ফের কেন গোপনে দিল্লিতে পা রাখলেন মুকুল রায়?
Mukul Roy in Delhi : সোমবার রাতে আচমকা হুলুস্থূল চারদিকে, নিখোঁজ হেভিওয়েট মুকুল রায়! দিল্লির উদ্দেশ্যে কেন এমন গোপন সফর?

নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিতে হুলুস্থুল শুরু হয়ে গিয়েছে চারদিকে, এমনকী দু-দুটো থানায় এই মর্মে ডাইরি করা হয়েছে। দুম করে একটা জলজ্যান্ত মানুষ উধাও! তার ওপর তিনি আবার তৃণমূলের হেভি ওয়েট নেতা! বেশ কিছুদিন যাবৎ নিজের বলা অসঙ্গত কথার জালে বারবার জর্জরিত হয়ে পড়ছিলেন কৃষ্ণনগর উত্তরের নেতা মুকুল রায়। ফলে তাঁর এই আচমকা ‘ভ্যানিশ’ রহস্য নিয়ে শুরু থেকে তরজা তুঙ্গে।
খোঁজ মিলছে না মুকুল রায়ের! সল্টলেকের বাড়ি থেকে 'উধাও' তৃণমূল নেতা, গতকাল থেকে এই মর্মেই চলছে আলোচনা। বাড়ির কেউও জানেন না কোথায় মুকুলবাবু! মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের দাবি, সল্টলেকের বাড়ি থেকে তাঁর বাবাকে নিয়ে যান ২ জন। তারপর থেকেই আর মুকুল রায়ের কোনও খোঁজ মেলে না। এমনকী ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ব্যর্থ হয়েছেন বলেই জানিয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে বাবার খোঁজ পেতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বীজপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mukul Roy: যে মুকুল তৃণমূলের জন্ম থেকে সংগঠন বাড়ানোর কাজে দক্ষ ভূমিকা পালন করেছিলেন, সেই মুকুলই ২০১৭ এর পর দল ভাঙাতে সফল হয়েছেন।
আর এই এতকিছু যখন চলছে, অন্যদিকে মুকুল ততক্ষণে দিল্লিগামী বিমানে সওয়ার। তাঁর ইন্ডিয়া এয়ার লাইন্সের বোর্ডিং পাসের ছবি মুহূর্তের মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। রাজধানীর বুকে রাত থেকেই টানটান উত্তেজনা। মুকুল ফের কেন দিল্লিতে, তাও আবার এমন লুকিয়ে চুরিয়ে, সন্তর্পণে? এই প্রশ্নের জট ক্রমশ ঘনীভূত হয়েছে। এমনিতেই রাজ্য রাজনীতিতে ‘মুকুল’ একটা বড় মুখ, ফলে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপই সরগরম পরিস্থিতি তৈরি করে যে, তা বলাই বাহুল্য। তার ওপর এমন আচমকা পদক্ষেপ সেই আলোচনায় ঘৃতাহুতি তো দেবেই খানিক। হলও ঠিক তাই।
ছেলেকে না জানিয়ে বাবার গোপন সফর দিল্লিতে, সঙ্গী বলতে দুই বিশ্বস্ত। তাহলে কি এ বিষয়ে নিজের ছেলেকেও বিশেষ বিশ্বাস করতে নারাজ রায়বাবু? প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির সর্বভারতীয় বৈঠকে যোগ দিতে শেষবার নয়াদিল্লি এসেছিলেন মুকুল রায়। তারপর সেভাবে আর দেখা যায়নি তাঁকে। যদিও ভোটের পর ছবিটা বদলে যায় আমূলে। বিজেপির জেতা বিধায়ক, ফিরে আসেন জোড়া ফুল শিবিরে। তবে কি এই আচমকা দিল্লি সফরও ফের কোনও গভীর রাজনৈতিক ইঙ্গিত দিচ্ছে কিংবা ভবিষ্যতে দেবে? আবার কি রদ বদল করে গেরুয়া শিবিরে ফেরার জল্পনা শুরু করে দিতেই তাঁর এই সফর? যদিও এ বিষয়ে এখনও কিছুই স্পষ্ট করেননি মুকুল রায় নিজে।
দিল্লিতে নামার পর সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খোলেন মুকুল রায়। তিনি অবশ্য বলেছেন, তিনি নাকি ‘এমনিই’ দিল্লি গেছেন। কেন এমন কথা বললেন তিনি? ফলে, মুকুল অন্তর্ধান রহস্য প্রকাশ্যে এলেও কারণ কিন্তু এখনও অজানা। বরং বলা ভালো, কারণটা বেশ রহস্যজনক। অবশ্য অন্যদিকে, রাজনীতির জল ঘোলা হওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি নতুন করে কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে ফোন করেন মুকুল রায়, দেখা করার জন্য সময়ও চান। যদিও ছেলে শুভ্রাংশু এতে প্রথম থেকেই বাধা দেন। তাঁর দাবি বাবার এই অসুস্থ শরীরে এই যোগাযোগ বিপ্রতীপ হতে পারে বলে। তবে কি এটাই মূল কারণ? এই জন্যই ছেলেকে না জানিয়ে গোপন সফর? কেউ কেউ অবশ্য বলছেন অন্য কথা। বলা হচ্ছে, নিজের চিকিৎসার জন্য পরামর্শ নিতে দিল্লি এইমসে গিয়ে থাকতে পারেন মুকুলবাবু। কিন্তু তাতেই বা কেন এমন গোপনীয়তা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ল? রহস্য দানা বেঁধেছে ঠিকই তবে এ সব নেহাতই তুচ্ছ, সবকিছুর মধ্যে মুকুলের বলা উত্তর “এমনি গেছি”, এটাই যে সবথেকে বড় রহস্য তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।






