স্বাস্থ্যসাথী বনাম আয়ুষ্মান ভারত: কোন স্কিমে কারা সুবিধা পাবেন, কারা পাবেন না?
যাদের পাকা বাড়ি আছে, বাড়িতে ল্যান্ডলাইন ফোন বা ফ্রিজ আছে, কিংবা যাদের পরিবারে দুই, তিন বা চার চাকার গাড়ি রয়েছে, তারা সাধারণত এই প্রকল্পের বাইরে থাকেন। এছাড়া কিষাণ ক্রেডিট কার্ডে ৫০,০০০ টাকার বেশি সীমা থাকলেও এই সুবিধা পাওয়া যায় না।
হাসপাতালে ভর্তি মানেই একরাশ খরচের ঝক্কি। সাধারণ মানুষের এই ঝক্কি কমাতেই পশ্চিমবঙ্গের পূর্বতন রাজ্য সরকার ২০১৬ সাল থেকে রাজ্যে এবং বর্তমান রাজ্য সরকার ২০১৮ সাল থেকে কেন্দ্রে চালু করে বিশেষ স্বাস্থ্যবিমা। ২০১৬ সাল থেকেই বড় বড় বেসরকারি হাসপাতাল হোক বা নার্সিং হোম বঙ্গবাসী স্বাস্থ্যসাথী নামক স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা নিয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি সরকার বদল হলো। অতএব তৃণমূল সরকার এখন অতীত! যদিও এখন যে সরকার ক্ষমতায়, তারা ২০১৮ সাল থেকেই কেন্দ্রে চালু করেছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। বিষয় একই। উভয় প্রকল্পেই পরিবার প্রতি বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে বা ক্যাশলেস চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। তবে এখন প্রশ্ন, এই সুবিধা পাওয়ার নিয়ম কী এবং কারা পাবেন এবং কারা পাবেন না? এই দুই প্রকল্পের মধ্যে পার্থক্য কী কী?
স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা কারা পাবেন?
স্বাস্থ্যসাথী মূলত একটি 'সার্বজনীন' প্রকল্প। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় প্রতিটি স্থায়ী বাসিন্দা এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত হতে পারেন। এতে আবেদন করার জন্য আয় বা সম্পত্তির কোনো বিশেষ সীমা নেই। নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত—প্রায় সবাই এই কার্ডের মাধ্যমে সুবিধা নিতে পারেন। বিশেষ করে আশা কর্মী, আইসিডিএস কর্মী, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য এবং ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য আশ্রয়।
সুবিধার পরিধি ও বৈশিষ্ট্য:
এই প্রকল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, স্মার্ট কার্ডটি পরিবারের 'মহিলা প্রধান'-এর নামে দেওয়া হয়। এটি নারী ক্ষমতায়নের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
পরিবারের সদস্য সংখ্যার কোনো ঊর্ধ্বসীমা নেই। কার্ডে স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি উভয় পক্ষের বাবা-মা এবং বিশেষভাবে সক্ষম সদস্যরাও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।
এই প্রকল্পের পুরো খরচ (১০০%) পশ্চিমবঙ্গ সরকার বহন করে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ২৯০০টির বেশি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
কারা এই সুবিধা পাবেন না?
যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো সরকারি স্বাস্থ্য বিমা (যেমন: সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট হেলথ স্কিম বা WBHS) সুবিধা ভোগ করেন, তবে তিনি স্বাস্থ্যসাথী পাবেন না। এছাড়া যাদের বেতনের সঙ্গে নিয়মিত মেডিকেল অ্যালাওয়েন্স দেওয়া হয়, তারা এই তালিকার বাইরে থাকেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
এই প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত মোট ৮টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৫-৬টি নিশ্চিত হান্টাভাইরাস সংক্রমণ। এদের মধ্যে মৃত্যুর হার ছিল প্রায় ৪০%।
২. আয়ুষ্মান ভারতে কারা সুবিধা পাবেন?
আয়ুষ্মান ভারত একটি লক্ষ্যভিত্তিক প্রকল্প। এটি মূলত ২০১১ সালের আর্থ-সামাজিক জনগণনার (SECC) তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করে। ভারতের সবথেকে দরিদ্র ও দুর্বল ৪০-৫০ শতাংশ মানুষ এই প্রকল্পে সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান। গ্রামে কাঁচা বাড়ি থাকা পরিবার, ভূমিহীন শ্রমিক, বা যে পরিবারে ১৬ থেকে ৫৯ বছর বয়সি কোনো সক্ষম পুরুষ সদস্য নেই—এমন পরিবারগুলি এই সুবিধা পায়।
শহুরে এলাকায় নির্দিষ্ট পেশার মানুষ, যেমন—রাস্তার হকার, মুচি, মিস্ত্রি, গৃহসহায়ক বা কন্সট্রাকশন কর্মীরা এর আওতায় আসেন।
২০২৪ সালের আপডেট অনুযায়ী, আয় বা সম্পত্তি নির্বিশেষে ৭০ বছরের বেশি বয়সি দেশের সকল নাগরিক এই প্রকল্পে আলাদা কভারেজ পান। তাদের জন্য পৃথক কার্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে।
সুবিধার পরিধি ও বৈশিষ্ট্য:
এই প্রকল্পের সবথেকে বড় সুবিধা হলো এটি সারা ভারতে কার্যকর। আপনি যদি পশ্চিমবঙ্গের বাইরে অন্য কোনো রাজ্যে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তবে সেখানকার তালিকাভুক্ত হাসপাতালেও এই কার্ডের সুবিধা পাবেন।
এই প্রকল্পের খরচ কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে বহন করে (সাধারণত ৬০:৪০ অনুপাতে)।
সারা দেশ জুড়ে প্রায় ১৪,০০০ থেকে ২৭,০০০ এর বেশি হাসপাতাল এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত।
কারা এই সুবিধা পাবেন না?
যাদের পাকা বাড়ি আছে, বাড়িতে ল্যান্ডলাইন ফোন বা ফ্রিজ আছে, কিংবা যাদের পরিবারে দুই, তিন বা চার চাকার গাড়ি রয়েছে, তারা সাধারণত এই প্রকল্পের বাইরে থাকেন। এছাড়া কিষাণ ক্রেডিট কার্ডে ৫০,০০০ টাকার বেশি সীমা থাকলেও এই সুবিধা পাওয়া যায় না।
নাম নথিভুক্ত করার পদ্ধতি
স্বাস্থ্যসাথীর ক্ষেত্রে: স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পাওয়া তুলনামূলক অনেক সহজ। স্থানীয় 'দুয়ারে সরকার' ক্যাম্প বা মিউনিসিপ্যালিটি ও পঞ্চায়েত অফিসে নির্দিষ্ট 'Form-B' পূরণ করে আবেদন করা যায়। অনলাইন পোর্টাল থেকেও আবেদনের স্থিতি যাচাই করা সম্ভব। যোগ্য হলে খুব দ্রুত স্মার্ট কার্ড হাতে পাওয়া যায়।
আয়ুষ্মান ভারতের ক্ষেত্রে: আয়ুষ্মান ভারতের ক্ষেত্রে প্রথমেই দেখে নিতে হয় যে ২০১১ সালের তালিকায় আপনার নাম আছে কি না। আয়ুষ্মান অ্যাপ বা অফিশিয়াল পোর্টালের (mera.pmjay.gov.in) মাধ্যমে মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য যোগ্য কি না তা যাচাই করা যায়। নাম থাকলে আধার কার্ডের মাধ্যমে 'e-KYC' করে খুব সহজেই ই-কার্ড ডাউনলোড করা সম্ভব। প্রবীণ নাগরিকদের ক্ষেত্রে আধার ভিত্তিক রেজিস্ট্রেশন এখন অনেক সহজ করা হয়েছে।
এখন পশ্চিমবঙ্গে দুটি প্রকল্পই চলছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ উভয় কার্ডেরই সুবিধা নিতে আগ্রহী। তবে মনে রাখতে হবে উভয় প্রকল্পই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসার খরচ দেয়। ওপিডি (OPD) বা বাইরে থেকে ডাক্তার দেখানোর খরচ সাধারণত এতে নেই, যদি না সেটি ভর্তি হওয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, স্বাস্থ্যসাথীর ক্ষেত্রে কিছু প্রাইভেট হাসপাতালে ডায়াগনস্টিক বা ওষুধের জন্য আলাদা খরচ করতে হয়। আয়ুষ্মান ভারতের ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে এই খরচ কমানোর চেষ্টা চললেও অনেক সময় একই সমস্যা দেখা দেয়। স্বাস্থ্যসাথী পশ্চিমবঙ্গে অনেক বেশি জনপ্রিয় কারণ এর ব্যাপ্তি বিশাল এবং এটি প্রায় সকল নাগরিককে সুরক্ষা দেয়। অন্যদিকে, আয়ুষ্মান ভারত জাতীয় স্তরের বড় নেটওয়ার্কের কারণে ভিন রাজ্যে চিকিৎসার জন্য সুবিধাজনক।






