প্রিয় মানুষকে নিজের জন্য ডাকনাম রাখতে বলতেন যে লেখক

Amit Pratihar
৫ মিনিট
প্রিয় মানুষকে নিজের জন্য ডাকনাম রাখতে বলতেন যে লেখক

আদ্যপান্ত একজন যুদ্ধক্ষেত্রের মানুষ, অথচ কী রঙিন জীবন! এমনটা হয় না তা নয়, কিন্তু শেষটা এতটা মর্মান্তিক হোক, তা বোধহয় কেউই চান না। কিন্তু, কে এই লেখক এবং সাংবাদিক এবং... প্রেমিক?

একটু দেখে নেওয়া যাক।

বাবা ছিলেন একাধারে ফিজিশিয়ান এবং রোমাঞ্চপ্রিয়, ছোটবেলায় তাঁর কাছ থেকেই পেয়েছিলেন বিভিন্ন শহরে ঘুরে শিকার, মাছ ধরা ও ঘুরে বেড়ানোর আগ্রহ। কিন্তু বয়স বাড়তে থাকলে কর্মসূত্রে যুদ্ধের ময়দানে নামতে হল তাঁকে। একের পর এক মারান্তক বড় বড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হলেন অনেকবার। একটার পর একটা প্রেম তাঁর জীবনে এলো, সঙ্গে নিয়ে এলো লেখার রসদ। জিতলেন পুলিৎজার, নোবেল। প্রিয় মানুষদের প্রত্যেকের আলাদা আলাদা ডাকনাম রাখলেন, চিঠি লিখলেন প্রেমের। কিন্তু শেষে যে পরিণাম হল তার পরিকল্পনা বোধ হয় কেউই করতে পারেননি কোনওদিন।

ছবি সৌজন্যে: https://www.esquire.com/১৮৯৯ সালের একুশে জুলাই আমেরিকার ওক পার্কে জন্মগ্রহণ করেন ভদ্রলোক। বাবা একজন ফিজিশিয়ান এবং মা সঙ্গীতশিল্পী। মাত্র এক বছরের মধ্যে জন্ম নেওয়া তাঁর দিদি এবং তাঁকে মা সবসময় যমজ সন্তান হিসেবেই মানুষ করতেন, এমনকি প্রায় তিন বছর বয়স অবধি চুল বড় রেখে দিদির পোশাক পরানো হতো তাঁকে। মা একজন বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী হওয়ায়, তার ছেলেকে রীতিমত জোর করে ভায়োলিন শিখতে বাধ্য করেছিলেন। প্রতি গ্রীষ্মে তিনি পরিবারের সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করতে যেতেন, তরুণ বয়সে বাবার সঙ্গে উত্তর মিশিগানের জঙ্গলে এবং হ্রদে শিকার, মাছ ধরা এবং শিবির করতে করতে পরবর্তী জীবনে ভ্রমণ এবং রোমাঞ্চপিপাসু হয়ে ওঠেন। স্বভাবতই বাবার সঙ্গে সম্পর্ক তুলনামূলকভাবে বেশি গভীর হয়েছিল তাঁর। ১৯১৭ সালে রিভার ফরেস্ট হাই স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং দুর্বল দৃষ্টিশক্তির জন্য প্রত্যাখ্যাত হন। এরপর একটি রেডক্রস সংস্থায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়ে ইতালিতে সামরিক অ্যাম্বুলেন্স চালক হিসেবে চলে যান প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষদিকে। এই চাকরির প্রথম দিনই মিলান শহরের একটি দুর্ঘটনা স্থলে পাঠানো হয় তাঁকে, যেখানে একটি যুদ্ধাস্ত্র কারখানায় বিস্ফোরণ হয়েছিল। পড়ে ১৯৩২ সালে প্রকাশিত একটু নন-ফিকশন বই 'ডেথ ইন দ্য আফটারনুন'-এ ঘটনাটি বর্ণনা করে ভদ্রলোক লিখেছিলেন, সেখানে মৃতদেহ খুঁজতে গিয়ে একটিও গোটা মৃতদেহ পাননি তাঁরা। এখানেই সহকর্মীদের জন্য চকলেট ও সিগারেট আনতে বেরিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুরুতরভাবে আহত হন তিনি। আহত হওয়া সত্ত্বেও ইতালিয় সৈন্যদের নিরাপত্তায় সহায়তা করে জিতে নেন 'মেরিট ক্রস' সম্মান। যদিও দুর্ঘটনায় দুই পায়ে গুরুতর আঘাত পেয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে কাটিয়েছিলেন তিনি। এই সময় বয়সে সাত বছরের বড় অ্যাগনেসের প্রেমে পড়েন ভদ্রলোক। অ্যাগনেস তাঁকে এই বলে প্রত্যাখ্যান করেন যে তিনি অন্য কোনও সম্পর্কে আবদ্ধ আছেন। নিজের দুর্ঘটনা এবং মন ভাঙার পর বাড়ি ফিরে আসা এই যুবক মানসিক ভাবে বিমর্ষ হয়ে পড়েন। এই সময় পরিচয় হয় হেডলির সঙ্গে এবং ক্রমে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দুজনে। ধীরে ধীরে এই সম্পর্ক বিয়েতে রূপান্তরিত হয়। এই বিয়ের পর জীবন সম্পূর্ণ বদলে যায় ভদ্রলোকের। কিন্তু ক্রমে সময় বদলায়, কাজের সূত্রে আলাপ হয় পলিন ফাইফারের সঙ্গে এবং একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দুজনে। প্যারিসে থাকাকালীন একটি ডাক মারফত জানতে পারেন নিজের পিতার আত্মঘাতী হওয়ার খবর। এই ঘটনায় বিধ্বস্থ হয়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন,'আমিও হয়তো একই ভাবে মারা যাব'। ১৯৩০ সালের নভেম্বরে, একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় তাঁর হাত ভেঙে যায়। প্রায় সাত সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। ১৯৩৭ সালে, একটি সংবাদ মাধ্যমের হয়ে স্পেনের গৃহযুদ্ধে সাংবাদিকতা করার জন্য যান তিনি। স্ত্রী পলিন তাঁকে যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করতে বারণ করা সত্ত্বেও জোর করে গিয়েছিলেন সেখানে। এই সময় বিচ্ছেদ হয় দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে এবং পরিচয় হয় মার্থা গেলহর্নের সঙ্গে। ১৯৪০ সালে তার সাথে বিয়ের বন্ধনে জুড়ে যান তিনি। মার্থা তাঁকে তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস, 'ফর হোম দ্য বেল টোলস' লিখতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন।

এতক্ষণ হয়তো অনেকেই বুঝতে পেরে গিয়েছেন যে, ওপরে বর্ণিত গল্পটি বিখ্যাত লেখক, সাংবাদিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের জীবন নিয়ে লিখিত। যাঁরা জানেন না তাঁদের জন্য আরও ভয়ঙ্কর কিছু মোড়কের উন্মোচন এখনও বাকি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন স্ত্রী মার্থাকে বিস্ফোরক ভর্তি একটি জাহাজে বাধ্য হয়ে আটলান্টিক অতিক্রম করতে হয় কারণ হেমিংওয়ে তাঁকে একটি বিমানে প্রেস পাস পেতে সাহায্য করতে অস্বীকার করেছিলেন। বহু কষ্টে ফিরতে পেরে মার্থা যখন আর্নেস্টের কাছে পৌঁছন তখন জানতে পারেন তিনি একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কারণে হাসপাতালে ভর্তি। কিন্তু তাঁর পরিস্থিতি দেখে তাঁর প্রতি একটুও সহানুভূতিশীল ছিলেন না তাঁর তৃতীয় স্ত্রী; তারপর পুনরায় আরেকটা সম্পর্ক ভেঙে সদ্যপরিচিতা ম্যারি ওয়েলশকে বিবাহপ্রস্তাব দেন আর্নেস্ট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তাঁর সাহসিকতার জন্য হেমিংওয়েকে একটি ব্রোঞ্জ স্টার প্রদান করা হয়। ১৯৪৬ সালে তিনি ম্যারিকে বিয়ে করেন। ১৯৪৫ সালের একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় তাঁর হাঁটু ভেঙে যায় এবং আরেকটি দুর্ঘটনায় কপালে গভীর চোট পান। একই সময়ে স্ত্রী ম্যারি প্রথমে তার ডান পায়ের গোড়ালি এবং পরবর্তীতে স্কিইং দুর্ঘটনায় তার বাঁ পায়ের গোড়ালি ভেঙে ফেলেন। দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয় ছেলে প্যাট্রিকও। এর আগে থেকেই ক্রমশ হতাশায় ডুবে যেতে থাকেন একের পর এক পাঁচ বন্ধুর মৃত্যুর খবরে। এই সময় মানসিক সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপে ভুগতে শুরু করেন তিনি। রোমান্টিক এই লেখক এরমধ্যেই স্ত্রী ম্যারির সঙ্গে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে এক ১৯ বছর বয়সী তরুণী আদ্রিয়ানার প্রেমে পড়েন, যদিও এই সম্পর্কটি বেশি দূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এই সময় প্রবল অসুস্থতা নিয়েই মাত্র আট সপ্তাহের মধ্যে 'দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি' লিখেছিলেন তিনি, এবং ১৯৫২ সালে জিতে নেন পুলিৎজার পুরস্কার। আফ্রিকায় থাকাকালীন, স্ত্রী ম্যারিকে উপহার দিতে গিয়ে প্রথমদিন সস্ত্রীক বিমান দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন। পরদিন, চিকিৎসা করাতে যাওয়ার সময় আবার সস্ত্রীক বিমানে চড়েন এবং বিমানটি বিস্ফোরিত হয়। এর কদিন পর একটি বিস্ফোরণে আবার আহত হন তিনি, পুড়ে যায় অর্ধেক শরীর। ক্রমে অকেজো হয়ে যায় একটি কিডনি, লিভার। ১৯৫৪ সালের অক্টোবরে, হেমিংওয়ে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। কিন্তু ক্রমশ শারীরিক এবং মানসিক পরিস্থিতির অধঃপতন হলে ২ জুলাই, ১৯৬২-র ভোরে তাঁর প্রিয় বন্দুক দিয়ে আত্মহত্যা করেন আর্নেস্ট হেমিংওয়ে।

ছবি সৌজন্যে : https://www.esquire.com/আগাগোড়া সাহসী সামরিক কর্মী, লেখক এবং কর্মদক্ষ সাংবাদিক ভদ্রলোক আদতে ছিলেন একজন চুড়ান্ত প্রেমিকও। নিজের জীবনে যে তিনি বারবার প্রেমে পড়েছেন তা নয়, তাই নিয়ে একের পর এক লিখে গেছেন উপন্যাস। প্রেমিকাদের চিঠি লিখেছেন যেমন রসালো ভাবে তেমন ভাবেই বিড়াল পুষতেন এবং আদুরে নাম রাখতেন তাদের। প্রথম স্ত্রী হ্যাডলিকে বিয়ে করার পর নিজের জীবন বদলে যাওয়া যেমন স্বীকার করেছেন, দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের সময় নাটকীয় ভাবে ভেঙেও পড়েছেন। ফুল দিয়ে সাজিয়েছেন নিজের বাড়ি, চিঠির শেষে নিজের নামের জায়গায় লিখেছেন 'তোমার প্রিয় পাপা', প্রতিটা প্রিয় মানুষকে নিজের জন্য ডাকনাম রাখতে বলতেন তিনি। এমনকি আত্মহত্যার সময় বেছে নেওয়া বন্দুকটিকেও নিজের বন্ধু বলতেন আর্নেস্ট। নিজের শেষের বছরগুলিতে তাঁর আচরণ ছিল তাঁর বাবার মতো। জানা যায়, তাঁর এক বোন এবং এক ভাইও আত্মহত্যা করেছিলেন। হেমিংওয়ের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ব্যাখ্যা করার জন্য বেশ কিছু তত্ত্বের উদ্ভব হয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে যে, তাঁর জীবনের একাধিক দুর্ঘটনা তাঁকে দীর্ঘস্থায়ী বিষাদের পরিস্থিতির মধ্যে নিয়ে গিয়েছিল, যা পরবর্তীকালে তাঁকে আত্মহত্যার দিকে পরিচালিত করে।

লিখেছেন
Amit Pratihar
Amit Pratihar
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।