ইরানের স্কুলে হামলা ট্রাম্পের নির্দেশেই?

Iran School Strike: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রথমদিকে এই হামলার জন্য ইরানকে দোষারোপ করার চেষ্টা করেছিলেন, এমনকী প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, ইরানি মিসাইল বা ভুল নির্দেশে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

inscript
২ মিনিট
ইরানের স্কুলে হামলা  ট্রাম্পের নির্দেশেই?

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাব‑এ ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ঘটনা। ওই দিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ধ্বংস হয়ে যায়। হামলায় ১৫০ জনেরও বেশি নিহত হয়। প্রাথমিক ভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও, কেউই এর দায় স্বীকার করেনি। কিন্তু এখন একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন বলছে, এটি ছিল একটি ভুল টার্গেটিং মিশন — অর্থাৎ ভুল তথ্যের ভিত্তিতে মার্কিন বাহিনীই ওই স্কুলকে নিশানা করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলী বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছিল। কিন্তু স্কুলটি কি করে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে গেল, এবং কেন এমন ভয়াবহ ভুল হলো? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্ত। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, মার্কিন সেনাবাহিনী 'টমাহক' নামের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল, যা সাধারণত সামুদ্রিক ও স্থল লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবহৃত হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হরমুজে সংকট: কেন তেলের দাম সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ভারত?

Hormuz Strait Crisis: ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর সরকার তেল আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছিল। তখন ভারতের তেল আমদানির নির্ভরতা ছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ। লক্ষ্য ছিল তা কমিয়ে দুই-তৃতীয়াংশে নামানো। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টো।

তদন্তে জানা গিয়েছে, টার্গেট কোঅর্ডিনেটগুলি পুরনো ও অব্যবহৃত তথ্য থেকে নেওয়া হয়েছিল। এই তথ্যটি প্রদান করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, কিন্তু পরে দেখা গিয়েছে সেই তথ্যটি ভুল ছিল। কারণ, স্কুলটি সেই আগে থাকা সামরিক স্থল থেকে অনেক আগেই আলাদা হয়ে গিয়ে একেবারেই সিভিলিয়ান ব্যবহারে বদলে গিয়েছিল। কিন্তু ভুল তথ্যের ভিত্তিতে ওই স্থান এখনও একটি সামরিক লক্ষ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল, এবং যখন সেই ভুল তথ্য মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ডে পৌঁছেছিল, তখন তা যাচাই করা হয়নি।

ফলস্বরূপ, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রটি স্কুলের দিকে ছোঁড়া হয়, আর বিস্ফোরণে স্কুলটি ধ্বংস হয়ে যায়। নিহতদের ছবি ও ভিডিও ইরানের রাষ্ট্র টেলিভিশনে দেখানো হয়েছে, যেখানে কফিনগুলি ইরানের পতাকায় মোড়ানো অবস্থায় দেখা গিয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
পেন্টাগন থেকে কুর্দিস্তান: তেহরান পতনে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ‘নর্দান অ্যালায়েন্স’ কৌশল  

Trump’s Kurdistan Strategy: নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল, যদি সরাসরি সংঘাত শুরু হয়, তবে কুর্দিরা ইরানের অভ্যন্তরে বিদ্রোহ ঘটিয়ে বা সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

এই হামলার পর আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক নিন্দা দেখা গিয়েছে। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞেরা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞরা বলেন, যে কোনো সময়ে যদি সিভিলিয়ান স্থাপনা— বিশেষত স্কুল বা হাসপাতাল লক্ষ্যহীনভাবে বা ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করে আক্রমণ হয়, তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এবং যুদ্ধাপরাধ হিসেবে ধরা হতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রথমদিকে এই হামলার জন্য ইরানকে দোষারোপ করার চেষ্টা করেছিলেন, এমনকী প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, ইরানি মিসাইল বা ভুল নির্দেশে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

এ ঘটনার সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব ইতোমধ্যেই অনুভূত হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা হচ্ছে, বিশেষ করে এমন ভুল লক্ষ্যবস্তুর কারণে সাধারণ মানুষ মারা যাওয়া নিয়ে।‌ অনেকে এই ঘটনাকে কোনো নির্দিষ্ট যুদ্ধের অংশ হিসেবে না দেখে একটি বড় নাগরিক সুরক্ষার সমস্যা হিসেবে দেখছেন, যা ভবিষ্যতের যে কোনো যুদ্ধের ন্যায্যতা ও নীতিগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন? প্রশ্ন শিক্ষামহলের

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

যন্তর মন্তরে ঢুকে বিক্ষোভ, পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে সিজেপি-র দুই নেতা

Jantar Mantar protest: যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জেরে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠাল আদালত। নির্বাচন কমিশন, এসআইআর এবং প্রতিবাদের অধিকার ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক।

দিল্লিতে মহিলা বিক্ষোভকারীদের হেনস্থার অভিযোগ, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে যে সব প্রশ্ন

Delhi protest: দিল্লিতে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ঘিরে মহিলা আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে হেনস্থা ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

২৩ দিনের অনশন থেকে জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন, রাজপথই নেহা বোরার হয়ে ওঠার সাক্ষী

Neha Bora: ২৩ দিন ধরে অনশন করে যেমন তিনি সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছিলেন, তেমনই সম্প্রতি দিল্লির রাজপথে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।