মৃত বেড়ে ২৬, বাংলায় চোখ রাঙাচ্ছে চিকেন পক্স, উপসর্গগুলি অনেকের অজানা আজও
Viral Chicken pox : সংক্রমণ ক্রমশ এমন পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে যে মানুষজনের প্রাণহানি হচ্ছে। শুধু কলকাতা অথবা পার্শ্ববর্তী জেলাই নয়, বাঁকুড়া, বীরভূম এমনকী উত্তরবঙ্গ থেকেও সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবর এসেছে ইতিমধ্যেই

করোনা মহামারির আতঙ্ক খানিকটা স্তিমিত হলেও, সার্বিক রোগের আতঙ্ক যেন কাটছেই না। একটার পর একটা রোগ এসে চোখ রাঙাচ্ছে। এই তো কিছুদিন হল মাত্র ডেঙ্গু আতঙ্কে কার্যত থরহরি কম্প ছিল কলকাতা এবং পার্শ্ববতী জেলাগুলো। এখন আবার নয়া রোগের ভ্রুকুটি। এর মধ্যেই কলকাতায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬। বেলেঘাটা আইডিতে আক্রান্তদের লম্বা লাইন। চিকিৎসকদের মধ্যেও উদ্বেগ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। রোগটির নাম জলবসন্ত, অথবা প্রচলিত কোথায় চিকেন পক্স। স্মল পক্স বা গুটিবসন্তের মতো সাংঘাতিক না হলেও জলবসন্তের সাম্প্রতিক দাপট দেখে চিকিৎসকদের কপালে ভাঁজ পড়েছে। বেলেঘাটা আইডির যে ছবিটা বারবার সামনে আসছে, সেটাও রীতিমতো ভয়াবহ।
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে এই রোগের। বিশেষত শীতকাল পেরিয়ে বসন্ত ঋতুর আগমন, এই সময়টায় এই ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। যদিও বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে বর্তমানে এই সব রোগ হওয়ার কোনও নির্দিষ্ট সময় নেই। জলবায়ু যেভাবে বদলাচ্ছে, তাতে মানুষের হতে থাকছে না কিছুই। যে কোনও সময়ে শরীরে হানা দিচ্ছে বসন্ত রোগ। এমনকী বিশ্ব স্বাস্থ্য় সংস্থা অর্থাৎ হু এবং ইউনিসেফের সমীক্ষা বলছে, বিশ্বজুড়েই ক্রমশ বাড়ছে হাম, পক্সে আক্রান্তের সংখ্যা।
একটা সময় ছিল মূলত ছোটদের মধ্যেই দেখা যেত চিকেন পক্স। এবং চিকিৎসায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে সেরেও যেত সেই রোগ। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মৃত্যুর অশনি সংকেত মিলছে একের পর এক। ভ্যারিসেলা জুস্টার নামক ভাইরাস, যা চিকেন পক্সের জন্য দায়ী তাই ক্রমশ অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। সংক্রমণ ক্রমশ এমন পর্যায়ে পৌঁছচ্ছে যে মানুষজনের প্রাণহানি হচ্ছে। শুধু কলকাতা অথবা পার্শ্ববর্তী জেলাই নয়, বাঁকুড়া, বীরভূম এমনকী উত্তরবঙ্গ থেকেও সংক্রমণ ও মৃত্যুর খবর এসেছে ইতিমধ্যেই।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Year Ender 2022 Health : ২০২২ সাল জুড়ে ভাবিয়েছে একাধিক রোগ
চিকিৎসকেরা ইতিমধ্যেই নানা আলোচনা, পর্যালোচনার মধ্যে দিয়ে দেখছেন চিকেন পক্স রোগটিকে। শুধু চিকিৎসা নয়, যাতে তার আগেই সংক্রমণ এড়ানো যায় মূলত এই বিষয়েই নজর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। করোনার মতো আন্তর্জাতিক পরিসরে এই রোগের বিস্তার না ঘটলেও চিকিৎসকেরা মনে করছেন, একই রকম ভাবে সংক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। বেলেঘাটা আইডির কোভিড নোডাল অফিসার কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, করোনার সময় যে ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, ঠিক সেই পথেই আবার হাঁটতে হবে। কোভিডের মতো স্পর্শ থেকে এই সংক্রমণ ছড়ায় না ঠিকই, তবে আক্রান্তের হাঁচি-কাশি, মুখ থেকে বেরনো থুতু-লালার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়াতে পারে, তাই পূর্বের নির্দেশিকা মতো এ ক্ষেত্রেও মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক মনে করছেন চিকিৎসকেরা।
চিকেন পক্সের লক্ষণ :
১. ভাইরাস সংক্রমণে এ রোগের শুরুতে শরীর ম্যাচম্যাচ করতে পারে। এছাড়াও, অল্প জ্বর জ্বর ভাব, হাতে পায়ে ব্যাথা লক্ষ্য করা যায়। এবং সর্বোপরি সারা গায়ে ছোট ছোট গুটি গুটি ইনফেকশনের মতো বের হয়।
২. সাধারণত এ গুটিগুলি বুকে-পিঠে দেখা যায়, তবে সারা শরীরেই উঠতে পারে। দেখতে অনেকটা জলভরা ফোস্কার মতো হয়। এই কারণেই একে জল বসন্ত বলা হয়।
চিকেন পক্স খুবই ছোঁয়াচে রোগ। খুব দ্রুত আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে সুস্থ মানুষের শরীরে তা ছড়িয়ে পারে। বর্তমানে ঠিক এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন বহু মানুষ। তাই বিপদ বুঝলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। অন্যথায় মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন এবং সঠিক চিকিৎসা ব্যতীত অন্য নিরাময় কার্যত অসম্ভব।






