জলের নিচে যোগাসন! সাধারণ ব্যায়ামের থেকে বহুগুণে বাড়াবে মনোবল

জীবনে নতুনভাবে বাঁচার জন্য যোগাসন অত্যন্ত জরুরি। হতাশা, মানসিক অবসাদ কাটানোর পাশাপাশি মনকে শান্ত রাখতেও যোগাসন গুরুত্বপূর্ণ। জলের নিচে করা যোগাসন মানুষের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে।

Ravhali Biswas
৫ মিনিট
জলের নিচে যোগাসন! সাধারণ ব্যায়ামের থেকে বহুগুণে বাড়াবে মনোবল

প্রতিদিন সকালে উঠে শারীরিক কসরত করতে কারই বা ভালো লাগে? এর থেকে শুয়ে শুয়ে বই পড়া, মোবাইল ঘাঁটা, ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করা অনেক বেটার। সকালে উঠে ব্যায়ামের কথা ভাবা বেশিরভাগ মানুষের কাছেই বিরক্তিকর। কিন্তু সকালে ব্যায়াম করে শরীর ঘামানো যতই অপছন্দের হোক, সুস্থ থাকতে ব্যায়ামের বিকল্প আর নেই। তাই যাঁরা ওয়ার্কআউট করতে পছন্দ করেন না, তাঁদের জন্য যোগাসন বেস্ট অপশন। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যোগাসন এখন জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর হবে নাই-ই বা কেন? যোগব্যায়ামের দ্বারা তৈরি হওয়া মনঃসংযোগ যে কতটা উপকারী, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শরীর আর মন চাঙ্গা রাখতে যোগব্যায়াম অনন্য।

যোগাসন কবে থেকে শুরু হয়েছে, এ নিয়ে বহু বিতর্ক আছে। কিছুদিন আগেও পশ্চিমের শিক্ষিতরা এটাই বিশ্বাস করতেন যে, যোগাসন আবিষ্কৃত হয় ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, যখন বৌদ্ধ ধর্মের সূত্রপাত হয়। যদিও, হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়োর সর্বশেষ খননকার্যের ফলে যে সব নিদর্শন পাওয়া গেছে, তাতে যোগাসনের বিভিন্ন ভঙ্গিমার ছবিও আছে। এর থেকেই বোঝা যায় যে, খ্রিস্টের জন্মের ৫০০০ বছর আগেও যোগাভ্যাসের প্রচলন ছিল। সে যাই হোক, আমাদের সুবিধের জন্য আমরা যোগাসনের ইতিহাসকে ৬টি যুগে ভাগ করে নিয়েছি। আমরা এই আধুনিক যুগে যে যোগাসন করি, তার সঙ্গে হয়তো পুরনো কোনও যুগের ব্যায়ামের মিল নেই কিন্তু অনেকের অনুমান, পতঞ্জলির যোগব্যায়ামের ওপর ভিত্তি করেই আমাদের আধুনিক যোগব্যায়াম তৈরি হয়েছে।

২১ জুন, ২০২২-এ ছিল আন্তর্জাতিক যোগব্যায়াম দিবস। এই বছরের থিম ছিল ‘Yoga for Humanity’। যোগব্যায়ামের ইতিহাস আর ঐতিহ্য নিয়ে আমরা গর্বিত। প্রাচীনের সঙ্গে নতুনের মিলন সবসময়ই কিছু না কিছু সুন্দর জিনিসের সৃষ্টি করে। যোগব্যায়ামের।ইতিহাসে তাই নতুন এক সংযোজন হলো ‘আন্ডারওয়াটার যোগাসন’। নামে যেমন নতুনত্ব, তেমনই এই যোগাসন অন্য যোগাসনের থেকেও একটু ভিন্ন।

প্রত্যেকদিন একই বোরিং যোগাসন করতে করতে মন খারাপ? তাহলে আর কী, নিজের শরীর, মন আর আত্মাকে সতেজ করতে ঝাঁপ দিন সুইমিং পুলে। জলের নিচে ওয়ার্কআউট বেশিরভাগ মানুষের কাছেই নতুন বিষয় নয়। গবেষণাতেও দেখা গেছে যে, জলের নিচে ওয়ার্কআউট করলে আমাদের ওজন কমে, টোনড মাসল ও স্ট্যামিনা বাড়াতেও সাহায্য করে। এই আন্ডারওয়াটার যোগা-র বিশেষত্ব হল এই যোগাসনে।জলের নিচে থাকাকালীন যোগব্যায়ামের নানা কৌশল অবলম্বন করা হয়। শরীর ফিট রাখতে আর মনোবল বাড়াতে শরীরচর্চার আরেক নাম এই আন্ডারওয়াটার যোগা। জলের নিচে দীর্ঘ সময় ধরে শ্বাস ধরে রাখা এক অভিনব ক্ষমতা। সকলের তা থাকে না। যারা সুইমিং করতে ভালবাসেন, তাদের পক্ষে জলের মধ্যে অনেকক্ষণ ধরে শ্বাস ধরে রাখা সহজ।

হরিয়ানার হিসার জেলার আর্য নগর গ্রামের কমল কালোই দীর্ঘদিন ধরে জলের নিচে যোগব্যায়াম করে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লিখিয়েছেন। তবে তিনি শুধু তাঁর গ্রাম বা রাজ্য নয়, সারা বিশ্বে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। কমল কালোইয়ের দাদা সতেন্দ্র কালোইয়ের কথায়, কমল কালোই দেশের প্রথম যোগব্যায়াম শিক্ষক, যিনি গিনেস বুকে নিজের নাম নথিভুক্ত করেছেন। প্রানায়ামের মাধ্যমে তিনি শ্বাসপ্রশ্বাসকে এতটাই শক্তিশালী করেছেন যে, তিনি ৮ মিনিটের জন্য জলের নিচে শ্বাস আটকে রাখতে পারেন। তিনি জলের নিচে যে যে যোগব্যায়ামগুলি করেছিলেন, তা হল ধনুরাসন, পরিবৃত্ত জুন শীর্ষাসন, হনুমানাসন, উপবিষ্ঠ কোনাসন, পূর্ণচক্রাসন ইত্যাদি। কমল কালোইয়ের কথায়, মেঝেতে বসে যে আসনগুলো কঠিন মনে হয়, জলের নিচে সেই আসন করা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। জলের চাপে শরীরের ওপরেও চাপ পড়ে যার ফলে হাত-পা চালাতে অনেক শক্তির ক্ষয় হয়। যত সময় বাড়তে থাকে, তত অক্সিজেন কমতে থাকে আর সেই সঙ্গে শরীরের শক্তিও আস্তে আস্তে কমে আসতে থাকে।

আন্ডারওয়াটার যোগব্যায়ামের সুবিধা

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
নতুন জীবন দেবে এই অভ্যাস, সুস্থ থাকতে আজও যোগাসনের বিকল্প নেই

যোগ শুরুর প্রথম দিকে সামান্য কঠিন মনে হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যোগের এমন কিছু শারীরিক ভঙ্গি রয়েছে, যা একজন ব্যক্তিকে সুস্থ জীবনযাপন করতে সাহায্য করবে।

আমরা সবাই জানি যে, নিয়মিত যোগব্যায়াম করলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা কমায়, ফ্যাট কমে এবং শরীরকে ফ্লেক্সিবল করে তোলে। কিন্তু জলের নিচে যোগব্যায়াম, মাটিতে বা মেঝেতে করা যোগব্যায়ামের তুলনায় আরও বেশি সুবিধা দেয়।

১. মানসিক চাপ কমায়

আজকের দিনে মানসিক চাপ এক গুরুতর সমস্যা। তরুণ থেকে প্রবীণ, সকলেই এই মানসিক চাপ থেকে বাঁচতে ওষুধ নয়তো রিহ্যাবের দ্বারস্থ হন। স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য যা মোটেই উপকারি নয়। মানসিক চাপ থেকে অবসাদ, বিষণ্ণতা আসে। আর যোগাসনের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ নতুন নয়। তবে জলের নিচে মেডিটেশন করার কৌশল অবলম্বন করে হতাশা কাটানো সম্ভব।

২. শারীরিক ভারসাম্য বজায়

জলের নিচে থাকাকালীন জল একটি বিপরীত শক্তি হিসেবে কাজ করে, যা আমাদের শরীরকে ঊর্ধ্বমুখে ঠেলে দেয়। তাই এই ধরনের পরিবেশে জটিল যোগব্যায়াম করা অনেক সহজ হয়ে যায়। একজন লো স্ট্যামিনা এবং মিনিমাম ফ্লেক্সিবিলিটির ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই আন্ডারওয়াটার যোগাসন ‘শাপে বর’-এর মতো কাজ করে।

৩. হার্ট সুস্থ রাখে

জলের নিচে থাকলে নাকি আমাদের হার্ট ভালো থাকে। জলের নিচে থাকাকালীন জল আমাদের শরীরের সমস্ত অংশে সমানভাবে চাপ সৃষ্টি করে যার ফলে হৃদপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালন সহজ হয়। অন্যদিকে জল আমাদের রক্তচাপ এবং হার্ট রেট কমিয়ে দেয়, যা আমাদের স্ট্যামিনা তৈরিতে সাহায্য করে।

৪. শ্বাসকষ্ট কমায়

শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি দূর করতে আন্ডারওয়াটার যোগাসন করতে পারেন। সাঁতার আর ডাইভিং-এর মতো জলের নিচে শ্বাসপ্রশ্বাসের ক্ষমতা বাড়াতে এই যোগাসন কার্যকর।

কী করবেন আর কী করবেন না

এই যোগব্যায়াম যতই আকর্ষণীয় বা উত্তেজনা সৃষ্টিকারি হোক না কেন, যে কোনও যোগব্যায়ামই যদি সঠিক উপায়ে না করা হয়, তাহলে তা ভালোর থেকে ক্ষতি করে বেশি। যোগাসন এক্সপার্ট আম্রপালি পাটিলের কথায়, “যোগব্যায়াম হলো মন-শরীরের আত্মার মিলন এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল, যাকে আমরা প্রাণায়াম বলে থাকি। এটি আমাদের শরীরে অক্সিজেন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড আদানপ্রদানের ওপর ফোকাস করে।" কিছু মানুষ এই যোগাসন সুইমিং পুলে করেন, কেউ আবার জলের নিচে ১২-১৫ মিটার গভীরে গিয়ে এই যোগাসন করা পছন্দ করেন। তবে তাঁর মতে, বুক অবধি জলেই এই যোগাসন করা সবথেকে ভালো।

যোগাসন যত বেশি কঠিন হবে, তত বেশি মানসিক শান্তি অর্জন করতে পারবেন। আমাদের দেশে এই আন্ডারওয়াটার যোগাসন কনসেপ্টটি নতুন হলেও ২০২০ সালের ১ মে দুবাইতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল অনলাইন আন্ডারওয়াটার যোগাসন। সম্প্রতি একটি খবর থেকে জানা যায় যে, মালদ্বীপে একটি জলের নিচে থাকা রেস্তোরাঁ ভেঙে ফেলে সেখানে আন্ডারওয়াটার যোগাসন শেখানোর কথা ভাবা হচ্ছে। আর শুধু যোগাসন করা মানুষই নয়, সমুদ্রের নিচে থাকা কচ্ছপ, ডলফিন, হাঙরও আপনাকে ঘিরে থাকবে। এ এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

জীবনে নতুনভাবে বাঁচার জন্য যোগাসন অত্যন্ত জরুরি। হতাশা, মানসিক অবসাদ কাটানোর পাশাপাশি মনকে শান্ত রাখতেও যোগাসন গুরুত্বপূর্ণ। জলের নিচে করা যোগাসন মানুষের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। জলের নিচে অনেকক্ষণ বসে যোগব্যায়াম করা আমাদের ধৈর্যের আরেক পরীক্ষা বলতে পারেন, যা আমাদের স্থির হতে শেখায়। গরমকালে জলের নিচে যোগব্যায়াম অনেক প্রচলিত। কিন্তু যারা নিয়মিত যোগব্যায়াম করেন, তাঁরা সারা বছর ধরে এই যোগাসন করতে পারেন। তবে যাঁরা জলে অভ্যস্ত নন, তাঁরা অবশ্যই বিশেষজ্ঞর সাহায্য ছাড়া জলের নিচে যোগাসন করতে যাবেন না, তাতে হিতে-বিপরীত হতে পারে।

লিখেছেন
Ravhali Biswas
Ravhali Biswas
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

চিনির বিকল্প স্টেভিয়া! ঘরের বাগানে রাখা যায় যে ‘মধু পাতা’

Stevia benefits: গাছ থেকে সদ্য তোলা কাঁচা পাতা কিংবা রোদে শুকিয়ে নেওয়া পাতা সরাসরি চা বা যেকোনো পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়। এতে চিনির মতো একই রকম মিষ্টতা পাওয়া যায়। স্টিভিয়ার নির্যাস থেকে তৈরি মিষ্টান্ন ডায়াবেটিস রোগীরা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে।

ফুটপাথের ধারের সেই খাবার যেভাবে হয়ে উঠল কলকাতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

Kolkata Street food history: সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলিকাতার শ্রমজীবী মানুষের তৃপ্তির জন্য জন্ম হয়েছিল ফুটপাতের খাবারের। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' থেকে হুতোম প্যাঁচার নকশা, এফএও সমীক্ষা থেকে এফএসএসএআই আইন হয়ে ২০২৫ সালে রাসেল স্ট্রিটে প্লাস্টিক-মুক্ত ফুড হাবের জন্ম। কলকাতার স্ট্রিট ফুড আজও এই শহরের প্রাণ। এই শহরের অন্যতম ঐতিহ্য।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি কেন আরশোলার মৃত্যুতে দুঃখ পেয়েছিলেন?

Sanae Takaichi cockroach story: ঘটনাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সরকারি বাসভবনে গভীর রাতে একা কাজ করতে গিয়ে তিনি একটি আরশোলা দেখতে পেয়েছিলেন। সচরাচর আরশোলা দেখলে তিনি চিৎকার করে ওঠেন, কিন্তু সেদিন তিনি সেটিকে মারেননি।

স্ট্রেস কি সবসময় খারাপ? কখন স্বাভাবিক চাপ হয়ে ওঠে মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি?

mental stress: একটি ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করতে গিয়ে তারা দেখেছেন, একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত ইঁদুরটির মধ্যে স্ট্রেস বাড়ানোর সঙ্গে তার কাজকর্মের মান আরও উন্নত হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সীমা পার করবার পর পরই তার ফলাফল করার সর্বোচ্চ সম্ভাবনা ক্রমশ কমতে কমতে শেষে সেটা প্রায় শূন্যতে নেমে গিয়েছে।

নিজের সর্বস্ব দিয়ে হাসপাতাল গড়েছিলেন রাধাগোবিন্দ কর

History of RG Kar Medical College and Hospital: আজ যে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল বারবার খবরের শিরোনামে, তার দীর্ঘ ইতিহাস কী? কে ছিলেন রাধাগোবিন্দ কর, যিনি নিজের সম্পত্তি বিক্রি করে গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল গড়ে তুলেছিলেন? প্লেগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বাংলায় চিকিৎসাবিজ্ঞান চর্চা ও সমাজসেবায় তাঁর অবদান আজ কতটা মনে রাখা হয়েছে?

হিরোশিমা-নাগাসাকির আগুন থেকে বেঁচে যাঁরা, কেমন ছিল তাঁদের পরের জীবন?

Hiroshima, Nagasaki: বিস্ফোরণের বহু বছর পর এমিকোর ঘরে মেয়ে এল, আর তারও পর জন্ম নিল এমিকোর নাতনি কাজুমি কুওয়াহারা। নবজাতক নাতনিকে দেখে চিকিৎসকেরা পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, "এই বাচ্চা তিন দিনের বেশি বাঁচবে না।" জিনের ভিতরে লুকিয়ে থাকা কোনো অজানা দুর্বলতা যেন জন্ম থেকেই জাপটে ধরেছিল ছোট কাজুমিকে।

কেন কম ঘুমেও কেউ সুস্থ, কেউ হারাচ্ছেন স্মৃতি? জানালেন গবেষকরা

sleep deprivation and brain health: গবেষণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে AQP4 (Aquaporin-4) নামে একটি জিন। এই জিনকে অনেকটা মস্তিষ্কের 'সাফাই কর্মী' বলা যায়। আমরা যখন গভীর ঘুমে থাকি, তখন মস্তিষ্কে শুরু হয় এক বিশেষ পরিষ্কার করার কাজ। সারাদিনে জমে থাকা বর্জ্য এবং আলঝাইমার্স রোগের সঙ্গে যুক্ত ক্ষতিকর প্রোটিন এই সময় ধীরে ধীরে শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে। আর সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজে বড় ভূমিকা পালন করে AQP4 জিন।