কেন এরকম ত্রিকোণ আকৃতি হয় সিঙ্গাড়ার? কারণ জানলে অবাক হবেন আপনিও

Amazing Facts about Samosa : নাম অথবা পুর যায় হোক, যে কারণে অঞ্চল ভেদেও বদলায় না সিঙ্গাড়ার আকৃতি

Kankana Mukherjee
২ মিনিট
কেন এরকম ত্রিকোণ আকৃতি হয় সিঙ্গাড়ার? কারণ জানলে অবাক হবেন আপনিও

সেকালের অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে আজকের মুখরোচক জলখাবার, সিঙ্গাড়ার নাম সর্বাগ্রে। বাইরে ময়দার ভাজা মোড়ক, ভিতরে তরকারির পুর। মূলত আলু দিয়েই তৈরি হয় পুর, তবে শীতের সময় ফুলকপির পুর ভরা সিঙ্গাড়ার স্বাদও অসাধারণ। যদিও এই সিঙ্গাড়ার ইতিহাস আজকের নয়, দশম শতাব্দীর ইরানী ইতিহাসবিদ আবলফজল বেহাগি তাঁর ‘তারিখ-ই-বেহাগি’তে প্রথম সামবুসাকের কথা উল্লেখ করেন। সাম্বুসা থেকেই স্থান এবং সময় ভেদে সামোসা বা বাঙালির সিঙ্গাড়ার চল।

ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই এসে পড়ে পর্তুগিজদের কথা। আজকের এই যে আলুর পুর ভরা সিঙ্গাড়া তার চল শুরু হয় তাদের হাত ধরেই। তার আগে অবধি সিঙ্গাড়া মানে ছিল মাংসের পুর ভরা ত্রিকোণ প্রেমের রসায়ন। সপ্তদশ শতকে ভারতের পশ্চিম উপকূল জুড়ে পর্তুগিজদের ব্যাপক আলু চাষের প্রভাব এসে পড়ে তিনকোনা এই খাবারটিতেও। যদিও আরও একটি অনুমান, পশ্চিম উপকূল ধরে মহারাষ্ট্র বা গুজরাটে বর্ণ হিন্দু নিরামিষাশীদের এক বিশাল জনগোষ্ঠী বসবাস করে যারা মাংসের স্বাদ স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় বর্জন করেছে তাদের মধ্যেও আলুর মাখোমাখো ভালোবাসা ক্রমেই জনপ্রিয়তা লাভ করে। যদিও হাল আমলে নামী কেক প্যাস্ট্রির দোকানে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, আবারও সেই পুরনো পন্থার পুনরাবৃত্তি। চিকেন সিঙ্গাড়ার চল।

তবে সিঙ্গারার পুর অথবা নাম যাই হোক না কেন, পৃথিবীর প্রায় সব জায়গাতেই সিঙ্গাড়ার আকার কিন্তু হয় একরকমই। ত্রিকোণ। আর তারই পেটের মধ্যে ভরা থাকে পুর। অনেকেই এই বিষয়ে নানা যুক্তি দেখালেও কোনও প্রামাণ্য নথি মেলে না। বরং বলা হয়, পুর ভরতে সুবিধার জন্য এটিকে গোল বা লম্বা আকৃতির না করে তিন কোণা করা হয়েছিল।

তবে এই ধারণার পাশাপাশি সিঙ্গাড়ার এই ত্রিকোণ আকৃতি নিয়ে আরও একটি গল্প শোনা যায়। ১৭৬৬ সালের ঘটনা, কৃষ্ণনগরের মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের রাজসভায় সে সময় রাজ-হালুইকর হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন কলিঙ্গ তথা বর্তমান ওড়িষ্যা থেকে আগত গুণীনাথ হালুইকরের ষষ্ঠপুত্র গিরীধারী হালুইকর। কথিত আছে, তাঁর স্ত্রী ধরিত্রী দেবীই নাকি আবিষ্কার করেছিলেন সিঙ্গাড়া।

অবশ্য এর পিছনে জড়িয়ে থাকা গল্পটাও বেশ মজার। একদিন রাজ হালুইকরের বানানো লুচি খেয়ে বেজায় চটে গেলেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র। নেতানো লুচির স্বাদ মুখে লাগলো না এবং সেই জের এতদূর গড়াল যে রাজ্য ছাড়ার হুকুম দেওয়া হল সেই হালুইকরকে। কিন্তু তাঁর স্ত্রী এই সময় একটা বুদ্ধি ফেঁদে বসলেন। রাজ দরবারে গিয়ে বললেন সুযোগ পেলে সে এমন একটা লুচি তরকারি রান্না করে খাওয়াতে পারে যা অনেকক্ষণ গরম থাকবে। এমনকী ভাজার সঙ্গে সঙ্গে খেলে রাজার জিভের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে বলেও জানান। এই ভেবেই তিনি ঠিক করেন এই আকারের মুখরোচক প্রস্তুত করার কথা। তিন পাটে ময়দার খোলস করে তার মধ্যে তরকারি ভরে ছাঁকা তেলে ভাজা হয় বলেই ভিতর থেকে অনেকক্ষণ গরম থাকে খাবারটি। এই খাবার খেয়ে শেষমেশ খুশি হয়ে রাজা হালুইকরের শাস্তি বাতিল করেন এবং ধরিত্রী দেবীকে মুক্তির মালা উপহার দেন। কথিত আছে, এই থেকেই এমন ত্রিকোণ সিঙ্গাড়ার প্রচলন হয়।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।