লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত মহুয়া মৈত্র! কেন একটি কথাও বলতে দেওয়া হলো না সাংসদকে?

Mahua Moitra expelled from Lok Sabha : এথিক্স কমিটির প্রতিবেদনকে শিরোধার্য করেই, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই বহিষ্কার করা হয় মহুয়া মৈত্রকে।

inscript
২ মিনিট
লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত মহুয়া মৈত্র! কেন একটি কথাও বলতে দেওয়া হলো না সাংসদকে?

কী হতে চলেছে তা একপ্রকার জানাই ছিল। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা ছিল মাত্র। টাকা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলার অভিযোগে লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত হলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মহুয়া মৈত্র। লোকসভায় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী যে প্রস্তাব পেশ করেন, তা ধ্বনিভোটে পাস হয়ে যায়। 'ক্যাশ ফর কোয়ারি', দীর্ঘদিন ধরেই এই অভিযোগ বিজেপি তুলে এসেছে সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে। এথিক্স কমিটির প্রতিবেদন আসা মাত্রই লোকসভা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে মহুয়াকে। অভিযোগ ছিল, সংসদে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সমালোচনা করার জন্য, আক্রমণ করার জন্য ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানির কাছ থেকে নগদ ২ কোটি টাকা নিয়েছেন মহুয়া। এর পাশাপাশি বিবিধ 'বিলাস সামগ্রী'-ও উপহার হিসেবে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে৷

শুধু তাই নয়, সংসদের ওয়েবসাইটে একটি গোপন অ্যাকাউন্টে লগ-ইন বিষয়ক তথ্যও তিনি বাইরের ব্যক্তির সঙ্গে শেয়ার করেছেন বলে অভিযোগ যাতে হিরানন্দানি সরাসরি প্রশ্ন পোস্ট করতে পারেন। বরাবরই মোদি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন মহুয়া। তৃণমূল কংগ্রেসের এই মুখ বিজেপি বিরোধী তীব্র স্বর হিসেবে নিজেকে স্থাপন করেছিলেন দাপটেই। বহিষ্কারের ঘটনার আগে মহুয়া মৈত্র নিজেই জানিয়েছিলেন লগ-ইন তথ্য তিনি শেয়ার করেছিলেন ঠিকই কিন্তু ঘুষের অভিযোগ সর্বৈব মিথ্যা।

এথিক্স কমিটি প্রায় ৫০০ পাতার এক রিপোর্ট পেশ করে। এই প্রতিবেদন ঘিরে ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস সহ বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। প্রতিবেদনটি উপস্থাপিত হওয়ার পরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয় তা নিয়ে। বিরোধী সাংসদরা কমিটির এই ফলাফল খতিয়ে দেখার জন্য আরও সময় দাবি করেন। সংসদে মহুয়া মৈত্রকে বলতে দেওয়ার দাবিও ওঠে প্রবল। দাবি ধোপে টেকে না। এথিক্স কমিটির প্রতিবেদনকে শিরোধার্য করেই, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই বহিষ্কার করা হয় মহুয়া মৈত্রকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মহুয়া মৈত্রের 'চরিত্র' নিয়েই চর্চা স্রেফ! কোথায় গেল আদানির দুর্নীতির প্রশ্নগুলি?

Mahua Moitra : যে এথিক্স কমিটি মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ বাতিলের সুপারিশ করেছে তা স্পিকারের কাছে পৌঁছনোর আগে আদানি অধিগৃহীত এনডিটিভির কাছে কি করে চলে যায়?

লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা মহুয়া মৈত্রকে কথা বলার অনুমতি দিতে চাননি। ২০০৫ সালের একটি ঘটনার উদাহরণ টানেন তিনি। সেবার বিজেপির ছয়জন সহ ১০ জন সাংসদকে বহিষ্কার করা হয়েছিল এমনই এক বিতর্ক ওঠায়। সেইসময় লোকসভার স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, রিপোর্ট পেশ হয়ে যাওয়ার পর অভিযুক্ত সাংসদদের সংসদে কথা বলার কোনও অধিকার নেই।

মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে এথিক্স কমিটির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, "অবৈধ উপহার গ্রহণের অভিযোগগুলি স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং অনস্বীকার্য", এবং "সেই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে উপহার নেওয়া, যার সঙ্গে তিনি লগ-ইন ডিটেইলস শেয়ার করেছেন তা একজন সংসদ সদস্যের অসামাজিক এবং অনৈতিক আচরণ"।

বহিষ্কারের পর মহুয়া মৈত্র বলেন, এথিক্স কমিটি প্রমাণ ছাড়াই কাজটা করেছে। "... যদি এই মোদি সরকার মনে করে যে আমাকে বহিষ্কার করে তারা আদানি ইস্যুটি থামিয়ে দিতে পারে, তবে বলি যে তাড়াহুড়ো এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করেছেন আপনারা তা প্রমাণ করে যে আদানি আপনার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।"

এথিক্স কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ ছিল, "সাংসদ মহুয়া মৈত্র সপ্তদশ লোকসভার সদস্যপদ থেকে বহিষ্কৃত হতে পারেন"। কংগ্রেস সাংসদ মণীশ তেওয়ারি, তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জেডিইউ সাংসদ গিরিধারী যাদব কমিটির সুপারিশের বিরোধিতা করেছিলেন। অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ ডাঃ হিনা ভি গাভিত এবং অপরাজিতা সারঙ্গি এথিক্স কমিটির সুপারিশকে সমর্থন করেন। ওই রিপোর্টে মহুয়া মৈত্রের "অনৈতিক, জঘন্য এবং অপরাধমূলক আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কর্তৃক আইনি প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তের" আহ্বানও জানানো হয়েছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।

এসআইআর: বাংলায় ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব মুসলিম এলাকাগুলিতে ছ’গুণ বেশি, বলছে পরিসংখ্যান

Bengal Voter List Review: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা যাচাইয়ে বিচারাধীন ভোটারদের ক্ষেত্রে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলিতেই প্রভাব বেশি পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, এই এলাকাগুলিতে ভোটার যাচাইয়ের প্রভাব অন্যান্য এলাকার তুলনায় প্রায় ছ’গুণ বেশি। এই পার্থক্য কীভাবে তৈরি হলো, কোন এলাকার ভোটাররা বেশি প্রভাবিত হলেন এবং এর পিছনে কী কারণ রয়েছে?

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।