পৃথিবীর ছবিটাই সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে এই একটি বস্তু! যে নতুন আবিষ্কার নিয়ে শোরগোল বিশ্বে

New Material Discovered Change The World : নতুন একটি পদার্থের আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। যা কিনা গোটা পৃথিবীর ছবিটাই আমূল বদলে দিতে পারে!

inscript
৩ মিনিট
পৃথিবীর ছবিটাই সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে এই একটি বস্তু! যে নতুন আবিষ্কার নিয়ে শোরগোল বিশ্বে

একবিংশ শতকের এই পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে অনেককিছুই দেখছি আমরা। সাক্ষী থাকছি নানা বিস্ময়ের, নানা বিপদের। জনসংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে প্রযুক্তির প্রতি মানুষের নির্ভরতা। বিজ্ঞানও বিগত কয়েক দশকে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের এই বিস্ময়কর বিস্ফোরণের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। নিত্যনতুন গবেষণা ও আবিষ্কার চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে। তারই মধ্যে আরও একটি নতুন আবিষ্কার ঘিরে গোটা বিশ্বে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। গবেষণাগারে নতুন একটি পদার্থের আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এমন একটি পদার্থ, যা কিনা গোটা পৃথিবীর ছবিটাই আমূল বদলে দিতে পারে! তৈরি করতে পারে জাদুকরী সমস্ত কাজ!

নিউ সায়েন্টিস্ট পত্রিকায় সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে সেই বিস্তারিত গবেষণার রিপোর্ট। নিউ ইয়র্কের রচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাঙ্গা দিয়াস এবং তাঁর সহকর্মীরা এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কী সেই গবেষণা? মূলত সুপার কনডাক্টর বা অতি পরিবাহী নিয়ে কাজ করছিলেন তাঁরা। পরবর্তী বিষয়ে যাওয়ার আগে একবার ছোট্ট করে জেনে নেওয়া যাক এই অতি পরিবাহী কী?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এবার দূরত্বে থেকেও খেতে পারেন সত্যিকারের চুমু! আশ্চর্য যে যন্ত্র আবিষ্কার বিজ্ঞানীদের

Kissing Device: এই যন্ত্র ব্যবহারের জন্য প্রথমে ব্যবহারকারীদের মোবাইলে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে এবং যন্ত্রটিকে ফোনের চার্জিং পোর্টে জুড়ে নিতে হবে।

বিদ্যুৎ পরিবহণের ক্ষমতার দিক দিয়ে দেখলে, আমাদের পৃথিবীতে প্রধানত তিন ধরনের পদার্থ রয়েছে। ইনস্যুলেটর বা অপরিবাহী, সেমি কনডাক্টর এবং কনডাক্টর বা পরিবাহী। নামেই জুড়ে রয়েছে এদের পরিচয়। ইনস্যুলেটর মানে যে বস্তু বা পদার্থের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ পরিবহণ করে না (যেমন- তুলো, কাপড় ইত্যাদি)। কনডাক্টরের মধ্যে দিয়ে সহজেই বিদ্যুৎ পরিবহণ করে (যেমন- লোহা, তামা সহ ধাতুগুলি)। অন্যদিকে, সেমি কনডাক্টরে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে তড়িৎ পরিবাহিত হয় (যেমন- সিলিকন)।

এর বাইরে আরও এক ধরনের বস্তু রয়েছে, তাদের সুপার কনডাক্টর বা তড়িৎ অতি পরিবাহী বলা হয়। অর্থাৎ, বিশেষ পরিস্থিতিতে এই পদার্থের মধ্যে দিয়ে সবচেয়ে ভালোভাবে তড়িৎ পরিবহণ করে। পরিবাহী ধাতুর থেকেও শক্তিশালী এগুলি। আমেরিকার অধ্যাপক রাঙ্গা দিয়াস এবং তাঁর সহকর্মীরা এই অতি পরিবাহী নিয়েই গবেষণা করছিলেন। হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন এবং লুটেটিয়াম – পর্যায় সারণির এই তিনটে মৌল নিয়ে চলছিল পরীক্ষা নিরীক্ষা। সেই সময়ই ঘটে যায় আসল আবিষ্কার!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভূস্বর্গের নীচে ৫৯ লক্ষ টন 'সাদা সোনা'র আবিষ্কার! রাতারাতি ভাগ্য বদলাচ্ছে কাশ্মীরের

Lithium Deposits in Jammu and Kashmir: জম্মু কাশ্মীরের রিয়াসি বেল্টে ৫.৯ মিলিয়ন টন লিথিয়াম ভাণ্ডারের আবিষ্কার বিশ্বের বৃহত্তম লিথিয়াম সংগ্রহের মধ্যে একটি হতে পারে।

গবেষকদের বক্তব্য, এই তিনটে মৌল একসঙ্গে বিক্রিয়া করে একটি নতুন পদার্থ তৈরি করেছে। যা মাত্র ৬৯ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রাখলে সুপার কনডাক্টর বা তড়িৎ অতি পরিবাহীর মতো আচরণ করছে। সেইসঙ্গে অবশ্যই ১ গিগা পাস্কাল চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে। চাপের মান অনেক বেশি মনে হলেও, এর আগের সুপার কনডাক্টরগুলির থেকে অনেক বেশি কার্যকরী এই পদার্থটি। এতটাই যে, ইলেক্ট্রনিক্স, বিদ্যুৎ পরিবহণ ও গোটা পৃথিবীর সভ্যতায় বিপ্লব ঘটিয়ে দিতে পারে।

কীরকম পরিবর্তন? অধ্যাপক দিয়াসের দাবি, “ধরুন, আপনি ১৯৪০ সালে দাঁড়িয়ে আছেন। রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন ঘোড়ায় চড়ে। হঠাৎই আপনার পাশ দিয়ে দ্রুতগতির ফেরারি গাড়ি চলে গেল। ঠিক সেরকমই পরিবর্তন এটি। যেখানে নতুন এই অতি পরিবাহী ঘোড়া আর ফেরারির পার্থক্যই নিয়ে আসবে।” দুটো হিরের খণ্ডের মধ্যে হাইড্রোজেন, নাইট্রোজেন আর লুটেটিয়ামকে রেখে উচ্চচাপে রাখা হয়েছে। তারপরই এটি তৈরি হয়েছে। আস্তে আস্তে পদার্থটি লাল রং ধারণ করে বলে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘রেডম্যাটার’ (Reddmatter)। বিশেষজ্ঞদের দাবি, যদি এটি সঠিকভাবে কাজ করে, তাহলে বিজ্ঞান ও বিদ্যুৎ পরিবহণের আরও আধুনিক জগতের দিকে পা বাড়াতে পারব আমরা।

কী কী করা যাবে? পাওয়ার গ্রিডগুলি ২০০ মিলিয়ন মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কোনওরকম ক্ষতি ছাড়াই ট্রান্সমিট করতে পারবে। হাসপাতালের এমআরআই, ম্যাগনেটোকার্ডিওগ্রাফির মতো বহু যন্ত্র আরও সস্তায় ও দ্রুত কাজ করবে। দ্রুতগতির ট্রেনগুলি আরও ভালোভাবে, বিনা বাধায় চলাচল করতে পারবে। সামগ্রিকভাবে, প্রযুক্তির জগতের গতিটাই বদলে যাবে এই রেডম্যাটার চলে এলে। আপাতত সেই পরিবর্তনের দিকেই তাকিয়ে বিজ্ঞানীরা।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?

৩ অগাস্ট থেকে বদলে যাচ্ছে শেয়ার বাজারের নিয়ম!

Stock Market India: নতুন ব্যবস্থার অধীনে শেয়ার বাজার বন্ধের সময়কে তিনটি আলাদা অংশে ভাগ করা হয়েছে। তবে নন-এফএন্ডও (Non-F&O) স্টকগুলির ক্ষেত্রে আগের মতোই বিকেল ৩:৩০টা পর্যন্ত স্বাভাবিক লেনদেন চালু থাকবে, এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। কিন্তু এফএন্ডও স্টকগুলির ক্যাশ মার্কেটে প্রতিদিন একটানা লেনদেন চলবে বিকেল ৩:১৫ মিনিট পর্যন্ত।

আইআইটি-র দুই প্রাক্তনীর বৈদ্যুতিক কৃষিযন্ত্রে একরপ্রতি খরচ মাত্র ৪০ টাকা

Electric Power Tiller: বাজারে যেসব ট্র্যাক্টর পাওয়া যায়, তা হয় বিশাল বড় জমির উপযোগী, না হয় কেনা ও চালানো দুটোই খুব ব্যয়বহুল। ভারতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ কৃষকের জমিই ছোট ও খণ্ড-বিখণ্ড, যেখানে বড় যন্ত্র ঢোকানোই সম্ভব নয়। আবার চিন থেকে আমদানি করা ছোট ছোট সস্তা মেশিনগুলিতে যন্ত্রাংশ ও সার্ভিসিংয়ের চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হয়। তাই বিদেশ থেকে আমদানির কথা না ভেবে, আইআইটি বোম্বের দুই প্রাক্তনী ঐশ্বর্য রামকৃষ্ণন ও কেদার গোখলে সিদ্ধান্ত নেন খাঁটি দেশীয় প্রযুক্তিতে ভারতের মাটির উপযোগী সমাধান তৈরি করার।

মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উষ্ণ থাকে সোনাম ওয়াংচুকের বাড়ি

Sonam Wangchuk House: সোনম ওয়াংচুক মানেই পাহাড়ঘেরা লাদাখের ছবি, বরফে ঢাকা জীবন আর নতুন এক ভাবনার আলো। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদ এবং উদ্ভাবক। কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে তিনি যেন রূপকথার সেই মানুষটি, যিনি পাহাড়ের রুক্ষ জীবনের কঠিন সমস্যাগুলিকে বিজ্ঞানের সহজ ছোঁয়ায় অত্যন্ত সহজ করে তুলেছেন।

মহাকাশে মিলল চিনির সন্ধান, কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আবিষ্কার?

natural sugar in space: ছায়াপথের কেন্দ্রের একটি আণবিক মেঘে প্রথমবারের মতো প্রকৃত মনোস্যাকারাইড ‘এরিথ্রুলোজ’-এর সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। এই আবিষ্কার জানাচ্ছে, নক্ষত্র ও গ্রহ তৈরির আগেই মহাকাশে জটিল জৈব অণু তৈরি হতে পারে। ফলে পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি এবং মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে গবেষণার আগ্রহ বেড়েছে।

কর্মদক্ষতা মাপল এআই, চাকরি হারালেন কর্মীরা? মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মামলা

Meta mass layoffs: কর্মীদের ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নেবে? মেটার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় অভিযোগ, এআই-নির্ভর মূল্যায়নের কারণে মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকা কর্মীরা অন্যায্যভাবে চাকরি হারিয়েছেন।