সারা দেহটাই চুলের ডেলা! যে বিরল রোগে আক্রান্ত সদ্যোজাত
Baby born with Full Body Hair: রোগটি এতটাই বিরল যে প্রায় ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ নবজাতকের মধ্যে মাত্র ১ জন এতে আক্রান্ত হয়।

সারা দেহের প্রায় সবটুকুই কালো। ছোট্ট, একরত্তি দেহ, থিকথিক করছে চুলে! উত্তরপ্রদেশের হারদোইতে বিরল এই ঘটনাটিই ঘটেছে। সদ্যোজাত শিশুর দেহ জুড়ে কেবলই ঘন, কালো চুল। নিউইয়র্ক পোস্ট জানাচ্ছে, পুত্রশিশুটির প্রসব ঘটে স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু জন্মের ঠিক পরমুহূর্তেই দেখা যায় শিশুটির শরীরের ৬০ শতাংশ কালো চুলে ঢাকা। জন্মের পর, শিশুটিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ইকরাম হোসেনের কাছে পাঠানো হয়। তিনি জানান, বিরল একটি রোগে আক্রান্ত সদ্যোজাত। এই রোগের নাম, জায়ান্ট কনজেনিটাল মেলানোসাইটিক নেভাস, এটি ত্বকের এক বিরল ব্যাধি।
জায়ান্ট কনজেনিটাল মেলানোসাইটিক নেভাস আসলে কী?
চিকিৎসকদের কথায়, এটি ত্বকের এমন এক অবস্থা যাতে চামড়ার অংশ বা প্যাচ (নেভাস) অস্বাভাবিক কালো হয়, এটি মেলানোসাইটস নামের রঞ্জক-উৎপাদনকারী কোশ দ্বারা গঠিত। রোগটি এতটাই বিরল যে প্রায় ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ নবজাতকের মধ্যে মাত্র ১ জন এতে আক্রান্ত হয়। একের বেশি নেভাস বা প্যাচও হতে পারে, সেক্ষাত্রে একটি বড় প্যাচ এবং অন্যান্য ছোট প্যাচ দেখা যেতে পারে দেহে। একাধিক ছোট নেভি বা প্যাচকে স্যাটেলাইট নেভিও বলা হয়। এটি সাধারণত ক্যান্সারবিহীন, তবে ৫-১০ শতাংশ ব্যক্তির মধ্যে মেলানোমা নামক মারাত্মক ত্বকের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Shower in Winter Causes Heart Attack: হঠাৎ শীতকালে ফুটন্ত জলে স্নান করলে দ্রুত রক্তচাপ কমে যেতে পারে, যা আবার হার্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
হয় এই অবস্থা প্রসবের পরপরই প্রকাশ পায় বা জন্ম থেকেই উপস্থিত থাকে। নেভাস শৈশবকালে অল্প আকারে থাকলেও, সাধারণত শরীরের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে একই হারে বৃদ্ধি পায়। হালকা বাদামী বা কালো রঙের এই প্যাচ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গাঢ় বা হালকা হতে পারে। নেভাস খসখসে, খড়খড়ে, ঘন বা আঁশযুক্ত হতে পারে।
লক্ষণ
জায়ান্ট কনজেনিটাল মেলানোসাইটিক নেভাস ত্বকের শুষ্কতা সৃষ্টি করতে পারে যা ডার্মাটাইটিসের মতো জ্বালা এবং চুলকানির কারণ হতে পারে। এই প্যাচের উপর চুলের বৃদ্ধি ঘটাতে পারে যাকে হাইপারট্রিকোসিসও বলা হয়। এর ফলে নিউরোকিউটেনিয়াস মেলানোসিসও হতে পারে, যার ফলে মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডকে ঢেকে রাখা টিস্যুতে রঞ্জক-উৎপাদনকারী ত্বকের কোষের (মেলানোসাইট) উপস্থিতি দেখা দেয়। এই মেলানোসাইটের বৃদ্ধি মস্তিষ্কে চাপ বাড়াতে পারে, যার ফলে মাথাব্যথা, বমি, খিটখিটে ভাব, খিঁচুনি এবং শরীর নড়াচড়ার সমস্যা হতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত টিউমারও হতে পারে।
চিকিৎসা
প্লাস্টিক সার্জারিই এখনও মূল চিকিত্সা। তবে গ্রাফটিং বা অ্যাবলেশন, ডার্মাব্রেশন বা কিউরেটেজ ব্যবহার করে ত্বক প্রতিস্থাপন করা হয়। প্রতিস্থাপনের ত্বক দেহের অন্যান্য অঞ্চল থেকে নিয়ে বা ডোনার গ্রাফটিং করেও বসানো সম্ভব।






