কী কী দাবিতে রাতভর অবস্থান এসএসসি শিক্ষকদের? সদুত্তর দেবে শিক্ষা দফতর?

SSC Teachers' Protest: তবে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী, নাট্যকার, অভিনেতা ব্রাত্য বসু বলছেন, এই আন্দোলনের কোনও অর্থই নেই, "যাঁরা ওখানে আছেন (অর্থাৎ যাঁরা এসএসসি ভবনের সামনে আন্দোলন করছেন) , তাঁদের অনেকেই হয়তো অযোগ্য।"

inscript
৩ মিনিট
কী কী দাবিতে রাতভর অবস্থান এসএসসি শিক্ষকদের? সদুত্তর দেবে শিক্ষা দফতর?

কয়েকমাস আগে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দুর্নীতি, আরজি করে নিহত ধর্ষিত চিকিৎসকের বিচার সংক্রান্ত ইস্যুতে সল্টলেক চত্বরে জুনিয়র ডাক্তারদের অবস্থান দেখেছিল গোটা রাজ্য। স্বাস্থ্যর পর এবার শিক্ষাক্ষেত্রের ভুক্তভোগীরা পথে নেমেছেন। আক্ষরিক অর্থেই অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে পথেই বসেছেন রাজ্যের শিক্ষকরা। কথা ছিল সোমবার সন্ধেয় এসএসসি শিক্ষক শিক্ষাকর্মীদের ‘যোগ্য-অযোগ্য’ তালিকা প্রকাশ করবে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। কিন্তু কোনও তালিকাই প্রকাশ করতে পারেনি কমিশন। সোমবার গভীর রাতে কমিশন এক বিবৃতি প্রকাশ করে জানায়, “২০১৬ সালে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে যে, এসএসসি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে চলবে এবং বিভাগ কর্তৃক জানানো হচ্ছে, যে শিক্ষকেরা চাকরি করেছেন, তাঁদের বেতন বর্তমান ব্যবস্থা অনুসারে বিতরণ করা হবে।” ব্যাস। ‘যোগ্য-অযোগ্য’ বাছাই করা তাহলে হবে না? এই নিয়ে কোনও শব্দই খরচ করেনি কমিশন। ফলে শিক্ষকদের অবস্থানও আরও জোরদার হয়েছে। সারা রাত ধরে এসএসসি ভবনের বাইরে অবস্থান-বিক্ষোভ তো চলেইছে, মঙ্গলবার সকালেও এসএসসি কার্যালয় ঘেরাও করে রেখেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।

কী দাবি শিক্ষকদের?

এসএসসি ভবনের সামনে অবস্থানরত শিক্ষকদের মূল দাবি যে অযোগ্য প্রার্থীদের জন্য এত দুর্নীতি, যাদের আলাদা করতে না পেরে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদেরও পেটে লাথি পড়েছে, সেই ‘অযোগ্য’-দের চাকরি থেকে বহিষ্কার করা হোক।

এসএসসি-তে ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশের দাবিতেই অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছিলেন আন্দোলনকারী শিক্ষকেরা। কিন্তু ‘যোগ্য’-দের তালিকা এখনও প্রকাশই করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যোগ্যদের যদি বাছা না যায়, তাহলে অন্তত অযোগ্যদেরই বাছাই করা হোক। শিক্ষকদের দাবি, স্কুল সার্ভিস কমিশন অন্তত ‘অযোগ্য’-দের তালিকা প্রকাশ করে অবিলম্বে চাকরি থেকে বহিষ্কার করুক তাঁদের।আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আরও দাবি, ওই তালিকার পাশাপাশি ওএমআর শিটও প্রকাশ করতে হবে।

এসএসসি ভবনের পাশাপাশি মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অফিসের ভিতরেও অনশন শুরু করেছেন শিক্ষাকর্মীদের প্রতিনিধিরা। সোমবার বিকেল থেকে অবস্থান শুরু হয়। সেই রাত থেকেই আমরণ অনশনে বসার সিদ্ধান্ত নেন এসএসসির গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি শিক্ষাকর্মীদের আট জন। শিক্ষাকর্মীদের দাবি, শিক্ষকদের মতো তাঁদের জন্যও ‘ক্ল্যারিফিকেশন পিটিশন’ চাইতে হবে। ‘যোগ্য-অযোগ্য তালিকা’ প্রকাশেরও দাবি তুলেছেন শিক্ষাকর্মীরা।

তবে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী, নাট্যকার, অভিনেতা ব্রাত্য বসু বলছেন, এই আন্দোলনের কোনও অর্থই নেই। কেন? ব্রাত্য সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “যাঁরা বঞ্চিত শিক্ষক, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশমতো তাঁদের মাইনে পাওয়া নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। তাই এই আন্দোলনেরও কোনও মানে নেই। আর যাঁরা ওখানে আছেন (অর্থাৎ যাঁরা এসএসসি ভবনের সামনে আন্দোলন করছেন) , তাঁদের অনেকেই হয়তো অযোগ্য। তাঁদের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট কোনও গাইডলাইন না দিলে তো আমরা কিছু বলতে পারি না। আমরা দ্রুত রিভিউ পিটিশনের জন্য যাচ্ছি। মহামান্য সুপ্রিম কোর্টই আমাদের গাইডলাইন দিয়ে দেবেন। আমরা যে ভাবে এগোচ্ছি, তাঁদের আস্থা রাখা উচিত। এ বার আস্থা রাখবেন কি রাখবেন না, সেটা তাঁদের ব্যাপার।’’

রাজনৈতিক মহলের একাংশের বক্তব্য, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের দিকে ঠেলে দিয়ে শিক্ষার দুর্নীতির ইস্যুকে আপাতত পাশ কাটিয়েই যেতে চেয়েছেন ব্রাত্য। সুপ্রিম কোর্ট ঠিক কী বলছে? দেশের শীর্ষ আদালত বলেছে, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্যানেলে যারা 'সন্দেহভাজন' তালিকায় নেই, এমন শিক্ষকরা আপাতত স্কুলে যেতে পারবেন। তবে শিক্ষাকর্মীরা পারবেন না। নিজেদের একগুচ্ছ দাবি নিয়ে এসএসসি দফতর পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, যোগ‍্য শিক্ষক-শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ এবং গ্রুপ-সি গ্রুপ-ডি শিক্ষাকর্মী মঞ্চের প্রতিনিধিরা এসএসসি দফতরের সামনে পৌঁছন সোমবার কারণ কমিশন কথা ছিয়েছিল যোগ্য-অযোগ্য তালিকা প্রকাশ করা হবে।

যোগ্য-অযোগ্য তালিকা প্রকাশের দাবিতে গত ১১ এপ্রিল বিকাশ ভবনে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের প্রতিনিধিরা। সেই বৈঠকে এসএসসি-র চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদারও ছিলেন। উল্লেখ্য, ওই বৈঠক থেকে বেরিয়ে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছিলেন, ২১ এপ্রিলের মধ্যে ‘যোগ্য-অযোগ্য’ তালিকা প্রকাশের বিষয়ে তাঁরা আশ্বাস পেয়েছেন। এমনকী শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও বলেছিলেন, আইনি পরামর্শ নিয়ে ওই দিনের মধ্যে যোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করার চেষ্টা করবে এসএসসি। এখন ব্রাত্য বলছেন, এই আন্দোলনের কোনও অর্থই নেই।

অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চাকরিহারা শিক্ষকদের বলছেন স্কুলে গিয়ে ক্লাস নিতে। “কেন গরমের মধ্যে বসে রয়েছেন? আপনারা স্কুলে যান। যাঁরা আপনাদের উস্কানি দিচ্ছে, তাঁরা টাকা দেবেন না। সরকার আপনাদের বেতন দেবে,” মেদিনীপুর থেকে বক্তব্য রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, মেদিনীপুরে আছেন বলেই সমস্যা, “আমি কলকাতায় থাকলে এক সেকেন্ডে মিটিয়ে দিতাম। আমি মেদিনীপুরে ছিলাম। রাত পর্যন্ত কথা বলেছি। ঠিকমতো বেতন পাচ্ছেন কিনা সেটা দেখা দরকার। বাকিটা আমাদের উপর ছেড়ে দিন।”

রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার এমন দুর্দিন যে শাসকের আমলে, যে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এমন ঢালাও অভিযোগ, শেষে সবটা তাদের উপরেই 'ছেড়ে দিতে' পারবেন তো শিক্ষকরা?

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

আবের কাওয়াস: প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মহিলা নিউ ইয়র্কের সিনেটে

Aber Kawas: নিউ ইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়লেন আবের কাওয়াস। নিউ ইয়র্ক স্টেট আইনসভায় তিনি প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরিহিত মুসলিম মহিলা প্রতিনিধি।

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।