২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল
Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

করোনা অতিমারী পরবর্তী ঝড়ের গতিতে বদলেছে আমাদের সমাজের মন, বদলেছে বহু পুরনো অভ্যেস। শব্দভান্ডারে সংযোজিত হয়েছে হাজারো নতুন শব্দ। জেন জি এবং জেন আলফার দুর্বোধ্য স্ল্যাং থেকে শুরু করে, রাজনৈতিক স্লোগান, টেক হাব থেকে টেনিদার আড্ডা— জায়গা করে নিয়েছে নয়া লব্জ।
অক্সফোর্ড, কেমব্রিজ, কলিন্স, ম্যাককুয়ারি এবং ডিকশনারি ডট কম—প্রতি বছর এমন একটি শব্দ বেছে নেয় যা সেই বছরের 'zeitgeist' বা সময়চিহ্নকে ধারণ করে। কিন্তু ২০২৫ সালে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শব্দ নির্বাচনে একটি অভূতপূর্ব ঐক্য লক্ষ্য করা গেছে। এই বছরের প্রতিটি নির্বাচিত শব্দই প্রযুক্তির নেতিবাচক দিক এবং মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর তার প্রভাবের দিক নির্দেশ করছে।
অক্সফোর্ড ওয়ার্ড অফ দ্য ইয়ার হল— 'রেজ বেইট'। শব্দটি দুটি ইংরেজি শব্দের সমাহার, 'Rage' (প্রচণ্ড রাগ) এবং 'Bait' (টোপ)। যেমন মাছ ধরার জন্য টোপ ফেলা হয়, তেমনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য রাগের টোপ ফেলা হয়। এক ধরনের কন্টেন্ট ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হয় মানুষকে রাগিয়ে তোলার জন্য, যাতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে সেই পোস্টে কমেন্ট করে ও শেয়ার করে। এর ফলে পোস্টটির এনগেজমেন্ট বাড়ে। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম বা ইউটিউবের অ্যালগরিদমগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা 'হাই এনগেজমেন্ট' বা বেশি প্রতিক্রিয়াযুক্ত কন্টেন্টকে প্রাধান্য দেয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ আনন্দদায়ক খবরের চেয়ে রাগের খবরে বেশি প্রতিক্রিয়াশীল। কনটেন্ট ক্রিয়েটররা এই মনস্তত্ত্বকেই কাজে লাগায়। তারা জানে, যদি তারা এমন কিছু পোস্ট করে যা বিতর্কিত বা অপমানজনক, তবে মানুষ নৈতিক তাড়না থেকে সেখানে প্রতিবাদ করতে যাবে। আর এই প্রতিবাদই পোস্টটিকে ভাইরাল করে দেবে। ২০২৫ সাল ছিল বিশ্বজুড়ে নানা রাজনৈতিক অস্থিরতার বছর। রাজনৈতিক দলগুলি আইটি সেল থেকে বিরোধীপক্ষকে দোষারোপ ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের হাতিয়ার হিসেবে 'রেজ বেইট'-এর আকছার ব্যবহার করেছে।
ম্যাককুয়ারি ডিকশনারি ওয়ার্ড অফ দ্য ইয়ার হল— ‘এআই স্লপ’ (AI Slop)। 'এআই স্লপ' বলতে বোঝায় জেনারেটিভ এআই (যেমন চ্যাটজিপিটি বা মিডজার্নি) দিয়ে তৈরি নিম্নমানের, ত্রুটিপূর্ণ অপ্রয়োজনীয় কন্টেন্ট, যা ইন্টারনেটে জঞ্জালের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। 'Slop' শব্দটি ব্যবহার করা হতো গবাদি পশুর জন্য তৈরি তরল ও অখাদ্য খাবার বোঝাতে। এখন এটি মানুষের জন্য পরিবেশিত ডিজিটাল আবর্জনা বোঝাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
২০২৫ সালে ব্যবহারকারীরা লক্ষ্য করেছেন যে, গুগলের সার্চ রেজাল্ট বা ফেসবুকের ফিড এমন সব আজব ছবি ও লেখায় ভরে গেছে যা দেখতে হুবহু মানুষের তৈরি মনে হলেও আসলে তা নয়। এআই শুরুর দিকে যেমন বিস্ময় ছিল, তা ২০২৫ সালে এসে বিরক্তিতে পরিণত হয়েছে। মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে, এআই দিয়ে খুব দ্রুত অনেক কিছু তৈরি করা গেলেও তাতে মানবিক স্পর্শ বা সৃজনশীলতার অভাব থাকে। যখন ইন্টারনেটে নির্ভরযোগ্য তথ্যের চেয়ে 'এআই স্লপ' বেশি হয়ে যায়, তখন মানুষ আবার পুরনো এবং বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম বা মানুষের তৈরি কন্টেন্টের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। মানুষের এই আচরণগত বদল বলা চলে নিম্নমানের এআই কন্টেন্টের বিরুদ্ধে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Zero Posting: বিশ্বের ৫০টি দেশে, ২.৫ লক্ষ সমাজ মাধ্যম ব্যবহারকারীর উপর করা 'ফিনান্সিয়াল টাইমস'-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা বলছে, সমাজ মাধ্যমের ব্যবহার ১০ শতাংশ কমেছে।
কেমব্রিজ ডিকশনারি ওয়ার্ড অফ দ্য ইয়ার হল— ‘প্যারাসোশাল’। 'প্যারাসোশাল' সম্পর্ক হলো এমন একতরফা সম্পর্ক যেখানে একজন ব্যক্তি সাধারণত অন্য একজন সেলিব্রিটি, ইনফ্লুয়েন্সার বা এআই চরিত্রের প্রতি তাঁর আবেগ, সময় এবং শক্তি ব্যয় করে, ভক্ত হয়ে ওঠে। অথচ সেই দ্বিতীয় ব্যক্তিটি প্রথম ব্যক্তির অস্তিত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। যদিও শব্দটি ১৯৫৬ সালে সমাজবিজ্ঞানী ডোনাল্ড হর্টন এবং রিচার্ড ওহল প্রথম ব্যবহার করেছিলেন, ২০২৫ সালে এটি নতুন মাত্রা পায়। আজকের দিনে ইউটিউবার বা টিকটকাররা তাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত শেয়ার করে। তাদের বেডরুম থেকে শুরু করে ব্রেকফাস্ট—সব কিছুই ভক্তদের চোখের সামনে। এর ফলে ভক্তরা মনে করে তারা ওই ইনফ্লুয়েন্সারের ব্যক্তিগত বন্ধু।
তবে এখন প্যারাসোশাল সম্পর্ক কেবল মানুষের সঙ্গে নয়, এআই চ্যাটবট বা ভার্চুয়াল সঙ্গীর সঙ্গেও হতে পারে। ২০২৫ সালে অনেক মানুষ একাকিত্ব কাটাতে এআই-এর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক বা বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। এটি এমন একধরনের সম্পর্ক যেখানে অপর প্রান্তের 'ব্যক্তি'র কোনো বাস্তব অস্তিত্বই নেই, যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ।
ডিকশনারি ডট কমের ওয়ার্ড অফ দ্য ইয়ার হল— ৬৭ (সিক্স-সেভেন)। এটি সম্ভবত এই বছরের সবচেয়ে অদ্ভুত এবং দুর্বোধ্য শব্দ। সিক্স-সেভেন কোনো শব্দ নয়, একটি সংখ্যা। জেন আলফা এবং জেন জি এই শব্দ ব্যবহার করে কোনো কিছুকে "গড়পড়তা", "অনিশ্চিত" বা "ঠিকঠাক" বোঝাতে। এর সঙ্গে একটি বিশেষ হাতের ভঙ্গিও যুক্ত থাকে। এই শব্দটির ভাইরাল হওয়ার প্রধান কারণ হলো এর অর্থহীনতা। বড়রা বা 'বুমার'রা যাতে তাদের ভাষা বুঝতে না পারে, সেজন্য জেন আলফা এমন সব কোড বা শব্দ ব্যবহার করে যার কোনো আভিধানিক অর্থ নেই। '৬৭' হলো তেমনই একটি কোড, আপনি যদি জানেন এর অর্থ কী, তবে আপনি তাদের দলের একজন। যদি না জানেন, তবে আপনি আউটসাইডার।
কলিন্স ওয়ার্ড অফ দ্য ইয়ার হল— ভাইব কোডিং। প্রথাগত প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ বা সিনট্যাক্স মুখস্থ না করে, এআই-কে স্বাভাবিক ভাবে ভাষায় নির্দেশ দিয়ে কোড লেখার প্রক্রিয়াকে বলা হয় 'ভাইব কোডিং'। এর মাধ্যমে বোঝানো হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে প্রোগ্রামিং জানবে কেবল তারাই যাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান আছে তা নয়, বরং যাদের সৃজনশীলতা বা 'ভাইব' আছে, তারাও এআই-এর মাধ্যমে সফটওয়্যার তৈরি করতে পারবে। এটি 'এআই স্লপ'-এর ঠিক বিপরীত—যেখানে এআইকে মানুষের সৃজনশীলতার সহায়ক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজকের ছেলেমেয়েদের ভাষা সেকেলে মানুষের কাছে অনেকটা ভিনগ্রহের ভাষার মতো মনে হতে পারে। এই ভাষাকে অনেকে 'ব্রেন রট ল্যাঙ্গুয়েজ' বলে থাকেন। এটি মূলত আফ্রিকান-আমেরিকান ভার্নাকুলার ইংলিশ, গেমার স্ল্যাং এবং টিকটকের অদ্ভুত সব ট্রেন্ডের এক জগাখিচুড়ি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Reels Addiction: অতিরিক্ত রিলস দেখার প্রবণতা মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটায়। ফল, অমনোযোগী, ঘুমে সমস্যা, মানসিক অবসাদ, শর্ট টার্ম মেমোরি লস বা স্বল্পমেয়াদী স্মৃতিশক্তি হ্রাস।
স্কিবিডি (Skibidi), মূলত অর্থহীন একটি শব্দ, যা বিশেষণ হিসেবে 'খারাপ' বা 'অদ্ভুত' বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। ইউটিউব সিরিজ 'স্কিবিডি টয়লেট' থেকে এর উৎপত্তি। জেন আলফা বা একদম ছোট বাচ্চারা এটি বেশি ব্যবহার করে। জেন জি এটি ব্যঙ্গাত্মকভাবে ব্যবহার করে। সিগমা হল আলফা বা বেটা পুরুষের বাইরে একাকী, স্বাধীন এবং সফল পুরুষ। তবে এখন এটি মূলত ব্যঙ্গাত্মক অর্থে বা কোনো সাহসিকতার কাজের ক্ষেত্রে প্রশংসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। রিজ (Rizz), অরা (Aura) শব্দ গুলি ক্যারিশমা বা কাউকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
‘ট্র্যাডওয়াইফ’ হল ‘ট্র্যাডিশনাল ওয়াইফ’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। রান্না-বান্না, সন্তান পালনের ঘরোয়া ভিডিয়ো দিয়ে যাঁরা গৃহিণী জীবনকে অনলাইনে তুলে ধরেন, তাঁদের জন্য এই শব্দ ব্যবহার করা হয়।
‘ডেলুলু’ এসেছে ‘ডিলিউশনাল’ থেকে যার বাংলা অর্থ বিভ্রান্তিকর। ‘ডেলুলু ইজ দ্য সলুলু’, এখানে 'সলুলু' এসেছে 'সলিউশন' থেকে, এর অর্থ হলো সমাধান। অর্থাৎ, দিবাস্বপ্নও নাকি বাস্তবায়নের পথে নিয়ে যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সংসদে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে এই শব্দ ব্যবহার করেছেন।
‘স্ট্যান’ শব্দটি মূলত 'স্টকার' ও 'ফ্যান' এই দুই শব্দের মিশেলে তৈরি হয়েছে। যা এমন ভক্তদের বোঝাতে ব্যবহার করা হয়, যারা নিজেদের পছন্দের তারকার কাছে পৌঁছতে যেকোনো বাধা অতিক্রম করে যেতে পারে। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া এমিনেমের গান থেকে এই শব্দটির জন্ম।
‘বেসড’, কারো সঙ্গে একমত পোষণ করলে বেশি বাক্যব্যয় না করে জেন জি সদস্যরা বলে 'বেসড'। মানে কথায় যুক্তি আছে। এর বিপরীত শব্দ হিসেবে ধরা যায় 'ক্রিঞ্জ' ও 'বায়াসড' ইত্যাদি স্ল্যাং গুলি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Ghosting: শব্দটি বর্তমানে প্রতিনিয়ত 'হঠাৎ উবে যাওয়া' অর্থে ব্যবহার করা শুরু হলেও, এর ব্যবহারের সূত্রপাত একবিংশ শতকে নয়। সেই শেক্সপিয়ারের যুগ থেকেই, তাঁর বিভিন্ন নাটকে এই শব্দের ব্যবহার লক্ষ্যণীয়।

বন্ধুদের আড্ডায় ঠিক এরকম কথাই হয় এখন নতুন প্রজন্মের
GOAT, ‘গোট’ নামেই পরিচিত। আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতার সময় ‘গ্রেটেস্ট অব অল টাইম’ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে মেসিকে বিশেষায়িত করতে। রজার ফেডেরার, সচিন তেন্ডুলকররা গোট তকমা পেয়ে থাকেন।
'পুকি' বা Pookie একটি পশ্চিমা শব্দ, যা সাধারণত আদরের ডাক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ২০২৫ সালে ভারতে এটি গুগল সার্চের শীর্ষে ছিল। ভারতে সাধারণত পুরুষদের একে অপরের সঙ্গে কথা বলার ভঙ্গি বেশ গম্ভীর হয়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় 'পুকি' ট্রেন্ডের ফলে দেখা গেছে পুরুষত্বের প্রথাগত কঠোর সংজ্ঞা কিছুটা নমনীয় হয়েছে। এখন কোনো কিছু কিউট বা সুন্দর লাগলেই তাকে 'পুকি' বলা হচ্ছে, তা সে মানুষ হোক বা কোনো বস্তু।
ভাষাবিদদের মতে, এই শব্দগুলোর ব্যবহারকে বিকৃতি বলা চলে না, এটি একটি প্রজন্মের আত্মপরিচয়, তাদের চিহ্ন। জেন জি ও আলফা প্রজন্ম এমন একটি পৃথিবীতে বড় হচ্ছে যা তাদের কাছে বিশৃঙ্খল। জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ-দাঙ্গা, সামাজিক অস্থিরতা, ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা, AI সবকিছুর মাঝে তারা বড় হচ্ছে। তাই তাদের ভাষাতেও কিছু পরিবর্তন এসেছে। 'Dadaism' বা ডাডাইজম আন্দোলনের মতো তাদের ভাষাও অর্থহীনতাকে উদযাপন করে। '৬৭' বা 'স্কিবিডি'-র মতো শব্দগুলো বড়দের জগত থেকে নিজেদের আলাদা করার একটি দেওয়াল হিসেবে কাজ করে।
এই প্রজন্মের কাছে সর্ম্পকের সংজ্ঞাও বদলেছে, এক্ষেত্রেও যুক্ত হয়েছে সিচুয়েশনশিপ, ঘোস্টিং নামে কিছু শব্দ। জেন জি-রা দীর্ঘ দিনের সম্পর্কে যেতে এখন ভয় পায়, আর তাই তৈরি হচ্ছে সম্পর্কে সিচুয়েশনশিপ। আবার ঘোস্টিং শব্দটি প্রেমের সম্পর্কে কিছুদিন থাকার পর হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। এই শব্দগুলিও আজকের প্রজন্মের সম্পর্কে একে অন্যের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে যাওয়ার মতো দিকগুলি স্পষ্ট করে।
গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া। যুদ্ধ ও নিরাপত্তার কারণে এই শব্দগুলি মানুষ গুগলে বেশি খুঁজেছে।
২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিশেষ করে কলকাতা, এক অভূতপূর্ব সামাজিক আলোড়নের সাক্ষী হয়েছে। আর জি কর মেডিকেল কলেজের মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে, তা কেবল রাস্তায় সীমাবদ্ধ ছিল না, তা প্রবেশ করেছে বাঙালির শব্দভান্ডারে, গানে এবং স্লোগানে। এখানকার ভাষা হয়ে উঠেছে প্রতিবাদের বারুদ।
কলকাতার জেন জি এবং মিলেনিয়ালরা এমন এক ভাষায় কথা বলে যা বাংলা, ইংরেজি এবং হিন্দির এক জগাখিচুড়ি। তবে ২০২৫ সালে কিছু নির্দিষ্ট বাংলা শব্দ মুখে মুখে ফিরেছে— ‘ল্যাদ’ অর্থাৎ আলস্য, ‘চ্যাপ’ অর্থাৎ চাপ, ‘ক্যাজ’ অর্থাৎ ক্যাজুয়াল, 'অস্থির বাঙালি’।
এখন দেখার নতুন বছর অন্য কোন নতুন শব্দের দরজা জানালা খুলে দেয় আমাদের জন্য। ২০২৫ সাল আমাদের শিখিয়েছে যে, পৃথিবী যতই প্রযুক্তি নির্ভর হোক না কেন, মানুষের অনুভূতি প্রকাশের জন্য ভাষা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। নতুন বছরে দেশ-দশের মুখের ভাষা আরও আলো পাক।














