মেজাজ সবসময় সপ্তমে, অযথাই বদনাম জুটছে কপালে? যেসব উপায়ে হতে পারে মুশকিল আসান

Solve Mood Off Problem : মেজাজ বিগড়ে যাওয়া অথবা এখনকার পরিভাষায় যা কিনা মুড অফ, তার মুক্তিতে মনোবিদের সাহায্য অবশ্যই নিতে পারেন, তবে প্রতিদিনের অভ্যাসে কিছু সহজ বদলও এনে দিতে পারে মুক্তি, জানেন কী কী

Kankana Mukherjee
৩ মিনিট
মেজাজ সবসময় সপ্তমে, অযথাই বদনাম জুটছে কপালে? যেসব উপায়ে হতে পারে মুশকিল আসান

কথায় বলে, “মেজাজটাই আসল রাজা”! আর তাই নিত্যদিনের কাজের ব্যস্ততায় আমাদের মেজাজের চাপে আমাদেরই হয় হিমশিম খাওয়ার অবস্থা। এর ফলে হয় আরেক বিপদ। ছোটখাটো বিষয়ে উল্টোদিকের মানুষটির সঙ্গে অকারণেই লেগে যায় বচসা। মেজাজের বশে দু-এক কথা মুখ ফস্কে বলে ফেলে আফসোস করতে হয় নিজেকেই। অথচ ‘শব্দ’ তো ব্রহ্ম, একবার তীর বেরিয়ে গেলে আর ফিরিয়ে নেওয়ার উপায় নেই।

ধরুন সকালে ঘুম থেকে উঠে যে কোনও কাজে হাত দিচ্ছেন, কিছুতেই পছন্দ হচ্ছে না। অমনি মেজাজ তিরিক্ষে। যা নয় তাই করে শুনিয়ে দিচ্ছেন যাকে তাকে। পথে-ঘাটে, ট্রেনে, বাসে এমনকী এই মেজাজ এতটাই লাগামছাড়া হয়ে যাচ্ছে যে কখনও কখনও অজান্তেই কাজের জায়গাতেও বিপদে পড়তে হচ্ছে আপনাকে। তাই নিত্যদিনের কাজের মধ্যে আপনার মেজাজকে নিজের বশে রাখা খুব প্রয়োজন। তাই জেনে নিন কোন কোন উপায়ে হতে পারে মুশকিল আসান...

“মুড অফ্” আজকের প্রজন্মের কাছে খুবই পরিচিত একটি শব্দ। কারণে অকারণে মুড ‘অফ্’ হওয়াই যেন দস্তুর। আধুনিকতায় ধাক্কা খেতে খেতে জীবন যতোই যান্ত্রিক হচ্ছে ততোই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে আমাদের নিজেদের মেজাজ। বর্তমান সময়ে মন খারাপের থেকে বড় অসুখ আর কিছুই নেই। মানসিক অবসাদের জের এতটাই ভয়ংকর হতে পারে যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা আপনাদের ঠেলে দিতে পরে অবাঞ্ছিত ভবিষ্যতের দিকে, এমনকী মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে এই মানসিক অবসাদ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেন এরকম ত্রিকোণ আকৃতি হয় সিঙ্গাড়ার? কারণ জানলে অবাক হবেন আপনিও

Amazing Facts about Samosa : নাম অথবা পুর যায় হোক, যে কারণে অঞ্চল ভেদেও বদলায় না সিঙ্গাড়ার আকৃতি

মেজাজ বিগড়ে যাওয়া অথবা এখনকার পরিভাষায় যা কিনা মুড অফ, তার মুক্তিতে মনোবিদের সাহায্য অবশ্যই নিতে পারেন, তবে প্রতিদিনের অভ্যাসে কিছু বদলই এনে দিতে পারে মুক্তি। তাই আপনি চাইলে নিজের চেষ্টাতে সহজ কিছু টিপস মেনে সহজেই বদলে ফেলতে পারেন মেজাজ।

১. সঠিক ঘুম - নিয়মিত এবং পরিমিত ঘুম আমাদের সুস্থ শরীরের অন্যতম প্রয়োজনীয় দিক। লক্ষ্য করে দেখবেন রাতে ঠিক করে ঘুম না হলে সারাদিন একটা অযাচিত ক্লান্তি তাড়া করে বেড়ায় আমাদের, যার জেরে ছোটখাটো যে কোনও বিষয়ে সহজেই রেগে যেতে পারেন আপনিও। তাই নিয়ম মেনে সঠিক সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং পরিমিত ঘুমের পর, সঠিক সময় বিছানা ছেড়ে ওঠা, এটিই অনিয়ন্ত্রিত মেজাজকে নিয়ন্ত্রণে আনার সবথেকে সহজ উপায়।

২. ধ্যান করুন - আজকাল বিশেষজ্ঞরা প্রায়শঃই বলে থাকেন যোগাসনের কথা। শুধু তাই নয়, চোখ বুজে সমস্ত চিন্তা ভাবনার উর্ধ্বে গিয়ে মেজাজকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য প্রয়োজন ধ্যান। রোজকার অভ্যাসে তাই অবশ্যই কিছুক্ষণ সময় বেছে নিন ধ্যানের জন্য। এতে মস্তিকের ক্লান্তি দূর হয়, এবং আপনার মেজাজ স্বাভাবিক থাকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
একটানা ঘুমান না রোনাল্ডো, তবুও থাকেন টগবগে মেজাজে, যে রহস্য লুকিয়ে তাঁর দৈনন্দিন জীবনে

Cristiano Ronaldo : প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছিলেন ২০০৬ সালে। এখনও তিনি টগবগে তরুণ। কীভাবে তারুণ্য ধরে রাখলেন তিনি?

৩. অন্য কারোর মন ভালো করতে পারার মধ্যে যে তৃপ্তি সেই তৃপ্তির লেশ চুঁইয়ে পড়তে পারে আপনার মধ্যেও। তাই দিনে অন্তত কোনও একটা সময় অন্য কারোর মন ভালো করার চেষ্টা করুন। দেখবেন অপরদিকে মানুষটির মুখের হাসিই আপনার মেজাজকে শান্ত করে দেবে নিমেষে।

৪. মনে রাখবেন, এই পৃথিবীতে কেউই নিখুঁত নয়, দোষে গুণেই একজন মানুষ। তাই নিজের করা কিছু পুরনো ভুলকে মনের মধ্যে পুষে রেখে অকারণে অশান্তি ডেকে আনবেন না। বরং সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে আরও ভালো করে পথ চলা যায় সেই চেষ্টা করুন। পজেটিভ ভাবনা ভাবুন। চেষ্টা করুন কোনও রকম নেগেটিভ জিনিসের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে না ফেলতে।

৫. কৃতজ্ঞ থাকুন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন। কৃতজ্ঞতা শব্দটা খুব ভারী মনে হলে ধন্যবাদ জানান। প্রয়োজনে একটা ডায়রি মেইন্টেন করে তাতে লিখে রাখুন কার প্রতি কোন কারণে আপনি কৃতজ্ঞ।

৬. এক নাগাড়ে বাড়িতে আবদ্ধ হয়ে না থেকে দিনে অন্তত এক থেকে দুবার বাইরে কিছুক্ষণ সময় হেঁটে আসুন। সঙ্গী না থাকলে একাই বেরিয়ে আসতে পারেন। এতে মেজাজ হালকা হবে এবং একটা সুস্থ সময় আপনার জন্য অপেক্ষা করবে।

৭. এক নাগাড়ে অফিসের কাজ করতে করতে ক্লান্ত লাগলে মাঝে মাঝে বিরতি নিন প্রয়োজনে অফিসের ডেস্ক অথবা বাড়ির আনাচে-কানাচে গোছগাছ করতে শুরু করুন। এতে মনের মধ্যে নতুন কিছুর আনাগোনা হবে যা মেজাজ হালকা করতে পারে।

তবে অবশ্যই মনে রাখবেন, উপরের সবকটি টিপসই হল শরীর এবং মন চাঙ্গা রাখার কিছু সম্ভাব্য নিয়ম মাত্র। যদি এতেও উপকার না পান, ফেলে রাখবেন না। তৎক্ষণাৎ যোগাযোগ করুন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে। খেয়াল রাখবেন, মনের ভার বাড়তে দিলে তা কিন্তু ভার ডেকে আনতে পারে জীবনেও।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।