ঝড়বৃষ্টি হলেই বাড়ছে হাঁপানি? জানেন কোন কঠিন অসুখের শিকার আপনি?

আপনি কি জানতেন হাঁপানি বা অ্যালার্জির সঙ্গে বাজ ও ঝড় দোসর হয়ে আপনার শরীরের কতটা মারাত্মক ক্ষতি করছে?

Madhurima Pattanayak
৪ মিনিট
ঝড়বৃষ্টি হলেই বাড়ছে হাঁপানি? জানেন কোন কঠিন অসুখের শিকার আপনি?

আপনি যদি ক্রমাগত হাঁপানি বা অ্যালার্জির মতো সমস্যায় ভোগেন, আপনি ইতিমধ্যেই হাড়ে হাড়ে টের পেয়ে থাকবেন ঝড়বৃষ্টির মতো আবহাওয়ার সঙ্গে আপনার হাঁপানি বা অ্যালার্জির সমস্যা কতটা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এরকম আবহাওয়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অসময়েই কেবল দেখা যাচ্ছে তা নয়, যেখানে হওয়ার কথা নয়, সেখানেও দেখা দিচ্ছে এরকম আবহাওয়া। কিন্তু আপনি কি জানতেন হাঁপানি বা অ্যালার্জির সঙ্গে বাজ ও ঝড় দোসর হয়ে আপনার শরীরের কতটা মারাত্মক ক্ষতি করছে?

ঝড়বৃষ্টি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বা শেষ হওয়ার পর অ্যাজ়মা বা হাঁপানিতে জর্জরিত হলেই তাকে বলা হচ্ছে 'থান্ডারস্টর্ম অ্যাজ়মা'। 'থান্ডারস্টর্ম অ্যাজ়মা' যে কোনও হাঁপানি বা অ্যাজ়মায় ভোগা রোগীর সঙ্গে ঘটতে পারে। তবে যাঁরা সিজ়নাল অ্যালার্জিক রাইনাইটিসে ভোগেন তাঁদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এদিকে সিজ়নাল অ্যালার্জিতে যাঁরা ভোগেন, তাঁদের এমনিতেই বসন্ত, গ্রীষ্ম, এবং শরৎকালে শোচনীয় অবস্থা হয়।

'থান্ডারস্টর্ম অ্যাজ়মা' বা বজ্রঝড়ের হাঁপানির ঘটনা প্রথম নয়। গত শতকের আটের দশকে এই ঘটনা প্রথম ঘটে অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডে। আর তারপর থেকেই বাড়তে থাকে এই ধরণের ঘটনা। তবে 'থান্ডারস্টর্ম অ্যাজ়মা' নজর কাড়ে ২০১৬ সালে, যখন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে বিদ‍্যুৎবর্ষণ ও ঝড়ঝাপটার ফলে রাতারাতি ন'হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে ছুটে যান অ্যাজ়মা বা হাঁপানির চিকিৎসার জন্য। হাঁপানিতে জর্জরিত হয়ে মারা যান অন্তত আট জন। সেখান থেকেই প্রশ্ন আসে, কাদের মধ্যে থান্ডারস্টর্ম অ্যাজ়মায় ভোগার প্রবণতা বেশি।

আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কাদের বেশি?

মে মাসে জার্নাল অফ অ্যালার্জি অ্যান্ড ক্লিনিক্যাল ইমিউনোলজি-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেই গবেষণায় অংশগ্রহণকারী দুশো আঠাশ জন ঋতুভিত্তিক অ্যালার্জিতে ভোগা রোগীর মধ্যে একশো চুয়াল্লিশ জনের বক্তব্য তাঁরা থান্ডারস্টর্ম অ্যাজ়মার শিকার হয়েছেন। হিসেব করলে দাঁড়ায় অংশগ্রহণকারী পঁয়ষট্টি শতাংশ ব্যক্তি থান্ডারস্টর্ম অ্যাজ়মার শিকার। এঁদের মধ্যে অনেকেরই বজ্রঝড়ের প্রভাবে গুরুতর হাঁপানির সমস্যা দেখা দেয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ ব্যক্তিকেই বজ্রঝড়ের পর হাঁপানির সমস্যা নিয়ে হাসপাতালের আপৎকালীন বিভাগে ভর্তি হতে হয়।

কাদের ক্ষেত্রে থান্ডারস্টর্ম অ্যাজ়মার কবলে পড়ার সম্ভাবনা বেশি, জানালেন এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত গবেষকরা। এই তালিকায় পড়ছে হাঁপানির সঠিক চিকিৎসা যাঁরা করাচ্ছেন না তাঁরা, বা যাঁদের ক্ষেত্রে হাঁপানির সমস্যা চরম, তারা। র‍্যাপিড এসক্যালেশন টেস্টে যাঁদের স্কোর কম, তাঁরা এবং যাঁদের শরীরে নির্দিষ্ট ধরনের অ্যান্টিবডি (ইমিউনোগ্লোবিউলিন-ই) আছে, তাঁরাও আছেন এই তালিকায়। এছাড়া যাঁদের রক্তে ইওসিনোফিল শ্বেতকণিকা বেশি এবং নিশ্বাসের সঙ্গে যাঁরা অধিক পরিমাণ নাইট্রিক অক্সাইড ত্যাগ করেন, তাঁদেরও অত্যন্ত বেশি সম্ভাবনা আছে থান্ডারস্টর্ম অ্যাজ়মার কবলে পড়ার।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
করোনার পর কোন ভাইরাস? অতিমারীর ভয়াল দিন ফেরাচ্ছে জলবায়ুর ভোলবদল?

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আশঙ্কা থাকছে অনেক মানুষের গৃহহীন হওয়ার। সেই সংখ্যার মধ্যে অনেকেই জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিনত হবেন, বাধ্য হবেন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বাস করতে।

তবে এই ধরনের সমস্যা থাকলেই যে থান্ডারস্টর্ম অ্যাজ়মার কবলে পড়বেন, আপনি তা নয়। বা সমস্যাগুলো থাকলেই যে প্রত্যেক বজ্রঝড়ে মারাত্মক অবস্থা হবে আপনার, তেমনটাও নয়। তবে সম্ভাবনা বা ঝুঁকি এড়িয়ে না গিয়ে, আগেভাগে সাবধান থাকাই ভালো।

'দ্য ল্যান্সেট প্ল্যানেটারি হেলথ' জার্নালে ২০১৮ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা দেখা যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান এবং এশিয়ান, বিশেষ করে ভারতীয়দের মধ্যে এই ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, তাঁদের জিনগত কারণের জন্য।

বজ্রঝড়ের সময়ে হাঁপানির সম্ভাবনা বাড়ে কেন?থান্ডারস্টর্ম অ্যাজ়মা ঘটার পিছনে কতগুলি ঘটনাক্রম রয়েছে। ঝড়ের সময় ঠান্ডা বাতাস নিচের দিকে নেমে আসে, সঙ্গে বয়ে নিয়ে আসে ধূলিকণা, ফুলের রেণু, ছত্রাকের রেণু বা ফাঙ্গাল স্পোর এবং মোল্ড। যে সমস্ত অঞ্চলে বাতাসে আর্দ্রতাবেশি, সেখানে গিয়ে এই ধূলিকণা, ফুল ও ছত্রাকের রেণু, এবং মোল্ড মেঘের সঙ্গে মেশে। মেঘের মধ্যে মেশার পর এই কণাগুলি আরও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয় বাতাস, আর্দ্রতা এবং বজ্রপাতের প্রভাবে। সাধারণত বড় আকারের রেণু ফুসফুস পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে না। কিন্তু আর্দ্রতা পেলে প্রাকৃতিকভাবেই ফুলে ওঠে এবং সহজে ফেটে গিয়ে ছোট ছোট কণায় পরিণত হয়। বজ্রঝড়ের সময়ে ধেয়ে আসা বাতাসের সঙ্গে এত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা আরও সহজে ঢুকতে নাক এবং মুখের মাধ্যমে শ্বাসনালী ও ফুসফুসে প্রবেশ করে।

জলবায়ু পরিবর্তন কতটা বাড়াচ্ছে থান্ডারস্টর্ম অ্যাজ়মার সম্ভাবনা?

বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন এমনিতেই অ্যাজ়মার মতো সমস্যা বাড়ায়। হাঁপানির মতো সমস্যা বাড়ার বড় একটি কারণ বাতাসে নানা রক, ক্ষতিকর গ্যাস এবং ভাসমান পদার্থের বৃদ্ধি, যার মধ্যে অন্যতম হল ওজো়ন গ্যাস, সালফার, সালফার ডাই অক্সাইড এবং সিলিকা।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝড়বৃষ্টির ঘটনা কমলেও, আগের থেকে ভয়ংকর ও রূঢ় হয়েছে তাদের প্রকৃতি। স্বাভাবিক ভাবেই তার ফলে থান্ডারস্টর্ম অ্যাজ়মার আশঙ্কা বাড়ছে।

থান্ডারস্টর্ম অ্যাজ়মার থেকে বাঁচার উপায় কী? আক্রান্ত হলে কী করণীয়?

দ্য ল্যান্সেট প্ল্যানেটারি হেলথ জার্নালে ২০১৮ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, যাঁদের হাঁপানির সমস্যা ইতিমধ্যেই রয়েছে, এই ধরনের আবহাওয়ায় তাঁদের বাড়ির বাইরে বেরনো যথাসম্ভব এড়িয়ে যাওয়া ভালো। তবে রোগীদের পাশাপাশি হাসপাতালের আপৎকালীন বিভাগের জরুরি অবস্থার জন্য তৈরি থাকা উচিত, বিশেষ করে যখন এই ধরনের আবহাওয়া দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

সংকটজনক অবস্থায় ব্রঙ্কডাইলেটারে খানিকটা উপশম হতে পারে বলেই দাবি করছে ইউনিভার্সিটি অফ মেলবোর্নের গবেষকরা (সূত্র: জার্নাল অফ ইনফ্ল্যামেশন রিসার্চ, ২০২১)। পাশাপাশি ২০১৯ সালে ইউরোপিয়ান রেস্পিরেটরি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় জানা যাচ্ছে, অ্যান্টি-ইমিউনোগ্লোবিন ই সেবনে সব বয়সের রোগীরা থান্ডারস্টর্ম অ্যাজ়মার হাত থেকে সুরাহা পেয়েছেন।

তবে এই ধরনের ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, পরিবেশ সম্পর্কে উদাসীনতা কাটিয়ে এবার অন্তত আমাদের সচেতন হতে হবে। কেবল জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কেই অবহিত হলে হবে না, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের শরীরের কী কী ক্ষতি নিত্যনৈমিত্তিকভাবে ঘটছে, সে বিষয়েও আমাদের সজাগ থাকতে হবে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।