ডেঙ্গি, হাম অথবা মাঙ্কি পক্স, যেসব রোগ নাজেহাল করল ২০২২-কে
Year Ender 2022 Health : ২০২২ সাল জুড়ে ভাবিয়েছে একাধিক রোগ

২০২০ আর ২০২১ দুটো বছর জুড়ে মারাত্মক তাণ্ডব চালিয়ে ২০২২ সালে খানিকটা হলেও স্বস্তির সুযোগ দিয়েছিল করোনা মহামারী। যদিও এই সময় জুড়ে গবেষণা থেকে শুরু করে খবরের শিরোনাম সবকিছু এতটাই করোনাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছিল যে, চিরাচরিত অথবা নতুন রোগের থেকে নজর সরে গিয়েছিল আমাদের। করোনার প্রভাব মোটামুটি কাটিয়ে উঠেছে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই। অবশ্য সাম্প্রতিক চীনের চেহারা আবারও ভয়াবহতা তৈরি করেছে। কিন্তু ২০২২ এর এতটা সময় ফিরে দেখলে করব ছাড়াও অন্য বেশ কিছু রোগের ভ্রুকুটি লক্ষ্য করতেই হয়। বাজারে মাস্ক পরার চল আসায়, মানুষের শ্বাসযন্ত্রজনিত সমস্যা অনেকটা কমেছে, সিজনাল ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্তের সংখ্যাটাও অন্য বছরের থেকে বেশ কম ছিল ২০২২-এ। কিন্তু এই বছর অন্য বেশকিছু রোগ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আজকের প্রতিবেদনে ফিরে দেখব সেগুলোই।
মাঙ্কিপক্স - এই বছর সবথেকে বেশি আক্রান্তের নিরিখে যে রোগটি এগিয়ে থেকে তা হল মাঙ্কি পক্স। বছরের শুরুতেই মাঙ্কি পক্সের আক্রমণের সারা বিশ্বে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়। রোগের প্রধান কেন্দ্র ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। রোগ যদিও শুধুই দক্ষিণ আফ্রিকায় সীমাবদ্ধ থাকেনা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশে। ভারতেও দেখা যায় প্রাদুর্ভাব। প্রধানত গুটি বসন্তের মতো একই রকম প্রভাব দেখা যায় মাঙ্কি পক্সের ক্ষেত্রেও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মাঙ্কিপক্সকে একটি বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা বলে ঘোষণা করে। যদিও এই রোগটি বর্তমানে চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব। কিন্তু এই বছর রোগ এতোটাই মাথা ছেড়ে দিয়ে ওঠে যে জুলাই মাসে সারা বিশ্বে বিশেষজ্ঞ কমিটির সঙ্গে জরুরী আলোচনা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। করোনার মত অত বিভৎস আকারে না হলেও ২০২২ সালে মাঙ্কিপক্সও যথেষ্ট ভাবনায় ফেলেছিল গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে। ভারতেও এখনও পর্যন্ত ২৩ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Best Web Series and Cinema of 2022: ২০২২ সালে এই সিনেমা আর ওয়েবসিরিজ না দেখা থাকলে সত্যিই মিস!
টমেটো ফ্লু - নামটা শুনতে খানিকটা অদ্ভুত হলেও রোগের দাপটে সেটা কেটে যায়। Coxsackievirus A16 দ্বারা সৃষ্ট টমেটো ফ্লু রোগটিরও প্রাথমিক উপসর্গ জ্বর। তা থেকেই শরীরে ছোট ছোট ফুসকুড়ি বের হয়, পড়ে সেটাই বড় হয়ে টমেটোর মতো ফুলে যায় বলে এরূপ নাম এই রোগটির। যদিও করোনার মতো ব্যাপক ক্ষতি হয় না, অথবা প্রাণ সংশয়ের ভয় নেই এই রোগে তবুও এই বছর ভারতে এর দাপটে চিকিৎসক মহলে যথেষ্ট চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছিল। এই বছর কেরল, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক, আসাম এবং ওড়িশায় পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে টমেটো ফ্লুতে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই বাড়তে দেখা যায়। এই রোগটি ছোঁয়াচে। নাক, গলা এবং ফোসকা থেকে তরল নিঃসরণের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চিন্তার বিষয় একটাই যে, এখনও পর্যন্ত টমেটো ফ্লুর চিকিৎসার জন্য কোনও অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ বা ভ্যাকসিন বের হয়নি এই রোগে। তবে মানুষের যথাযথ জীবনযাপনের অভ্যাস এবং স্যানিটাইজেশন পদ্রতির মাধ্যমে রোগ থেকে বাঁচা সম্ভব বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
সোয়াইন ফ্লু - গত দুই বছরে করবার তাণ্ডবে অন্যান্য রোগের ভ্যাকসিনের প্রতি অনীহা দেখা যায়, জ্বর ফলশ্রুতি হল সোয়াইন ফ্লু। অন্যান্য বছরের থেকে অনেক বেশি মানুষ এই বছর আক্রান্ত হন এই রোগে। ২০২২ সালে বছর প্রায় সাড়ে ১১ হাজার মানুষ সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন ভারতে। টমেটো ফ্লুর মতোই এক্ষেত্রেও প্রাথমিক উপসর্গ জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা, সর্দি বা নাক বন্ধ, শরীরে ব্যথা। তবে টমেটো ফ্লু-তে যেমন প্রাণহানি লক্ষ্য করা যায় না তেমন কিন্তু নয় সোয়াইন ফ্লু। তাই স্বাভাবিক জ্বর ভেবে এড়িয়ে গিয়ে বিপদ বাড়ে এতে। ২০২১ সালে ভারতে যেখানে মাত্র ১২ জন মারা গিয়েছিলেন এই রোগে সেখানে ২০২২ সালের তথ্য অনুসারে অক্টোবর মাসের মধ্যেই মারা গিয়েছেন ৩০০ জনেরও বেশি। এই সংখ্যাটি স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসক মহলে চিন্তা বাড়িয়ে তুলেছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Year Ender 2022 : এক মাসের মধ্যেই টলিউড হারিয়ে ফেলে চারজন নতুন মুখকে। এদের মধ্যে কেউ তখন জনপ্রিয় ডেলি সোপের কেন্দ্রীয় মুখ, কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয় মডেল।
হাম - এই বছর অন্যান্য রোগের পাশাপাশি সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়েছে হাম। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি। প্রধানত শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। এমনকী স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৪০ জনেরও বেশি শিশু মারা গিয়েছে হামের প্রভাবে। এক্ষেত্রেও টিকাদানের অভাবকেই রোগের আসল কারণ হিসেবে মনে করেছে ডব্লিউএইচও। করোনার দিকে তাকাতে গিয়ে অন্যান্য রোগগুলো এতটাই অবহেলিত হয়েছে ২০২২ সালে যে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগের মাত্রা ছড়িয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগামী বছরে ১০০ শতাংশ হামের ভ্যাকসিনেসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কেন্দ্র। এর জন্য তৈরি করা হবে টাস্কফোর্স। দেশের বিভিন্ন রাজ্যগুলিতে ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। শিশুদের ভ্যাকসিনেশনের গুরুত্ব আরও বাড়াতে তৎপর কলকাতা পুরসভাও।
ডেঙ্গি - বিগত কয়েক বছর ধরেই বর্ষার শেষের দিকে কলকাতা সহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে মাথাচাড়া দিয়েছে ডেঙ্গির প্রভাব। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় ২০২২ সালে। মৃত্যুর গ্রাফ দেখলে রীতিমত আঁতকে উঠতে হয়। মূলত এডিস মশাবাহিত রোগ এই ডেঙ্গি বা ডেঙ্গু। যার আসল কারণ মানুষের অসচেতনতা এবং সরকারি অনীহা। দিকে দিকে অপরিচ্ছন্নতা যে ছবি উঠে এসেছে তা থেকেই যে এই রোগ এতোটা বেড়ে গিয়েছে তা বুঝতে বাকি থাকে না। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দায় এড়িয়ে সাধারণ মানুষের কোর্টেই বল ঠেলছে প্রশাসন। বারবার বৈঠক করে ঠেকানো যায়নি এই রোগের দাপট। জেলার ছবিগুলোও ভয়ংকর। অঞ্চল বিশেষে এতটাই ভয়াবহ পরিস্থিতি হয় যে রীতিমত মৃত্যু মিছিলের সাক্ষী থাকতে হয়েছে বাংলাকে।
ম্যালেরিয়া - মশার দাপট শুধু ডেঙ্গুতেই রেহাই দেয়নি ২০২২ কে, সঙ্গে দোসর ছিল ম্যালেরিয়া এবং এনসেফ্যালাইটিস। প্রশাসন এবং এক শ্রেণীর সাধারণ মানুষের যৌথ অসচেতনতার ছবিটাই মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি করে। ন্যাশনাল ভেক্টর বোর্ন ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের ওয়েবসাইটে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, এনসেফ্যালাইটিস এবং ম্যালেরিয়া দুই রোগেই আক্রান্তের নিরিখে দেশে তৃতীয় স্থানে রয়েছে বাংলা।







