে নামছেন বারবার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
লজেন্স বিক্রি থেকে ফুটবলের ময়দান! রাতারাতি শিরোনামে ব্রাজিলের রিচার্লিসনের লড়াই আর কেচ্ছা

Brazil Richarlison: ২০১৬-২০১৮। রিচার্লিসন খেলেন ফ্লামিনেন্স এবং ওয়াটফোর্ড নামে দু'টি ক্লাবে। প্রায় চারবছর, ২০১৮-২০২২ পর্যন্ত তাঁর কর্মজীবন কাটে এভারটনের সঙ্গে।

একটা সময় তাঁর পায়ের জাদু দেখার জন্য অপেক্ষা করত গোটা বিশ্ব। ব্রাজিলের সাম্বা ঢেউয়ের জাদু শুরু হয়েছিল পেলে-গ্যারিঞ্চাদের হাত ধরে। ব্রাজিলের পাঁচটি বিশ্বকাপ জয়ের মধ্যে তিনটিরই কারিগর তিনি। অবশ্য পেলে এসব পরিসংখ্যানের অনেক ঊর্ধ্বে। ব্রাজিল থেকে ভারত, জাপান থেকে জার্মানি, বহু বছর ধরে তিনি একের পর এক প্রজন্মের ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করে গিয়েছেন। পেলে না মারাদোনা কে শ্রেষ্ঠ – সেই তর্কে ঝগড়া করেছে অনেকে। মোহনবাগানের সঙ্গেও তাঁর ম্যাচ আজও মনে রেখেছেন বাংলার সকলে।

সেই পেলেকেই যখন হুইলচেয়ারে দেখল গোটা বিশ্ব, রীতিমতো ঝাঁকুনি খেয়েছিল। ২০১২ সালের নভেম্বরে তাঁর কোমরের অপারেশন হয়। ২০১৭ সালে সেই দুরন্ত ফুটবল সম্রাটই মস্কোয় হুইলচেয়ারে বিশ্বকাপের ড্রয়ে হাজির হয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর পাশেই ছিলেন দিয়েগো মারাদোনা। সেই মারাদোনাও ২০২০-র ২৫ নভেম্বর আচমকাই চলে গেলেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ব্যাড বয় না কি রাজপুত্র? মারাদোনাকে ছাড়া আজীবন ফিকে বিশ্বকাপের ময়দান!

Diego Maradona: বিতর্ককে সঙ্গে নিয়ে উল্কার গতিতে পেরোনো মারাদোনার ৬০ বছর

দীর্ঘদিন ধরেই মলাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত পেলে। সেই চিকিৎসাও চলছে সমানে। অস্ত্রোপচারের পরও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় চলছিল কেমোথেরাপি। তার মধ্যেই চলছিল ফুটবল উন্মাদনা। ২০২২ ফুটবল বিশ্বকাপে অন্যতম শক্তিশালী দেশ হিসেবে ময়দানে নামে ব্রাজিল। নেইমারদের শুভেচ্ছা জানাতেও ভোলেননি তিনি। তারপর হঠাৎই দিন কয়েক আগে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। ফুটবল মহারণের মধ্যেই সেই দিকে খবর ছিল আম জনতার।

তবে উৎকণ্ঠার যে কিছুই হয়নি, তা জানিয়েছিল ব্রাজিলের সাও পাওলোর অ্যালবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতাল। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সবাইকে আশ্বস্ত করেছিলেন পেলের মেয়েও। হাসপাতাল সূত্রে বলা হয়েছিল, হৃদযন্ত্রের সমস্যা ও শরীর ফুলে যাওয়ার কারণে পেলেকে নিয়ে আসা হয়েছে। শ্বাসযন্ত্রেরও সমস্যা ছিল। এসবের চিকিৎসার জন্যই তাঁকে আনা হয়। বিগত কয়েক বছরে হাসপাতালে বহুবার যেতেও হয়েছে পেলেকে।

ভক্তদের নিশ্চিন্ত করার জন্য ময়দানে অবতীর্ণ হন স্বয়ং পেলে। হাসপাতালে শুয়েই সোশ্যাল মিডিয়া মারফৎ ভক্তদের আশ্বস্ত করেন। সেই সঙ্গে নেইমার, রিচার্লিসন, থিয়াগো সিলভাদের বিশ্বকাপের জন্য শুভেচ্ছাও জানান। পেলে আশাবাদী, এই দল ফাইনালে যাবেই। তারপর তিনি নিজেই পৌঁছে যাবেন মাঠে। ভক্তরাও তাঁর সুস্থতা কামনার তোড়জোড় শুরু করে দেয়। কেবল ব্রাজিল বনাম ক্যামেরুন ম্যাচের সেই বড়ো ফ্ল্যাগ আর বিশাল জার্সিই নয়। ফিফার অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায়ও পেলের সুস্থতা কামনা করে ভিডিও দেওয়া হয়।

তারপর বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবল খেলোয়াড়ের অবস্থা শুনে হতবাক গোটা দুনিয়া। তবুও আশা ছাড়ছেন না কেউই। প্রার্থনা চালিয়ে যাচ্ছেন সবাই। এত ভক্তের প্রার্থনা নিশ্চয়ই উপেক্ষা করতে পারবেন না পেলে। ফিরে যে তাঁকে আসতে হবেই!

লিখেছেন
Aritra Som
Aritra Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।